বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিরোনাম আপনিই দেন!

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান (০ পয়েন্ট)

X ছোটবেলায় আমি ধার্মিক পরিবেশে বড় হয়েছি। জীবনের প্রথম অংশ কেটেছে নানা-নানির কাছে, তারপরে মা-বাবা। প্রত্যেকেই তাদের সর্বোচ্চ আন্তরিক চেষ্টা করেছেন ধর্মীয় শিক্ষা আর নৈতিকতা শিখাতে। কিভাবে ইসলাম পালন করতে হয় তা তাঁরা দেখিয়েছেন, কিন্তু কেন করতে হয় তা ব্যাখ্যা করেননি। ফলে যা হয় তাই হল। বড় হয়ে বুদ্ধিশুদ্ধি হবার সাথে সাথে ইসলাম পালন করার পরিমান কমতে কমতে একসময় মুমূর্ষু আকার ধারন করল। যা বুঝি না তা পালন করে কি লাভ? জীবনে তখন এরচে বেশি আনন্দের অনেক কিছু চলে এসেছে। এইভাবে চলল আরো আট দশ বছর। ঘুরপাক খেতে লাগলাম জীবনের বিভিন্ন গলিঘুপচিতে উদ্দেশ্যহীন হয়ে, ঠিক শয়তান যা চায় মানুষের কাছ থেকে। শান্তি নাই, কোনকিছুতেই শান্তি নাই। আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরতে সরতে ২২-২৩ বছর বয়সে এসে মনে হল, জীবনটা ফালতুভাবে নষ্ট করে ফেলছি কেন? ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করলাম। দেখলাম, আল্লাহ বড়ই কাছে। আগে যেসব কেন-র উত্তর জানতাম না সেগুলো জানার চেষ্টা করে নতুন করে মুসলিম হওয়ার চেষ্টা শুরু করলাম। ২০১১ সালে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে ২ মাসের জন্য হোস্টেলে গেলাম। ২ মাস শেইভ করা হল না। আর কখনোই হল না। আশেপাশের মানুষ যে নানারকম মুখোশ পরে থাকে এরপর একটু একটু করে বুঝতে পারলাম। মুখোশের নিচের চেহারাগুলো ভারি অদ্ভূত। না দেখলে আপনি বুঝতেই পারবেন না। এক আত্মীয় বললেন- "দাঁড়ি রেখনা, ফেলে দাও। ভাল দেখায় না। তোমার বয়স কম।" মা-বাবা কিছু বলেননি কোনোদিন ,উলটা সহযোগিতা করেছেন। এত ভাল বাপ-মা সবার কপালে জুটেনা। যেসব বন্ধুদের সাথে আজীবন বড় হয়েছি একেকজনের প্রতিক্রিয়া হল একেকরকম। কেউ পুরা নরমাল। কেউ হাসাহাসি করে। কেউ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে। কেউ চোখ কপালে তুলে জিজ্ঞেস করে- 'তোর এই অবস্থা? স্বপ্নেও ভাবি নাই।' কেউ জিজ্ঞেস করে- দোস্ত ছ্যাকা খাইছিলি?। বান্ধবীরা কেউ জিজ্ঞেস করে- ' তুমি নাকি আর মেয়েদের সাথে কথা বল না?'...এইভাবেই চলতে লাগল। কখনো স্বাভাবিক থাকি, কখনো উত্তেজিত হয়ে ক্ষেপে যাই। এই পরিস্থিতির নাম Stereotyping. [To believe unfairly that all people or things with a particular characteristic are the same. ] এই শব্দটা আগে জানতাম না, কিন্তু জিনিসটা সম্পর্কে আইডিয়া হয়ে গিয়েছিল আগে থেকেই। মেডিকেলে যখন ছাত্র ছিলাম, মাঝে মাঝে খোচাখোচা দাঁড়ি দেখলে কোন কোন স্যার বলত- 'এই অবস্থা কেন? জেএমবি কর? জঙ্গী হইসো ?' তখনো দেশে আইএস আসেনি, আল কায়েদা আর জেএমবি ছিল হট