বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
- এই কই গেলে ?? তোমার অফিসের সময় হয়ে গেলো তো ।।
- এই তো আসছি ।।
- একটু তারাতারি ।।
,
৫ মিনিট পর,
,
- খাবার দাও এই ।।
খাবারটা নীল আর মিলি এক সাথে শেষ করলো ।। আর নীল অফিসে যাওয়ার সময় মিলি তার হাতে একটা ব্যাগ দিলো, যেটাতে দুপুরের খাবার আছে ।। নীল এবার অফিসে যাওয়ার জন্য হাটা শুরু করলো ।। আর মিলি পিছন থেকে তাকিয়ে আছে, যত সময় নীলকে দেখা যায় ততো সময় দেখতে থাকে ।।।
এক বছর আগের কথা, মিলি কে প্রথম দেখেই প্রেমে পড়ে যায় নীল ,
বাসে বাড়ি ফিরছিলো মিলি কিন্তু সিটটা পরছিলো নীলের পাসে,
- এই যে শুনছেন ?? ( মিলি)
- জ্বি বলুন ।। (নীল)
- যদি কিছু মনে না করেন, আমাকে কি জানালার পাসে বসতে দেওয়া যাবে ?? (মিলি)
- ওকে বসেন ।। ( নীল)
- ধন্যবাদ (মিলি)
সেখান থেকেই তাদের পরিচয় ।। আর নীলের ভাল লেগে যায় মিলি কে ।।। কিন্তু প্রথম দিন তো আর ভালবাসার কথা বলা যায় না ।। তারপর অচেনা একটা মেয়ে ।। তাই নীল ভাবলো একটু কথা বলে দেখি কি করা যায় ।।
- আপনি কোথায় যাবেন ???( নীল)
- এই তো চাদপুর ??? (মিলি)
- আপনি কি চাদপুর কলেজে পড়েন ?? ( নীল)
- হুম (মিলি)
মিলি ভাবছে কি বিপদে পড়লাম ।। এত কিছু জেনে কি করবে ?? পাসে বসাটাই ভুল হয়ছে ।। কখন যে রাস্তা শেষ হবে ??
তারপর আর কোনো কথা হয় না তাদের।। নীল তার মত চলে যায় আর মিলির মত মিলি ।। কিন্তু নীলের আর রাতে ঘুম আসে না ।। মিলি কে তার অনেক ভাল লেগেছে ।। যে ভাবেই হোক প্রেম করতেই হবে ।।
নীল প্রতিদিন কলেজের সামনে দাড়িয়ে থাকতো আর মিলি কে দেখতো ।। আবার মিলির কলেজ শেষে বাস স্টন্ডে দারিয়ে থাকতো ।। মাঝে মাঝে এক সাথে একই বাসে যেতো তবে এক সাথে সিট হতো না ।। অন্য সিট থেকে নীল তাকিয়ে থাকতো ।।। আবার কলেজে যাওয়ার সময়ও একই কাজ করতো নীল।।
মিলি মনে মনে ভাবে এক দিন পাসের সিটে বসছি বলে প্রতিদিন এই ভাবে আমায় দেখতে হবে ।। কেন যে সে দিন এই সাথে সিট পরছিলো ।। মিলি প্রতিদিন দেখতো নীল দাড়িয়ে আছে তার দিকে তাকিয়ে ।।
এই সব দেখতো আর হাসতো ।। কারন ছেলেটা অনেক সুন্দর ।। সত্যি বলতে মিলিরও ভাল লেগে যায় ।। মিলি আশায় থাকে কবে তাকে প্রস্তাব দিবে ।। নাকি গাধাটা বলতে পারবে না ।।
,
একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো কিন্তু মিলি ছাতা আনতে ভুলে গেছে ।। কলেজ থেকে বের হতে পারছে না ।। আর নীল দুর থেকে মিলিকে দেখে ছাতা নিয়ে গেলো,, নীল মিলির পাসে দারিয়ে আছে পাসে একটু জায়গা করে কিন্তু কিছু বলছে না, মিলিও ভাবছে বলে না কেন ।।
হাটাৎ,
- আপনি তো ছাতা আনেন নাই ?? (নীল)
- হুম ।।( মিলি)
- যদি কিছু মনে না করেন আমার ছাতার নিচে আসতে পারেন ।। আমি আপনাকে আগায়ে দিবো ।।
- ওকে চলেন ।।
মিলি আর নীল একই ছাতার নিচে কিন্তু কেউ কিছু বলছে না ।। মিলি ভাবলো একটু ইজি করে দেই,
- আপনার নামই তো জানা হলো না ।।
- ওও তাই তো ।। আমি নীল ।। আপনি ??
- আমি মিলি ।।
- ওও সুন্দর নাম ।।
- তা মিষ্টার নীল, নিজের মনের কথা কি মনেই রাখবেন নাকি বলবেন ??
- নীল তখন অবাক হয়ে, আপনি জানেন কি করে ??
