বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শূন্যতা-০১

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "শূন্যতা" লেখা: ফ্রাংকেনস্টাইনের কুৎসিত দানব ( Raihan Masud Bipu) আশফাক সাহেবের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি তার ছেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ায় তিনি এ যাত্রায় বেঁচে গেছেন। তবে ডাক্তার বলে দিয়েছেন,সাবধানে থাকতে।নইলে আবার এমনটা হলে আর বাচবেন না তিনি। একই সাথে তার বর্ণাঢ্য পুলিশ জীবনের ইতি টানতে হল। অকালে অবসর নিলেন তিনি। পুলিশে চাকরি করলেও অন ফিল্ড ক্রিমিনাল ধরতেন না তিনি। কোন একটা অপারেশনের প্লান করে দিতেন তিনি। সে অনুযায়ী তার অধঃস্তনরা কাজ করতেন। বিভিন্ন জটিল মামলা তিনি সমাধান করেছেন এই পর্যন্ত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত দুর্লভ একজন সৎ পুলিশ অফিসার ছিলেন তিনি। বিভিন্ন অভেদ্য মামলা সারা বাংলাদেশ থেকে তার কাছে আসত,আর তিনি সেগুলো সলভ করে দিতেন। এভাবে করে বাংলাদেশের প্রায় সব ক্রিমিনালের অপরাধের ধরণ,আদ্যোপান্ত, পরিবার পরিজন, সবই তার মুখস্ত ছিল।প্রত্যেকটা ক্রিমিনাল তাকে যমের মত ভয় পেত,তারা জানত,তারা যে অপরাধই করুক না কেন,আশফাক সাহেবের নজরে আসলে আর বাচা লাগবে না। আশফাক সাহেবের দুই ছেলে মেয়ে। বড় ছেলে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ে। আশফাক সাহেবের অনেক ইচ্ছা ছেলেকে এরপর বি সি এস দেওয়াবেন। তারপর পুলিশ কমিশনার বানাবেন। আশফাক সাহেবের এর ছোট মেয়ে স্নিগ্ধা। মাত্র এইচ এস সি পাশ করল। বাবা মায়ের বড্ড আদুরে। ছেলেমেয়ের মাঝে ভালবাসার তারতম্য হয় না বাবা মার। তাও যেই তাদেরকে পরিবারগতভাবে চিনত,ভাবত আশফাক সাহেব মেয়েকে বড্ড বেশিই ভালবাসেন। দেশের ক্ষমতাশালী ক্রিমিনালরাও এ খবর জানত। যেসব ক্রিমিনালরা কাউকে ভয় পায় না। সেসব ক্রিমিনাল। তবে এখবর জানাটা যে কত ভয়ংকর, তারা যদি জানত। উদাহরণ দেব একটা।কারণ এ ঘটনা একটাই ঘটেছে। এঘটনার পর বাকিসব ক্রিমিনাল বুঝে গেছে আশফাক সাহেব কি জিনিস। একবার এক সরকার দলীয় ক্যাডার কুপিয়ে এক বিপক্ষ দলের লোককে মেরে ফেলে। টিভি ক্যামেরায়ও ধরা পড়ে সেটা।কিন্তু পলিটিকাল অনেক মারপ্যাচে লোকটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার মত কেউ এগিয়ে আসে না। লোকটা মুক্তভাবে ঘুরতে থাকে।কিন্তু এই মুহূর্তে এগিয়ে আসেন আশফাক সাহেব। তিনি কগনিজেবল অফেন্স(যে অপরাধ করলে গ্রেফতার করতে পুলিশের ওয়ারেন্ট লাগে না) এর নিয়ম অনুযায়ী লোকটাকে কাস্টোডিতে নিয়ে আসেন। এঘটনার পরই উপর থেকে তার চাকরি খেয়ে দেবার হুমকি আসে,,এমনকি সিনিয়র অফিসাররাও তাকে লোকটিকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে। অনেক টাকা ওনাকে অফার দেওয়া হয়। কিন্তু উনি গলবার মানুষ নয়। এমতাবস্থায় তারা খোজ খবর নিয়ে বের করে আশফাক সাহেবের একটা সুন্দরি মেয়ে আছে। আশফাক সাহেবকে এবার সেই মেয়েকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় এক নেতা। আশফাক সাহেব এমনভাবে ক্ষেপে যান এঘটনায় যে এক দিনের মধ্যে যে নেতা হুমকিটা দিয়েছে তার চৌদ্দগুষ্টির আদ্যোপান্ত যোগাড় করে। দেখা যায়,,সেই