টপিক। দাঁড়ি রেখে আমিও স্টেরিওটাইপিং এর একজন মজার ভিকটিমে পরিণত হলাম। এক স্যার জিজ্ঞেস করলেন- আচ্ছা তুমি কি ছাত্রশিবির কর? বললাম- না স্যার করিনা। - ও তাহলে কি তাবলীগ জামাত কর? - না সার তাও করিনা। - ও তাহলে কি কর? - স্যার কিছুই করিনা, এমনি ইসলাম পালন করি আরকি। -কিছুই করনা ? স্যার কিছুটা সন্দেহ আর অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন। পোলায় কয় কি? কিছুই না করে আবার কেমনে? বেকুব নাকি? নাকি ঘাগু মাল, ভিতরে ভিতরে কাম সারতেছে? কেমনে কি? মানুষের এই কেমনে কি কেমনে কি দেখতে দেখতেই আরো ৫-৬ বছর চলে গেল। বুঝলাম রেগে কোন লাভ নাই, বি কুল ম্যান। দাড়ির মধ্যে ওয়্যারলেস টেকনোলজি আছে। যে রাখে তাঁর চুলকায় না, আশেপাশের মানুষের বড্ড চুলকায়। একদিন একজন বলল- তুমি তো দাঁড়ি রেখে হুজুর আজকাল। হাসিমুখে বললাম- আরে না ভাই। আমি রবিঠাকুরের অনেক বড় ফ্যান কিনা তাই। তিনি হা করে তাকিয়ে থাকলেন। মনে মনে সম্ভবত বলেছেন- শালা বদমাইশ। ভালই লেগেছিল সেদিন। আমার স্ত্রী একটা সময়ে হিজাব করতেন না। এরপর স্কার্ফ পরা শুরু করলেন। এরপর বোরখা পরা শুরু করলেন। মজা শুরু হল এরপর। একদিন তাঁর এক আত্মীয় সুদূর বিদেশ থেকে ফোন করলেন। এই আত্মীয়ের স্ত্রী আর মেয়ে অবশ্য সেখানে মিনিস্কার্ট আর হাফপ্যান্ট পরেন। ফোনের মধ্যে কি তাঁর রাগ, কি তাঁর আস্ফালন। টানা ত্রিশটি মিনিট তিনি মেয়েটাকে যা তা বললেন। বললেন- 'ধর্মকর্ম তো আমরাও করি। তোমার মতন এক্সট্রিম তো করি না। তুমি উগ্রবাদি হয়ে যাচ্ছ। তুমি বংশের মুখে লজ্জা দিচ্ছ। বিয়ের পর তোমার ব্রেইন ওয়াশ হয়ে গেছে। কি খুব জান্নাতে যেয়ে আঙ্গুর খেতে চাও তাইনা?' আমার স্ত্রী মনের দুঃখে কান্না শুরু করল। এই হচ্ছে সেকুলাঙ্গার কনসেপ্ট। মুসলিম দুই রকম। সাধারন আমজনতা মুসলিম। টুকটাক নামাজ পড়বে, শুধু জুম্মা পড়লেও সমস্যা নেই, শেইভ করবে, এত হিজাব টিজাবের দরকার নাই। আর আরেকদল হচ্ছে উগ্রবাদি র‍্যাডিকাল এক্সট্রিমিস্ট মুসলিম। এরা খালি ইসলাম ইসলাম করে। খাইতে গেলে ইসলাম, শুইতে গেলে ইসলাম। ইসলামের উপর বইপত্র পড়ে। আরে ধর্মকর্ম আমাদের বাপ দাদারা করে নাই ? বইপত্র পড়ে ইসলাম শিখতে হবে এখন ? সব তো পড়ে জিহাদি উগ্রবাদি বই। এইগুলাই সব জঙ্গী হয়, আই এস হয়। এইগুলাই তো বোম ফাটায়, মানুষ মারে। গুলশান হামলার পর টেলিভিশন, পত্র পত্রিকা অনুযায়ী দেশে একটাই সমস্যা এখন। জঙ্গীবাদ। নর্থ সাউথে জঙ্গি আস্তানা, কল্যানপুরে জঙ্গি আস্তানা, জঙ্গী সন্দেহে প্রতিদিন মানুষ আটক হচ্ছে। খুবই ভাল কথা। সব জঙ্গি ধরা পড়ুক, সরকার সবাইকে ধরে বিচার করুক। যারা ধর্মকে পুঁজি করে মানুষ হত্যা করে, তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। যখন আপনি একটা ঔষধ দিবেন তখন সেটার সাইড এফেক্ট হবেই। যদি ঔষধের সাইড এফেক্ট এতই বেশি