বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিতকালে বিয়ে করা ভাল

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X মানুষ বলে শিতকালে বিয়ে করা ভাল। কিন্তু কি কারনে বলে বুঝি না। মাঝে মাঝে ভাবি, যারা বলে তারা মনে হয় শিতকালে বিয়ে না করেই বলে। শিতকালে বিয়ে করলে হারে হারে টের পেত।যেমন আমি টের পাচ্ছি। আমি এমনিতেই মাঝে মাঝে গোসল করি না। আর শিতকালে ২-৩ দিন পর পর গোসল করি। কিন্তু বিয়ে করে মাইনকার চিপায় পরেছি। নিয়মিত গোসল করতে হয়।আর যেদিন গোসল করি না সেইদিন রাতে গোসল করিয়ে ছাড়ে(খারাপ ভাববেন না)। আর বউ এর চিপায় যে পরছে সেই বোঝে বউ এর চিপায় পরলে কি অবস্থা। কিছু বলতেও পারি না। বললেই ভ্যা ভ্যা করতে করতে মায়ের কাছে গিয়ে বলে -মা। আপনার ছেলে আমাকে বকেছে।আরও গায়ে হাত তুলেছে। -কি!! এত বড় সাহস দারাও দেখাচ্ছি মজা। তোমাকে বকে। তারপরেই শুরু হয় আমার জননি টিভির ভাষন। আর জননি টিভির ভাষন শুরু বউ এর ভাষন ও শুরু হয়।তাই কিছু বলতেও পারি না। মায়ের কাছে গিয়ে যদি বলি -মা। তুমি আমাকে এইরকম মেয়ের সাথে কেন বিয়ে দিয়েছিলে? -কেমন মেয়ে। বউ মা তো ভালই। -খালি জ্ঞ্যানমুলক কথা বলে।আর উপদেশ দেয়। -আমি তো কোনদিন তোকে ঠিক করতে পারি নাই। ঠিকমত গোসল করতি না।ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করতি না। কোনকিছুই নিয়ম মাফিক ছিল না। -কিন্তু বউ মা তোর সব কিছুই নিয়ম মাফিক করিয়ে ছাড়ে। তাই আমিও বউ মা কে সাপোর্ট করি। আমি চিন্তা করি "কার কাছে কি বলতে আসছি? সব ই তো একদলে। বিয়ে করার পরে আমার চেয়ে আমার বউ মায়ের কাছে বেশি আপন হয়েছে।তার একটাই কারন আমার বউ আমার চাল চলন সব পরিবর্তন করে দিয়েছে। . একদিন বউ বাইরে গেল। আমি গোসল না করেই চলে গেলাম অফিসে। গায়ে একটু গন্ধ থাকলেও বেপার না। বুদ্ধি মাথায় আছে।পারফিউম মারলাম গায়ে সব ফিনিস।আর গায়ে কোন গন্ধ নাই। আর কোন কাম নাই। এত সকালে গোসল করবো পারফিউম মেরেই চলে গেলাম অফিসে। সারাদিন অফিস করে রাতে বাসায় ফিরলাম। বাসায় ফিরে খাওয়া দাওয়া করে বিছানায় শুয়ে পরলাম। একটু পরে বউ শুয়ে পরলো। একটু পরে বউকে জড়িয়ে ধরলাম। বউ আমার বুকে মাথা রাখলো। চরম ফিলিংস। কিন্তু সুখ কপালে সইলো না। বউ উঠে বসলো। বসেই গা থেকে কম্বল টান দিল। দিয়েই বলল -এই উঠ। -উঠবো। কিন্তু কম্বল টান মারলে কেন? -তুমি আজকে গোসল করেছ? -না মানে ইয়ে। -কিসের ইয়ে। বুঝতে পারছি গোসল কর নাই। আজকে সকালে শপিং এ গেছি।