বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শীতকালীন বিয়ে

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রায়হান আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X -আবীদ ঘুম থেকে উঠ তাড়াতাড়ি।রেডি হয়ে নে। -মা এই শীতে এত সকালে কেউ ঘুম থেকে উঠে বলো? -আজ তোর বিয়ে আর আজ যদি দেড়ি করে ঘুম থেকে উঠিস তাহলে সারা জীবন কি করবি? তাড়াতাড়ি উঠ তোর বাবা আবার নাহয় রাগারাগি করবে। -উফফ কি মহা বিপদ।আচ্ছা যাও উঠছি। শীতকালে কেন যে মানুষ বিয়ে করে আল্লাহ মালুম(মনে মনে বলছে আবীদ) . আবীদ গোসল করে রেডি হয়ে বসে আছে নিজ রুমে।আবীদের মা আবারো ছেলেকে ডাকতে এসেছে। -কিরে রেডি হয়েছিস? এই বলেই সে আবীদের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। -হ্যা মা আমি রেডি।চলো যাই। -এই তুই কি এভাবেই বিয়ে করতে যাবি নাকি? -হ্যা কেন কি সমস্যা? -সমস্যা মানে তুই বিয়ের কাপড়ের উপর আবার সোয়েটার পড়েছিস কেন? -আরে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করার পর কি শীতের দিনে সোয়েটার পরবো না নাকি? -থাপ্পড় দিয়ে গাল লাল করে দিবো তোর।সোয়েটার খোল তাড়াতাড়ি। -শীত লাগছে মা অনেক। -লাগুক তুই সোয়েটার খুল।নাহয় তোর বাবাকে ডাকলাম।উনি এসেই তোকে দেখবে। -না খুলছি। -এইতো এবার একদম আমার স্মার্ট ছেলের মতো লাগছে।চল এবার। -হুম চলো। শীতে মরে যাচ্ছি আর তুমি আছো স্মার্ট নিয়ে।(মনে মনে বলছে আবীদ) . বিয়ের গাড়ি করে কণে বাড়িতে হাজির হলো আবীদ।গাড়ি থেকে নামতেই শীতে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। বিয়ের গেট দিয়ে ঢুকতে যাবে তখনই তাকে আটকানো হলো গেটের টাকা আদায় করার জন্য।আবীদ শীতে কিছুটা জমাট বেধে গিয়েছে।সে পাড়ছে না বাসায় গিয়ে কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে।কিছু ছেলে মেয়ে টাকার জন্য চিৎকার করছে।কিন্তু আবীদের কাছে মনে হচ্ছে কিছু কাক তার কানের সামনে এসে কা কা করছে।আবীদের খুবই বিরক্ত লাগছে কিন্তু সে অনেক কষ্টে হাসি হাসি মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আবীদ এক বন্ধুকে বলছে এই যা টাকা চায় দিয়ে তাড়াতাড়ি ভিতরে ঢুকি চল। -আয় হায় বন্ধু এত জলদি বিয়ে করার নাকি বাসরঘরে বিড়াল মারার?(আবীদের বন্ধু) -ধুর শালা। শীতে বাচি না আর তুই আবার বলিস বিড়াল মারার কথা।শীতের এই রাতে ইঁদুর মারতে পারবো কিনা তাও সন্দেহ বিড়ালতো অনেক দূরের কথা(মনে মনে বলছে আবীদ) . গেট থেকে বিদেয় নিয়ে আবীদ চলে গেল বিয়ের ষ্টেজ এ। অনেকক্ষণ একা একা বসে থাকার পর কিছু বন্ধু আর কাজিন এসে বসলো তার পাশে। -দোস্ত ভাবী কিন্তু জটিল সুন্দ্রী।বিড়ালটা ভালোভাবেই মারিস রাতে হা হা হা।(আবীদের বন্ধু) -চুপ শালা বেশী কথা বলিস।(আবীদ) . বিয়ের কার্যকলাপ শেষ হবার পর বউ এর পাশে নিয়ে যাওয়া হলো আবীদকে।আবীদ আড়চোখে একবার বউ এর দিকে তাকিয়ে দেখলো।নাহ বউটা আসলেই সুন্দরী।এই ভেবে আবীদের এক্সাইটমেন্ট বেড়ে গেলো।পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে কিছুটা বরফও জমে গেলো।এটা শীতের কারণে নাকি এক্সাইটমেন্ট এর কারণে তা বুঝা মুশকিল। . বিদায়ের সময় আবীদ বউ কে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসলো সবাইকে বিদেয় জানিয়ে।