বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্কাইডাইভ (১ম পর্ব)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বাতাসে ভাসছি আমি। ভাসছি বললে হয়ত ভুল হবে, 9.8 ms-² ত্বরণে ভূ-পৃষ্ঠের দিকে ছুটে চলেছি আমি। বেশি সময় নেই আমার হাতে,আর মাত্র ১০ সেকেন্ড বড়জোর! ভেসে থাকার এই মুহূর্তটা তবুও আমার কাছে খুব সুন্দর। আমার দীর্ঘ ২০ বছরের জীবনের শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত হয়ত এটাই!! আমার গোটা জীবন তন্ন-তন্ন করে খুঁজলেও হয়ত "বিশুদ্ধ সুখকর" কোনো মুহূর্ত পাওয়া যাবে না। বাঁচার মত করে বেঁচে থাকতে যা যা লাগে তার সবটুকুই একে একে হারিয়ে চলেছি জীবনের শুরু থেকেই। কিন্তু থাক সে সব কথা, এই ১০টা সেকেন্ড আমার, শুধুই আমার! কয়েকটা "বিশুদ্ধ সুখকর" মুহূর্ত দিয়েই আমি চাই শেষটা করতে। কিন্তু হঠাৎ করেই কি একটা যেন শুরু হচ্ছে, হচ্ছে কি এসব আমার সাথে!! একে একে জীবনের সব কিছু মনে পড়তে শুরু করছে কেন!? আল্লাহ্‌, সারাজীবনে অনেক তো "আউট অফ সিলেবাস" এক্সাম নিলা, যার প্রত্যেকটাতেই অবধারিতভাবেই আমি ফেইল! জানি এই ১০ সেকেন্ডের পর আমার জন্য তোমার শাস্তিটাও অবধারিত। মাঝখানে শুধু ১০টা সেকেন্ডই তো চেয়েছিলাম ইকটু ভালো থাকতে! ইকটু দয়া করা কি যায় না? মাত্র তো ১০টা সেকেন্ডই , আমাকে কি ইকটু উড়তে দেয়া যায় না? নাহ, দেয়া যায় না উড়তে। কিছু মানুষের অস্তিত্ব শুধু ভূ-পাতিত হওয়ার জন্যেই, তার আগে আকাশে উড়ে নেয়ার অধিকার টুকু তাদের নেই। আর তাদেরই একজন হওয়ায় শহরের উচ্চতম ভবনটা থেকে লাফিয়ে পড়েও উড়তে পারলাম না আমি, এখন শুধুই ভু-পাতিত হওয়ার অসহায় অপেক্ষা। চোখ বন্ধ হয়ে আসছে আমার, হারিয়ে যাচ্ছি আমি আমার জ্বরাক্রান্ত দুঃস্বপ্নের মত জীবনটার ফ্ল্যাশব্যাক এ...............পরাজয় মেনে নেওয়া সেই দুর্বল হাসিটা হয়ত এই মুহূর্তে আমার দুই ঠোঁট জুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে...... তখন ফেব্রুয়ারী মাস। শীতের শেষ, বসন্তের শুরু। ভালোবাসাময় এক আবহাওয়ায় পৃথিবীতে আগমন ঘটে আমার। শুরুতে হয়ত সবকিছু ভালোই ছিল, কিন্তু সে ভালো বেশিদিন টিকলো না; আমার যে জন্মই হয়েছিল সব কিছুকে একে একে হারানোর জন্য। তাই পৃথিবীতে আসার ২ মাসের মধ্যেই আমি আমার বাবাকে মেরে ফেললাম। আমার জন্য কিছু জামা কাপড় কিনে আনতে গিয়েছিলেন তিনি। ফেরার সময় রাস্তা পাড় হতে গিয়ে একটা বাসের ধাক্কা লেগে আহত হন আমার বাবা। তিনদিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। বাচানো সম্ভব হয় নি তাকে। শুনতে অসম্ভব লাগলেও সব সম্ভবের এই দেশে জন্মের ২ মাসের মধ্যেই আমি আমার বাবার খুনি হয়ে যাই আমার পরিবারের কাছে। সম্ভব হলে হয়ত আমার নামে মামলাও করা হত! বাবার মৃত্যুর পর আমাকে সহ আমার মাকে আমার দাদা বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হল। এরপর আমাদের ঠাই হল আমার মামার বাসায়। মামা আমার বিশাল বড়লোক,আমার নানার প্রচুর সম্পত্তির পুরোটাই তিনি পেয়ে যান উত্তরাধিকার সুত্রে। হিসাব অনুযায়ী হয়ত আমার মা সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ পেতেন,কিন্তু কোনো একটা কারনে তা আর হয়নি। ওহ,আমার মামা হচ্ছেন ঢাকার একজন নামকরা উকিল। ক্যারিয়ার এর প্রায় সব কেস-ই তিনি জিতেছেন। যাই হোক,আমার পৃথিবীকে চিনতে পারার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই আমার মা আমাকে ছেড়ে চলে যান না ফেরার দেশে। লিউকোমিয়া ছিল তার। বেশ শর্ট নোটিসেই মারা যান তিনি। তখন আমার বয়স উনিশ মাস। এরপর আমার দেখাশোনা করতেন গৃহপরিচারিকা