বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠল
স্নিগ্ধা,,,ছেলেটা তখনো ঘুমাচ্ছে,,,
স্নিগ্ধা কালকে কিছু খায় নি,,তার ক্ষুধা
লেগেছে খুব। কিছুক্ষণ সহ্য করে আর যখন
পারল না। ছেলেটার রুমে গেল সে।
ডাকার চেষ্টা করল তাকে,,, নাম তো
জানে না,,, অনেকক্ষণ "এই যে,,, এই যে "
করে ডাকতে লাগল।
ছেলেটার যখন ঘুম ভাঙল না। তখন বাধ্য
হয়ে সে ঘরে খাবার খুজল,,, চাল ডাল আর
ডিম পেল। খিচুড়ি রান্না করতে
লাগল,,,আর ডিম ভাজতে লাগল,, বাইরে
তখন বৃষ্টি হচ্ছে।
খিচুড়ির ঘ্রাণ নাকে যেতেই ছেলেটা
ঘুম থেকে উঠল,,চোখ বন্ধ করেই
বলল,,"আম্মু,বৃষ্টি দেখে খিচুড়ি বানাচ্ছ?"
হঠাৎ মনে পড়ল তার মা তো বেঁচে
নেই,,খিচুড়ি বানাচ্ছে কে???
সে রান্নাঘরে উকি দিল,,স্নিগ্ধাও চোখ
বড় করে তার দিক তাকাল,,, ছেলেটা আর ও
কিছুক্ষণ পরস্পরকে দেখল,,তারপর ছেলেটা
বলল,,,"লবণ বেশি দিয়েন না,,আমি লবণ খাই
না,,"
স্নিগ্ধা বলল,,"ওকে"
সকালে ওরা এক টেবিলে বসেই
ব্রেকফাস্ট করল,,কিন্তু কেউ কথা বলল না,,,
বিব্রতভাব কাটাতে ছেলেটা টিভি
চালাল,,, স্নিগ্ধার বুকটা স্তব্ধ হয়ে গেল। ও
যদি খবর দেখে তাহলে কি হবে???
ছেলেটা টিভি খুলেই মনে পড়ল,,, সে ১
মাস আগে ডিশলাইন কেটে দিয়েছে
পড়াশুনায় ডিস্টার্ব হয় বলে। স্নিগ্ধা যখন
দেখল টিভির পর্দা নীল,ছেলেটার দিকে
তাকাল,, ছেলেটা লজ্জিত ভাবে বলল,,
"এক মাস আগে ডিশলাইন কেটে
দিয়েছিলাম,,,"
স্নিগ্ধার বুক থেকে পাথর নেমে গেল।
সে ছেলেটাকে বলল,,"আপনি পেপার
রাখেন???"
ছেলেটা বলল,,," না,,পেপার পড়ার সময়
নেই,,আমি অনলাইন নিউজ পড়ি,, তাও
মাঝে মাঝে,,,"
মেয়েটা সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে দেখতে
লাগল ছেলেটা কখন মোবাইল বের করে,,,
ছেলেটা মোবাইল যখন বের করল,স্নিগ্ধার
ধুকপুকানি আরো বেড়ে গেল।,, ছেলেটা
বলল,,"ধুর,, চার্জ নেই,,"
মেয়েটা এ যাত্রা বেঁচে গেল,,
ছেলেটা বলল,,"আমি কলেজে যাব,,,
আপনি থাকেন তাহলে ঠিক আছে???আর
আমার কাছে এখন টাকা নেই,,আপনি
আপনার মা বাবাকে ফোন করেন। বলেন
বিকাশে টাকা পাঠাতে,,তারপর রিটার্ন
টিকেটে ফিরতে পারবেন।"
মেয়েটা বলল,,, "আমার কেউ নেই,, আমার
মা বাবা মারা গেছে,,"
ছেলেটা স্নিগ্ধার দিক তাকিয়ে রইল।
