বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সিমাহীন পথচলা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ইমরান বাপ্পী (০ পয়েন্ট)

X আমি:-তুমি কি এই বিয়েতে রাজি আছো?? আদিরা::--বিয়েতে রাজি থাকলে কি তোমার কাছে ফোন দিতাম নাকি!!!!এখন কি করব সেটা বলো?? আমি::--তুমি একবার মামাকে বলে দেখো না প্লিজ!!!! আদিরা::--সম্ভব না নিল। তোমার কি মনে হয় যে সম্ভব হলে আমি বাবাকে বলতাম না?? আমি:--না সেটা না। কিন্ত এখন কি করব সেটা তো বলো!! তবে একটা কথা মনে রাখবা,,,আমি তোমাকে ছাড়া বাচবনা। এটা মনে রাখবা। আদিরা::--নিল,,,, তুমি প্লিজ বাবাকে একবার বলে তো দেখো,,,বাকিটা পরে বোঝা যাবে!! আমি::--ঠিক আছে। আমি আজই আম্মুকে গিয়ে বলবো। আর যদি ওরা রাজি না হয়??? আদিরা::--রাজি না হওয়ার মত কিছুই নাই। আমি::--ঠিক আছে। এখন ঘুমিয়ে যাও আদিরা::--তুমিও ঘুমাও। আমি::-অনেক ভালোবাসি তোমাকে। আদিরা::--আমিও ভালোবাসি তোমাকে অনেক্ ,, এবার পরিচয়টা দেয়া যাক। আমি নিল। এবার অনার্স ফাইনাল দিলাম ফার্মাসিটিক্যাল ডিপার্টমেন্ট থেকে। আর আদিরা হল আমার মামাতো বোন। আর আমি ওকে অনেক ভালবাসি আর এই পথচলা শুরু হয়েছিল সেই ক্লাস নাইন থেকে। ,, তখন ভালবাসা কি বুঝতাম না তবে এটা বুঝতে পারতাম যে আদিরা কে আমার অনেক ভাললাগে। তাই ওকে দেখতে বারবার নানুবাড়ি ছুটে যেতাম। কিন্তু আমি ওর সামনে কেমন যেন বোবা হয়ে যেতাম। কিছুই বলতে পারতাম না। শুধু ওর দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আর ওর চোখের মায়ায় একটুখানি ডুব দিতাম,,,যেখান থেকে বাচাঁর উপায় নাই। তবুও ডুব দিতাম। আদিরা চোখে কাজল দিলে খুব ভালোলাগত। আদিরা আমার এক ব্যাচ জুনিয়র ছিল। এভাবেই ২ টি বছর কেটে যায়। আমি অনেকটা ভিতু টাইপের ছিলাম যার কারনে এতদিনেও ওকে প্রপোজ করতে পারিনি। তবুও ওকে ভালবাসতাম। মাঝে মাঝে ওর দিকে তাকিয়ে থাকার সময় ওর চোখে আমার চোখ পরে যেতো। তখন আদিরা কিছু না বলে একটা মুচকি হাসি দিতো। তখন নিজেকে অনেক সুখী মনে হতো। এর মধ্যেই আদিরার বড় আপু নিরা আপুর বিয়ে ঠিক হয়। আমার তখন এইচ এস সি এক্সাম শুরু হয়ে গেছিলো। যার কারনে শুধু গায়ে হলুদের রাত্রে এটেন্ড করতে পারব। বিয়েটা ছিল ৫ই মার্চ আর আমার এক্সাম ছিল ৮ই মার্চ। ,, গায়ে হলুদের দিন রাতে আদিরা হলুদ শাড়ি পড়েছিলো। ওরে দেখতে ঠিক হলুদ পরীর মত লাগছিলো যদিও আমি কখনো পরী দেখিনি। আমি শুধু এর পিছন পিছন ঘুরতেছিলাম। আমার মনে ইচ্ছা ছিল সুযোগ পেলেই আদিরা কে প্রপোজ করে দিবো কিন্ত সুযোগ যে ঈদের চাঁদ হয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি। কিছুতেই কোনো সুযোগ আসছে না। কি যে করি কিছুই বুঝতেছিনা। ,, বিধাতা মনে হয় আমার দিকে সেইদিন চোখ তুলে তাকিয়ে ছিলো। আদিরা কি যেনো একটা কাজে তার রুমে গেল। আমি তার পিছু নিয়ে গেলাম তার রুমে। রুমে ডুকে দরজাটা লাগিয়ে দিলাম। ,, আদিরা:-কি হল নিল ভাই। দরজা আটকিয়ে দিলেন কেন?? আমি:-আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই। ৫ মিনিট সময় দাও। আমি বলে চলে যাবো। আদিরা:-একটু তাড়াতাড়ি বলবেন দয়া করে। আমার কাজ আছে বাহিরে!!! আমি:-আদিরা,,,আমি তোমারে সেই ক্লাস নাইন