বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এ ঘটনার পর আশফাক সাহেব মেয়ের
ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে
গেলেন। মেয়েকে চোখ ছাড়া মোটেই
করতেন না।এমনকি মেয়েটার পড়াশুনাও
বন্ধ করে দিলেন যেন সে তার সামনে
থেকে না যেতে পারে। মেয়েটার এইচ
এস স্যার পর ডাক্তারি পড়ার অনেক স্বপ্ন
ছিল। বাবার এই হঠাৎ মানসিক
ভারসাম্যহীনতায় তার স্বপ্ন মাঠে মারা
যেতে লাগল।
এদিকে হার্ট এটাকের দুর্লভ
কম্পলিকেশনের কারণে আশফাক সাহেব
তার বা হাতের কার্যশক্তি হারিয়ে
ফেললেন। দুঃখের বিষয় তিনি ছিলেন
বাম হাতি। সুতরাং তার বন্দুক ধরার শক্তিও
রইল না।
আস্তে আস্তে স্নিগ্ধা ঘরে বন্দি
থাকতে থাকতে অস্থির হয়ে গেল। সে
পালাতে চাইল। তার কোন আত্মীয় আছে
বলে সে জানে না। তবে এটা সে
জানে,এখান থেকে তার পালাতে হবে।
তো স্নিগ্ধা নিজের ব্যাগ গুছিয়ে কিছু
টাকা পয়সা নিয়ে রেডি হল,,সে বাসা
থেকে চলে যাবে।
ওদিকে উপরে যেই নেতার কথা বললাম,
সে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেদিনই
বের হয়েছিল। বের হয়েই সে এল আশফাক
সাহেবের উপর প্রতিশোধ নিতে।
স্নিগ্ধা মাত্র লুকিয়ে বাসা থেকে বের
হয়েছে। এমন সময় লোকগুলো ঢুকল ওদের
বাসায়। যে ক্যাডারের জন্য নেতা প্রথমে
হুমকি দিয়েছিল আশফাক সাহেবকে, সে
একটা ছুরি দিয়ে তাকে কোপাতে লাগল।
আশফাক সাহেবের চিৎকার পুরো
বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।
নেতা বলল,,"থাম,,, বুকে মারিস না,,আমি
চাই ও আরেকটু বাঁচুক,,,ওর একটা মেয়ে
আছে না?? যার জন্য ও আমার মত নেতাকে
জেলে পাঠাইছে??? ওই মেয়েটাকে
আন,, আমরা সবাই মিলে ওর চোখের
সামনে ওর মেয়েকে রেইপ করব। তারপর
শরীরটা টুকরা টুকরা করব,,আমি চাই ও পুরো
সময়টা দেখুক।"
আশফাক সাহেবের কাকুতিমিনতি না
শুনেই সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুজল
ওরা,,স্নিগ্ধা তো পালিয়েছে। ব্যর্থ হয়ে
ওরা ফিরে এল আশফাক সাহেবের কাছে,,,
তারপর নেতা একটা গরু জবাইয়ের ছুরি
হাতে নিল,,বলল,,, "তোর জন্য আমি আমার
দলের পদ হারিয়েছি,,, আমার টাকা পয়সা
সব খরচ করছি মিথ্যা খুনে ফাসি হওয়া
ঠেকাতে,,, কিন্তু তারপরও ৩ বছর জেল
খাটছি। তুই আমার নিরাপরাধ মেয়েটার
একটা আঙ্গুল কেটে নিছিস,, একদম খালি
খালি,,কারণ আমি তোন মেয়ের ক্ষতি
করার হুমকি দিছিলাম।শুনে রাখ,,, সেসময়
তো জাস্ট হুমকি দিছিলাম,,তোকে আমি
কথা দিলাম,যেই মেয়ের জন্য এতকিছু
আমার সহ্য করতে হয়েছে,,, ওকে আমি
তিলে তিলে মারব,,, সারা দেশ,সারা
পৃথিবী ওকে একটা পতিতা বলে জানবে,,,,
আমাদের পুরো দলের মন ভরাবে ও,,,, আর
তারপর,,,হ্যা,,তারপর,, ওর শরীরটা আমি দুই
ইঞ্চি করে পোচাবো,, বিশ্বাস
কর,হারামজাদা,,,যতক্ষণ ও না মরে,,ওর
শরীরের একটা একটা টুকরা আমি ওর
চোখের সামনে কুত্তা দিয়ে
খাওয়াবো।"
আশফাক সাহেবকে প্রাক্তন নেতা জবাই
দিল।
আশফাক সাহেবের মেয়ে কোথায় যাবে
কিছু জানে না। ট্রেনে উঠবে না বাসে
উঠবে কিছু জানে না। সিদ্ধান্তহীনতায়
ভুগে পুরোদিনটা ও শহরে ঘুরে ঘুরে
কাটাল,,, ওইদিন রাতে সে এক দোকানের
টিভিতে খবরে দেখল, তার বাবাকে
কারা যেন জবাই দিয়ে মেরেছে।
স্নিগ্ধার রুম থেকে খুনিরা ওর একটা ছবি
নিয়েছিল। মিডিয়ায় প্রচার করা হল,,
"প্রেমে বাধা দেবার কারণে বাবাকে
জবাই দিয়ে প্রেমিকের সাথে মেয়ের
পলায়ন" ,, এরপর ওর ছবি সারা শহরে দিয়ে
দেওয়া হল।পোস্টারে পোস্টারে এই
মেয়েকে ধরিয়ে দিন নামে বিজ্ঞপ্তি
দেওয়া হল।
স্নিগ্ধা যখন বাবার মৃত্যুর কথা শুনে ছুটে
বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এই বিজ্ঞপ্তি তার
চোখে পড়ল। স্নিগ্ধার কাছে মনে হল তার
পুরো দুনিয়াটা স্তব্ধ হয়ে গেছে।
ওদিকে স্নিগ্ধার রুম থেকে পাওয়া ছবিটা
নেতা তার বেডরুমে বসে দেখছিল। আর
লালসায় তার মুখ থেকে লালা ঝরছিল।
একটা মেয়ে এত সুন্দর কিভাবে হয়???