হয় যে সেটা মানুষের শুধু ক্ষতিই করতেই থাকে, তাহলে ঔষধের কার্যকারিতার নিয়ে প্রশ্ন উঠে । ধরুন দেশের মোট সমস্যা ১০০%, এর মধ্যে জঙ্গি সমস্যা ১০% । মিডিয়া যদি চায়, এই ১০% কে আপনার কাছে উপস্থাপন করবে ৫০% হিসেবে। তখন আপনার কাছে মনে হবে দেশ ছেয়ে গেছে জঙ্গীতে। আকাশে বাতাসে জঙ্গি, ঘরে ঘরে জঙ্গি। তিল কে তিল হিসেবে উপস্থাপন করা হবে না তাল হিসেবে, তা মিডিয়া খুব ভালই জানে। আমরা বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝামাঝি একটা ধোঁয়াশা জগতে বাস করছি। আপনি কি বিশ্বাস করবেন আর কি অবিশ্বাস করবেন তা একান্তই আপনার ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন যে মিডিয়ায় আপনি যা দেখেন তাই আপনি সরলমনে বিশ্বাস করবেন তাহলে আপনি ঠকছেন, নিজেকে ঠকাচ্ছেন। কারন আসলেই কি আপনি মিডিয়ার সবকিছু বিশ্বাস করেন? । অমুক মামলার আসামি পালানোর সময় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে, এটা আপনি বিশ্বাস করেন ? আগামি নির্বাচনে ক্ষমতায় আসলে দেশের চেহারা পালটে যাবে, এটা করেন ? ৯০ এর দশকে আমরা যখন ছোট ছিলাম, সন্তানরা প্রেম করছে বা সিগারেট খাচ্ছে শুনলে বাবা-মায়ের মাথা খারাপ হয়ে যেত। এর চেয়ে বড় অন্যায় তখন ছিল না সম্ভবত। কারোর ছেলেকে অমুকের মেয়ের সাথে এক সাথে দেখা গেছে, এই খবর শুনলে বংশের মান ইজ্জত নিয়ে টানাটানি অবস্থা। টেলিভিশনে প্রেমের ডায়লগ দিলে ছেলে মেয়েরা বাবা-মায়ের সামনে থেকে উঠে যেত। তখনো আমি বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবারে যথেষ্ঠ রক্ষনশীলতা দেখেছি । যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ। এরপরে আসল পর্নোগ্রাফির যুগ। এরপরে আসল নানারকম নেশার যুগ। সেটার হাত ধরে আসল ইয়াবার যুগ। এতকিছুর মধ্যেও সবসময়ই মুসলিম বাবা-মা চাইতেন ছেলেমেয়ে ধার্মিক হোক, মূল্যবোধ শিখুক, নৈতিকতা শিখুক, নিয়মিত নামাজ পড়ুক, মসজিদে যাক। আশেপাশের নষ্ট জেনারেশনের ছেলেদের মধ্যে গোবরে পদ্মফুলের মতন একটা ধার্মিক ছেলে বা মেয়ে পেলে বাবা মায়ের বুক গর্বে ভরে যেত। মানুষকে শুনিয়ে শুনিয়ে তাঁরা বলতেন- জানেন, আমার ছেলেটা না ৫ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়ে? আল্লাহ আমাকে কত বড় রহমত দিয়েছেন। এরপরে আসল সবচেয়ে বড় আতঙ্কের যুগ। জঙ্গীবাদের যুগ। আমার আদরের বাবুটা জঙ্গী হয়ে যাচ্ছে নাতো? আগে তো এমন ছিল না। ইদানিং দেখি নামাজ পড়ে, মাঝে মাঝে মসজিদেও যায়। আগে তো বান্ধবীদের সাথে ভালই ঘোরাঘুরি করত। এখন তো দেখি সেগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে দেখি কুর'আন খুলেও পড়ে। কি সর্বনাশ ! একজন একদিন আমাকে তার মনের কথাটা বলেই ফেললেন- " জঙ্গী হওয়ার চেয়ে নেশা করা ভাল"। জঙ্গিবাদের আতঙ্কে ভীত বাবা-মা রা কি আজকের দিনে এটাই