তার মুখ থেকে আর কথা বের হল না।
ছেলেটা বাইরে গেল। বাইরে হয়ত তার
বন্ধুদের কাছ থেকে খবরটা শুনতে পেত
যে, "একটা মেয়ে তার বাবাকে খুন করে
প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে,," ,,
কিন্তু সুখের বিষয়,,,তার কোন বন্ধুই নেই।
তাই ছেলেটা জানল না।
ফেরার পথে দোকানে টিভি চলতে
দেখল,,,কিন্তু যখন দেখল টিভিতে
চট্টগ্রামের নাম নেওয়া হচ্ছে,,, সে দ্রুত
চলে গেল। তাই পরের খবরটা শুনল না,,,
যেটায় স্নিগ্ধার খবর বলছিল।
ছেলেটা চট্টগ্রামের নামই এখন শুনতে
পারছে না। কেউ চট্টগ্রাম কথাটা বললেই
তার দুশ্চরিত্রা প্রেমিকার কথা তার মনে
পড়ছে। আর আশ্চর্যের বিষয়,আশেপাশের
সবাই যেন নিজেদের মধ্যের কথাতে
"চট্টগ্রাম " কথাটা বেশি ইউজ করতেছে।
উত্তপ্ত মেজাজ নিয়ে ছেলেটা বাসায়
ফিরল। ফিরে ভিতরে ঢুকে স্নিগ্ধাকে
একটা সাজানো গোছানো ঘরে বসে
থাকতে দেখে প্রথমে বুঝতে পারল
না,এটা তারই ঘর কিনা,, সে স্নিগ্ধাকে
ভুলে বলল,,"সরি,ভুল করে ঢুকে পড়েছি,,,"
কিন্তু বের হবার পর মনে পড়ল,,"আরে এটা
তো আমারই ঘর,,,"
সে আবার ঢুকে হা করে তাকিয়ে রইল
বাসায়,,, তার ঘর এত গোছানো কেন????
স্নিগ্ধা একটু ভীত হাসি দিয়ে বলল,,"একটু
গুছিয়ে রেখেছি,,,"
ছেলেটা বলল,,"গুছালেন কেন?? আমার
জিনিসগুলো আমি নির্দিষ্ট স্থানে
রাখতাম,,এখন আমি সেগুলো প্রয়োজনের
সময় পাব কোথায়???"
স্নিগ্ধা ভ্যাবাচেকা খেয়ে ভাবল,,,শার্ট
গুলো সোফায় স্তূপ করে রাখাকেই কি
উনি নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট জিনিস
বুঝাচ্ছেন???
স্নিগ্ধা বলল,,"আপনি কিছু খুজে না পেলে
আমাকে বলবেন,,আমি বের করে দেব।"
ছেলেটা তার রুমে ঢুকতেই দেখল,,দরজার
কাছে পুরনো কাগজের একটা অংশ
পড়া,,,ওটায় লেখা,,"চট্টগ্রামে,,,"
ছেলেটা চিল্লিয়ে কাগজটা টুকরা টুকরা
করে ছিড়ল। তারপর সেগুলো সারা ঘরে
ছুড়ে ফেলে বলল,," ব্লাডি চট্টগ্রাম "
স্নিগ্ধা অবাক হয়ে বলল,,"চট্টগ্রাম আবার
কি করল???"
ছেলেটা খেঁকিয়ে উঠে বলল,,"চট্টগ্রাম
ের নাম আমার সামনে নেবেন না,,,
ওখানে এক ডাইনি থাকে,,,, চট্টগ্রামের
বিষয়ে আমার সামনে কোন কথা উঠালে
বলবেন,,"The place which must not be
named"!!!!!"