আর তুমি গোসল কর নাই। -কিন্তু তুমি টের পেলে কিভাবে। -গায়ে গন্ধ।আর অফিসে গিয়েছিলে মানুষ কি ভেবেছে? -কি ভাববে? -তোমার গায়ে গন্ধ ছিল না। -আরে গন্ধ থাকবে কিভাবে?আমি তো পারফিউম মেরেছিলাম। -বাহ।কি বুদ্ধি। গন্ধ লুকানোর জন্য পারফিউম। -সারা জায়গা ঘুরলাম। কেউ গন্ধ পেল না।আর বউ গন্ধ পেল কিভাবে?এই জন্যই বলে ঘরের বউ।(মনে মনে) -কি ভাবছ? তারাতারি উঠ। উঠে এখন ই গোসল করবে। -আজকে গোসল না করলে হয় না? -নাহ। উঠ বলছি। এখন ই গোসল করবে। -এত রাতে আমি গোসল করবো না। আর একদিন গোসল না করলে কি হবে? -অনেক কিছুই হবে। গোসল না করলে কিন্তু মা কে ডাক দিবো। -ডাক দাও। মা ঘুমিয়ে পরেছে। (যাতে না ডাকে তাই ঝাড়ি মারলাম।) -মা। -ডাক দিতে হবে না। যাচ্ছি। বিয়ে করার আগে ভাবতাম আমার কপাল টা অনেক ভাল। কিন্তু কপালে বউ পাইছি একটা জল্লাদি। ইচ্ছা করছে কপাল টা শিমুল গাছের সাথে ঘষা মারি। সবাই বিয়ে করে শুক্রবারে। আমি বিয়ে করেছি মঙ্গলবারে। ভেবেছিলাম বিবাহিত জিবনে মঙ্গল হবে। কিন্তু বিয়ে করে জিবনে অমঙ্গল ডেকে এনেছি।এই সব ভাবছিলাম আর লুঙ্গি খুজছিলাম। বিপদের সময় দেখছি লুঙ্গিও পাওয়া যায় না। একটু পরে দেখলাম বউ এল এসে বলল -এই দারাও।আমি গরম পানি নিয়ে আসছি। -লাগবে না তোমার গরম পানি।শিতের মধ্যে গোসল করানোর জন্য ডেকে এখন দরদ দেখাতে এসেছে। -গোসল করলে অনেক ভাল লাগবে।আমার প্রতি তোমার এই ভালবাসা। -লাগবে না তোমার ভালবাসা।আমার আই লাভ ইউ ফেরত দাও। -দারাও দিচ্ছি। বলেই আমাকে বাথরুমে নিয়ে গেল। আর বলল -গরম পানি করে দিয়েছি।তারাতারি গোসল করো। নাহলে ঠান্ডা হয়ে যাবে। পরে কিন্তু ঠান্ডা লাগবে। -আমার ঠান্ডা লাগলে তোমার কি?(রেগে গিয়ে) -ওহে আমার প্রানের স্বামি রাগ করছো কেন? -রাগ করবো না।দারাও আমি গোসল করে নেই।দেখাবো মজা। -আচ্ছা দেখিও। গোসল তো কর। বাহ ভালই তো গোসল করে এখন ভাল লাগছে।ঠান্ডা লাগছে।তবে শরিরের মধ্যে আলাদা শান্তি লাগছে। বউ বলল -এখন কেমন লাগছে। আর গোসল করার আগে কেমন লাগল -এখন ভালই লাগছে।তবে ঠান্ডা। -দেখেছ। তোমার ভালর জন্যই বলি।তারাতারি কম্বলের ভেতরে আস। ঠান্ডা লাগবে না। -দারাও মজা দেখাচ্ছি। -কি করবে? -গরম লাগার ব্যাবস্থা করবো। বলেই কম্বলের নিচে ঢুকে। বউ কে জড়িয়ে ধরলাম।বললাম -এখন গরম লাগছে। -ভাল। আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখো।