বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিরিঞ্জ

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মো রাকিবুল হাসিব (০ পয়েন্ট)

X বিছানায় পরে থাকা দেহটার দিকে তাকিয়ে আপন মনে হাসল আসিফ। একবারে নিখুত খুন। সূক্ষ্ম সুঁই দিয়ে এক সিরিঞ্জ বাতাস হাতের রগ দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দেয়। সাথে সাথে শেষ। যে কেউ বলবে হার্ট অ্যাটাক। নিজের দক্ষতা দেখে খুশি হল আসিফ। ফোন দিল তুর্যকে। বলে, - কাজ শেষ - নার্ভ চেক করসস? - হ্যাঁ, করছি - হাতে সুঁই এর দাগ দেখা যায়? - না। একবারে পরিষ্কার। - ওকে, ছদ্মবেশটা নিয়ে চলে আয় - ওকে শেষবারের মতো গলার রগটা চেক করল। নাহ শেষই। শিশ বাজাতে বাজাতে গ্লাভস খুলে ছদ্মবেশটা নিয়ে বের হয়ে আসে।. . . আসিফ ও তুর্য। ঢাবির ক্রিমিনালজি ডিপার্টমেন্টের সবচেয়ে ব্রাইট দুইজন স্টুডেন্ট। কিন্ত এর বাইরেও ওদের আরও একটা পরিচয় আছে। MH13। আন্ডারওয়ার্ল্ড এ ওরা এই নামেই পরিচিত। টাকার বিনিময়ে যে কাউকে খুন করে। কঠোর নিয়ম মেনে চলে। কাউকে কোন প্রশ্ন করে না। ওদেরও কেউ কোন প্রশ্ন করতে পারবে না। আন্ডারওয়ার্ল্ড এ কেউ ওদের চিনে না। ওরা ছেলে না মেয়ে এইটাও জানে না।শুধু জানে MH13। কাউকে খুন করতে মোটা অঙ্কের টাকা ওদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয় আর যাকে খুন করতে হবে তার ছবি ও বৃত্তান্ত ইমেইল করে। তারপর শেষ। কেউ জানতেও পারে না কে মেরেছে। কোন প্রমান থাকে না। ক্রিমিনালজির সমস্ত জ্ঞান ব্যবহার করে তুর্য প্ল্যান করে। আর আসিফ তা বাস্তবায়ন করে। আসিফের কাজে কোন খুঁত নেই। কোন প্রমান নেই। কোনদিন ওরা ব্যর্থ হয় নি। আস্তে আস্তে ওরা হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড এর বেস্ট কিলার। ওদের একটা বাসা আছে। মাঝে মাঝে ঐ বাসায় থাকে। আর অন্য সময় হলে থাকে। . . পরদিন ক্যান্টিনে বসে আসিফ আর তুর্য আড্ডা দিচ্ছিল। আস্তে আস্তে আসিফ জিজ্ঞাসা করে, - কোন মেইল এসেছে? -না -আসে নাই? - না - কি বলস? আমি তো দেখলাম আমাদের অ্যাকাউন্টে ২ কোটি টাকা বেশি আছে। - হয়তো একটু আগেই পে করেছে। মেইল এসে পরবে। - হয়তো। মনে হচ্ছে এইবার অনেক বড় কেউ। - হতে পারে..................... আগেরদিনের ঘটনা : আসিফ আগে আগে খেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। তুর্য ওদের ইমেইল অ্যাকাউন্টটা চেক করছিল। হঠাৎ একটা মেইলে ওর চোখ আটকে যায়। একজনকে মারতে হবে। তার জন্য ২ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এমনকি সেটা ওদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েও দেয়া হয়েছে। যাকে মারার জন্য এতগুলো টাকা দেয়া হয়েছে তার ছবিটা দেখে ও মুহূর্তের জন্য থমকে যায়। পরক্ষনেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। . . পরদিন সন্ধায় ভার্সিটি হলে তুর্য আর আসিফ তুর্যর রুমে বসে আছে। তুর্য আসিফকে