মেয়েটা তার নিজের মেয়ের বয়সী।
কিন্তু এসবের কোন পরোয়া করল না
নেতা।
মেয়েটা একবার পেলে কি কি করবে
ভাবতে লাগল।
স্নিগ্ধা তার ওড়নাটা নেকাবের মত করে
মাথা আর মুখে পেচিয়ে লাগেজটা
হাতে নিয়ে যাচ্ছে আর ভাবছে,,এ শহর
থেকে পালাতে হবে,,অনেক দূরে,, কিন্তু
তার ছবি সহ তাকে তার বাবার খুনি বলে
প্রচার করা হচ্ছে। সে কিভাবে বাঁচবে??
চিনে ফেললেই তো তাকে ধরে
ফেলবে।
সে সিদ্ধান্ত নিল,চট্টগ্রাম থেকে
বরিশালমুখি যে বাসটা আসবে,সেটা
কুমিল্লায় থামবে,,, কুমিল্লা তার শহর,,,
চট্টগ্রাম থেকে বাসটা যখন ছেড়েছে,,এই
খুনের খবর প্রচার হয়নি,আর ওই রাস্তায়
ইন্টারনেটের প্রবলেম। কেউ অনলাইনেও
খবরটা জানবে না। ওই বাসে করে যদি সে
বরিশালে যেতে পারে,, আর সেখান
থেকে আরো উত্তরে বা পূর্বে। বড় কোন
শহরে না,,হয়ত কোন গ্রামে,,সে কিছুই আর
ভাবতে গেল না। শুধু এটাই বুঝল,বাঁচতে
হলে এই মুহূর্তে এই বাসটা তার একমাত্র
অবলম্বন।
বাসটা চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে আসছে।
এই বাসটাই আজ সকালে বরিশাল থেকে
চট্টগ্রাম গেছে। এই বাসে একটা লুজার
ছেলে ছিল। মধ্যবিত্ত ঘরের একা একটা
ছেলে,,,তার কেউ নেই,ব্যাংকে বাবা
মার রেখে যাওয়া কিছু টাকা
আছে,,সেটা নিয়ে লেখাপড়া আর
নিজের জীবন তাকে চালাতে হয়।
এভাবে তার ভালই থাকার কথা। কিন্তু
সুখে থাকলে সহ্য হয় না মানুষের। নিঃসঙ্গ
জীবনে সেই লেখাপড়া করার সময়ই
কাউকে বড্ড প্রয়োজন ছিল তার।তার
জীবনে প্রেম ভালবাসার অভাব বোধ
করল সে। কিন্তু এই জিনিস চাওয়ার আগে
তার নিজেকে আয়নাতে দেখা উচিৎ
ছিল।তাহলেই সে বুঝতে দুনিয়ার সবাই
প্রেম ভালবাসা পেতে আসে না,,কারো
কারো কপালে ওগুলো জোটে না। কিন্তু
তা না করে সে ফেসবুকে একটা
মেয়েকে দেখে তার প্রেমে পড়ে
গেল,এবং তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিল।
মেয়েটা হয়ত তার সাথে চ্যাট করে
বুঝেছিল ছেলেটা মেধাবী এবং
বোকা,,এই দুইটা জিনিস খুব কাজে লাগে।
তাই সে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি
হয়েছিল। ২ বছর ফেসবুকে প্রেম করার পর
আজ সকালে মেয়েটাকে সারপ্রাইজ
দেবার জন্য ছেলেটা চট্টগ্রাম গেছিল।
মেয়েটার বাড়ি চট্টগ্রাম। ছেলেটার
বরিশাল।
কিন্তু সারপ্রাইজ দিতে গিয়ে নিজেই
সারপ্রাইজড হয়ে গেল ছেলেটা। কলেজ
থেকে মেয়েটার ঠিকানা নিয়ে তার
বাড়িতে যায় সে। কিন্তু দরজায় টোকা
দেবার আগেই জানালায় চোখ পড়ে তার।
খালি বাসায় মেয়েটাকে অন্য এক
ছেলের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে
সে।
এটা দেখে ওদিনই রিটার্ন বাসে ছ্যাকা
খেয়ে ছেলেটা বরিশাল ফিরছিল।আর
একদ্ম পিছনের সিটে বসে তার ভাগ্যের
কথা চিন্তা করে চোখের পানি
ফেলছিল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now