আসলে চান যে, বাবা তুই সিগারেট খা, মেয়েদের সাথে আনন্দ কর, ইনটারনেটে যা মন চায় দেখ, কিন্তু ইসলামিক ভিডিও দেখিসনা বাবা। জাকির নায়েকের পেইজে লাইক দিস না। দাড়ি রাখিস না। বেশি নামাজ পড়িস না। নরমাল শেভ করা মুসলিম থাক। একটু বেশি মুসলিম হইস না। দিনকাল খারাপ রে বাবা। খুব ধর পাকড় হচ্ছে চারদিকে। আর খবরদার ইসলাম নিয়ে লেখালেখি করতে যাবি না। চুপচাপ থাক, শান্তিতে থাক। বাইরে বেশিক্ষন থাকবি না। কেন মা-বাবারা এমন করছেন? কেন তাঁরা আতঙ্কিত, ভীত? কারন ,আল্লাহর পরে তাঁরা আমাদের সবচেয়ে আপনজন । তাঁরা আমাদের ভাল চান। আমাদের জন্য তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ধার্মিকতা আর ধর্মান্ধতা আলাদা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মা সবসময় খারাপ আশংকা করেন সন্তানের জন্য। কাজেই কেউ যখন এমনিই ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ধার্মিক হওয়া শুরু করে, বাবা-মা এই সন্তানদের জন্য প্রচন্ড ভয় পাচ্ছেন আজকের দিনে। কই যায়, কার সাথে মিশে? ব্রেইন ওয়াশ না তো? এভাবেই স্টেরিওটাইপিং এর সাথে সাথে আমাদের দেশে এখন ইসলাম-আতংক বা ইসলাম-ফোবিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এই ফোবিয়া সৃষ্টির পেছনে মিডিয়ার বিরাট ভূমিকা আছে। এই ফোবিয়া পশ্চিমা বিশ্বে ভয়াবহ আকারে আছে। বিশ্বে বহু অমুসলিমের ধারনা, মুসলিম মানেই হচ্ছে টেরোরিস্ট। আজকে আপনি সাদা একটা সৌদি জুব্বা পরে হাতে একটা কালো ব্যাগ নিয়ে নিউ ইয়র্ক এর রাস্তা দিয়ে হেটে যান, কেউ যদি ৯১১ কল করে, আর পুলিশ আপনাকে "সন্দেহজনক" ভেবে ধরে নিয়ে যায়, অবাক হবার কিছুই নেই। আমেরিকাতে হিজাব করার জন্য মেয়েকে বাবা বাসা থেকে বের করে দিচ্ছে, পড়াশুনার খরচ বন্ধ করে দিচ্ছে। ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ কখনোই জিহাদ হতে পারেনা। আর জিহাদ কখনোই সন্ত্রাসবাদ নয়। দুইটি সম্পূর্ন আলাদা জিনিস। জিহাদ ও ক্বিতাল (যুদ্ধ) সম্পর্কে ইসলাম কি বলেছে তা না জেনে, এর শর্ত না জেনে, রাসূল (সাঃ) কোন কোন পরিস্থিতিতে জিহাদ করেছেন, কেন করেছেন, তা না জেনে 'আল্লাহু আকবার' বলে কোন নিরীহ মুসলিম বা অমুসলিম বা যেকোন মানুষকে হত্যা করলেই সেটা জিহাদ হয়ে গেলনা। আর দশটা হত্যাকান্ডের মতন এটাও হত্যাকান্ড এবং জঘন্য অপরাধ। তার দাঁড়ি থাকলেও সে জঙ্গি, না থাকলেও জঙ্গি। ইসলামের নাম দিয়ে কাউকে মেরে ফেললে সেটার জন্য ইসলাম দায়ী না। জিহাদঃ জিহাদ অর্থ কোনো কিছু অর্জনে অত্যন্ত চেষ্টা করা, নিজের ক্ষমতার যথাসাধ্য ব্যবহার করা, লক্ষ্য অর্জন করতে গিয়ে কষ্ট সহ্য করা। সেটা কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে, বা শয়তানের বিরুদ্ধে অথবা নিজের কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে।[রাগিব] জিহাদ ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হয়। কু’রআনে ৩৫টি আয়াতে জিহাদ এসেছে, যার মধ্যে ৩১টি আয়াতেই সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রামের কথা বলা হয়নি। ‘জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’ হচ্ছে আল্লাহকে ﷻ খুশি করার জন্য জিহাদ করা, যার মধ্যে পড়ে — -আল্লাহর ﷻ আইন যথাসাধ্য মেনে চলা, যতই কষ্ট হোক না কেন। -কষ্ট করে হলেও ইসলামের দাওয়াত দেওয়া। -ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করে আলিম হওয়ার জন্য কষ্ট করা। -নিজের ইসলামের জ্ঞান ব্যবহার করে ইসলাম বিরোধীদের সাথে তর্ক করা, তাদের ভুল শোধরানোর জন্য। -ইসলামের অপপ্রচারণার বিরুদ্ধে সঠিক প্রচারণা চালানো। -নিজের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সংগ্রাম করা। -মুসলিম জাতি যদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটাতে অংশ নেওয়া, কিছু শর্ত সাপেক্ষে। মুসলিমদের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করা। যেসব জঙ্গি দলই আছে, তারা কুর'আন হাদিস থেকে তাদের কাজের সপক্ষে দলিল দাঁড়া করাচ্ছে। সহীহ বুখারির জিহাদ অধ্যায়ের সব হাদিস পড়েই কেউ কাউকে হত্যা করার জন্য দৌড়াতে পারেনা। কারন মানুষের জীবন-মরন একটা সিরিয়াস ব্যাপার, আর ইসলাম কাউকে দেশের আইন নিজের হাতে তুলে নেবার বিন্দুমাত্র অধিকার দেয়নি। একারণেই সরাসরি সাহিহ হাদিস গ্রন্থগুলো পড়ে যদি মনে করি আমরা রাসুলের ﷺ নির্দেশ মানছি, তাহলে সেটা বিরাট বোকামি। যারা ইসলাম নিয়ে যথাযথ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন, তারা এই বোকামি করেন না। আমরা কু’রআনের মতো সবচেয়ে পরিষ্কার ভাষার বাণী যথাযথভাবে বোঝার জন্য তাফসীর পড়ি, অথচ হাদিস, যা রাসুলের বাণী মানুষের মুখে বর্ণনা করা, যার ভাষা আল্লাহর ﷻ বাণীর ধারে কাছেও সূক্ষ্ম নয়, সেটার কোনো ধরনের ব্যাখ্যা না পড়েই ধরে নেই যে, রাসুল ﷺ ঠিক কখন কোন প্রেক্ষিতে কী বলতে চেয়েছেন, কাদেরকে নিয়ে সেটা বলেছেন, কাদের ব্যাপারে সেটা বলেননি, তা আমি একদম সঠিকভাবে বুঝে গেছি। “কু’রআন বোঝার জন্য তাফসীর পড়তে হবে, হাদিস বোঝার জন্য হাদিসের শার্‌হ পড়ার দরকার নেই” —এই ভুল ধারণা থেকেই বেশিরভাগ চরমপন্থি, উগ্রপন্থী, তাকফিরি মুসলিম এবং চরমপন্থি সালাফির জন্ম। ক্বিতা-ল-এর শর্তঃ আল্লাহ ﷻ কু’রআনে ক্বিতা-ল অর্থাৎ যুদ্ধ করতে আদেশ দিয়েছেন, ক্বাতল অর্থাৎ হত্যা, খুন করতে বলেননি। ক্বিতা-ল বা যুদ্ধ দুটো সামরিক বাহিনীর মধ্যে হয়, বা সশস্ত্র আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে হয়, কোনো নিরীহ মুসলিম বা অমুসলিমের বিরুদ্ধে নয়। ক্বিতা-ল করতে হয় অনেকগুলো শর্ত মেনে চলে, যেমন নিরস্ত্র-নিরীহ বাসিন্দা, মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ, ধর্ম