বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এতক্ষণে তোর
আসার সময় হলো?
সেই কখন
থেকে দাড়িয়ে আছি।
→ তুই
দাড়িয়ে ছিলি কোথায় !
আমি তো দেখলাম তুই
বসে ছিলি।
→ হয়েছে হয়েছে আর
প্যাঁচ লাগাতে হবেনা।
পেটের
মধ্যে জিলাপীর
প্যাঁচে গিজগিজ
করছে।
এইবার বল লেট
হলো কেন?
→ চোখ বন্ধ কর।
→ আগে আমার
প্রশ্নের উত্তর দে।
→ চোখ বন্ধ করলেই
উত্তর পেয়ে যাবি।
শশী চোখ বন্ধ
করতেই শিশির ব্যাগ
থেকে সদ্য
কেনা গোলাপী রঙের
ছাতাটা শিউলীর
মাথার
উপরে মেলে ধরলো।
চোখ খুলতেই
শশী রাগে ফেটে পড়লো।
→ ছাতা কার জন্য?
→ আমার জানুর জন্য।
→
তোকে কি আমি ছাতা কিনে দিতে বলেছি?
→ তা অবশ্য বলিসনি।
তবে তুই সেদিন
বলেছিলি তোর প্রিয়
ছাতাটা হারিয়ে গেছে।
এই খাঁ খাঁ করা রোদের
মাঝে ভার্সিটিতে যেতে তোর
অসুবিধা হবে।
এছাড়া বর্ষাকাল ও
প্রায় চলে এসেছে।
তোর তো সারাবছর
সর্দি কাশি লেগেই
থাকে।
বৃষ্টিতে ভিজলে তোর
অবস্হা কি হবে ভেবে দেখেছিস?
→ আরে পাগল নাকি!
তুই এত চিন্তা করিস
আমায় নিয়ে ! আমার
কিছুই
হবেনারে পাগল।রোদ
আমার
ভালো না লাগলেও
বৃষ্টিতে ভিজতে আমার
অনেক ভালো লাগে।
আর তুই
সাথে থাকলে তো কথাই
নেই॥
→ তুই আর একটিবার
চোখ বন্ধ
করতে পারবি?
→ আশ্চর্য্য
একটিবার কেন?তুই
চাইলে হাজারবার
চোখ বন্ধ
করতে পারবো।তুই
পাশে থাকলে জীবনে শেষবারের
মত চোখ বন্ধ করতেও
আমার কোন
দ্বিধা নেই।
শাঁখারিবাজার
থেকে আনা রঙীন
ঝলমলে কাঁচের
চুড়িগুলো অতি সন্তর্পণে শশীর
হাতে পরিয়ে দিলো শিশির।
তারপর একগাল
হেসে শশীর কানের
কাছে মুখ
নিয়ে বললো।"তোকে দেখতে বউ
বউ
লাগছে,এগুলো আনতে যাওয়ার
ফলস্বরুপ আমার
আসতে লেট হয়েছে॥
শশী আনন্দে কেঁদেই
ফেললো।
মুখ লুকালো শিশিরের
বুকে।
→ দেখেছিস শিশির
আকাশটা কেমন
মেঘলা হয়ে আছে।
একটু আগেও
কি চমত্কার ছিল
দেখতে।
হয়তো এখনি বৃষ্টি নামবে।
চলনা রিক্সায়
করে বৃষ্টিতে ভিজি।
→ হুম চল।
সারাটি দিন রিক্সায়
ঘুরলেও বৃষ্টির
দেখা না পেয়ে শিশিরের
মনটা প্রচন্ড খারাপ
হয়ে গেল। অন্য আর
একদিন
ভিজবো বলে শিশিরকে স্বান্তনা দিলো শশী॥
সন্ধ্যার পূর্বেই
সেদিনের মতো যে যার
নীড়ে ফিরে গেল॥
বেশ ক'মাস পরের
কথা,,,
ছুটিতে গ্রামের
বাড়িতে গিয়েছে শশী।
এরপরেই আমূল
পাল্টে গিয়েছে সে।
শিশির ফোন
দিলে রিসিভ
করতে চায় না আর
রিসিভ করলেও
ব্যস্ততার
অজুহাতে মিনিট
দু'য়েকের
বেশী কথা বলেনা।
মেসেজ
দিলে একটা মেসেজের
ও রিপ্লাই দেয়না।
শিশির
বুঝতে পারে না কেন
এই এড়িয়ে চলা!
