বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-ঠাসসসস,,,,
গালে হাত দিয়ে অবনীর দিকে তাকালো রাজু।
:-তোকে থাপ্পড়টা দিতে চাইনি।কিন্তু তুই সীমা ছাড়িয়ে গেছিস।তাই দিয়েছি।(অবনী)
:-...........(রাজু)
:-তোকে কতবার বলবো,আমি তোকে ভালোবাসি না।তারপরেও তুই আমাকে বার বার প্রপোজ করিস কেন?
:-হয়তো তোকে অনেক বেশী ভালোবাসি।তাই বার বার তোর কাছে ভালোবাসার দাবি নিয়ে ফিরে আসি।
:-দেখ রাজু,আমি জানি তুই আমাকে কতখানি ভালোবাসিস।সেই ছোটবেলা থেকে আমার পিছনেই লেগে আছিস।সত্যি বলতে কি রাজু,ছোটবেলা থেকে এই পর্যন্ত তোর জন্য আমার মনে কোনরকম ভালোবাসার অনুভূতির সৃষ্টি হয়নি।প্লিজ,তুই দয়া করে আর আমার কাছে ভালোবাসার দাবি নিয়ে আসিস না।
:-আচ্ছা,তা নাহয় আসবো না।কিন্তু তোর আমাকে ভালোবাসতে অসুবিধাটা কি?
:-রাজু,তুই হয়তোবা জানিস না,আমি আকাশকে ভালোবাসি।
:-আকাশ?কোন আকাশ?(অবাক হয়ে)
:-তুই ওকে চিনবি না।ও আমাদের পাশের গ্রামে থাকে।
:-ওহহ।
আহত দৃষ্টিতে অবনীর দিকে তাকিয়ে বললো,রাজু।
:-হুমম।
:-কবে থেকে তুই ওকে চিনিস?
:-মাস খানেক হবে।ও আমাদের ভার্সিটিতে পড়ে।আমার এক ক্লাস সিনিয়র।
:-ওহহ।
:-হুমম।তুই চাইলে আমি কালকে ওর সাথে তোর পরিচয় করিয়ে দিতে পারি।
:-থাক।তার আর দরকার নেই।আমি এখন আসি।
এই বলে রাজু অবনীর সামনে থেকে চলে যেতে লাগলো।
:-কিরে,তুই আমাকে একলা রেখে চলে যাচ্ছিস যে?
দৌড়ে এসে রাজুর সামনে দাড়িয়ে কথাটা বললো,অবনী।
:-.......(রাজু)
রাজু কিছু না বলে অবনীর পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলো।
অবনী রাজুর হাত টেনে ধরলো।
:-অবনী,হাত ছেড়ে দে?(রাজু)
:-না ছাড়বো না।এত তাড়া কিসের তোর?একসাথে চল।
:-আমাকে বাসায় যেতে হবে।
:-আমিও তো বাসায় যাবো।
:-আমি তো আমার চলে বাসায় যাবো।তাই এত তাড়া।
:-তুই তোদের বাসায় যাবি মানে?
:-মানে কিছু না।
এই বলে অবনীর হাত থেকে রাজু তার হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দ্রুত গতিতে পা বাড়ালো।
আর অবনী রাজুর এমন কথা বার্তার কিছুই বুঝলো না।
তবে অবনী রাজুর সাথে কথা বলার মাঝে লক্ষ্য করেছিলো,যে রাজুর চোখে পানি ছিলো।
যাইহোক,অবনী আর রাজুকে পেছন থেকে ডাকলো না।
সে ধীর পায়ে বাসার দিকে রওয়ানা দেয়।
অবনী আর রাজু একজন আরেকজনের ফুফাতো এবং মামাতো ভাইবোন।
একজন আরেকজনের সমবয়সী না হলেও তাদের কে দেখলে বুঝা যায় একে অপরের সমবয়সী।
তবে রাজু অবনীর থেকে এক বছরের সিনিয়র।
যাইহোক,রাজু সেই ছোটবেলা থেকে,ধরেন,তার বুঝার বয়স হওয়ার পর থেকেই অবনীর পেছনে লেগে আছে,ভালোবাসার দাবি নিয়ে।
কিন্তু অবনী কোন মতেই রাজি নয়,রাজুকে ভালোবাসতে।
আজকে সকালে রাজু অবনীদের বাড়িতে কিছুদিনের জন্য বেড়াতে আসে।
আসতো না,,,
একমাত্র অবনীর জন্যই তার আসা।
যাইহোক,সকালে অবনীদের বাসায় আসার পর রাজুর অবনীর সাথে একবার ও দেখা হয় নি।
কি করে হবে?
অবনী বাসায় ছিলো না।
ও ভার্সিটিতে গিয়েছিলো।
দুপুরের দিকে রাজু খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বিশ্রাম নিতে যায়।
এর কিছুসময় পর অবনী বাসায় আসে।
বিকালের দিকে রাজুর ঘুম ভাংলে,অবনী আর রাজু একসাথে ঘুরতে বাহির হয়।
আর ঘুরতে আসার মাঝেই রাজু অবনীকে প্রপোজ করে বসে।
এরপরের কাহিনীতো উপরেই জানলেন।
যাইহোক,
অবনী বাসায় এসে পৌঁছানোর অনেক আগেই রাজু বাসায় এসে পৌঁছায়।
রুমে ডুকেই,রাজু তার কাপড়-ছোপড় গুছিয়ে নিয়ে,তারপর রেডি হতে লাগলো।
:-কিরে রাজু,তুই রেডি হয়ে কোথায় যাচ্ছিস?
রাজু রেডি হওয়া শেষ হতেই,অবনীর আম্মু রুমে ডুকলো।ডুকেই কথাটা বললো।
:-মামি,আমাকে এখনই বাসায় চলে যেতে হবে।
:-কেন?তুই না বললি তুই কিছুদিন থাকতে এসেছিস?
:-হুমম,তা এসেছিলাম।কিন্তু আম্মু ফোন দিয়ে বললো,আমি যেন তাড়াতাড়ি বাসায় যাই।
:-কেন?
:-সেটাতো বলতে পারতেছি না।
:-তাহলে আমি ফোন দিয়ে জিগ্গেস করি?
:-মামি তার আর দরকার নাই।
:-কেন?
:-আসলে আমি আম্মুকে বলে আসি নাই তো।তাই।
:-ওহহ,আচ্ছা কাল সকালে গেলে হয় না।
:-না।
:-অবনীর সাথে কি কিছু হয়েছে?দেখলাম তো দুইজন একসাথে ঘুরতে বাহির হয়েছিলি।
:-মামি।তুমি কি যে বল না।ওর সাথে আমার কি আবার হবে?আচ্ছা মামি,তাহলে আমি এখন আসি?
:-আচ্ছা,ঠিক আছে।সাবধানে যাস।
অতঃপর রাজু আর কিছু না বলে,অবনীদের বাসা থেকে বাহির হয়ে আসলো।
রাজু চলে যাওয়ার কিছুসময় পরে অবনী বাসায় আসলো।
বাসায় আসার পর,অবনী তার মায়ের কাছ শুনে যে রাজু চলে গেছে।
অবনী রাজুর চলে যাওয়ার কোন কারণই বুঝলো না।
হয়তো বা তার করা আচরণের কারণে রাজু চলে গিয়েছে।
এমনটাই ভেবে নিয়েছে,সে।
রাজু কে সরি বলার কথাটা মাথায় রেখে,ওসব চিন্তা মাথায় থেকে বাদ দিয়ে দিলো,অবনী।
-----*****-----
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now