বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (১৩)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X এদিকে স্কুলে ফারুখ বখত বারবার পায়চারি করছেন। সকালবেলা ফরাসত আলি একটা ইংরেজি ক্লাস নেন, তাঁর এখনও কোনো দেখা নেই। ক্লাসে শিক্ষক আসছে না ছাত্রদের জন্যে সেটা খুব খারাপ উদাহরণ–ফারুখ বখত অনেক ভেবেচিন্তে মহসিনকে ডেকে পাঠালেন। মহসিন তার কম্পিউটার-ঘরে তালা মেরে ফারুখ বখতের কাছে হাজির হল। ফারুখ বখত মহসিনকে বললেন, “মহসিন ফরাসত আলি আসেনি, আজকে তোমাকে ইংরেজি ক্লাসটা নিতে হবে। মহসিন মাথা চুলকে বলল, “আমি?” “হ্যাঁ। কোনো উপায় নেই, তাড়াতাড়ি যাও।” “কিন্তু আমি কখনো ইংরেজি ক্লাস নিইনি।” “তাতে কী আছে? তাড়াতাড়ি যাও।” মহসিন চিন্তিত মুখে ক্লাসে হাজির হল। ছাত্রছাত্রীরা তাকে দেখে আনন্দে চিৎকার করে ওঠে, “কম্পিউটার স্যার, কম্পিউটার স্যার!!” মহসিন মাথা নেড়ে বলল, “কিন্তু এখন আমি তোমাদের ইংরেজি পড়াব।” ছাত্রছাত্রীরা আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “ইংরেজি ইংরেজি!!” মহসিন বলল, “এখন বলো দেখি মাইক্রোপ্রসেসর কেমন করে বানান করে? হার্ড ড্রাইভ? র‍্যান্ডম এক্সেস মেমোরি?” ছাত্রছাত্রীরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। মহসিন হাসিমুখে বলল, “খুব সোজা, একেবারে পানির মতো সোজা। এম-আই-সি …” একদিন ফারুখ বখত আবিষ্কার করলেন মহসিনকে ইংরেজি পড়াতে পাঠানো ঠিক হয়নি, এক্ষুনি অন্য একটা ক্লাসে কম্পিউটার শেখানোর কথা। তারা দল বেঁধে হাজির হয়ে গেছে, কী করবেন বুঝতে না পেরে তাড়াতাড়ি অঙ্কের শিক্ষক প্রফেসর আলিকে ডেকে পাঠালেন। প্রফেসর আলি তার বইপত্র নিয়ে হাজির হলেন, ফারুখ বখত মাথা চুলকে বললেন, “একটা সমস্যা হয়ে গেছে।” “কী সমস্যা?” “কম্পিউটারের ক্লাস, কিন্তু মহসিনকে পাঠিয়েছি ইংরেজি ক্লাস নেয়ার জন্যে। এখন কম্পিউটারের ক্লাস নেবার কেউ নেই।” প্রফেসর আলি তর্ক করতে ভালোবাসেন, মুখ ছুঁচালো করে বললেন, “কেন পাঠালে মহসিনকে?” “আর কেউ ছিল না আশেপাশে। এখন আপনাকে একটু কম্পিউটারের ক্লাসটা নিতে হবে।” ফারুখ বখত মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন, “খোদার কসম!” “খোদা বা ঈশ্বর বলে কিছু নেই!” ঘোর নাস্তিক প্রফেসর আলি মুখ শক্ত করে বললেন, “যার অস্তিত্ব নেই তার কসমে আমি বিশ্বাস করি না।” “আচ্ছা ঠিক আছে, পাউরুটির কসম।” প্রফেসর আলি চোখ কপালে তুলে বললেন, “পাউরুটির কসম?” “হ্যাঁ, পাউরুটির অস্তিত্ব নিয়ে তো আপনার মনে কোনো দ্বিধা নেই। পাউরুটির কসম আপনি এই ক্লাসটা নেন।” প্রফেসর আলি আরও কিছুক্ষণ তর্ক করে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে কম্পিউটার-ঘরে হাজির হলেন। একটু পরে শোনা গেল তিনি বলছেন, “মনে করো এই ঘরে একটা দুই মিটার উঁচু তৈলাক্ত বাঁশ রয়েছে, আর তোমরা কম্পিউটারটা হাতে নিয়ে এই তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠছ। প্রতি সেকেণ্ডে তোমরা দশ সেন্টিমিটার উপরে ওঠ, কিন্তু পরের সেকেন্ডে পাঁচ সেন্টিমিটার পিছলে নেমে আস। বাঁশের উপরে উঠে যদি কম্পিউটারটা চালু করতে চাও কতক্ষণ সময় লাগবে?” কালোমতন একজন বলল, “স্যার, বাঁশের উপরে উঠে কেন কম্পিউটার চালু করব? টেবিলের