নাসরিন খালা। আমার দুই মামাতো ভাইবোন তখনো খুব ছোট, মামিকে তাদের নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হত। মামাতো ভাই অর্ণব ভাইয়া আমার দুই বছরের ,আর অরনী আপু আমার চেয়ে এক বছরের বড়। ধীরে ধীরে বড় হতে থাকি আমি। বড়লোকের বাড়িতে আমি বেড়ে উঠি কোনো রকমের বিলাসীতার স্পর্শ ছাড়াই। আমার মামাতো দুই ভাইবোন তাদের সমগ্র সত্ত্বা দিয়ে প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে অনুভব করানোর চেষ্টা করত যে তাদের পরিবারের সদস্য আমি নই। এতে শুরুর দিকে কিছুটা খারাপ লাগলেও ইকটু বড় হওয়ার পর তাতে আমি আর কিছু মনে করতাম না। জীবনের সব কিছুর সাথে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হতে থাকি আমি। মামা অনেক ব্যাস্ত থাকতেন। সারা সপ্তাহ জুড়েই তার ব্যস্ততা। খুব সামান্য সময়ের জন্যই তাকে বাসায় পাওয়া যেত। আর সেটুকু সময়েও তিনি কখনো আমাকে তার সন্তানদের থেকে আলাদা চোখে দেখতে ভুলতেন না! আমার প্রতি তার অবহেলা গুলি ছিল বরাবরই অত্যন্ত পরিষ্কার। ঘরটাতে আমার একমাত্র আপন জন বলতে ছিলেন আমার মামি। খুব ক্ষমতাবান একটি পরিবারের সবচেয়ে ক্ষমতাহীন সদস্যটির ভালোবাসাই হয়ত ছিল আমার জীবনের একমাত্র পাওয়া। হয়ত তিনি চাইতেন আমার জন্য অনেক কিছু করার, কিন্তু সবসময় তা পারতেন না। কিন্তু যতটুকু পারতেন সেটুকুই আমার জন্য অনেক। প্রতি বছর জন্মদিনে পাওয়া আমার একমাত্র উপহারটি যে তারই দেয়া! এছাড়াও আমার একমাত্র শখ ছিল গল্পের বই পড়া; সবার কাছ থেকে লুকিয়ে বই কিনার জন্য টাকাও তিনি দিতেন আমাকে! আমি বাংলা মাধ্যম এর একটা সরকারি স্কুল এ পড়তাম। ছাত্র হিসেবে আমি বরাবরই ছিলাম মাঝারি মানের। তবে আমি প্রচুর পড়াশোনা করতাম, শুধু রেজাল্টটাই অতটা ভালো হত না কখনো! তবুও আমার মামাত ভাইবোনদের চেয়ে হয়ত ভালো অবস্থানেই ছিলাম আমি এ দিক থেকে! প্রতি বছরি তারা ফেল করতে করতেও কীভাবে যেন প্রমোশন পেয়ে যেত!! ওহ, আমার নাম রিহান! আসলে আমার যে একটা নাম আছে সেটা শুধু স্কুল এ গেলেই টের পেতাম। বাসায় আমি খুব একা হয়েই থাকতাম সবসময় । ঘরের এক কোণের অই রুমটাতে বসেই কাটতো আমার সারাটা দিন। আমার পৃথিবী অনেকটাই সীমাবদ্ধ ছিল আমার রুম আর আমার গল্পের বইগুলোর মধ্যেই। আমার বাস্তবতায় আমি একা অবশ্যই ছিলাম, কিন্তু তার চেয়েও বেশি একা হয়ত ছিলাম আমার কল্পনার জগৎটাতে। কিন্তু অন্ততপক্ষে আমার কল্পনার জগৎটাতে হলেও আমার একাকিত্ব দূর করে দেওয়ার জন্য একজনের আগমন খুব দ্রুতই ঘটে। তখন আমি পড়ি ক্লাস এইট-এ। আগে থেকেই চিনতাম মেয়েটাকে, কিন্তু সেদিন তাকে চিনলাম নতুন করে! সেদিনের আগে তাকে সর্বশেষ দেখেছিলাম আরো চার বছর আগে। কিন্তু তখন সে অনেক ছোট,আমিও ছোটই ছিলাম! কিন্তু চার বছর পরের সে দিনটাতে হঠাৎ করেই সব বদলে গেল। কীভাবে যেন এক মুহূর্তেই অনেক “বড়” অনেক গেলাম আমি! নিজের হৃৎস্পন্দনকে খুব স্পষ্টভাবে সেদিনই প্রথম অনুভব করেছিলাম। নতুন করে তাকে প্রথমবার দেখার সেই মুহূর্তটাতে আমার হার্টবিট যেন একেবারে থেমেই গিয়েছিল! নাটক সিনেমার ওই দৃশ্যগুলির মত সব কিছু স্লো মোশনে দেখতে পাচ্ছিলাম আমি! হঠাৎ করেই আমি বুঝে গেলাম “হার্টবিট মিস” কিভাবে হয়ে যায়! কয়েক মুহূর্তের ওই স্তব্ধতার পর আমার হৃৎপিণ্ডখানি যেন হাতুড়ি হয়ে বুকের উপর সজোরে আঘাত করতে থাকলো! যোজন যোজন তুল্য সেই মুহূর্তগুলির বিবর্তনের পর আমি টের পেলাম, যে “আমি আর আমি নাই!” (চলবে) (গল্পটা কোন শ্রেণীর জানান)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্কাইডাইভ (১ম পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now