এই বলে ঠাশ করে দরজা আটকিয়ে ভিতরে
চলে গেল। স্নিগ্ধা হা করে দাঁড়িয়ে রইল।
ছেলেটা স্নিগ্ধাকে যেতে বলল না,,
মেয়েটা কি করবে না করবে সে বিষয়ে
কথাই আর উঠাল না,, স্নিগ্ধাও স্বস্তির
নিঃশ্বাস ফেলল।সে কয়েকদিন এখানে
থাকতে পারবে হয়ত। সাথে ছেলেটার
ব্যাপারে অবাক হয়ে গেল,, ছেলেটা খুব
সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে নেয়।
এভাবে কয়েক দিন কেটে যায়,,,
ছেলেটা স্নিগ্ধার সাথে কথা বলে,,
স্নিগ্ধা ছেলেটার সাথে কথা বলে,,
স্নিগ্ধা ছেলেটাকে নিজের নাম সেধে
সেধেই বলে,, ছেলেটা স্নিগ্ধাকে
নিজের নাম বলে না,,, তার বাবা মা মরার
পর তাকে খুব কম লোকই নাম ধরে
ডেকেছে,, শুধু কলেজের প্রশাসনিক
ভবনে মাঝে মাঝে তার নামের দরকার
হয়। তবে নাম ধরে তাকে মনে হয়
অনেকদিন কেউ ডাকে নি। তাই হয়ত সারা
বিশ্বের উপর অভিমান করেই ছেলেটা
মেয়েটাকে নাম বলে না,,, এত বলে
কয়েও নাম জানতে না পেরে,,,সারাঘর
খোজে ছেলেটার নাম জানতে,,তাও
জানতে না পেরে রাগ হয়ে ছেলেটার
নাম দিয়ে দেয় কাদের মোল্লা,,,
এই নাম শুনে প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও
ছেলেটা হেসে দেয়,, তার মা বাবা
মারা গেছে ২ বছর হল,, ২ বছরের মধ্যে এই
প্রথম সে হাসল।
স্নিগ্ধা ছেলেটার হাসি দেখে একটু একটু
করে হাসে।
এভাবে কয়েকমাস কেটে গেল। স্নিগ্ধা
একদিন দেখল,,ছেলেটা কোন কাজ করে
না,, ব্যাংক থেকে সামান্য কিছু টাকা
উঠায়,,, এভাবেই সে চলত,,এখন স্নিগ্ধার
জন্য কষ্ট করতে হচ্ছে তাকে,,, তাই সে
ছেলেটাকে একদিন বলল,,"আপনি কাজ
করেন না কেন??? ব্যাংক থেকে এভাবে
টাকা উঠাতে থাকলে তো একসময় শেষ
হয়ে যাবে,,,"
ছেলেটা বলল,,,"আমার কোন চাকরিরই
যোগ্যতা নেই,, আমি স্টুডেন্ট "
স্নিগ্ধা বলল,,"তাহলে ছাত্র পড়ান,,
ছাত্রাবস্থায় তো টিউশানি করে অনেক
মানুষ উপার্জন করছে"
ছেলেটা বলল,,"আমি স্টুডেন্ট পাব
কোথায়?? আমার সাথে কারো ভাল
সম্পর্ক নেই,,যে লবির মাধ্যমে স্টুডেন্ট
পাব।"
স্নিগ্ধা কিছু বলল না,,, সে একটা মুখ ঢাকা
বোরখা পড়ল,,, তারপর সেদিন বিকেলে
বের হল,,,,
ওই এলাকায় এবং তার পাশের এলাকায়
প্রত্যেকটা বাসায় বাসায় বোরখা পড়ে
স্টুডেন্ট খুজতে লাগল।
তার কণ্ঠ খারাপ মানুষ এর মত না। বাবা
মারা তাই তার চেহারা না দেখেই
বিশ্বাস করল তাকে।ছেলে মেয়েকে
পড়াতে পাঠাল।
ছেলেটার ড্রইংরুম টাতে সেদিন
কয়েকজন স্টুডেন্ট আসল,,, ছেলেটা পড়াল
তাদের,,, কিন্তু কয়েকটা মেয়ে
ভেবেছিল সেই বোরখাওয়ালিই
পড়াবে,তারা রক্ষণশীল পরিবারের
মেয়ে,,তাই ছেলে দেখে ফিরে যেতে
লাগল। তখন স্নিগ্ধা তাদের ওর রুমে ডাকল,,
এবং বরাবরের মতই বোরখা পরে পড়াতে
লাগল।
ওইদিন দুইজনের পারফরমেন্স এ পরেরদিন
আরো স্টুডেন্ট আসতে লাগল।
এত স্টুডেন্ট কে বসানোর জন্য
ছেলেটাকে বেঞ্চ কিনে আনতে হল,,,
ব্যাচ ঠিক করা হল,,ছেলেদের পড়াবে
ছেলেটা,,আর মেয়েদের পড়াবে
স্নিগ্ধা,,, ড্রইং রুমটা সম্পূর্ণ ক্লাসরুম হয়ে
গেল।
সেই মাসের শেষে অনেক টাকা আসল,,,
ছেলেটা মুগ্ধ হয়ে স্নিগ্ধার দিক তাকাল,,
টাকাগুলো তারা অর্ধেক অর্ধেক শেয়ার
করল।
ছেলেটা ভাবল,,,মেয়েটা তো
অনেকদিন থাকল,,,এবার তো টাকা
পেয়েছে,,ও কি চলে যাবে???
