বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#শুধু_তোমায়_ঘিরে
#লেখক-ইমরান খান
part 1
আনিশা আজ ভার্সিটি যাওয়ার পথে রিয়াদ আবার আজকে পথ আটকায়।আনিশা ভয় পেয়ে যায়।আনিশা তিন বোনের মধ্যে ছোট বড় দুইবোনের বিয়ে হয়ে গেছে।আনিশা মধ্যবিত্ত পরিবারে মেয়ে।রিয়াদ আনিশা যে ভার্সিটিতে পড়ে সেখানে পড়ে আনিশার সিনিয়র।রিয়াদ ধনী বাবার বখাটে ছেলে,বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়।একদিন রিয়াদ একটা মেয়েকে ডিস্টার্ব করলে আনিশা রিয়াদকে থাপ্পর দেয়।আনিশা রিয়াদের ব্যাপারে বেশি জানত না।সেদিনের পর থেকে রিয়াদ আনিশার পিছু লেগে যায়।থাপ্পরটা সবার সামনে আনিশা রিয়াদকে মেরেছিলো যেটা রিয়াদের ইগোতে লাগে।প্রতিদিন রাস্তায় আনিশাকে ডিস্টার্ব করে।আজও ব্যতিক্রম হয়নি বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে আছে।আনিশাকে দেখে রিয়াদের বন্ধু স্বপন বলে,
--দেখ রিয়াদ ফুলটুসি আসছে।
--আরে আনিশা হায় সেক্সি।কাটাবে নাকি একরাত?
রিয়াদের বন্ধুরা হাসতে থাকে।আনিশা ভয়ে মাথা নিচু করে পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলে রিয়াদ আনিশার হাত ধরে।
--আমাকে ছেড়ে দিন।
--ছাড়বো না কি করবে এই হাত দিয়ে আমাকে থাপ্পর মেরেছিলে না সবার সামনে তোমার এই হাতে আমাকে আদর করবে।
--আমি কোনোদিন আপনাকে কোনোদিন বিয়ে করব না।
--করবে করবে সেটা নিজের ইচ্ছায় আমার সম্মান ধুলোয় মিশানোর জন্য তোমাকে তো শাস্তি আমি দিবো।আর মাত্র তিন দিন আছে যা করার করে নিও।
রিয়াদ ওর বন্ধুদের নিয়ে চলে যায়।আনিশাকে বলেছে এক সপ্তাহ পর আনিশাকে বিয়ে করবে আর মাত্র তিনদিন আছে।অভাবের সংসারে আনিশা টিউশনি করিয়ে কোনোমতে নিজের হাতখরচের টাকা জোগার করে।বড় বোনদের যৌতুকের টাকা দিতে দিতে আজ প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে আনিশার বাবা মা।আনিশার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝড়তে থাকে।নিজেকে সামলিয়ে ভার্সিটিতে যায়।আনিশাকে দেখে বর্ষা এগিয়ে আসে।
--আনিশা তোর মুখ শুকনো কেনো লাগছে?
--রিয়াদ আজ আমার পথ আটকিয়েছে।
--এবার আর মেনে নেওয়া যায় না চল কেস করবো।
--ওরা টাকার জোরে বেঁচে যাবে।
--নারীদের ক্ষমতায় এখন অনেক বড় বড় জায়গায় আছে আমাকে বাঁচাতে সেদিন তুই ওকে চড় মেরেছিলি আজ তোকে এভাবে আমি শেষ হতে দিবো না।
--কিন্তু?
--কোনো কিন্তু না চল আমার সাথে।
বর্ষাকে সেই মেয়ে যাকে আনিশা বাচিয়েছিলো সেদিন থেকে দুজনের খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়।বর্ষা আনিশা পুলিশ স্টেশনে যায়।ওদের দেখে কমিশনার বলে,
--কার নামে কেস করবেন?
--রিয়াদ চৌধুরী নামে ইভটিজিং এর।
--আকাশ চৌধুরী ছেলে রিয়াদ চৌধুরী(অবাক হয়ে)
--হ্যা আমার বান্ধবীকে ও প্রতিদিন ডিস্টার্ব করে।
--আমরা কেস নিতে পারব না জানেন ওদের কতো ক্ষমতা?
--ওকে আমরা মিডিয়াকে সব বলব।
বর্ষা উঠতে গেলে কমিশনার বলে,
--আরে আরে মিডিয়াকে কেনো ডাকবেন?আমি আপনাদের পরীক্ষা নিচ্ছিলাম এ পর্যন্ত অনেক কেস রিয়াদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে হয়েছিলো প্রমানের অভাবে আমরা তাকে ধরতে পারিনি।তোমাদের মতো সাহসী মেয়ে আমাদের দেশে দরকার। আমি কেস নিচ্ছি আজকে রিয়াদ চৌধুরীকে এরেস্ট করবো।
--ধন্যবাদ আমরা আজ আসি।
বর্ষা আর আনিশা বের হয়ে যায়।কমিশনার হাসতে থাকে।
--এতদিন টাকার জোরে আকাশ চৌধুরী নিজের ছেলেকে বাচিয়ে নিয়েছো আমি বলেছিলাম তোর ছেলেকে আমি জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়ব আজ সেসময় এসে গেছে।এবার দেখ আমি কি করি তোর ছেলের জন্য আমার মেয়েটা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে এত সহজে আমি ছাড়ব না।
,
,
বর্ষার মুখে হাসি থাকলেও আনিশা ভয়ে আছে।রিয়াদ জানতে পারলে হয়তো তাদের বিপদ হতে পারে।বর্ষা আনিশার বিষয়টা খেয়াল করে।
--আনিশা কি চিন্তা করছিস বলতো?