বলে, - দোস্ত একটা চরম জিনিস আনছি। - কি? - একটু দাম নিসে বাট একদম খাঁটি। আসিফ দেখল তুর্যর হাতে দুই বোতল হুইস্কি। দেখেই বলল, - দেয় দোস্ত দে, অনেকদিন ধরে খাই না - এই নে তুর্য আসিফকে একটা বোতল দেয়। আসিফ খাওয়া শুরু করে। তুর্যও আরেক বোতল খেতে থাকে। অর্ধেক খাওয়ার পর আসিফ বলে, - বাপরে আর পারব না। এখনই মাথা ঘুরতেসে। আর পারব না। আমি যাই রে - ওকে যা এই বলে আসিফ ওর রুমে চলে যায়। গিয়ে ঘুম দেয়। তুর্য এদিকে মনে মনে হাসতে থাকে। সারারাত চিন্তা করে এই প্ল্যান তৈরি করেছে। আসিফ ঘুনাক্ষারেও বুঝতে পারে নাই হুইস্কির সাথে অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ মিশানো ছিল। তুর্য আপন মনে শিশ বাজাতে থাকে। এক ঘন্টা পর গ্লাভস পরে সিরিঞ্জ হাতে আসিফের রুমে ঢুকে তুর্য। আসিফের প্রিয় সিরিঞ্জ। সুঁইটা অনেক সূক্ষ্ম। আসিফ গভীর ঘুমে অচেতন। আস্তে আস্তে করে ওর কাছে যায়। ঘাড়ের কাছে স্পাইনাল কর্ডটা খুঁজে বের করে। তারপর আস্তে করে স্পাইনাল কর্ড বরাবর সুঁই ঢুকিয়ে দেয়। স্পাইনাল কর্ডে আঘাত লাগার পর কারো আর বেঁচে থাকার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকে না। যে কেউ বলবে সুইসাইড করেছে ঘুমের ওষুধ খেয়ে। হাসতে হাসতে রুম থকে বেরিয়ে এল তুর্য। . . ১০ বছর পরের কথা। নিজের অফিসে বসে আছে দেশসেরা গোয়েন্দা তুর্য হাসান। যেকোনো দুর্বোধ্য কেস তুর্যর কাছে পানির মতো। ডিপার্টমেন্টে ওকে শার্লক বলে ডাকে। বেশ সুখেই আছে। হঠাৎ করে একটা ফোন আসে। ফোনটা করেছে বাসার দারোয়ান। বলে, - স্যার আপনি একটু তাড়াতাড়ি বাসায় আসেন।জরুরি। তুর্য দেরি না করে বাসায় গেল। তুর্যকে দেখে দারোয়ান বলল, - স্যার কে যেন এই বস্তাটা গেটের সামনে ফেলে রেখে চলে গেছে। তুর্য আস্তে আস্তে বস্তাটা খুলল। খুলে যা দেখল তাতে ও নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। দেখল ওর প্রাণপ্রিয় কলিজার টুকরা ছেলের কাটা মাথা। সারা দেহ থেকে ছিলানো চামড়া। শুধু চামড়া, দেহটা নেই। . . কয়েকদিন পরের কথা। নিজের সমস্ত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েও তুর্য কিছুই বের করতে পারে নি। একটা প্রমানও না। একবারে নিখুঁত কাজ। বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই। পুত্রশোকে ওর স্ত্রী প্যারালাইজড হয়ে গেছে। ওর নিজেরও পাগল হয়ে যাবার দশা। একদিন রাতে তুর্য তার ইমেইলগুলো চেক করছিল। হঠাৎ একটা ইমেইলে ওর চোখ আটকে যায়। ইমেইলটা ওর ছেলের মৃত্যুর আগের দিন এসেছিল। ইমেইলটাতে ওর ছেলের ছবি আর বৃত্তান্ত দেয়া................................ . . শিক্ষা: প্রকৃতি প্রত্যেকটা কাজের হিসাব রাখে। আর সময়মতো সবকিছু সুদে আসলে ফেরত দেয়। অবিশ্বাসের কাজগুলো অতি বিশ্বাসী মানুষরাই করে............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিরিঞ্জ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now