- আমি বুঝতে পারি ।। এখন সময় আছে মনের কথাটা বলে দিন ।।
- নীল তখন মিলিকে ভালবাসারর কথাটা বলে দেয় ।।
তারপর থেকেই তাদের ভালবাসা নামের নতুন অধ্যায় শুরু হয় ।।। অনেক সুখেই যাচ্ছিলো তাদের দিন ।।
হটাৎ একদিন,
,
- নীল আমার বিয়ের জন্য কথা হচ্ছে ।।
- বলো কি ??
- হুম ।। বাবা রাজি ।। হয়তো বিয়ে হয়ে যাবে ।।
- কিন্তু মিলি আমি তোমাকে ছাড়া বাছবো না ।।
- নীল আমি না।। কিছু একটা করো ।।
- মিলি চলো পালিয়ে যাই ।।
- কিন্তু কোথায় থাকবো ?? কি খায়াবে ??
- একটা জব অফার পাইছি ( কারন নীল রাসায়নে পড়াশুনা করছে) ।। ২০ হাজার টাকা বেতন আর দুই তিন এক বন্ধুর বাড়িতে থাকা যাবে ।। তারপর একটা ভাল বাসা খুজে নিবো আর সেখানেই থেকে যাবো।।
- তুমি যা ভাল মনে করো নীল ??
অনেক চিন্তা ভাবনা করে নীল আর মিলি ঠিক করলো তারা পালিয়ে বিয়ে করবে ।।
আর এই কয়েক দিনে নীল আর জব ফাইনাল করে ফেলছে ।। তাই জবে জয়েন করার দুই দিন আগে তারা পালিয়ে যায় নীলের এক বন্ধুর বাসায় ।। তারপর তারা বিয়ে করে আর একটা বাসা খুজে নেয়।। তারপর নীল তার জবে জয়েন করে ।।
প্রথম তারা সংসার শুরু করছে ।। অনেক কষ্ট হচ্ছে তাদের ।। কারন তাদের কাছে খুব বেশি টাকা নেই ।। প্রথম মাসে তাদের অনেক খরচ তারপরও তারা কখনও খেয়ে না খেয়ে কষ্ট করছে ।।
প্রথম মাসে নীল মিলিকে একটা শাড়িও দিতে পারি নাই, আর নিজের জন্য তো কিছুই নেই ।।
আজ তাদের ২৭ দিন পালিয়ে আসার,
- মিলি কই গেলে ?? অফিসে যাবো খাবার দাও ।।
- মিলি আসে কিন্তু শুকনো মুখে, নীল আজ তো কিছু নেই ।।
- ওও।। তুমি কিছুই খাও নি ।।
- না গো ।। তোমায় ছাড়া কি ভাবে খাই বলো ??
- মিলি আজ আমার জন্য তোমার না খেয়ে থাকতে হচ্ছে ।। আমি বিয়ের পরে তোমায় কিছুই দিতে পারি না শুধু কষ্ট ছাড়া।। আজ তুমি যদি তোমার বাবার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে তাহলে আজ তোমাকে না খেয়ে থাকতে হতো না ।।। আমাকে মাফ করো মিলি।। কথা গুলা বলে কেদে ফেললো নীল ।। আর মিলি সাথে সাথে জরিয়ে ধরে নীলকে , আস্তে আস্তে বলতে থাকে আমি না খেয়েও তোমার সাথে সুখে আছি।। আমি শুধু তোমার ভালবাসা চাই নীল ।। নীল আর কিছু বলে না অফিসে চলে যায় ।। কারন নীল আজ অনেক সুখি মিলির মত বউ পেয়ে ।।
দেখতে দেখতে তাদের এক মাস হয়ে গেলো , নীল বেতন পেলো ।। সেই টাকা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সব কিনলো কিন্তু মিলি কে আর কিছু দেওয়া হলো না।। তাই ভাবলো আগামী মাসে মিলিকে দামি একটা শাড়ি কিনে দিবে ।।
নীল প্রতিদিন অফিসে খাবার বিয়ে যেতো কারন দুপুরের খাওয়ার জন্য টাকা খরচ যেনো না হয় ।। এই ভাবেই চলতে লাগলো তাদের দিন।। সকালে উঠে মিলি নাস্তা করতো ।। আর সেটা তারা এক সাথে খেতো ।। মিলি কখনও কিছু চাই না নীলের কাছে ।। কারন নীলের কাছে টাকা নেই আর নীল দিতে না পারলে কষ্ট পাবে ।।
দেখতে দেখতে আর তাদের তিন মাস হয়ে গেলো, আর কোনো অভাব নেই তাদের ।।। এখন দামি একটা বাসাতে থাকে তারা, প্রতি সাপ্তাহে মিলিকে নিয়ে ঘিরতে যায় নীল ।। আর প্রতিদিন অফিস থেকে আাসার সময় নীল একটা করে গোলাপ নিয়ে আসতো মিলির জন্য।। প্রতি মাসে মিলিকে একটা করে শাড়ি কিনে দেয় নীল ।।
আর মিলিও খুব সাজুগুজু করে থাকে যখন নীল বাসায় ফেরে তার আগে ।। এসেই মিলিকে কোলে করে নিয়ে নিয়ে যায় ঘরে।। প্রতি রাতে তারা চাদ দেখে আর কফি খায় নীলের কাধে মাথা রেখে।। আবার কখনও কখনও এক বালিশে মাথা রেখে ঘুমিয়ে যায় ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now