বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শকুনতলা স্টেশন

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Abdur Rahman (০ পয়েন্ট)

X শকুনতলা স্টেশন - ছোট্ট একটি প্লাটফর্ম।প্লাটফর্মে একটি মাত্র কক্ষ।কক্ষের দরজার উপরে লেখা স্টেশন মাষ্টার।প্লাটফর্মের উত্তরদিকে একটা নামফলক তাতে লেখা শকুনতলা স্টেশন।এটাই শকুনতলা স্টেশন।অন্তত নামফলক তো তাই বলছে।প্লাটফর্মে একটা মাত্র বেঞ্চ পাতা আছে।বেঞ্চটাও স্টেশনের মতো অনেক নড়েবড়ে।প্লাটফর্মের এক কোনে একটা বাল্ব জ্বলছে কিন্তু তার আলো বেশিদূর ছড়াচ্ছে না চারিদিকে কুয়াশায় সবকিছু ঢেকে ফেলেছে।আমি গত এক ঘন্টা ধরে স্টেশনে বসে আছি।এখন বাজে রাত ১১:৪৫ মিনিট।স্টেশনে কোন জনমানব নেই। আমার ট্রেন এখানে এসে থামে ১০:৪৫ এ।স্টেশন মাষ্টার আমার দিকে এগিয়ে এসে বলল কোথায় যাবেন মশাই? আমি বললাম বাঘামাড়ি। - বাঘামাড়ি তো মাইল চারেকের পথ।এত রাত্রে বাঘামাড়ি যাবেন? - জ্বী! আমার লোক আসার কথা। - এই জায়গাটা বেশি সুবিধের না।আমার বাসা স্টেশনের কাছেই আপনি চাইলে আজ রাতটা আমার বাসায় কাটাতে পারেন! - ধন্যবাদ।তার আর দরকার হবে না।সম্ভবত কিছুক্ষনের মধ্যেই আমার লোক এসে পরবে। স্টেশন মাষ্টার চলে যাওয়ার পর স্টেশনটা একেবারে ফাকা হয়ে যায়।এখন জানুয়ারির মাঝামাঝি চলছে।এ অঞ্চলে শীতটাও জেকে বসেছে।চারিদিকে কুয়াশা চাদর বিছিয়ে আছে।সেই কুয়াশা আমাকেও গ্রাস করেছে।গরম কাপড়গুলোও শীতের সাথে লড়াই করে পেরে উঠছে না।কোম্পানি থেকে আমাকে বদলি করা হয়েছে রহমতগঞ্জ।অবশ্য এখানে বদলি করাতে আমি বেশ খুশিই ছিলাম অন্তত শহরের যান্ত্রিক কোলাহল থেকে তো মুক্তি পাব! শহরে থাকতে থাকতে একঘেয়ে জীবন হয়ে যাচ্ছিল।মনটা চাইছিল যে গ্রামীন মেঠোপথগুলোতে একটু ঘুরে আসতে।কোম্পানির বাংলো আছে বাঘামাড়িতে। রহমতগঞ্জের পাশেই বাঘামাড়ি।তাই কোম্পানির বাংলোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা হয়েছে।বাংলো দেখাশুনার জন্য একজন কেয়ারটেকার আছে নাম হোসেন আলী।হোসেন আলীই আমাকে নিয়ে যাওয়ার কথা।হোসেন আলীকে বলা হয়েছে সাড়ে দশটার মধ্যেই আমার ট্রেন চলে আসবে।হোসেন আলী কি এখনো আসেনি নাকি এসে চলে গেছে কিছুই বুঝতে পারছিনা।মোবাইলটাও বন্ধ হয়ে গেছে একটা ফোন দিয়ে যে খুজ নেব সে অবস্থাও নেই।ছোটবেলা থেকেই আমার ভূতের ভয় আছে।রাত বাজে বারোটা গা ছমছমে পরিবেশ তার উপর হার কাপানো শীতে আমি পুরো চুপসে গেছি।এই স্টেশনটাকেই আমার ভূতের আড্ডাখানা মনে হচ্ছে।এখন মনে হচ্ছে স্টেশন মাষ্টারের সাথে না গিয়ে ভূলই করেছি।এমন সময় স্টেশনের একটু অদূরে রিক্সার বেল বেজে উঠলো।আমি হঠাৎ চমকে উঠলাম।সেদিকে তাকাতেই দেখলাম একজন ব্যাক্তি চালকের আসনে জবুথবু হয়ে বসে আছে।আমি রিক্সার কাছে গেলাম।মনে সাহস ফিরে এলো।আমি লোকটার দিকে ভালো করে তাকালাম।