বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিশির আর প্রভার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Ruhul Amin Raj (০ পয়েন্ট)

X এই। দেখো না আমার পা ব্যাথা করছে। »হু। »ঐ উঠো না। আমার খুব পা ব্যাথা করছে। »হু। উঠতেছি তো। একটু টাইম তো দাও। »উহু উহু (কান্না করছে সত্যি সত্যি) * যার পা ব্যাথা করছিলো, আমার স্ত্রী সে। নাম প্রভাত। আর আমি শিশির। গত ২ বছর আগে আমাদের পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। দুজনের ই মতামত থাকায় বিয়েটা বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের আগে জানা ছিলো না প্রভাতের ভাবভঙ্গিটা কেমন। যদিও বা আমরা একই পাড়ায় থাকতাম না। অনেকটা দুরত্ব থাকতো আমাদের মধ্যে। রাস্তা দিয়ে যখন কলেজ যেতো, তখন ছাদে গিয়ে একটু আকটু দেখতাম। ওতেই কিন্তু মন ভর তো না। তাই মনে সাহস সঞ্চার করতে লাগলাম। যেভাবেই হোক ওর সামনে গিয়েই ওর সাথে কথা বলতে হবে। কিন্তু দিন যায় দিনের পর মাস। তারপর ও সুযোগ মিলেনা। সেই সুযোগের দেখা না মিললেও কলেজ যাওয়ার পথে রাস্তায় আমার সামনে এসে হাজির। -কি হলো আপনি আমার পথ আটকালেন কেন? -না মা.মা.মা মানে আপনার সাথে কিছু কথা ছিল। -হ্যা জলদি বলুন। আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। -আপনি কি এদিকেই থাকেন? -তা জেনে আপনি কি করবেন? -না মানে বেশ কিছুদিন ধরেই আপনাকে দেখছি এই রোড দিয়ে আসা যাওয়া করছেন। তাই ভাবলাম.... -কি ভাবলেন? বন্ধুত্ব করবেন। তারপর পটাবেন। তারপর বাকিটা ইতিহাস। কি তাইতো? (আরে বাপ মেয়েতো আমার চাইতেও বুলেট) -না মানে। চাচ্ছিলাম শুধুই বন্ধুত্ব। -ওহ্। থাকুন আপনি আপনার বন্ধুত্ব নিয়ে। আমি গেলাম। এই বলেই চলে গেলো। বাপরে কথা বলার স্টাইলটা কি কঠিন। মনে হচ্ছে এখনই আমাকে আটকাবে। যাই হোক এভাবেই পথ আটকিয়ে কথা বললাম প্রায় ১মাস। কিন্তু মোবাইল নং চাইতেই বলে উঠলো। আমার মোবাইল নেই। কিন্তু এটাতে বেশ এলার্জি আছে। (মোবাইল নেই কিন্তু এলার্জি আছে এটা কেমন কথা) যাই হোক, যেহেতু আমি পড়ালেখা শেষ করে চাকরি ধরেছি সবে মাত্র। তাই বাসায় আম্মু আমাকে তেমন একটা চাপ দেয়না। তাই আমিও স্বাধীন। তবে এই স্বাধীনতা আর বেশী দিন স্থায়ী হলো না। হঠাৎ ই বাবা বলে উঠলো তোর জন্য আগামী মাসের ৩১ তারিখ পাত্রী দেখতে যাবো। কিন্তু আমি বললাম, বাবা আমি আর কিছু দিন সময় নিতে চাই। কিছু না বলেই চলে গেলেন বাবা। যথাসময়ে পাত্রী দেখার জন্য আমরা কয়েকজন গেলাম। পাত্রী দেখে সবার মুখে মুচকি হাসি থাকলেও। আমার মাথায় রীতিমত বাজ পড়ছে। কারণ, আম্মু আব্বুর ঠিক করা পাত্রীটাই যে প্রভাত। হঠাৎ ই আব্বু বলে উঠল, কিরে পছন্দ হলো। -না মানে। এদিকে তো আমি খুশিতে আহ্লাদে আটখানা। সেখানে পাত্রী দেখে আমরা আর দেরী করলাম না। বাসায় চলে আসি। খাবার টেবিলে মা বলে উঠে, এখন থেকে অন্তত তোর আর বারবার ছাদে যাওয়া লাগবেনা আর রাস্তায় উঁকি ও দিতে হবেনা। আর কাল ও নিজেই তোমার নাম্বারে ফোন দিবে। সো নাম্বার নিয়ে দুশ্চিন্তা করিসনা। -মা তুমি সব জানতে? -হ্যা তোর হাবভাব দেখে তোকে ফলো করতে বাধ্য হলাম। . অতঃপর ৪ দিনের মাথায় শুভকাজ সম্পন্ন হলো। সেদিন রাতে আর ঘুমানো হলোনা। তার সাথে চন্দ্রাবিলাস করতে হবে। এটা তারই আদেশ। এভাবেই চলতে থাকে আমাদের খুনসুটিময় ভালোবাসার সংসার। বিয়ের বেশ কয়েক মাস পরেই প্রভাত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সিড়ি থেকে নামতেই পা ফসকে পড়ে যায়। গুরুতর কিছু না হলেও ডাক্তার বলেছেন ক্ষতটা সাড়তে কয়েক বছর ও লাগতে পারে। তাই নিয়মিত ঔষধ চালিয়ে যেতে হয়। এভাবেই কেটে যায় ২ টা বছর। আর ঘুমের ঘোরেই আমাকে আরেকবার কান্না মিশ্রিত কন্ঠে ডেকে উঠে প্রভাত। »এই তুমি উঠবে? »হ্যা এইতো উঠছি। »আমি এতবার ডাকার পরও তুমি কচ্ছপের মত নাক ডেকে ঘুমাচ্ছিলে শিশির? »প্রভাত আমি দুঃখিত তার জন্য। »হইছে। » এইতো তোমার কোলে মাথা রেখে বললাম। সলি বাবুনি। আর হবেনা এমন। »হুম। দেখোনা আমার পাটা কেমন যন্ত্রণা করছে। »ওহ শিট। সাথে সাথে ইনজেকশন পুশ করতে হলো এরপর মনে হয় মেয়েটা একটু স্বস্তি পেলো। সাথে সাথেই জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলাম। »আরে বোকা কাদঁছো কেন? »আমার একদম খেয়াল ছিল না লক্ষী। »আমার কিচ্ছু হবেনা। যতক্ষণ তুমি আমার পাশে থাকবে। আর কিছুই বলার থাকে না। দুজন দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। আর এক বুক ভালোবাসার নিদারুণ আশা নিয়ে বেচে থাকার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজারো আবেদন করছি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শিশির আর প্রভার গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now