উপরেই ভাল–” প্রফেসর আলিকে কম্পিউটারের ক্লাসে পাঠিয়ে ফারুখ বখত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে গিয়ে আঁতকে উঠলেন। এক্ষুনি অন্য একটা ক্লাসে প্রফেসর আলির অঙ্ক শেখানোর কথা ছিল, এখন কোনো অঙ্কের শিক্ষক নেই। তিনি মাথায় হাত দিচ্ছিলেন ঠিক তখন দেখতে পেলেন তাদের খেলাধুলার শিক্ষক রুখসানা গলায় একটা হুইসেল ঝুলিয়ে যাচ্ছে, ফারুখ বখত চিৎকার করে বললেন, “রুখসানা! রুখসানা!!” রুখসানা ছুটে এল, “কী হয়েছে?” “একটা ঝামেলা হয়ে গেছে।” “কী ঝামেলা?” “ক্লাস থ্রি সেকশান বি-এর এক্ষুনি অঙ্ক ক্লাস শুরু হবে, ক্লাস নেয়ার কেউ নেই। তুমি কি নিতে পারবে ক্লাসটা?” “আমি? কিন্তু একটু পরেই আমার একটা ক্লাসের পি.টি. ট্রেনিং।” “সেটা তখন দেখা যাবে। এখন তুমি ছুটে যাও এই ক্লাসে। দেরি কোরো।” রুখসানা চিন্তিত মুখে অঙ্ক ক্লাসে ঢুকতেই ছাত্রছাত্রীরা আনন্দে চিৎকার করে ওঠে, রুখসানাকে সবার খুব পছন্দ। নানারকম খেলাধুলা দৌড়ঝাঁপ সবকিছুতে রুখসানার খুব উৎসাহ, বাচ্চারা তাকে পছন্দ করবে বিচিত্র কী? সবাই সমস্বরে বলল, “খেলা খেলা খেলা!” রুখসানা বলল, “না এখন খেলা না। এখন অঙ্ক।” “অঙ্ক?” বলা বাহুল্য সব বাচ্চার মন-খারাপ হয়ে যায়। “হ্যাঁ অঙ্ক। এই যে আমি ব্ল্যাকবোর্ডে তোমাদের দুইটি সংখ্যা লিখে দিচ্ছি। দুইটি সংখ্যাকে কখনো করবে যোগ কখনো বিয়োগ কখনো গুণ কখনো ভাগ।” ”কেমন করে বুঝব আমরা?” “খুব সহজ।” রুখসানা হাসিমুখে বলল, “আমি যখন শূন্যে ডিগবাজি দেব তার মানে যোগ। যদি হাত দিয়ে পায়ের পাতা ছুঁই তার মানে বিয়োগ। যদি বুকডন দিই সেটা হবে গুণ আর যখন দুই হাত পাশে ছড়িয়ে লাফ দেব তার মানে ভাগ। তোমরাও করবে আমার সাথে। আর অঙ্কের উত্তরটি কাগজে লেখার দরকার নেই– “তা হলে কেমন করে করব?” “খুব সোজা! অঙ্কের উত্তরটি দেবে তোমরা লাফিয়ে। যদি উত্তর হয় দশ তা হলে দশবার লাফাবে। যদি হয় বারো তা হলে বারো বার লাফাবে–” একটু পরেই শোনা গেল অঙ্ক ক্লাসে হুইসিল বাজছে এবং ছেলেমেয়েরা লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে দৌড়ে ঝাপাঝাপি করে অঙ্ক করছে। রুখসানাকে অঙ্ক ক্লাসে পাঠিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু এক্ষুনি একটা খেলাধুলার ক্লাস শুরু হবে, সেখানে কাকে পাঠানো যায় ফারুখ বখত ঠিক চিন্তা করে পেলেন না। আশেপাশে কেউ নেই, তিনি জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন, দেখলেন মির্জা মাস্টার তার বিশাল শরীর নিয়ে থপথপ করে হেঁটে আসছেন। ফারুখ বখত তাড়াতাড়ি জানালা দিয়ে গলা বের করে বললেন, “মির্জা মাস্টার!” “কী হল?” “ভিতরে ঢুকবেন না। বাইরে মাঠে থাকেন!” “কেন?” “আপনাকে একটা খেলাধুলার ক্লাস নিতে হবে।” “আমার? কী বলছেন আপনি? একটু পরে আমার একটা বাংলা ক্লাস নেয়ার কথা।” ফারুখ বখত মাথা নেড়ে বললেন, “তার কিছু-একটা ব্যবস্থা করা যাবে, এখন আপনি খেলাধুলার এই ক্লাসটা নেন। কোনো উপায় নেই।” মির্জা মাস্টার আরও একটা-কিছু বলতে যাচ্ছিলেন কিন্তু তার আগেই ছাত্রছাত্রীরা হৈচৈ করতে করতে মাঠে এসে হাজির হয়েছে!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্কুলের নাম পথচারী (১৩)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now