তাহলে আর ঠান্ডা লাগবে না। -কিভাবে লাগবে?তুমি তো আস্ত একটা জল্লাদি। তোমার শরিরে সব সময় ১২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। -কি বললে?আমি জল্লাদি? -হ্যা। তুমি জল্লাদি। -আমি জল্লাদ হলে তুমি কি? -আমি জল্লাদির স্বামি। -আমি জল্লাদি হলে তুমি জল্লাদ।কারন জল্লাদির পুরুষ রুপ হল জল্লাদ। -তাহলে তো আর জল্লাদি বলা যাবে না। -হুম। বুঝে শুনে বলবে।কারন আমাকে বললে তোমার ও লাগবে। -আমার বন্ধুরা বলে আমি নাকি আদর্শ পুরুষ। -দেখতে হবে স্বামি টা কার? -হুম।সেটা তো হারে হারেই টের পাচ্ছি। কয়েকদিন পরে শুনলাম বউ নাকি বাপের বাড়িতে বেড়াতে যাবে।আমি ভাবলাম যাক কয়েকদিনের জন্য বাচা যাবে। এই অত্যাচার থেকে তো বাচবো।বউ এসে বলল -সব সময়মত করবে।সময় মত ঘুমাবে। সময় মত খাওয়া দাওয়া করবে।সময় মতো গোসল করবে। -আচ্ছা। কয়দিন থাকবে? -৩-৪ দিনের মধ্যেই চলে আসবো। -যাক ৩-৪ দিন তো শান্তিতে থাকবো।বাচা গেল(আস্তে আস্তে) -কিছু বললে? - নাহ।কিছু না। -আমি গেলে তুমি শান্তিতে থাকবে?আচ্ছা ১০-১২ দিনের আগে ফিরছি না। -আরো বেশিদিন থাকলেও সমস্যা নাই। ভালই দুইদিন গেল কিন্তু তারপরেই কেমন যেন ফাকা লাগতে থাকলো। আমাকে সব সময় শাষন করলেও আমার ভালই লাগতো। যাওয়ার পরে কেমন যেন একা একা লাগতে থাকলো।অফিসে বউ কে ফোন দিলাম -হ্যালো।কি করছো? -অফিসে। -খাওয়া দাওয়া করেছ? -হ্যা।তুমি বাড়িতে আসবে কবে? -তা দিয়ে তোমার কি?আমি দুরে থাকলেই তো ভাল। আমি তোমাকে জালাতন করি। -আমি তোমাকে অনেক মিস করছি।তারাতারি বাড়িতে এস। -না।আমি আরও কয়েকদিন থাকবো। -তুমি আজকেই চলে আসো। -না।আসবো না। -না আসা পর্যন্ত আমি তোমার সাথে কথা বলবো না। আর তুমি না এলে আমি কিছুই খাবো না।তুমি বুঝতে পারছ না। তোমাকে ছাড়া আমার ভাল লাগছে না। -আমাকে ছাড়া তো তোমার ভাল থাকার কথা। -তোমাকে ছাড়া ভাল থাকবো না।তুমি আমার ভালবাসাটা বোঝার চেষ্টা করো। -এত প্রেম? -হ্যা। -কাছে থাকলে তো প্রেম থাকে না। এখন এত প্রেম? -হ্যা। -আচ্ছা আমি একটু পরেই আসছি। -বায়।এখন রাখছি। -বায়। বউটা শাষন করলেও বউ এর গুরুত্ব বুঝতে পারছি।শিতের সময় বউ পাশে থাকলে বউ শিত কম লাগে। শিতকালে বিয়ে করা খারাপ না। শিতকালে বউ এর দরকার আছে। (বিঃদ্রঃ আমার কোন কালেই বউ নাই) লিখেছেনঃ Rabby Mondol


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শিতকালে বিয়ে করা ভাল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now