কিন্তু স্নিগ্ধা গেল না,,, তার সেই বরিশাল
থেকে উত্তরে বা পূর্বে পালানো প্লান
সে ভুলে গেছে,,সে এমনকি ভুলে
গেছে যে সে পলাতক আসামি।
স্নিগ্ধা ছেলেটার কাছে এল। বলল,, "আমি
আপনার ফ্লাটে সাবলেট থাকতে চাই,,,
আপনি রাজি আছেন??? চাইলে আমি
এডভান্স টাকা দিতে পারি,,আমার এখন
টাকা আছে,," বলেই হেসে দিল।
ছেলেটাও হেসে দিল। বলল,,"টাকা
লাগবে না,, মাঝে মাঝে বৃষ্টির দিন
খিচুরি বানিয়েন,,,"
স্নিগ্ধা হেসে দিল,, তারপর ছেলেটাকে
রাগাতে বলল,,"কাদের মোল্লা,,চট্টগ্রাম,,,
"
ছেলেটা রেগে স্নিগ্ধাকে তাড়া করল,,
ওরা ছাদে উঠল।
এদিকে সেই নেতা এখনো স্নিগ্ধাকে
খুজছে।কোথায় যেতে পারে
মেয়েটা,,কেউ দেখেছে কিনা শহরে
শহরে ঘোষণা দিতে লাগল।
স্নিগ্ধা আর ছেলেটার কোচিং এ ওই বছর
পর দেখা গেল সব স্টুডেন্ট ভাল রেজাল্ট
করেছে। বাবা মায়েরা তাই ওদের
ধন্যবাদ দিতে বাসায় আসল।বরাবরের মতই
স্নিগ্ধা বোরখা পরা।
বাবা মায়েরা ছেলেটাকে ভাই আর
স্নিগ্ধাকে ভাবী বলে ডাকতে লাগল।
ছেলেটা লজ্জা পেল। স্নিগ্ধা বোরখার
নিচে মুখ টিপে হাসতে লাগল। বাবা
মায়েরা ওদের বিয়ে কবে হয়েছে এসব
জানতে লাগল,, ছেলেটা তো ভয়ে চুপ।
স্নিগ্ধা বলতে লাগল,, বিয়ে
হয়েছে,,প্রায় এক বছর।
ছেলেটা মেয়েটাকে আড়ালে নিয়ে
বলল,,"মিথ্যা বললেন কেন???"
স্নিগ্ধা বলল,,"তাহলে কি বলব? অবিবাহিত
দুইটা ছেলে মেয়ে এক বছর ধরে এক
ফ্লাটে আছে??? আমরা না হয় পাপ করি
নি,,সবাই কি বলবে?"
