বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিনিয়র প্রেমিকা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Samim Hossain(সাইকো) (০ পয়েন্ট)

X সামিরা_ওই সমস্যা কি হুম? আমি-পকেটে টাকা নাই সে জন্য হেটে হেটে যাচ্ছি। সামিরা_আমি বলতেছি প্রতিদিন আমাদের পিছন পিছন আসার কারন কি? ( ধমকের সুরে) আমি- আমি আবার আপনাদের পিছন পিছন আসলাম কোই, আপনারাই তো বরং আমার সামনে সামনে আসেন। সামিরা_ দেখেতে মনে হচ্ছে এই ভার্সিটিতে পড়েন?? আমি- হুম অনার্স ফাস্ট ইয়ার। সামিরা_ কি,(কিছুটা আশ্চার্য হয়ে) বড় বোনদের সম্মান দিতে শিখো নাই?পিছন পিছন ফলো করো কেন? আমরা তোমার বড় বোন বুচ্ছ সবসময় সম্মান করবা যাও। ১ম বান্ধবী_ ওই তুই ওর সাথে এমন করিস কেন? ও আমাদের ছোট ভাইয়ের মতো। আমি- উওও কিউটি আমি উনাকে ভালোবাসি আপনি এসব কি বলছেন। আমি উনার প্রেমিকা আপনাদের দুলাভাই। আমার এমন কথাতে সামিরা যেনো বিরাট একটা গাছ থেকে পড়লো। হা করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে বাকি দুইজনেরও একি অবস্থা একজন মুচকি মুচকি হাসছে আমিতো নায়কের মতো ভাব নিয়ে মুখে হাসি তুলে অন্য দিকে তাকিয়ে আছি। সামিরা_ ব্যাটা পিটাইতে পিটাইতে লুলা করে ছেড়ে দিবো। ভালোবাসে ভালোবাসার কি বুঝিস হ্যা বাচ্ছা পোলাপাইন যা পোট আর কখনো যদি পিছনে দেখি পা ভেঙ্গে হাতে দড়িয়ে দিবো হারামজাদা।। আমি- একবার ভালোবেসে দেখোনা তারপর বুঝবে আমার ভালোবাসা কত্ত মধুর কিছু না বলেই হাটা শুরু করে দিলো। যেমনটা ভাবছিলাম তেমনটা না এ যেনো রাগের ডিব্বা অসম্ভব রাগি বুঝা গেলো সেই প্রথম দিন দেখেছিলাম সাদা একটা ড্রেস পড়ে প্রখর রৌদ্রতেজে একটা ছাতা নিয়ে ভার্সিটিতে দৃপ্ত পায়ে হেটে আসছে এ যেনো এক স্বর্গের হুরপরী। আমি হা করে তাকিয়ে ছিলাম, ফ্রেন্ডের ধাক্কাতে বাস্তবে ফিরে আসলাম।। এই প্রথম কোন মেয়েকে দেখে ভালোলাগা কাজ করলো, চোখ বুঝলেই এই দৃশ্যটা দেখতে পাই আর ফারিয়ে যাই কল্পনার জগতে, কিন্তু সমস্যা বাধলো ডিটেল্স জানতে পেরে আমার এক বছরের সিনিয়র। দেত মাত্র দুইটাই তো বছর ও কিছুনা। প্রতিদিন ফলো করতাম ওরা তিন জন টের না পেলেও সামিরা ঠিকিই টের পাইছে তাই আজকে এই ধমক মুধুর হমকি। পরদিন আমি রিকশা করে যাচ্ছি, দেখলাম বাসার সামনে দাড়িয়ে মনে হচ্ছে ভার্সিটি যাবে এইতো চান্চ। সামনে রিকশা দাড়াকরলাম। আমি- যদি কিছু মনে না করেন তাহলে উঠতে পারেন। সামিরা_ মুখ অন্য দিকে ফিরিয়ে যাবো না। আমি- সমস্যা নেই আপনার বান্ধবীরা দেখবে না। সামিরা_ বললাম তো যাবো না। (রাগি হয়ে) বাড় বাড় ঘড়ির দিকে তাকায় বুঝে গেলাম মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ ক্লাশ আছে রিকশা থেকে নেমে গিয়ে।। আমি- তোমার মনে হয় গুরুত্বপূর্ণ ক্লাশ আছে। তুমি যাও আমি পরে যাবো। আমার কথাতে চোখদুটি আগুনের রুপ নিয়ে তাকিয়ে আছে, পরে রিকশায় উঠে গেলো। বুঝলাম তুমি বলাতে রেগে গেছে, ওই শোন ভাড়া আমি দিয়ে দিয়েছি তুমি দিয়ো না, আমি মুচকি হাসছি মনে হয় রিকশাতে রাগে ফোস ফোস করে, আমি হেটে গেলাম, মাঠে বসে আড্ডা দিতেছি, হটাৎ দেখলাম সামিরা আসছে এই দিকে আল্লাহই ভালো যানে কি করে বসে আল্লাহ রক্ষা কইরো। সামিরা_ এই নেও টাকা। আমি- কিসের? সামিরা_ রিকশা ভাড়া?? আমি- ওহ লাগবে না। সমস্যা নেই অন্য কোন দিন আপনার সাথে করে নিয়ে আসলে হবে। টাকাটা ছুড়ে মেরে গজগজ করতে করতে চলে গেলো। ২০ টাকায় আমার তিনশটাকা বাশ দিছে বন্ধুরা