বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শূন্যতা-০৩

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X বাসটি কুমিল্লায় থামল,,,আর স্নিগ্ধা মাথা আর মুখে ওড়না পেচিয়ে বাসটিতে উঠল। ছেলেটার পাশের সারির ২ সিট আগে,,, প্রায় খালি বাসে ছেলেটা আর মেয়েটা দুইজনই একা বসে আছে নিজ নিজ সিটে। দুইজনের চোখে পানি। একজনের চোখের পানির কারণ বলদামি। আরেকজনের চোখের পানির কারণ ভয়ংকর এক বিপদ,,, কতটা ভয়ংকর, মেয়েটা নিজেও জানে না। বাস চলছে। মাঝে মাঝে দুলুনি উঠছে বাস খারাপ রাস্তার জন্য। স্নিগ্ধার খুব খারাপ লাগছে। আগে কখনো তার বাবা তাকে বাস জার্নি করতে দেয় নি। বাস ফেরিঘাটে এসে দাড়াল। এখানে বাসের একটা দীর্ঘ লাইন দেখা গেল। মেয়েটার বুক শুকিয়ে গেল।পুলিশ আবার চেক করছে না তো। বাস ফেরিঘাট যাবার পর এলাকার লোকাল ছেলেরা ফাঁকা বাস পেয়ে ভিতরে শয়তানি করতে ঢুকল। এরা বখাটে ছেলে। বখাটে মানে বখাটে,,,যতই শর্ট মুভি করে বখাটেদের নায়ক বানানো হোক,,বখাটেরা নর্দমার কীট বাস্তব জীবনে। এখন বখাটেদের এভাবে ফেরিঘাটে থামা বাসে ওঠার কারণ থাকে কিছু,,, ফেরির সাথে পার হয় তারা,,আর ততক্ষণে বাসে মানুষের সাথে মজা করে,,কোন সুন্দর মেয়ে দেখলে কাপড় ধরে টান দেয়। দুর্বল কাউকে দেখলে হাত থেকে কিছু জিনিস নিয়ে নেয়। মোট কথা এরা মানুষের সাথে ইতরামি করে মজা পায়। আবার বাস যখন অন্যপাড়ে যায়। তখন আরেকটা বাসে ওঠে যেটা ফেরিতে করে এপাড়ে আসবে। সেদিন ফাঁকা বাসটায় যে বখাটেরা আসল,তারা ভাবতেও পারেনি কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। বাসে উঠে সবার সাথে ফাজলামি করতে করতে আস্তে আস্তে পিছনে আসতে লাগল তারা,,, পিছনে স্নিগ্ধার ওড়না পেচানো মুখের ফাকে সতর্ক, অসহায় হরিণীর মত চোখ দেখে ওরা থমকে দাড়াল,,, তারপর ওড়না ধরে একটা টান দিল। ওড়না খুলে পড়তে স্নিগ্ধার মুখটা বের হল। পুরো বাসজুড়ে একটা মুগ্ধ হবার ধ্বনি গুনগুন করে উঠল। কিছুক্ষণ আগের গাঁজা খাবার জন্যই কিনা জানি না,এই রূপ দেখে বখাটেদের মাথা খারাপ হয়ে গেল। দুঃসাহসী একটা পদক্ষেপ নিল তারা,,, মেয়েটার হাত ধরে টান দিয়ে সিট থেকে উঠাল। স্নিগ্ধা চেঁচিয়ে বলল,,, " আমার আব্বু বাইরে গেছে,,এসে যদি দেখে, তোমাদের হাত ভেঙে দেবে,,," সামনে থেকে একটা স্মার্ট ছেলে উঠে নায়ক নায়ক ভাব দেখিয়ে বলল,,,"কই? তুমি তো একা এই বাসে উঠেছ,,তোমার আব্বু তো নেই,,চিন্তা করো না,,আমি তোমাকে এদের হাত থেকে বাচাচ্ছি।" বখাটেগুলো একথা শুনে স্নিগ্ধাকে বাস থেকে নামাতে লাগল,, সেই স্মার্ট ছেলেটা কিছু বলতেই একটা ছুরি বের করল। ছুরি দেখে ছেলেটা আবার তার সিটে বসে পড়ল। পিছন থেকে সেই ছ্যাকা খাওয়া বলদ ছেলেটা এক বখাটের পায়ে একটা লাথি দিল। বখাটেগুলো একে গ্রামের ছেলে,,আবার গাঁজাখোর,,, পা গুলো লিকলিকে,,, পা টা ভেঙে গেল ছেলেটার,,, সামনে