ছেলেটা চুপ করে রইল।
সেদিন অভিভাবকরা যাবার আগে একটা
মহিলা একটু ভিতরে এল,, ভিতরে এসে
দেখল,, দুইজনের রুম আলাদা,,, সে অবাক
হয়ে দাঁড়িয়ে রইল,,, স্নিগ্ধা ভয়ার্ত
চোখে মহিলাটাকে দেখল,,এই মহিলা যদি
বাইরে গিয়ে বলে এসব,তাহলে এই
কোচিং আর চলবে না।
স্নিগ্ধা পরেরদিন ছেলেটাকে বলল,,,
"আমাদের এই কোচিং টা টিকাতে হলে
বিয়ে করতে হবে,,,"
ছেলেটা তো এক পায়ে রাজি,,, এরকম এক
সুন্দরি নিজে থেকে বলছে,, সে বিয়ে
করবে,,
ওরা কাজি অফিসে গেল,,, ছেলেটা খুব
খুশি,,, কিন্তু স্নিগ্ধার মুখ গোমড়া,,,আজ
অনেকদিন পর ও ওর বাবা মাকে মনে
করছে,,ওর জীবন নিয়ে ওর অনেক স্বপ্ন
ছিল,,ওর বাবা শেষের দিকে প্যারানয়েড
হয়ে ওকে ঘরে বন্দি করে রেখেছিল,,ওর
হঠাৎ মনে হল,, ও তো আসলেই বন্দি,,এখনো
বন্দি,,, আর আজ থেকে কাগজে কলমে
বন্দি হয়ে গেল। এমন একটা ছেলের
সাথে যাকে হয়ত স্বাভাবিক অবস্থায় সে
কখনো বিয়ে করত না।
ওদের বিয়ে হবার পর,,ছেলেটার রুমে
চলে আসল স্নিগ্ধা,,, কালকের মহিলাটা
আরো কয়েকটা মহিলাকে নিয়ে হঠাৎ
করে এসে গেল,,আসলে তারা এসেছিল
গোয়েন্দাগিরি করতে,,কিন্তু দুইজনের
বালিশ,জিনিসপত্র এক রুমে দেখে আর গুজব
ছড়াতে পারল না।
সেদিন সন্ধ্যায় খোলা চুলে ছাদে
দাড়িয়েছিল স্নিগ্ধা।নতুন বউয়ের পাশে
যাবার জন্য ছেলেটা ছাদে উঠল। কিন্তু
পিছন থেকে দেখল,স্নিগ্ধা আকাশের
দিক তাকিয়ে কাঁদছে। আকাশে তখনো
চাঁদ ওঠেনি।
ছেলেটা নিচে নেমে গেল। আয়নার
সামনে দাড়াল। নিজেকে দেখল,,তারপর
মনে পড়ল স্নিগ্ধার চেহারা,,,,
ছেলেটার বুকটা ফাঁকা হয়ে গেল। ভয়ানক
এক শূন্যতা গ্রাস করল তাকে। যে শূন্যতার
তল নেই। সে কোন ভাবেই স্নিগ্ধার
যোগ্য না। স্নিগ্ধার কান্নার কারণ সে
বুঝল।
স্নিগ্ধা আরেকটু পর ঘরে ফিরে আসল,,,
এসে দেখল,,তার জিনিসপত্র আবার তার
রুমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্নিগ্ধা ছেলেটার দিক তাকিয়ে রইল,,,
ছেলেটা বলল,, "বিয়ের দিন হয়ত তোমার
চোখ পানিতে ঝাপসা হয়ে
গিয়েছিল,,হয়ত কাবিনে সই করার সময়
আমার নাম তুমি দেখ নি,,,, আজ আমার নাম
শুনে নেও,,, আমি শূন্যতা,,আমার কোন তল
নেই,,, "
স্নিগ্ধা বলল,,"কি হয়েছে?"