সেখানে কান্নাকাটির পর্বও যুক্ত ছিলো। . আবীদ এখন নিজ বাসায়।কিন্তু তবুও নিজ রুমে গিয়ে কম্বল গায়ে দিয়ে আরাম করে ঘুমুতে পারছে না।এক বদনা আফসোস। . কিছুক্ষণ পর আবীদ তার নিজ রুমে ঢুকলো।তবে এর আগে বন্ধুরা অনেক পরামর্শও দিয়ে দিয়েছে।ধুর ওসবের কথা কানে নিলে আজ মরতে হবে।ওসব কথা বাদ।এখন কিভাবে ঘুমানো যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। আবীদ খাটের কাছে যেতেই তার স্ত্রী তাকে বললো ওযু করে আসতে।আবীদ অবাক চোখে তার বউ এর দিকে তাকিয়ে রইলো। বাসর রাতে বিড়াল মারতে গেলে কি ওযু করতে হয় নাকি ঘুমুতে গেলে ওযু করতে হয়? কিছুইতো বুঝতে পারছি না।(মনে মনে ভাবছে আবীদ) . -ওযু করবো কেন? -আল্লাহ শুষ্ঠুভাবে আমাদের বিয়েটা সফল করেছেন এবং যাতে আমরা সারাজীবন সুখে থাকতে পারি তার জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করবো এবং দোয়া করবো। -ওহ আচ্ছা। আবীদ চুপচাপ ওযু করে আসলো।যদিও ঠান্ডা পানি তবুও নামায পড়ার ক্ষেত্রে তা কোনো বিষয় না। . আবীদ দেখলো তার স্ত্রীও কাপড় চেঞ্জ করে ওযু করে এসেছে।এরপর ওকে জায়নামাজ বিছিয়ে দিয়েছে আর নিজের জন্যও বিছিয়ে নিয়েছে। দু'জন মিলে একসাথে নামাজ আদায় করলো। আবীদ মনে মনে খুব খুশী যে সে একজন নেককার স্ত্রী পেয়েছে।আর এজন্য সে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়াও আদায় করেছে। . নামায শেষ আবীদ তার স্ত্রীর পাশে বসে কিছু কথা বলতে যাবে তখনই তার স্ত্রী বলে উঠলো চলুন না ছাদে যাই।আমার খুব ইচ্ছে ছিলো বিয়ের রাতে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখবো।যাবেন? -এই মেয়ে কি বলে মাথার তাড় ছিড়া নাকি আলগা? এই শীতে কেউ না ঘুমিয়ে ছাদে যায়? আম্মা আমারে বাচাও????(মনে মনে বিড়বিড় করছে আবীদ) নিজের কষ্টটাকে বুকে চাপা দিয়ে মুখে হাসি ফুটিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ছাদে চলে গেলো আবীদ। . -দেখেছেন কত সুন্দর চাঁদ? -হুম দেখছি আসলেই খুব সুন্দর।(শীতে মরে যাচ্ছি আর উনি চাঁদের সৌন্দর্য নিয়ে বসে আছে।ইচ্ছে করছে ছাদ থেকে এক লাফ দেই) -আপনার কি শীত লাগছে? -নাতো।কেন তোমার শীত লাগছে নাকি?(শীত কালে শীত লাগবে নাতো কি গরম লাগবে নাকি বোকা মেয়ে একটা) -নাহ। -শীত লাগলে বলো নাহয় চলো রুমে চলে যাই। -নাহ এখানেই ভালো লাগছে। -ওহ আচ্ছা।তাহলে চাঁদ দেখো।(উফফ কি জ্বালা আল্লাহ।আর জীবনেও শীত কালে বিয়ে করবো না কানে ধরছি। ধুর বিয়েতো করেই ফেলছি।আর কি বিয়ে করবো।বিয়ের আগেই ভাবা উচিত ছিলো।কিঞ্চিত ভুল করে ফেলেছি এবার।আর এ ভুল হবে না জীবনেও) -হুম আপনিও সাথে দেখুন। -হ্যা দেখছি। . আবীদ আর আবীদের স্ত্রী দু'জন মিলে দোলনায় বসে চাঁদ দেখছে।আবীদের স্ত্রী একসময় তার মাথা আবীদের কাঁধে রেখে আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদ দেখছে।আবীদও তার কাঁধে মাথা রেখে শুয়ে থাকা নিজ চাঁদটাকে দেখছে অপলক দৃষ্টিতে। : : : (সমাপ্তি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শীতকালীন বিয়ে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now