বয়স পঞ্চাশের বেশি হবে।মুখে রক্ত মাংস নেই বললেই চলে একবারে কঙ্কালের মতো।পড়নে একটা লুঙ্গী আর পাতলা ফতুয়া।আশ্চর্য এই ঠান্ডায় ও লোকটা কতো সাধারন কাপড় চোপড় পড়ে আছে।এই অবস্থায় তিনি রিক্সা চালাবেন কিভাবে?লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বলল - উইঠা পড়েন হুজুর - তুমি কি আমাকে নিতে এসেছো? - হ্ হুজুর - তোমাকে কি হোসেন আলি পাঠিয়েছে? - হ্ হুজুর আমি রিক্সায় উঠে বসলাম।রিক্সা ও সাই সাই করে চলতে লাগলো।আশ্চর্য এই শরীর নিয়ে লোকটা এত দ্রুত রিক্সা চালাচ্ছে কিভাবে? লোকটার শরীর দেখে মনে হচ্ছে না গায়ে এতো জোর আছে।বাতাস এসে আমার গায়ে লাগছে।শীতকালের বাতাস বেজায় ঠান্ডা।আচ্ছা লোকটার কি ঠান্ডা লাগছে না? আমি লোকটাকে জিজ্ঞেস করলাম - আচ্ছা তোমার নাম কি? - আমার নাম অইল গিয়া আকবর মিয়া হুজুর - আমাকে নিতে এতো দেরি করে আসলে কেন? আমার ট্রেন তো সেই এগারোটায় এসেছে! লোকটা আমার দিকে পেছন তাকিয়ে একটু হেসে বলল - আমি তো এমন বেলায়ই আসি হুজুর - তুমি এমন সময় আসো? তোমার কষ্ট হয়না রিক্সা চালাতে? - কষ্ট লাগবো কেন হুজুর? আমার তো বালাই লাগে - তোমার ঠান্ডা লাগছে না? আবারো আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো - আফনের কি ঠান্ডা লাগতাছে হুজুর? - তা তো কিছুটা লাগছে - আমগো এসব গা সওয়া হইয়া গেছে হুজুর - তোমার বাসায় কে কে আছে? - বউ আছে।দুইডা পোলা আছিল তারা নিকা কইরা আলাদা অইয়া গেছে।একটা মাইয়া আছে বিয়া দিয়া দিছি কিন্তু জামাইডা বেশি বালা পড়ে নাই।পণের টাকার জন্য মাইয়াডারে খুব মারে। আমি লোকটার দিকে করুন দৃষ্টিতে তাকালাম।বয়সের ভারে পিঠটা বেকে গেছে।এসব প্রান্তিক পর্যায়ের লোকগুলোর অভাব অনেক কিন্তু চাহিদা নেই।অল্পতেই তারা খুশি।তাদের কোন বড় স্বপ্ন নেই।হয়তোবা তারা জানে স্বপ্ন দেখে তাদের কোন লাভ হবে না তাই স্বপ্ন দেখাটাও বারন। - বাংলোটা আর কতদূর? - এইতো আরেকটু হুজুর প্রায় আইয়া পড়ছি - আচ্ছা তুমি কথায় কথায় হুজুর বলছো কেন? আকবর মিয়া আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো কিন্তু কিছুই বললো না।একটা গেটের সামনে এসে দাড়ালো। - নামেন হুজুর আইয়া পড়ছি আমি বাংলোটার দিকে তাকালাম।শুনশান এক বাংলো।ভেতরে আলো পর্যন্ত জ্বলছে না।বেপার কি হোসেন আলি কি ঘুমিয়ে পড়েছে? কিন্তু সে ঘুমিয়ে পড়বে কেন? সে তো জানে আমি আসবো।আমি রিক্সা থেকে নামলাম।ব্যাগটা নামিয়ে পকেট থেকে মানিব্যাগ খুলতে খুলতে আকবর মিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম - ভাড়া কতো আকবর মিয়া? - আমি তো বাড়া নেই না হুজুর আমি চমকে উঠলাম এ কেমন কথা? ভাড়া নেবে না কেন? আমি আকবর মিয়ার দিকে তাকালাম দেখি লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।সে হাসিতে পিলে চমকে যায়।