যাজকদের আক্রমণ না করে, শত্রু পক্ষের পাঠানো প্রতিনিধিদের হত্যা না করে, উপাসনালয়, বাসস্থানের বাড়িঘর না ভেঙ্গে, গাছ, ফসল ধ্বংস না করে ইত্যাদি বহু শর্ত মেনে ক্বিতা-ল করতে হয়। যারা এই শর্ত না মেনে বোমা মেরে বাড়িঘর ভেঙ্গে, গাছপালা নষ্ট করে, শিশু, নারী, বৃদ্ধদের হত্যা করে, ভিন্ন ধর্মের পুরোহিতদের খুন করে ‘ক্বিতা-ল ফি সাবিলিল্লাহ’ করছে বলে মনে করছে, তারা আসলে ক্বিতা-ল করছে না, শুধুই ক্বাতল বা খুনাখুনি করছে। এরা ইসলামের আইনেই বড় ধরনের অপরাধী। মুজাহিদ হওয়া তো বহু দূরের কথা। আমরা মিডিয়ার সব খবর গনহারে অবিশ্বাস করব ব্যাপারটা সেরকম না। পেঁয়াজের দাম ৫ টাকা বেড়েছে, উসাইন বোল্ট সোনা জিতেছেন, মেসি গোল দিয়েছেন এসবের সত্য মিথ্যার যাচাই এর কিছু নাই। আপনি চোখ-কান খোলা রাখেন মিডিয়া ইসলামকে অতিরঞ্জিত বা বিকৃত করে অপপ্রচার করছে কিনা। আপনি যাচাই করেন, নিজের বিবেক-বুদ্ধি কাজে লাগান। ইসলামকে ছাতা হিসেবে ব্যবহার করে সেই ছাতার পিছনে আসলে কারা বসে আছে, সেই ছাতায় নিরীহ মানুষের রক্ত এসে লাগছে , আর সেই রক্ত দেখে সাধারন মানুষ ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিতে ভয় পাচ্ছে , ইসলাম থেকে দূরে সরে যাচ্ছে...এইগুলো বিশ্লেষন করেন। এইগুলো ব্যাপারে চোখ বুজে বিশ্বাস করবেন না দয়া করে। একটি আন্তর্জাতিক ইউনিভার্সিটির অধীনে আরবি কোর্স করতাম। দুই সেমিস্টার করার পর কোর্সটি বন্ধ হয়ে গেল। কি কারন? একটি বাসায় সপ্তাহে দুদিন এতগুলো দাড়িওয়ালা লোক আসে, বাড়িওয়ালার সমস্যা শুরু হচ্ছিল। এর কিছুদিন পর সেই একাডেমিটাই বন্ধ হয়ে গেল। একবার শুনলাম প্রখ্যাত আলিম বিলাল ফিলিপস আসবেন ঢাকায়। টিকেট কিনলাম অধীর আগ্রহে। তিনি আসলেন এবং তাকে এয়ারপোর্ট থেকে ফেরত পাঠান হল আবার। কি সমস্যা হয় ভাল ভাল আলিমরা আসলে? মাজার বিজনেস চলবে না আর? এই কথাগুলো কেন বলছি? কারন আমার মতন আরো যেসব লক্ষ লক্ষ ভাই-বোন আছেন বাংলাদেশ , যারা টুকটাক ইসলাম মেনে চলার চেষ্টা করি। যারা শান্তিপ্রিয়ভাবে ইসলামের ভালবাসার বানী মানুষকে জানাই। এখন পর্যন্ত যেসব জঙ্গীই ধরা পরেছে তারা কেউই ধার্মিক মুসলিম না। তাদের কম্পিউটারে পর্নোগ্রাফি পাওয়া যায়। একজন মুসলিম পর্ণোগ্রাফি দেখে কিভাবে ? একজন বোনের বক্তব্য, হিজাব করার পর থেকে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করা শুরু করেছে সে আই এস কিনা ? আমাকে ইদানীং শুনতে হচ্ছে, আমি যেন সাবধানে থাকি, কবে কে আমাকে ধরে নিয়ে যায় তার ঠিক নেই। এই জঙ্গি আইএস গান শুনতে শুনতে আমরা বড়ই বিরক্ত। এখন আমার হাতে দুটি উপায় আছে। দাঁড়ি কেটে ফেলা, ইসলাম নিয়ে লেখা বন্ধ করা, ফেইসবুকে খাবারদাবার, বন্ধু-বান্ধবী, হানিমুনের ছবি দেওয়া এবং সমাজের চোখে একজন গ্রহনযোগ্য মুসলিম হয়ে যাওয়া। ব্যস, সমস্যার