বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"সিরিয়াল"

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Oliver Queen(ShuvO) (০ পয়েন্ট)

X খনখনে শীতের মধ্যে হেঁটে বাড়িতে যাচ্ছি৷ ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছু দেখা যাচ্ছে না। গেটের সামনে নিপা দাঁড়িয়ে আছে। হাতে একটা টর্চলাইট। নিপা আমার দ্বিতীয় স্ত্রী৷ — কী ব্যাপার? এতো রাতে এখানে দাঁড়িয়ে আছো কেনো? — আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম৷ — কী দরকার ছিলো? আচ্ছা চলো ঘরে যাই। দুজনে একসাথে ঘরে ঢুকলেও আলাদা আলাদা রুমে ঢুকলাম। বারান্দার রুমে নিপা থাকে। খাবার টেবিলে জুঁতি মাথা ঠেঁকিয়ে বসে আছে৷ আমার প্রবেশের শব্দ শুনে বললো— এতো রাত হলো কেনো? — অনেকদিন পর এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়েছিলো। তাই দেরি হয়ে গেছে। — খেয়ে নিন। — তোমার খাওয়া হয়েছে? — না, একসাথে খাবো বলে অপেক্ষায় ছিলাম৷ — আমি হাতমুখ ধুয়ে আসছি। নিপা আর জুঁতি এক মায়ের পেটের দু'বোন। সাত দিন আগেপরে দুজনকে বিয়ে করেছি। করেছি বললে হয়তো ভুল হবে। বিয়ে হয়েছে। নিপার বাবার সাথে আমার বাবার খুব গভীর শত্রুতা ছিলো। কি নিয়ে সেটা আমি জানি না। বাবা মারা যাবার পর হঠাৎ জুঁতির বাবা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসেন। বড় মেয়ের৷ সবকিছু ভুলে গিয়ে আমার পরিবার রাজি হয়৷ অদ্ভুত ব্যাপার হলো এক সপ্তাহ পরে উনিই ছোট মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেন! তাও আমার কাছেই! নিপা নাকি আমাকে ভালবাসতো! এক অদ্ভুত ঘটনা তারপর ঘটে যায়। নিপাকেও পারিবারিকভাবে বধূ করে আনা হলো। বিয়ের পরে জানতে পারলাম দু'বোনই নাকি আমার জন্য পাগল ছিলো। অথচ আমি এই দুজনকে বাবা মারা যাবার একদিন আগেও দেখিনি! বিয়ের পরে দুজন আমার খেদমত ভালোই করছে। তার কারণও অবশ্য আমি জানি। প্রায় দশ মাস আগে একটা লটারি জিতেছিলাম। পঞ্চাশ লাখ টাকা। আমি সবাইকে বলেছিলাম পঞ্চাশ কোটি! দেখার জন্য যে আমার প্রতি টাকার গুণে কজনের ব্যবহারের পরিবর্তন হয়! লটারির টাকা আমি হাতে পাইনি। নিয়ম অনুসারে ঠিক এক বছর হয়ে যাবার পর আমি টাকাটা পাবো। সুতরাং আরো দুই মাস বাঁকি আছে। এক মায়ের পেটের দু'বোন বলে কখনো ঝগড়া করে না এরা। এগারো মাস হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুজনের মাঝে একজন লোভী! টাকার লোভে আমার বৌ হয়েছে। কিন্তু জুঁতি না নিপা সেটা বুঝতে পারছি না। কোনো পুরুষই দুটি স্ত্রী কাম্য করে না৷ এক স্ত্রীর সাথে সুখি না থাকলেও না। আমিও দুটি স্ত্রীতে সুখী নই। তারচেয়ে বড় কথা এক বৌ চরিত্রহীনা। সেটা আমি স্বপ্নে দেখতে পাই। কিন্তু কোন বৌ তা স্পষ্ট করে দেখতে পারি না। টিভিতে হঠাৎ শুনলাম সেইফটি ব্যাংক লুটপাট হয়ে গেছে। সবকটা শাখায় হামলা হয়েছে। একটি পয়সাও নেই। ব্যাংকের মালিকও হাওয়া হয়ে গেছে আকস্মিকভাবে। এই সুযোগটা আমি কাজে লাগালাম। খবরটা শুনার পরপরই কান্না আরম্ভ করে দিলাম। আমার পঞ্চাশ কোটি টাকা লুটপাট হয়ে গেছে। যে ব্যাংকে আমানত ছিলো সে ব্যাংক হাওয়া হয়ে গেছে৷ আমার একেবারে মরে যাওয়ার মতো অবস্থা। সবাই আমাকে শান্তনা দিতে লাগলো। দু'বৌ আমাকে সেবাযত্ন করছে সমানভাবে! রাতের আঁধার কেটে সকাল হতেই দেখি ঘরে আমার একটি বৌ-ও নেই! আমার চমকে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই৷ ভেবেছিলাম একটি বোন হয়তো আমাকে সত্য সত্যি ভালবাসতো। কিন্তু না। টাকা পাবো না শুনেই দুজনে চলে গেলো। সকালের সূর্য উঠতেই আমি শ্বশুরবাড়ি গেলাম৷ কেউ আমার সাথে দেখা করতে চাইলো না। আমি কাঁদতে লাগলাম। অবশেষে শুনলাম তারা নাকি কোথায় চলে গেছে। আধুনিক ভাষায় ডিভোর্সের কাগজপত্র তাদের বাবা আমার হাতে ধরিয়ে দেয়৷ কিন্তু আমার বিশ্বাস তারা যায়নি। আজকেই শেষ দিন৷ আর আসবো না। শ্বশুরবাড়ির সামনে কাঁদছি। ছেলেদের কান্না সাজে না। কিন্তু আমি বেশ অভিনয় জানি। মনে মনে শান্তি পেলাম। আগেভাগেই দুই লোভী মেয়েকে জীবন থেকে সরাতে পেরেছি। যেই না চলে যাবো বলে পা বাড়ালাম তখনই একটি মেয়ে দৌড়ে এসে বললো— আমি টিয়া। বিয়ে করবেন আমারে? আমি লোভী দুই বোনেরই ছোট বোন৷। আমি মেয়েটাকে ভালো করে দেখলাম। রূপে ওই দুজনের চারগুন! কিন্তু আমাকে বিয়ে করতে চাইছে কেন? তার উপর আমি বলতে গেলে সর্বহারা। বাজারে একটা দোকান আর ভিটে বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই আমার। আমি থমকে গিয়ে বললাম— আমার তো কিছুই নেই৷ লটারির টাকাটা পেলে জীবনে সুখ আসতো৷ এখন তো আবার আমার সংগ্রামের দিন শুরু হয়ে গেছে৷ মেয়েটি কান্না কান্না স্বরে বললো— যে দুঃখ আপনাকে আমার দুবোন দিয়েছে তা কোনোদিন শোধ করতে পারবো না জানি। কিন্তু আমার সর্বচ্চটা দিয়ে আপনাকে খুশি রাখার চেষ্টা করবো ঠিকই। আর হ্যাঁ আমি আপনাকে আগে থেকে চিনতামও না ভালও বাসতাম না। আমি কি বলবো বুঝে উঠার আগেই মেয়েটা আবার বললো— সময় হাতে নেই। বাবা জেগে গেলে আর পালাতেও পারবো না আমরা। আমি লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম— বিয়ের পরেই হাতটা ধরবো। এখন আপাদত আমার সাথে আসো। মেয়েটা ভয়ে কাঁপছে! কবুল বলার আগ পর্যন্ত কাঁপাকাঁপি শেষ হয়নি। আমার জীবনে সত্যিই সুখ ফিরে আসলো। প্রথমে মা ঐ লোভী পরিবারের মেয়েকে মেনে নিতে রাজি না হলেও এখন সে আসল হীরা চিনে গেছে। টিয়ার মুখ থেকে যতটুকু শুনলাম। এদের মা অনেক ভালো ছিলো। বাবা হলো লোভী আর প্রথম দুই মেয়েও হয়েছে তাই৷ কিন্তু এরাও নাকি প্রথম প্রথম লোভী ছিলো না। কী দেখে যেন লোভী হয়েছিলো! তা টিয়া বলে না। আজকে আমি টিয়াকে না বলা পর্যন্ত ছাড়বো না। টিয়া মাছ কাটছে। আমি পাশে বসে বললাম— টিয়া। হুঁ। তুমি কিন্তু বললে না এখনো তোমার দু'বোন কী দেখে লোভী হয়ে উঠেছিলো। আজকে না। না বললে কিন্তু এখন খবর আছে বলছি! ভয় দেখাচ্ছেন? " না, আমি এক্ষুণি তোমাকে অত্যাচার করতে পারি। আমার অধিকার আছে। " বলে টিয়ার আঁচলটা ধরে টান দিতেই টিয়া বললো— শয়তান। একটুও ধৈর্য নেই না? — যাই বলো, যতক্ষণ পর্যন্ত বলবে না ততক্ষণ পর্যন্ত অত্যাচার চলবে। মানুষ দেখলে দেখুক। — আরে বাবা সিরিয়াল, ইন্ডিয়ান সিরিয়াল! দামী দামী গহনা আর রাজার হালে থাকতে পারতো সিরিয়ালের বৌদের মতো। সেজন্য বাবার মাথা খেয়ে ফেলেছিলো তারাতারি যেন আপনার সাথে বিয়ে দেয়। বাবাও ওরকম। তারপর সব তো জানেনই। আমি গণদীর্ঘশ্বাস নিলাম। মানে ছেড়ে ছেড়ে দীর্ঘশ্বাস। বৌ শ্বাশুরির কলহ। শালী দুলাভাই পরকীয়া৷ বৌদিদের প্রেমের ক্ষুধা৷ আর সস্তা রোমান্টিকতা যে কোনো মেয়েকেই বিগড়ে দিতে পারে। মাথায় শয়তানি ঢুকিয়ে দিতে পারে। এ জাতিকে যে কীভাবে সিরিয়ালের থেকে সরানো যাবে তা ভাবতে ভাবতেই টিয়াকে ছেড়ে দিলাম। অনেক্ষণ জড়িয়ে ছিলাম। — এবার কাটো তোমার মাছ। — মাছ না আপনাকে কাটবো। — কেন আমি কি করছি? — ছাড়লেন কেনো? — দরজা খোলা। টিয়া দরজাটা দেখিয়ে ভেঙচি সহিত বললো— বন্ধও তো করা যায় লেখকঃ- অলিভার কুইন (শুভ)।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সুলতান সুলেমান-"সিরিয়াল" ও ইতিহাস...
→ "সিরিয়াল"

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now