থেকে বাকি ৩ বখাটে পিছন ফিরল। এরইমধ্যে বাস ফেরিতে উঠল। সামনের ৩ জন ছেলেটাকে গালাগালি করতে লাগল। ছেলেটা যার মুখ থেকে গালাগালি বেশি আসছিল তার চুল ধরল,, মাথাটা বাসের মাঝের ধরার জায়গার সাথে টাকাতে লাগল,, সামনের কয়েকটা দাঁত খুলে গেল। বাকি দুই বখাটে ছিল দুই ভাই,,, এক ভাই পালাতে চাইল। আরেকজন জিদ করে রইল,এই সুন্দর মেয়েটাকে পাটক্ষেতে নেবেই। ছেলেটা একভাইকে ধরে চলন্ত ফেরি থেকে পানিতে ফেলে দিল। সে আবার সাতার জানত না,, তাই তাকে বাঁচাতে আরেক ভাই,নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্নিগ্ধাকে ছেড়ে লাফ দিল নদীতে। ছেলেটা আবার একদম পিছনের সিটে গিয়ে তার ছ্যাকা খাওয়া প্রেমকাহিনীর কথা মনে করে নিজের কাছেই নিজে হতাশা প্রকাশ করতে লাগল। স্নিগ্ধা ধীরে ধীরে নিজের সিটে বসল। এখনো কাঁপছে সে,,সে এখন মোটামুটি জানে কেন তার বাবা তাকে এভাবে আগলে রাখত,,বাবার কথা মনে হতেই তার বুকটা হাহাকার করে উঠল। ওদিকে বাস নদী পার হয়ে ওপাড়ে চলে আসল। তখন রাত ১২ টা। আর ৩ ঘন্টা লাগতে পারে বরিশাল যেতে। এখন তো স্নিগ্ধাকে দেখে ফেলেছে সবাই। সামনের সিটের বিবাহিত অবিবাহিত সব পুরুষই একটু পরপর পিছনে আসতে লাগল কোন কারণ ছাড়া,, আবার কেউ কেউ সামনে থেকে উকি মেরে দেখতে লাগল। "আচ্ছা,,আপনি কোথায় যাচ্ছেন বরিশালে??" দরদ উপচে পড়া কন্ঠ নিয়ে কেউ বলল,,, "আপনার বাসা কি বরিশাল??" "আপনি কোন আত্মীয়ের বাসায় উঠছেন?? " "জানেন,,আমি ব্যাবসা করি,,আমার অনেক টাকা,,," বিভিন্ন লোকের এসব কথায় স্নিগ্ধা অসুস্থ বোধ করল। সে একটাও কথা বলল না,,, সেই স্মার্ট নায়কের মত ছেলেটা তো বলেই বসল,,"আমি কি একটু আপনার পাশে বসতে পারি?? আপনাকে খুব একা আর মনমরা লাগছে তো,,আমি মন ভাল করে দিচ্ছি,," স্নিগ্ধা বলল,,"ভাইয়া,প্লিজ আমাকে একা ছেড়ে দেন,,,আমার ভাল লাগছে না,,,," "কি সমস্যা,বলবেন তো,,আমি সব সমাধান করতে জানি,,আর আমাকে প্লিজ ভাইয়া বলবেন না,,," এই কথাটা বলতে বলতে ছেলেটার চোখ একদম পিছনের সিটে গেল। দেখল সেই ছ্যাকা খাওয়া ছেলেটা অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে,,,, স্মার্ট ছেলেটা নিজের সিটে ফিরে গেল। স্নিগ্ধা টানাটানা চোখে পিছনে তাকাল,,,ছ্যাকা খাওয়া ছেলেটা মোবাইলে কি একটা দেখতে দেখতে হাপিত্যেশ করছিল। এরপর অন্য লোকেরাও আরো আসতে লাগল,,কেউ কেউ তো স্নিগ্ধাকে খাবার সাধল,,, স্নিগ্ধার প্রচণ্ড ক্ষুধা সত্ত্বেও সে খেল না। সে জানে ওতে কি মিশানো আছে,,,আর খেলে কি হবে,,, গোটা বাসে সে একটাই মেয়ে,,,পিছনের ছেলেটা এত লোককে কিভাবে ঠেকাবে??? আর সবচেয়ে বড় কথা সে একবার তার জন্য মারামারি করেছে,,কোন স্বার্থ নেই বোঝাই যাচ্ছে। আবার যে করবে নিশ্চয়তা কি? বাস থেমে গেল বরিশালে। সবাই নামল বাস থেকে। কিন্তু কেউই গন্তব্যস্থানে গেল না। দেখতে লাগল মেয়েটা কোথায় যায়,,, ছ্যাকা খাওয়া