--আমি ভাবছি রিয়াদের কথা জানতে পারলে অনেক বিপদ হবে।
--তুই চিন্তা করিস না সব ঠিক হয়ে যাবে।রিয়াদের জন্য আমরা ভয়ে থাকলে আরো বেশি করে পার পেয়ে যাবে।
--হুম সব যেন ঠিক থাকে।তুই কি এখন বাড়িতে যাবি?
--হুম ভালো লাগছে না আসিরে বাই।
--বাই
বর্ষা একটা রিক্সা নিয়ে চলে গেলে আনিশাও বাড়িতে চলে আসে।বাড়িতে ঢুকতে দেখে মিমি মানে আনিশার বড় বোন এসেছে।আনিশার মা মিমিকে ইচ্ছেমত গালি দিচ্ছে।আনিশা কিছুই বুজতে না পেরে ওর মাকে জিজ্ঞেস করে।
--মা কি হয়েছে আপুকে বকছো কেনো?
--বকবো নাতো কি আদর করবো?বাবার অভাবের সংসার তা ও বুঝে না বারবার টাকা নিতে আসবে কেনো?
--মা তুমি জানো আমার স্বামী চাকরি নেই কিভাবে চলবো আমরা?
--কেনো দেশে আর কি কাজ নেই?সরকারি চাকরী ছাড়া কি অন্য চাকরী করা যাবে না এটা কোন বইয়ে লেখা আছে।তোর বাবার পেনশনের টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে সেটা বুজতে হবেনা সারাজীবন কি আমাদের টাকা দিয়ে চলবে?
--মা ব্যাংকে তো টাকা আছে পাঁচ লক্ষ ওটা আমাদের দাও।
--বললে হলো আনিশা বিয়ে কি আমরা কি দিবো না?তোদের দশ লক্ষ টাকা দিয়েছি আর কতো চাস?যদি শান্তি না হয় তো কিডনি এবার বিক্রি করে দেই টাকা।
--আনিশা এখনো ছোটো আছে ততদিন আমার স্বামীর চাকরী হয়ে যাবে। আমরা ওর বিয়ে দিবো।
--বিয়ে হওয়ার পাঁচ বছর পরও যে কোনোদিন কোন কাজ করে নি বসে আছে সরকারী চাকরী আশায় সে দিবে আমার মেয়ের বিয়ে?তুই নিজে তো ভালবেসে বিয়ে করেছিলি আমরা মেনে নিয়ে যত টাকা দিয়েছি এটাই অনেক।আমাদের মান সম্মান তো ডুবিয়ে দিয়েছিস।বের হয়ে যা বাড়ি থেকে।
আনিশা ওর মাকে শান্ত করতে চেষ্টা করে।
--মা আপুকে টাকাটা দিয়ে দাও আমি বিয়ে করবো না।
--চুপ একদম কথা বলবি না বাইরে এখন যুবতী মেয়ে বের হতে পারে না বখাটে ছেলেদের জন্য আর ওই রিয়াদের হাত থেকে বাঁচতে হলে তোকে এই তিনদিনের মধ্যে বিয়ে দিতে হবে।কোথায় পাবো টাকা?
--মা টাকা দিবে কিনা?
--দিবো না যা করার কর।
আনিশার মা রুমে চলে যায়।মিমিকে প্রথমে ভালোভাবে বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি মিমি একরোখা ও টাকা নিয়ে যাবে।তখন আনিশার মা মিমিকে বকতে শুরু করে।আনিশা নিজের একটা মাটির ব্যাংকে কিছু কিছু করে টাকা জমিয়ে রাখত।সেটা ভেঙ্গে দেখে দশ হাজার টাকা হয়েছে।সে টাকা মিমিকে দিতে চাইলে মিমি তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে।
--কি মনে করছিস তোর চাল আমি বুঝি না?মাকে মিথ্যা বলেছিস যে ছেলে তোকে ডিস্টার্ব করে?
--আপু আমি মাকে মিথ্যা বলিনি।
--থাক থাক আর ঢং করতে হবে।যেভাবে তুই বের হোস তাতে অন্য মেয়েদের লজ্জা করবে।
--আপু আমি তো বোরকা পড়ে যাই।
--তুই কিছু না করলে বখাটে ছেলে কেনো তোর পিছনে লাগবে?
--আপু চুপ করো এখানে দশ হাজার টাকা আছে নাও।
--এ টাকাতে আমার কিছু হবে না আমাকে তুই ভিক্ষা দিচ্ছিস?আমার স্বামী সরকারী চাকরী পেলে সবাইকে আমি দেখিয়ে দিবো।
মিমি এ বলে চলে যাওয়ার সময় আনিশার হাত থেকে টাকাটা নিয়ে চলে যায়।আনিশা হতবাক হয়ে দেখে শুধু।
তখনই আনিশার ফোনে আননোন নাম্বার থেকে ফোন আসে।
--হ্যালো কে?
--আমি রিয়াদ বর্ষার ইজ্জত বাঁচাতে চাইলে কেস তুলে নাও।
--আমি তুলবো না।
--তোমার বান্ধবী কিন্তু আমার কাছে ওকে যদি বাচাতে চাও তাহলে যা বলছি করো।
--বর্ষা আপনার কাছে?
--কথা শুনো
রিয়াদ ফোনটা বর্ষার কাছে নিয়ে যায়।
--আনিশা তুই শয়তানটার কথা শুনবি না।
--জান ১ ঘন্টা সময় দিলাম যা করার তাড়াতাড়ি করো।
আনিশা ফ্লোরে বসে পড়ে।কি করবে ও কিছুই বুজতে পারছে না।রিয়াদের কোনো গ্যারান্টি নেই ও যা ইচ্ছা মন করতে পারে।
চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now