বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শশ্মান ঘাট

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Fahim (০ পয়েন্ট)

X - জালাল, একটা ঔষধ কোম্পানিতে - চাকরি করে! যার জন্য, বাড়িতে যেতে পারেনা। সব সময় - কাজের ভীতর ঢুবে থাকতে হয়। জালাল, ভাবলো এইবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে বন্ধুদের কে - নিয়ে জমপেশ আড্ডা দিবে। আর পাশের বাসার নুসরাত কেউ দেখতে পাবে! এটা ভেবে অনেক খুশি হয়ে গেলো জালাল। -অপেক্ষা করতে করতে এক সময় সেই ছুটিটাও পেয়ে, গেলো জালাল! তারপর দেরি না করে সবকিছু গুছিয়ে - বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দিলো! বাসে বসে বন্ধুদের , সাথে মজা করার মুহূর্তগুলো মনে পরে মনটা খারাপ হয়ে গেলো। রওনা দেওয়ার আগে তার আম্মুকেউ ফোন করে জানিয়ে দিলো! গ্রামের বাড়িতে কেউ যদি ঢাকা থেকে বাড়িতে যায়! তাহলে তার জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করে তার পরিবার। আস্তে আস্তে রাত নেমে আসলো। এতে সে একটু ক্লান্তি বোধ করলো - কেননা রাতে বাড়িতে পৌঁছাতে অনেক ভয় পায় সে! তার বাড়ির রাস্তাটাও কেমন নিশ্চুপ আর ভয়ঙ্কর। আর তার সাথে সেই ভয়ঙ্কর শশ্মানটা পেরোবে কীভাবে সেটা ভাবতে ভাবতে জালালের, কপালে - বিন্দু বিন্দু ঘাম দেখা দিলো। এদিকে তার মা বাড়ি থেকে ফোন করেই যাচ্ছে করেই যাচ্ছে! জালাল ফোন রিসিভ করে - বুঝালো বাড়ির কাছাকাছি চলে আসছে। ফোন, রেখে যখন শশ্মান এর কথা মনে পরলো - সেইবার যখন বাড়িতে গিয়েছিলো তখন তাদের পাশের গ্রামের, একটা হিন্দু লোকের দেহ পুড়াতে দেখে সে! কি ভয়ানক রাত ছিলো সেইটা! লাঁশটায় যখন আগুন দেওয়া হলো তখন - কুড়মুড় শব্দ করে, দাওদাও করে আগুন জলছিলো। আর লাঁশটা একটু পর পর ই দাড়িয়ে যাচ্ছিলো - কিছু লোক লাঠি দিয়ে পিঠিয়ে সেটাকে সোজা করছিলো! - কতদিন আগের, ঘটনা অথচ এখনো যেনো জালালের চোখে ভেসে, উঠছে সেইগুলো। হঠাৎ গাড়ি থেমে গেলো - জালাল বাইরে তাকিয়ে দেখলো, তাদের গ্রামের রাস্তা। জালাল, গাড়িভাড়া মিটিয়ে রাস্তার দিকে তাকালো চারিদিকে গাছপালা আর মাঝখান দিয়ে ছোট রাস্তাটা যেনো অন্ধকারে ঢেকে গেছে! - এটা দেখে জালালের, প্লান করে আসা সব আনন্দ নিমিষেই নষ্ট হয়ে গেলো। বাড়িতে ফোন করলো কাউকে এগিয়ে নিয়ে, যাওয়ার জন্য জালালের মা বললো, পাঠিয়ে দিচ্ছে। তারপর জালাল আস্তে আস্তে, এগোতে লাগলো সামনের দিকে। যতই _ সামনে যাচ্ছে! ততই ভয়টা যেনো বেড়েই চলছে। হঠাৎ দূর থেকে একটা কুকুর ডেকে উঠলো - গেউ "গেউ করে। এটা শুনে জালালের ভীতরটা চমকে উঠে! আর মনে মনে ভাবতে থাকে কখন বাড়ি, থেকা লোক আসবে। -আস্তে আস্তে সেই অন্ধকার রাস্তা পেরিয়ে আসলো কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি! তারপর সামনের বিলের ধারে সেই শশ্মান এর কথা মনে পড়লো! জালাল ভাবলো , এই শশ্মানটা পেরোতে পারলেই আর কোন ভয় নেই বাড়িতে পৌছে যাবো। -আম্মুর উপর ও রাগ হতে লাগলো - জালালের কখন লোক পাঠানোর কথা বলছে এখনো পাঠাচ্ছেনা। - অবশেষে সেই ভয়ঙ্কর নিস্তব্ধ শশ্মানঘাট এর কাছে চলে, আসলো যেখানে লোক মুখে প্রচলিত, অনেক ভয়ঙ্কর ঘটনা শুনা যায়! আর কোন লোক রাতে সেইদিকে যায়না। এতক্ষণ, ভয় না পেলেও জালাল এখন ভয় পাচ্ছে। জালাল ভয়ে ভয়ে সেই শশ্মান এর সামনে আসতেই! পিছন থেকে কারো ডাক