ছেলেটা বলল,,,"আমি কোনোভাবেই
তোমার যোগ্য না,,অসহায় একটা
মেয়েকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমি বিয়ে
করেছি,,এই অপরাধবোধ আমাকে
সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়াবে,,,"
স্নিগ্ধা বলল,,,"এটা মোটেও সেরকম কিছু
না,,,"
"আগের মতই সবকিছু থাকবে,
স্নিগ্ধা,,তোমার স্নিগ্ধতায় আমার কুৎসিত
ছায়া পড়বে না আমি কথা দিলাম,,,,তুমি
তোমার রুমে চলে যাও।"
স্নিগ্ধা তার রুমে গেল। কিন্তু সারারাত
ঘুমাতে পারল না। তার অতিসতর্ক বাবাকে
সে কষ্ট দিয়েছিল পালিয়ে এসে,,,তার
বাবা তাকে ভালবাসত,,, আজ আরেকজনকে
সে কষ্ট দিল,যে তাকে ভালবাসে,,, আর
সে এখন বুঝতে পারল,,সেও ছেলেটাকে
ভালবাসে।
পরেরদিন থেকে সব আগের মত করার
চেষ্টা করেও অসফল হল ছেলেটা,,আগের
মত স্নিগ্ধার সাথে মিশতে পারল না,,,
এমনকি স্নিগ্ধার দিক তাকাতেও পারল না।
স্নিগ্ধা বারবার কিছু বলার চেষ্টা করল।
ছেলেটা শুনল না।
ছেলেটা বাসায় থাকে না,,সেই সকালে
যায়,,আর সারাদিন ঘোরে,,ফেরে
রাতে,,ভাবে,স্নিগ্ধার সাথে দেখা হবে
না,,কিন্তু স্নিগ্ধা জেগে থাকে খাবার
নিয়ে।
স্নিগ্ধা ছেলেটাকে বলে,,,"আই লাভ ইউ"
ছেলেটা উত্তর দেয় না,,এটক স্নিগ্ধার
অপরাধবোধ থেকে এসেছে মনে করে।
এদিকে সেই নেতার লোকেরা
অবশেষে দেড় বছর পর বরিশালে আসে,,
স্নিগ্ধালে ধরার পোস্টার সারা
বরিশালে লাগাতে থাকে,,, ছেলেটার
চোখে পড়ে সেগুলো,,তার মাথায় আকাশ
ভেঙে পড়ে।
সে দ্রুত ফিরে যায় বাসায়,,স্নিগ্ধা ওকে
বাসায় তাড়াতাড়ি ফিরতে দেখে
ভাবে,এই বুঝি সব স্বাভাবিক হবে,,ওর আই
লাভ ইউ এর উত্তর দেবে মনে হয়
ছেলেটা।
ছেলেটা বলে,,,"তুমি আমাকে মিথ্যা
বললে কেন??? তুমি তোমার বাবাকে খুন
করব প্রেমিকের সাথে পালাচ্ছিলে???
আর আমি গত দেড় বছর ধরে তোমাকে
আশ্রয় দিয়েছি,,,"
স্নিগ্ধা ছেলেটাকে সব খুলে বলে,,,
ছেলেটাও ভাবে,,খুন করার মত মেয়ে
তো এ না,, তাহলে কোনটা বিশ্বাস করব।
ভাবতে ভাবতে সবচেয়ে ভয়ংকর কথাটা
তার মনে পড়ে। যদি সারা বাংলাদেশ
জানে মেয়েটা তার বাবাকে খুন করে
প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে,, তাহলে
এখন তো ও ওর স্বামী,, পুলিশ যদি টের
পায়,,ওর সাথে তো ওকেও ধরে নিয়ে
যাবে।
স্নিগ্ধার প্রতি ছেলেটার বিতৃষ্ণা চলে
আসে,,,
স্নিগ্ধা হাজার চেষ্টা করেও আর
ছেলেটাকে নিজের করে পায় না।
ছেলেটা সেদিন বের হয়ে যায়। স্নিগ্ধা
ভাবে ছেলেটাকে একা ছাড়া যাবে
না,,, ও যত একা থাকবে,,ওকে আরো বেশি
ঘৃণা করবে,,ছেলেটার ভালবাসা জয়
