বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কুলের নাম পথচারী (১২)

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান TARiN (০ পয়েন্ট)

X কয়েকদিনের মাঝেই সব কয়জন শিক্ষক নিয়ে স্কুলের কাজ শুরু হল। যেহেতু স্কুলঘরটা এখনও আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে আছে, বিভিন্ন ক্লাসঘরে যাবার জন্যে কিছু মই লাগানো হয়েছে। শিক্ষকেরা মই দিয়ে উপরে-নিচে যাতায়াত করেন, ছাত্রদের মই লাগে না, এমনিতেই দেয়াল খামচে খামচে ক্লাসে উঠে যায়। কোন বয়সী বাচ্চাকে কী পড়ানো হবে মোটামুটি ঠিক করা হয়েছে, সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে কাজ করছে। স্কুলটা মোটামুটি দাঁড়িয়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে। ফরাসত আলি এবং ফারুখ বখত প্রায় রোজই এসে দেখে যান, তাঁদের নিজেদের স্কুলে বাচ্চারা পড়াশোনা করছে, দুপুরে নাস্তা করছে, বিকেলে মাঠে খেলছে দেখে তাঁদের বুক দশহাত ফুলে যায়। স্কুলে বাংলা ইংরেজি পড়াতেন মির্জা মাস্টার, কয়দিন দেখে ফরাসত আলিও বাচ্চাদের ইংরেজি পড়ানো শুরু করেছেন। তাঁকে দেখে ফারুখ বখতও একটু সাহস পেয়েছেন, বাচ্চাদের জন্যে তাই পৌরনীতির একটা ক্লাস খোলা হয়েছে। ফারুখ বখত রাত জেগে পড়াশোনা করে দিনের বেলা ক্লাস নিচ্ছেন, বিষয়বস্তুটির জন্যেই কি না জানা নেই তার ক্লাসে ছাত্রদের খুব বেশি মনোযোগ নেই। দেখতে দেখতে বেশ গরম পড়ে গেছে, দিনরাত ফরাসত আলির চুল-দাড়ি কুটকুট করে। প্রতি বছর অনেক আগেই তিনি সব কেটেকুটে ফেলেন, এ-বছর অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর না পেরে একরাতে তিনি তার নাপিতের দোকানে গিয়ে চুল-দাড়ি কামিয়ে পুরোপুরি মুসোলিনি হয়ে ফিরে এলেন। এই ব্যাপারটি নিয়ে আগে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু এবারে গুরুতর সমস্যা হয়ে গেল। পরদিন ফরাসত আলি স্কুলে গিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীরা আসতে শুরু করেছে, আগে তাকে দেখে সবাই একটা সালাম ঠুকে দিত, কিন্তু আজকে সালাম ঠোকা দূরে থাকুক এমনভাবে তার দিকে তাকাতে লাগল যেন তিনি খুব অন্যায় কাজ করে ফেলেছেন। তিনি যখন স্কুলের নতুন কম্পিউটার-ঘরটা দেখতে গেলেন হঠাৎ একটা বিচিত্র ব্যাপার ঘটল। স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক মহসিন কম্পিউটার-ঘরে ঢুকে ফরাসত আলিকে দেখে চমকে উঠল। কাছে এসে গলা উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করল, “আপনি কে? এখানে কী করছেন?” ফরাসত আলি বুঝতে পারলেন দাড়ি-গোঁফ-চুল সব কামিয়ে ফেলেছেন বলে মহসিন তাকে চিনতে পারছে না। একগাল হেসে বললে, “আমি ফরা–” “পড়া?” মহসিন মাঝপথে থামিয়ে বলল, “আপনি পড়াশোনা করতে এসেছেন? দেখছেন না এটা বাচ্চাদের স্কুল! শুধু বাচ্চারা পড়াশোনা করছে। আপনি পড়তে চাইলে কলেজে যাবেন, ইউনিভার্সিটি যাবেন।” ফরাসত আলি মাথা নেড়ে বললেন, “না, না আমি ফরাসত–” “ফরাসত আলি সাহেবের সাথে দেখা করতে চাইলে এখানে এসেছেন কেন? এটা কম্পিউটার-ঘর। এখানে বাচ্চাকাচ্চারা কম্পিউটার ব্যবহার শিখে–” “না না, আমি ফরাসত আলির সাথে দেখা করতে চাই না। আমি–” “তা হলে আপনি এখানে কী করছেন? নিচে যান। স্কুল চলার সময় বাইরে থেকে লোকজন এলে স্কুলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। যদি স্কুলটা দেখতেই চান অ্যাপয়ন্টমেন্ট করে আসবেন।” ফরাসত আলি আবার কী একটা বলতে যাচ্ছিলেন মহসিন শুনল না, তাঁকে ঠেলে বের করে দিয়ে উপর থেকে চিৎকার করে চুনু মিয়াকে ডেকে বলল, “চুমু মিয়া, এই লোকটিকে এখান থেকে নিয়ে যাও। কম্পিউটার ঘরে ঘুরঘুর করছে।” মহসিনের কথা শেষ হবার আগেই চুনু মিয়া দুই লাফে উপরে উঠে ফরাসত আলির হাত ধরে হিড়হিড় করে নিচে নামিয়ে নিল। বলল, “স্কুল চলার সময় এখানে বাইরের মানুষের কারফিউ। কেন এসেছেন আপনি?” ফরাসত আলি আস্তে আস্তে রেগে উঠছিলেন, গলা উঁচিয়ে বললেন, “চুন্ন মিয়া–” চুনু মিয়া তখন আরও রেগে গেল, চিৎকার করে বলল, “এত বড় সাহস আমার সাথে গলাবাজি। আমাকে চেনেন না আপনি? ফরাসত স্যার নিজে আমাকে বলেছেন স্কুল কম্পাউন্ডের মাঝে যেন একটা মাছি ঢুকতে না পারে, আর আপনি এত বড় একটা মানুষ ঢুকে গেছেন? কত বড় সাহস ফরাসত আলি তখন আরেকটু রেগে গেলেন, বললেন, “মুখ সামলে কথা বলো চুনু মিয়া–” “কেন? আপনাকে ভয় পাই নাকি আমি? কম্পিউটার ঘরে ঘুরঘুর করছেন, লাখ লাখ টাকার কম্পিউটার সেখানে, আপনার মতলব আমরা বুঝি না মনে করছেন? আপনাকে পুলিশে দেয়া দরকার–“ “পুলিশে? তোমার এত বড় সাহস! তুমি আমাকে পুলিশে দেবে?” চুনু মিয়া মুখ শক্ত করে বলল, “আমার কথা বিশ্বাস হল না? ঠিক আছে এই দেখেন—” কিছু বোঝার আগে ফরাসত আলি আবিষ্কার করলেন চুনু মিয়া তাঁকে দুজন পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এবং তারা কম্পিউটার-ঘরে সন্দেহজনক কার্যকলাপের জন্যে তাকে ধরে হাজতে পুরে ফেলেছে। ফরাসত আলি কয়েকবার পরিচয় দেবার চেষ্টা করলেন কিন্তু কোনো লাভ হল না। বলা যেতে পারে হঠাৎ করে ফরাসত আলির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্কুলের নাম পথচারী (১২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now