ছেলেটা বিষণ্ণ মনে তার বাসার দিকে হাটা দিল। স্নিগ্ধা তার পিছন পিছন হাটতে লাগল। স্নিগ্ধার পিছনে কয়েকজন তখনো আগ্রহী বাসযাত্রী হাটতে লাগল। ছেলেটা হঠাৎ থেমে পিছনে ফিরল। স্নিগ্ধাও দাঁড়িয়ে পড়ল। ছেলেটা তার হাস্যকর কমেডিয়ানের মত কন্ঠে বলল,,"আপনি আমার পিছনে আসছেন কেন??" স্নিগ্ধা কিছু না বলে দাঁড়িয়ে থাকল,,,, ছেলেটা আবার হাটা ধরল,,, কিছুক্ষণ পর আবার পিছনে ফিরল,,দেখল স্নিগ্ধা তখনো পিছনে,,,, "আপনার বাসা কোথায়?? সেখানে যান,, অটো ডেকে দেব?" স্নিগ্ধা মাথা সজোরে নাড়াল। ছেলেটা আবার হাটতে লাগল,,, আবার পিছু ফিরে দেখল স্নিগ্ধা দাঁড়ানো,,, তাই সে মুরগি খেদানোর মত বলল,, "হুস,,,হুস,, যাহ,," হঠাৎ ছেলেটার চোখে পড়ল বাসের দুই তিনজন লোক স্নিগ্ধাকে ফলো করছে,,, তখন খুব অনিচ্ছাবশত স্নিগ্ধাকে বলল,,"অলরাইট, চলেন আমার সাথে,," পিছনের বাসযাত্রীগুলো বলতে লাগল,,"ইসস,সেই বখাটেগুলো দুর্বল ছিল,ভয় না পেয়ে দুই একটাকে মারতে পারলে,আজকে একটা মধুর রাত কাটত,," ছ্যাকা খাওয়া ছেলেটার সাথে অন্ধকার ফাঁকা রাস্তায় স্নিগ্ধা হেটে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে ওই রাস্তায় দুই একটা পুরুষ দেখলে ছেলেটার পিছনে লুকাচ্ছে,,মজার বিষয় হল,,সেই লোকগুলোও অপরিচিত,, ছেলেটাও অপরিচিত। ছেলেটা তাকে জিজ্ঞেস করল,,"কোথায় যাবেন?? আমাকে বলেন,,আমি পৌছে দিচ্ছি,,," স্নিগ্ধা মিথ্যা বলল,,"আমি যে আত্মীয়ের বাসায় যাব,,তাদের না বলেই এসেছি,,পরে বাসে বসে শুনি তারা বিদেশে বেড়াতে গেছে,,, এখন আমি কি করব বুঝছি না??? আপনার বাসায় আমাকে এক রাত থাকতে দেবেন???" ছেলেটা বলল,,,"আমার বাসায় কিভাবে থাকবেন?? আমি একা থাকি,,," স্নিগ্ধা বলল,,,"আমার কাছে টাকাও নেই যে কোন হোটেলে উঠব,,," ছেলেটা হঠাৎ মনে করল,,তার নিজের কাছেও তো টাকা নেই,,এই মাসে চলার জন্য যে টাকা উঠিয়েছে,,তার চট্টগ্রামের প্রেমিকার জন্য গিফট কিনতে খরচ করে ফেলেছে,,মেয়েটাকে নইলে কিছু টাকা দিয়ে হোটেলে পাঠানো যেত,,গিফটটা ছিল একটা আংটি,, যেটা এখনো তার পকেটে আছে। ছেলেটা বলল,,"আচ্ছা চলেন,,," স্নিগ্ধা ছেলেটার সাথে তার বাসায় গেল। ছেলেটার বাসা ৩ রুমের একটা ফ্লাট,, ছেলেটার রুম,,তার বাবা মা যেই রুমে থাকত,,আরেকটা ড্রয়িংরুম। পুরো ফ্লাটটাই অগোছালো। যে কেউ বলবে এটা একটা ছেলের ফ্লাট,,এবং ছেলেটা অপরিচ্ছন্ন। ছেলেটা স্নিগ্ধাকে তার মা বাবার রুমে থাকতে দিল। স্নিগ্ধা রাতে ঘুমাতে পারল না,,তার বাবার কথা মনে পড়ল। মাত্র ৩ মাস আগে তার জন্মদিন ছিল। ওর মা বাবা ভাই সবাই ছিল,,, আজ ও একা,,এক অপরিচিত শহরে,এক অপরিচিত লোকের ঘরে আশ্রিতা হয়ে আছে। সময় স্রোত জীবন নদীতে মানুষকে কোন ঘাট থেকে কোন ঘাটে নিয়ে যায় কেউ জানে না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শূন্যতা-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now