লোকেরও একটা মেয়ে আছে। পুলিশ ফোর্স দিয়ে বে আইনিভাবে আশফাক সাহেব সেই মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে আসেন। যে নেতা তাকে হুমকি দিছে,তাকে পালটা বলেন,দলীয় যে ক্যাডারকে বাঁচাতে এভাবে সে হুমকি ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে,,তার সাথে সেও যেন আত্মসমর্পণ করে। এবং মিথ্যা করে হলেও মিডিয়ার সামনে বলে,,ওই খুন তার হুকুমে হয়েছে। এই প্রস্তাব মানতে যত সময় লাগবে,,সেই ঘন্টা অনুযায়ী নেতার মেয়ের শরীরের একেকটা অংশ কেটে তাকে পাঠানো হবে। এক ঘন্টা পর যখন মেয়েটির কনিষ্ঠ আঙ্গুল কেটে নেতার কাছে পাঠানো হল। নেতা সাথে সাথে খুনের দায়টা নিজের কাধে নিয়ে আত্মসমর্পণ করল। এই উদাহরণ এর সাথে আশফাক সাহেবকে কে কিভাবে নেবে জানি না,,কেউ হয়ত ভিলেন ভাববে,,অথবা কেউ নায়ক ভাববে। তবে এটা পরিষ্কার, তার মেয়ের জন্য বিন্দুমাত্র হুমকি যদি কেউ হয়ে ওঠে,,আশফাক সাহেবের মত খারাপ লোক সেই হুমকির কাছে আর কেউ আছে বলে মনে হবে না। শেষমেশ এই মেয়ের জন্যই আশফাক সাহেবের হার্ট অ্যাটাক হল। মেয়ে যত বড় হচ্ছে,যৌন বিকৃত পুরুষের দল তার দিকে হাত বাড়াচ্ছে। নতুন নতুন নাস্তিক্যবাদী বিকৃত মানুষ তো আছেই,,তবে বেশিরভাগ মানুষই প্রতিশোধপ্রবৃত্তির কারণে এই মেয়েটাকে শেষ করতে চায়। কারণ মেয়ের প্রতি হুমকি হয়ে উঠলেই যেকোনো ক্রিমিনাল কে আশফাক সাহেব শেষ করে দিতেন। এতে করে সেই ক্রিমিনালদের আত্মীয় বন্ধুরা এই মেয়েকে মেরেই আশফাক সাহেবের উপর প্রতিশোধ নিতে চাইত। তো সেদিন এমনি একজন আশফাক সাহেবকে ফোনে হুমকি দিল তার মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে। ঘটনাচক্রে মেয়ে সেদিন কলেজ থেকে বান্ধবী দের সাথে ঘুরতে গিয়েছিল।বাসায় বলে যায়নি। ফিরতেও দেরি হচ্ছিল। মেয়ের চিন্তায় আর সেই ফোনে হুমকিদাতার পরিচয় হাজার চেষ্টা করে বের করতে না পেরে আশফাক সাহেব হার্ট এটাকই করে বসলেন। যাই হোক,,আশফাক সাহেব অবসর নিলেন। এবং তার মেয়ের নিরাপত্তা ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে গেলেন। আশফাক সাহেবের ভাগ্য তার জন্য আরো খারাপ কিছু রেখেছিল। একদিন তার স্ত্রীকে তার বড় ছেলে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যাবার সময় তাদের রিক্সাকে একটা ট্রাক পিষে দিল। মা ছেলে মারা গেল। আশফাক সাহেব পাথর হয়ে গেলেন শোকে। মেয়ে স্নিগ্ধা কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে গেল। আশফাক সাহেব টেরই পেলেন না। এ ঘটনার পর আশফাক সাহেব মেয়ের ব্যাপারে অতিরিক্ত সচেতন হয়ে গেলেন। মেয়েকে চোখ ছাড়া মোটেই করতেন না।এমনকি মেয়েটার পড়াশুনাও বন্ধ করে দিলেন যেন সে তার সামনে থেকে না যেতে পারে। মেয়েটার এইচ এস স্যার পর ডাক্তারি পড়ার অনেক স্বপ্ন ছিল। বাবার এই হঠাৎ মানসিক ভারসাম্যহীনতায় তার স্বপ্ন মাঠে মারা যেতে লাগল। এদিকে হার্ট এটাকের দুর্লভ কম্পলিকেশনের কারণে আশফাক সাহেব তার বা হাতের কার্যশক্তি হারিয়ে ফেললেন। দুঃখের বিষয় তিনি ছিলেন বাম হাতি। সুতরাং তার বন্দুক ধরার শক্তিও রইল না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শূন্যতা-০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now