ট্রিট দিতে হলো। পরদিন আমি একটু তাড়াতাড়ি চলে আসলাম একটা কাজ ছিলো কাজ শেষ করে ভার্সিটি যাবো। কাজ শেষে রওয়ানা দিলাম হটাৎ বৃষ্টি শুরু হলো। একটা গাছের নিচে দারালাম। উওও সামিরা আসছে ছাতা নিয়ে খুব খুশি আমি এক ছাতার নিচে বৃষ্টির মধ্যে ভার্সিটি যাবো। মুখে হাসি ফুটিয়ে তাকিয়ে আছি সামিরার দিকে কিন্তু আমার সামনে দিয়ে চলে গেলো দেখেও না দেখার ভান করে। মন খারাপ করে নিচের দিকে তাকিয়ে আছি। সামিরা_ আসো না কেন? হটাৎ কথাতে থমকে তাকালাম সামিরা আমি- যাবো না । সামিরা_ আরে ভিজে যাবে তো আসো তাড়াতাড়ি। মনটা হটাৎ করে আনন্দে ফুটে উঠলো। আমি- যানেন কালকে আপনার ২০ টকাতে আমার তিনশ টাকা বাশ খাইছে। সামিরা_ কেন? আমি- বন্ধুদের খাওয়াইতে হইছিলো তারা বলে আপনি নাকি আমার প্রেমিকা তাই। হটাৎ দাড়িয়ে গেলো চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আবার হাটা শুরু করলো। ক্লাশ শেষে দেখলাম ওরা সব বান্ধবী মিলে আড্ডা দিতেছে। এতোদিনে ওদের সাথে সম্পর্ক ভালোই হইছে শুধু সামিরা ছাড়া আমি- হাই কিউটিরা কেমন আছেন? কিউটিরা_ হাই হ্যান্ডসাম উওও আমি হ্যান্ডসাম (ডাউট হচ্ছে) বান্ধবী_ তা তোমার প্রেম কেমন চলছে? আমি- চলছে পিপড়া গতিতে বান্ধবী_ তুমি শুধু শুধু মজা করো বাস্তবতা অনেক কঠিন, তোমাদের সম্পর্ক কেউ মেনে নিতে পারবে না। আমি- বাস্তবতা অনেক কঠিন বাস্তবতাকে সহজ করে নিতে হবে , আমি আবেগ নিয়ে ভালোবাসতে আসি নাই আমি সব যেনে শুনেই ভালোবাসি। সবটুকু ভালোবাসাই দিয়েই ভালোবাসি, প্রেম বয়স দিয়ে হয় না প্রেম হৃদয় থেকে আসে অন্তর থেকে আসে একটি মন আরেকটি মনের সাথে যে মধুর সম্পর্কই ওটাই প্রেম। আর সেইমনটা আপনার বান্ধবীর অন্তরে ৩য় বান্ধবী_ তুমি আমাকে পছন্দ করতে পরলে না আমি এতোদিনে রাজি হয়ে যেতাম। হটাৎ সামিরা আমার কলার চেপে ধরলো সামিরা_ এই ব্যাটা প্রতিদিন কিল ঘুষি থাপ্পর খামছি খেতে পরবি? আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। তার মুখে পরা চুলগুলোকে একটা ফু দিলাম সামিরা চোখটা বন্ধ করে ফেললো আমি বললাম চোখ বুঝে রাজি বলেই চলে আসলাম। ইচ্ছে করছে ডেন্স দেই রুমে হলে দিতাম কিন্তু ক্যাম্পাসে আরো ছাত্র ছাত্রী কেটে গেলো কয়েক সাপ্তাহ, ক্লাশ শেষ হওয়ার কিছুসময় আগে বৃস্টি শুরু হলো আমি দাড়িয়ে ফোনে গেইম খেলি সামিরা_ চলো, আমিতো হচকিয়ে গেলাম আমি- কোথায়? সামিরা_ বৃষ্টিতে ভিজবো আমি- মাফ চাই আমি বৃষ্টিতে ভিজলে জ্বর আসবে নিশ্চিত, আর দশ দিনের কমে আমার জ্বর কমে না। সামিরা_ তুই যাবি নাকি কলার ধরে নিয়ে যাবো, ফোন মানিব্যাগটা জমা দিলাম বন্ধুর কাছে দোস্ত বাশ দিস না ভাই এমনিতে গরীব। সামিরা দুহাত মেলে ভিজতেছে আর গুন গুন গান গাইছে আমি শুধু হাটি, ওকে আজকে অন্যরকম সুন্দর লাগে হটাৎ একটা বজ্রপাতের আওয়াজ হলো দৌড়ে এসে আমাকে জরিয়ে ধরলো কি যে ফিলিংস মনে হচ্ছে অন্যকোন গ্রহে আছি। সেই দিন থেকে জ্বর ভার্সিটি যাই নাই পাচ দিন প্রতিদিন বিকালে সামিরে বিকালে আমার জন্য গরম গরম কিছু না কিছু নিয়ে আসতো আজকে আনছিলো রুটি গোস্ত নিজ হাতে খাইয়ে দিলো। সামিরা_ বৃষ্টির সময় প্রতিদিন বৃষ্টিতে ভিজতে হবে কি পারবে? হেচ্চো (হাচি)আমি আমি রাজি সামিরা আমার হাতটাকে শক্ত করে ধরে আমার দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে......।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিনিয়র প্রেমিকা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now