থেকে আজ পর্যন্ত ফলো করে আসছি,,কিন্ত কখনো মুখ ফুটে কখনো কিছু বলার সাহস টা হয়নি। কিন্তু আর না বলে থাকতে না পেরে আজ বলতে বাধ্য হচ্ছি। ,, আমি তোমাকে ভালোবাসি,,,আমি তোমাকে সিমাহীন পথচলার সাথী হিসেবে আমার পাশে চাই,,,, আদিরা:-আমি আপনাকে পরে এটার উত্তর দিয়ে দিবো কিন্ত আপনার পরীক্ষার পরে। দয়া করে ভাল করে পরীক্ষাটা দিবেন। ,, তারপর মুচকি একটা হাসি দিয়ে চলে গেল। আমার যা বোঝার ছিল তা আমার বোঝা হয়ে গেছে। , আদিরার সাথে আমার রিলেশনটা খুবই ভালো চলছিল। ওর কাছে মোবাইল না থাকার কারনে কথা খুব কম হতো। তবুও আমার বা আদিরার কোনো অভিযোগ ছিলোনা। আমাদের মাসে দুইমাসে একবার দেখা হত। কখনো কখনো ওর হাতটা আলতো করে ছুয়ে দেয়া,,,ওর চুলে টান দেয়া বা খাবার সময় ওর পায়ে আমার পা টা একটু ছুয়ে দেয়া আর চোখে চোখে কথা বলায় ছিল আমাদের লুকানো ভালবাসা। আমি কখনো ওর চোখে পানি আসতে দেইনি। কারন আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কখনো আমার জন্য ওর চোখে পানি আসতে দিবোনা। আর আমি খুব গর্বিত কারন আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। ,, আজ প্রায় ৬ বছরের রিলেশন আমাদের। কখনো কোনো ট্রাজেডিও আসেনি আমাদের ভালোবাসাতে। কিন্ত হঠাৎ ই ওর বিয়ের জন্য পাত্রপক্ষ দেখতে আসে। ,, খুব টেনশনে আছি। কি করে বলব আম্মু কে। কিন্ত আমাকে যে বলতেই হবে। নাহলে আমার ভালোবাসা কে চিরদিনের মতো হারাতে হবে। অনেক চিন্তা নিয়ে গেলাম আম্মুর কাছে। আম্মু আমার চেহারা দেখে বুঝে ফেললেন যে আমি চিন্তায় আছি। মায়েদের এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। তারা তাদের সন্তান এর কষ্টটা অতি সহজে বুঝে নেন। , আম্মু:-নিল,,কি হইছে তোর?? তোকে এরকম দেখাচ্ছে কেন? আমি:-আম্মু,,আমি একটা অন্যায় করে ফেলেছি,,!! আম্মু::--কি অন্যায় করছিস তুই (অবাক হয়ে) আমি:- আম্মু,,আমি আদিরা কে ভালোবাসি আর ওকে বিয়ে করতে চাই।আম্মু আমি ওকে ছাড়া বাচবনা। আজ ওকে ছেলে পক্ষ দেখতে আসছিলো। আম্মু তুমি দয়া করে কিছু করো। তুমিই পারো সবকিছু (কেদে ফেলেছি অলরেডি) আম্মু::-- (একটু হেসে) ছেলের কে কে গেছিলো? আমি:- (মাথা নিচু করে) ছেলের বাবা ছাড়া আর কেউ যায়নি আম্মু::--(একটা ডায়েরি আমার হাতে দিয়ে) বিয়ের জন্য প্রস্তুত হও আমার বাবু বলে আম্মু চলে গেল। আরে,, এটাতো সেই ডায়েরিটা যেটাতে আমার আর আদিরার সবকথা লেখা ছিলো। তার মানে,,ইয়াহু,,,,তার মানে আদিরাকে আজ আব্বু দেখতে গেছিলো। সাথে সাথে আদিরা কে ফোন দেওয়ার জন্য মোবাইল হাতে নিতেই দেখি আননোন নাম্বার থেকে একটা ফোন আসছে। ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আদিরার কন্ঠ ,, আদিরা:-সারপ্রাইজ টা কেমন লাগলো? আমি:--আদিরা তুমি আসলেই আমার হতে চলেছো আদিরা:-হুম। আমি:-অনেক ভালোবাসি তোমাকে। অনেক ভালোবাসি আদিরা:-আমি কিন্তু একটুও ভালবাসি না আমি:-সেটা নাহয় বিড়াল মারার রাতে দেখা যাবে!!" আদিরা::--মানননননে? আমি::--কিছুনা! আদিরা:-অনেক ভালোবাসি আমি:-জানি। আর তাইতো তোকে সিমাহীন পথের সঙ্গী করে নিলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সিমাহীন পথচলা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now