সমাধান। আর দুই, মানুষকে ভয় না পেয়ে শুধুই আল্লাহর উপর আস্থা রাখা। আপাতত আমি সেটাই করব। আমরা মুসলিমরা নিজেরদের পার্থিব জীবনকে আল্লাহর কাছে বিক্রি করে দিয়েছি উচ্চতর কোন লাভের আশায়। কাজেই "হায় হায় লোকে কি বলবে" এই চিন্তা আমরা বাদ দিয়ে দিয়েছি। সমাজের চোখে গ্রহনযোগ্য মডারেট মুসলিম হবার কোন ইচ্ছা আমাদের নেই। মিডিয়ার তো পরকাল নাই, আল্লাহর ভয় নাই। ও তো পা চাটা কুকুর মাত্র। আমাদের বন্ধুর নাম আল্লাহ। তিনি যার বন্ধু, তার কিসের ভয়? কোন দুঃখে সে মানুষকে ভয় পাবে? ইবরাহিম (আ) কে আগুনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আল্লাহর উপর ভরসা করেছিলেন, আগুন তাঁর জন্য ঠান্ডা আরামদায়ক হয়ে গিয়েছিল। ইসমাইল (আ) কে কুরবানি দেওয়া হয়েছিল। তিনিও আল্লাহর উপর ভরসা করেছিলেন, আল্লাহও তাঁর কোন ক্ষতি হতে দেননি। কাজেই এইসব স্টেরিওটাইপিং, ইসলাম-ফোবিয়া, জঙ্গিবাদ, ধরপাকড় এসব আসলে কিছুই না যদি আপনি আল্লাহর উপর পূর্ন ভরসা রাখেন । আপনি তাঁর প্রতি অনুগত থাকেন, আপনাকে দেখাশোনার জন্য তিনি একাই যথেষ্ঠ। নো টেনশান । ইসলামকে পুঁজি করে যে যড়যন্ত্র শয়তানি, এর সমাধান লুকিয়ে আছে ইসলামের মধ্যেই। আপনি ইসলাম শিখেন, আপনার পরিবার ও সন্তানকে শিখান। তাকে খুব ভাল করে ধার্মিকতা আর উগ্রবাদি ধর্মান্ধতার পার্থক্য শিখান। তাকে একজন ভাল মুসলিম বানান। সবাইকে আল্লাহ একই চোখ দিয়েছেন, কিন্তু সবাই একভাবে দেখতে পারেনা। কেউ সেক্যুলার চোখ দিয়ে দেখে, কেউ সুশীল প্রগতিশীল চোখ দিয়ে দেখে, কেউ নাস্তিকতার চোখ দিয়ে দেখে, কারোর চোখ থাকে শাহবাগের বিরানীর প্যাকেট পর্যন্তই। আমরা আল্লাহর কাছে ইসলামের চোখ চাই, ইসলামের প্রজ্ঞা, দূরদর্শীতা চাই, সত্য মিথ্যার পার্থক্য করার চোখ চাই, চিন্তা করার ক্ষমতা চাই। আমরা আল্লাহর কাছ থেকে তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা চাই। আল্লাহ যেন আমাদের চোখ খুলে দেন। মিডিয়ার ভ্রান্ত চোখ দিয়ে না দেখে যেন আমরা আল্লাহর দেওয়া দামি দুটি চোখ দিয়ে দেখি, মন দিয়ে চিন্তা করি, বুদ্ধি দিয়ে যুক্তি খাটাই। রাসূল (সাঃ) মৃত্যুর ঠিক আগমূহুর্তে আস্তে আস্তে বলেছিলেন-আল্লাহুম্মা রাফিকাল আ'লা । অর্থ- পরম বন্ধু আল্লাহর দিকে যাচ্ছি। পরম বন্ধু আল্লাহ যেন আমাদেরকে আমৃত্যু তাঁর ভালবাসা দিয়ে ঘিরে রাখেন। আমরা পথ হারিয়ে ফেললে যেন তিনি আমাদের আলোতে বের করে আনেন। আমরা খাদে পা হড়কালে যেন তিনি আমাদের টেনে তোলেন। এই জীবনে যেন তিনি আমাদের পাশে থাকেন, এবং আখিরাতে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেন। আমিন। লেখাঃ শাকিল হাসান জয় কৃতজ্ঞতাঃ কুর'আনের কথা


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শিরোনাম আপনিই দেন!

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now