শুনে, থেমে গেলো। তার , নাম ধরেই কেউ ডাকলো! জালাল একটু সস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লো। তারপর কে ডাকলো, দেখার জন্য পিছনে তাকালো আর দেখার সাথে সাথেই একটা জোড়ে চিৎকার দিলো! কেননা, পিছনে সেই লোকটি দাড়িয়ে যার লাঁশটা কে জালাল গতবার , দেখে গিয়েছিলো। জালাল, কাপতে লাগলো এবং চেষ্টা করে দেখলো মুখ দিয়ে কথা, বের হচ্ছেনা! দৌড় দিবে ভাবলো, তার আগেই সেই লোকটা কথা বলে উঠলো! লোকটি - কেমন আছো জালাল? জালাল - (কোন শব্দ বের হচ্ছেনা ) লোক - আমাকে, তোমার মা নিতে পাঠিয়েছে চলো! তখন লোকটি শশ্মান এ যেখানে মানুষ পড়ায় সাদিকে যাচ্ছে! জালাল - খেয়াল করলো সে যেতে না চাইলেও, তার পা হঠাৎ সেই মরে যাওয়া লোকটিকে ফলো করছে! জালাল, ভয়ে কাদতে লাগলো আর ভাবলো হয়তো আর বাড়িতে যাওয়া হবেনা। তারপর সে শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে, দেখতে লাগলো সেই আত্মাটা কী করে! যেতে যেতে - যেখানে লোকটিকে পুড়ানো হয়েছিলো সেখানে গেলো! এবং গিয়ে দেখলো কালো ছায়া যেটা দেখতে অনেকটা মানুষের মতো * তারা চারদিকে ঘুরছে! তারপর জালাল - লোকটির দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো - শরীরে কোন চামড়া নেই! মুখটা পুড়ে যাওয়ার জন্য থেতলে গেছে। চোখটা অনেক লাল। জালাল তখন অনুভব করলো একটা ঠান্ডা বাতাস তাকে ছুয়ে গেলো। আর হঠাৎ করেই - চারপাশ থেকে অনেক চিৎকার আসছিলো যেটা - সেই ছায়া রুপী আত্মাগুলো করছিলো। সামনে তাকিয়ে দেখলো সেই লোকটি নেই! হঠাৎ চারদিক থেকে আওয়াজটাও বন্ধ হয়ে গেলো। কিন্তু তবুও জালাল কথা বলতে পারছিলোনা। হঠাৎ দূরের গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলো - গাছের উপর দুইটা লাল চোখ যেটা তার দিকে তাকিয়ে আছে। আর হঠাৎ তাকে অবাক করে দিয়ে - সেই চোখ দুটো বিশাল বড় দানবে পরিনত হয়ে গাছগুলো জালালের দিকে ছুটে আসতে লাগলো। জালালের বুঝলো সে আর বাঁচবেনা এটা ভেবে চোখ দিয়ে দুই ফোটা পানি মাটিতে পড়ে গেলো! পড়ার সাথে সাথেই দেখলো সেই মৃত লোকটি তাকে যেখানে পুড়া হয়ছে! সেখানটায় বসে কিছু একটা খাচ্ছে। সামনে, এগোতে চেষ্টা করলো জালাল, কিন্তু পারলোনা। আবার চেষ্টা করলো না পা চলেনা! আবার করার পর খেয়াল করলো পা একটু এগোতে পেরেছে! তখন আস্তে আস্তে কি খাচ্ছে দেখার জন্য সে একটু সামনে গেলো! আর দেখে শরীর কাঁপতে শুরু করলো! মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইলো কান্না! কিন্তু সেটা কোন কারনে বের হলোনা। - অজ্ঞান হয়ে গেলো তখনি - তার দুইদিন পর জ্ঞান আসলো! আর জানতে পারলো তাকে - তার আব্বু আম্মু অনেক সময় যাওয়ার পরও বাড়িতে না আসতে দেখে এগিয়ে যায় আর শশ্মান এর পাশে তাকে এবং অর্ধেক খাওয়া তার কাকার লাঁশ পাওয়া যায়! যার কাছেই পড়েছিলো জালাল। -- জালালের চোখে তখন ভেসে উঠলো - সেই কুড়মুড় করে আওয়াজ করে তার চোখের সামনে তার কাকার লাঁশটাকে খেয়ে ফেলার দৃশ্য দেখা! তাহলে তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার মা ঠিকি লোক পাঠিয়েছিলো কিন্তু তার আগেই তাকে সেই আত্মাটির শিকার হতে হয়। - ভাবতে ভাবতে জালালের চোখে অজস্র পানি এসে হানা দিলো!! .........সমাপ্ত ....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শশ্মান ঘাট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now