গায়ের রক্ত হিম হয়ে যায়।তার চোখদুটো জ্বলছে।যেন ক্ষনিকের জন্য আকবর মিয়া অন্য রুপ ধারন করলো।দেখতে দেখতে আকবর মিয়া হাওয়ায় মিলিয়ে গেল সঙ্গে তার রিক্সাটিও।আমি একেবার ভড়কে গেলাম।এক চিৎকার দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়লাম। চোখ মেলে দেখি আমি একটা রুমের ভেতর আছি।সকাল হয়ে গেছে।জানালা দিয়ে শীতের উষ্ন রোদ রুমে প্রবেশ করেছে।আমার গায়ে একটা কম্বল দিয়ে রাখা হয়েছে।কম্বলের ভেতরের পরিবেশটা বেশ আরামপ্রদ।আমি রুমটা একবার ভালো করে দেখে নিলাম।আমি একটা বেডে শুয়ে আছি।আমার মাথার পাশে একটা ডেস্ক তাতে পানির জগ রাখা আছে।বিছানার অপর পাশে একটা আলমারি।বিছানার পাশেই দুইটা চেয়ার।দেয়ালে একটা ক্যালেন্ডার ঝুলছে।ক্যালেন্ডারের ছবিতে কয়েকটা বাচ্চা ছেলেমেয়ে কাদায় খেলছে।দরজা ও জানালায় বাহারি রঙ্গের পর্দা।সম্ভবত আমি বাংলোর ভেতরে আছি কারন হাসপাতাল কখনো এরকম না।দরজা দিয়ে একটা লোক প্রবেশ করলো সম্ভবত এই হোসেন আলি।পোশাক-পরিচ্ছদে তো এরকমটাই বলছে।আমার দিকে এগিয়ে এসে উৎফুল্ল স্বরে বলল - স্যার আপনার জ্ঞান ফিরেছে? সারাটা রাত আমি কতো চিন্তায় ছিলাম জানেন? সকালে এসে ডাক্তার দেখে গেছে বলেছে কিছুক্ষনের মধ্যেই আপনার জ্ঞান ফিরবে।ডাক্তার সাহেব বলল ভয়ের কারনে নাকি এরকম হয়েছে।আপনি কি ভয়-টয় পাইছিলেন স্যার? আমি হোসেন আলিকে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম।হোসেন আলি ঘটনা শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল - আপনার সাথেও এই ঘটনা ঘটেছে? আর আপনার না সকাল সাড়ে দশটার সময় আসার কথা আপনি রাত্রে আসতে গেলেন কেন? - আমার রাত্রেই আসার কথা ছিল।আর আমার সাথেও ঘটেছে মানে? কি ঘটেছিল আমার সাথে? - তাহলে বলছি শুনুন।আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগের ঘটনা।আকবর মিয়া এই গ্রামেই থাকতো। সংসারের অভাব অনটনের কারনে রাতেও রিক্সা চালাতো।একদিন এক ব্যাবসায়ীকে নিয়ে স্টেশন থেকে আসার পথে ডাকাত দলের মুখে পড়ে।ডাকাত দল থেকে ব্যাবসায়ীকে বাচাতে গিয়ে নিজের প্রান দিতে হয়।আকবর মিয়ার সাহসীকতায় ব্যাবসায়ীর প্রান বেচে যায়।পড়ে ব্যাবসায়ী আকবর মিয়ার পরিবারকে অনেক অর্থ দেয়।তাদের অভাব-অনটনও দূর হয়ে যায়।সেই থেকেই নাকি কেও যদি স্টেশনে বিপদে পড়ে আকবর মিয়া তাদের সাহায্য করে।তবে সবাই নাকি দেখতে পায় না খুব কম লোকের ভাগ্যেই নাকি আকবর মিয়াকে দেখার সৌভাগ্য হয়।আপনিও তাদের মধ্যে একজন হয়ে গেলেন। গল্প শুনতে শুনতে আমি যেন রাতের ঘটনায় ফিরে গেলাম।আমার কানে বাজছিল আকবর মিয়ার হাসি আর তার ডাক হুজুর! হুজুর! হুজুর!......................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শকুনতলা স্টেশন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now