করতে স্নিগ্ধা ওর সাথে সাথে যায়।
ছেলেটা ভাবে,,স্নিগ্ধা মনে হয় ভাবছে
ও ওকে পুলিশের কাছে নিয়ে যাবে,তাই
পাহারা দিতে পিছু পিছু আসছে।
হাটতে হাটতে ছেলেটার পিছনে হুমড়ি
খেয়ে পড়ে স্নিগ্ধা,, মুখ থেকে কাপড়
সরে যায়। পুরো রাস্তা তাকে দেখে
ফেলে।
সবাই স্তব্ধ হয়ে যায়,,এই তো সেই ঘৃণ্য খুনি।
যে তারা বাবাকে খুন করে পালিয়েছে।
নেতার সেই দলীয় ক্যাডার স্নিগ্ধাকে
দেখে ফেলে,,, সে স্নিগ্ধার হাত ধরে
টানাটানি করে,,, এই ক্যাডারকে চেনে
ছেলেটা,, কয়েক বছর আগে ভাইরাল হওয়া
ভিডিওতে একে একটা লোককে
কোপাতে দেখেছে সে,,,স্নিগ্ধা যে
সত্য বলছে,,সাথে সাথে বুঝে গেল সে।
স্নিগ্ধাকে ওর হাত থেকে ছুটাতে গেল
সে। একটা ঘুষি দিয়ে ওকে ফেলে দিল
লোকটা,,, পাশের দোকানে গরম তেলে
সিংগাড়া ভাজা হচ্ছিল। ছেলেটা সেই
গরম তেলে ভরা কড়াই ক্যাডারের গায়ে
ঢেলে দিল,,, মাথা থেকে সমস্ত শরীর
ঝলসে গেল তার। ওখানেই মরে গেল।
স্নিগ্ধাকে নিয়ে গেল সে বাসায়।
বলল,,,"তাড়াতাড়ি জিনিসপত্র গুছাও,,,আমরা
পালাব,,,"
স্নিগ্ধা বলল,,"না,,আমি পালাতে
পালাতে ক্লান্ত,,"
ছেলেটা বলল,,"ছেলেমানুষি করো না,,"
স্নিগ্ধা বলল,,,"কেন পালাব আর??? সেসময়
পালিয়েছিলাম ভয়ে,,এখন কেন পালাব??
বাঁচার জন্য??? আমি তো বাঁচতে চাই
না,,,যাকে ভালবাসি,,সে এক লাইন বেশি
বুঝে আমাকে পর করে দিচ্ছে।"
ছেলেটা বলল,," এখান থেকে চল,,নিরাপদ
জায়গায় পালাই,,, তোমাকে ভালবাসব
অনেক,,,কথা দিলাম।"
দরজায় দড়াম করে কারা যেন টাকাতে
লাগল,,"ওই,,দরজা খোল,,,"
ওরা দুইজন দাঁড়িয়ে পড়ল।
"খোল বলছি দরজা,,,"
স্নিগ্ধা ছেলেটার দিক তাকাল,,,
ছেলেটা রান্নাঘর থেকে একটা বটি
নিয়ে আসল,,,
"এই দরজা ভাঙ,,, ছেলেটারে মেরে
ফেলবি,,মেয়েটা আমার,,,ওকে ধরবি
না,,আমার পরে সবাই ভাগ পাবি"
স্নিগ্ধা বাথরুম থেকে হারপিক নিয়ে
আসল,,,,
ছেলেটা তাকিয়ে রইল,,বলল,,"পাগলামি
করো না,,,আমি আছি,,তোমার গায়ে কেউ
হাত তুলতে পারবে না,,,"
স্নিগ্ধা বলল,,, "তুমি আমার জীবনে প্রথম
এবং শেষ পুরুষ হবে,,, যদি আমাকে
বাঁচাতে পার ওদের মেরে,,,তাহলে এই
দুনিয়াতেই,,, আর যদি না পারো,,মরে
যাও,,তাহলে ওই দুনিয়াতে,,,, তোমার
সাথে আমিও যাচ্ছি,,তুমি যেখানে
যাবা,,,,এখন অন্য কোন শহরে নাকি অন্য
কোন জগতে,,,সেটা আল্লাহ জানে,,,"
ছেলেটা আর স্নিগ্ধা পরস্পরের দিক
তাকিয়ে রইল। বাইরে দরজায় দড়াম দড়াম
শব্দ হচ্ছে। যেকোন সময় ভেঙে
পড়বে,,,,,,
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now