সে কি কোন অপরাধ
করেছে!
নাকি শশী তার
সাথে ছলনা করেছে?
তবে কি এসবি মিথ্যে অভিনয়
ছিলো??মাথার
মধ্যে এমন অসংখ্য
চিন্তা ঘুরপাক
খাচ্ছে।কিন্তু নাহ্
শিশির আর
ভাবতে পারে না॥
এর এক মাস পরের
কথা,,,
সকাল
থেকে শশী ফোন
রিসিভ করছে না।
এদিকে ইয়ার ফাইনাল
পরীক্ষার আর মাত্র
কয়েকটা দিন বাঁকী।
শশীর মা'য়ের
নম্বরটাও শুধু
বিজি দেখাচ্ছে।
একটু
পরে একটা অপরিচিত
নাম্বার থেকে ফোন
আসলো।
নাম্বারটা বেশ
চেনা চেনা লাগছে শিশিরের।
রিসিভ করে সালাম
দিতেই
চিনতে পারলো ,রাতুল
ফোন করেছে॥এই
রাতুলের মাধ্যমেই
শশীর সাথে তার
পরিচয়॥শশী আর
রাতুলের বাড়ী একই
গ্রামে।
"শশীকে শেষবারের
মত দেখতে চাস?
যদি চাস তবে যত
দ্রুত সম্ভব শশীদের
বাড়িতে চলে আয়।
বাঁকিটা তুই
না আসা পর্যন্ত
আমি ম্যানেজ
করছি"বলেই
ফোনটা রেখে দিয়েছে রাতুল।
শিশির যখন শশীদের
বাড়ির আঙিনায়
পা রাখলো তখন
সন্ধ্যে নেমেছে।
হ্যারিকে নের
আবছা আলোয়
শিশির
দেখলো শশী ঘুমাচ্ছে,ধবধবে সাদা মার্কিনথন
পরে নিরবে ঘুমাচ্ছে।
ওর
চোখে মুখে প্রশান্তির
ছাপ।যেন ও
মুক্তি পেয়েছে শিশিরের
কাছ থেকে।
ভিড়ের মধ্য
থেকে কে যেন
একটি চিরকুট
বাড়িয়ে দিলো শিশিরের
দিকে।
"আমি তোর সাথেই
সারাটি জনম
কাটাতে চেয়েছিলাম
শিশির,কিন্তু
ক্যান্সার
সেটি হতে দিলোনা।
এতদিন
তোকে এড়িয়ে গিয়েছি বলে আমাকে ক্ষমা করিস।
আমি জানতাম
আমি আর বেশীদিন
বাঁচবো না।তাই
তোকে এড়িয়ে চলেছি।
কারণ ক্ষণিকের
জন্য
আমি তোকে কাছে পেতে চাই
না। আখিরাতের
জীবনে আমি তোকে কাছে পেতে চাই।
যে জীবনের শুরু
আছে কিন্তু শেষ
নেই।যেথায়
থাকবো শুধু তুই আর
আমি।
ভালো থাকিস,পরকালে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ্।
আল্ লাহ্ হাফেজ"॥
চিরকুটটিতে আর
কিছুই লেখা নেই।
"তুই
না আমাকে বলেছিলি,তোর
বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে!
আজ কোথায় তুই?
অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে,,,
আকাশ থেকে নয় !!
আমার দু'চোখ থেকে,,,
ভিজতে আসবি না তুই ??"
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now