বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শিপনের কথা বলা
শিপন কেবল কথা বলতে শিখেছে।বাচ্চারা ছয়-আটমাস বয়স হলেই অল্প অল্প কথা বলা শিখত্ব শুরু করে।শিপনের বয়স তিন।তিন বছরের বাচ্চারা সুন্দর করে বাক্য তৈরী করতে শিখে যায়।
রিতু তার বাচ্চাটাকে নিয়ে দারুন চিন্তায় ছিল।কত ডাক্তার-কবিরাজ করা হল।তারা আশ্বাস দিলেন।সব বাচ্চা তো আর সমান না।অনেকে দেরি করে কথা বলতে শেখে।শিপনেরও হয়ত তেমন হচ্ছে।কোন আশার বানীতেই কাজ হয়না,শিপন কথা বলেনা।
ডাক্তারের পরামর্শ মতো বাসার সবাই সারাদিন প্রচুর কথা বলতে শুরু করল।অনেক সময় কথা শুনে শুনেও কথা বলতে শুরু করে বাচ্চারা।রিতু তাকে বই পড়ে শোনায়,গান গায়,গল্প বলে।শিপন মন দিয়ে বই দেখে।যেন সে পড়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু কথা সে বলেনা।
নাহ,কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা।পাশের বাড়ির মহিলারা উলোপাল্টা কথা বলতে শুরু করেছে।বাচ্চাটা নাকি বোবাও হতে পারে।সব দেখে-শুনে কষ্টে রিতুর বুক ফেটে যায়।তার বাচ্চাটার সাথেই কেন এমন হবে?কি এমন পাপ করেছে সে?
ঘটনা ঘটল একদিন ভোরে,রিতু রান্নাঘরে। নাস্তা তৈরী করছে সবার জন্য।
ছোট ছোট পা ফেলে শিপন রান্নাঘরে ঢুকে গেল।রিতুর শাড়ির আঁচল ধরে টানছে সে।কাউকে ডাকতে হলে শিপন তার কাপড় ধরে আস্তে করে টানে।
এর অর্থ হল কোলে নাও।রিতুর হাতে ময়দা মাখানো।স্বামীর জন্য পরোটা বানাচ্ছে সে।ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে তার মন মায়ায় ভরে গেল।আহা বেচারা,কোলে উঠতে চায়।কিন্তু রিতুর হাত আটকা।
ছেলের সাথে কথা কথা বলতে শুরু করবে রিতু।কিন্তু যা ঘটল তাতে ও কি করবে ভেবে পেল না।
শিপন পরিষ্কার গলায় বলল, আম্মু?
রিতু অবাক হয়ে তাকালো।সে কিছু ভুল শোনেনি তো?
মায়ের আঁচল ধরে টেনে আবার বলল,আম্মু তুমি কি কর?
রিতু আনন্দে হাসবে না কাঁদবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।খুশিতে তার চিৎকার করতে ইচ্ছা করছে।সবাইকে ডেকে শোনায়, তার ছেলে কথা বলতে শুরু করছে!ময়দা মাখা হাতে ছেলেড় পাখির পালকের মত হালকা শরীরটাকে বুকে জড়িয়ে ধরল।
বাসার সবাই শিপনের কথা বলা নিয়ে দারুন খুশি।ছেলে কথা বলছে তো বলেই যাচ্ছে।তিন বছরের না বলা সব কথা যেন সে এখন একসাথে বলে ফেলছে!
শিপনের এই কথা বলা নিয়ে তারা একসময় দারুন বিপদে পরে গেল!
কথা বলা শিখে ফেলার পর থেকে একমুহূর্ত নিজের মুখকে বিশ্রাম দেয়না।অন্য কাউকেও চুপ করে থাকতে দেয়না।সারাদিন শুধু কথা এবং কথা!
রিতু অন্যদের থেকে শিপনকে নিয়ে বড় বিপদে পড়েছে।বেশিরভাগ সময় সে বাসায় থাকে।ছেলের গল্প তৈরী করতে করতে সে অস্থির।তার গল্পের ভান্ডার ফুরিয়ে গেছে।কিন্তু ছেলের গল্প শোনার আগ্রহ শেষ হয়না।ছেলের আগ্রহ দেখে রিতুর খুব আনন্দ হয়।কিন্তু গল্প যা জানত সে সব শেষ।নতুন গল্প সে কোথায় পাবে!
ছেলের মুখে সারাক্ষন,আম্মু?কি কর?
রিতু চমকে উঠে,তারপর ছেলেকে কোলে তুলে বলে,কাজ করি বাবামনি।
শিপন তার ফোকলা দাঁতে হাসে।মাকে বলে, আম্মু একটা গল্পো বল না।
অমনি রিতুর ঘাম ছুটে যায়।
প্রথম প্রথম রিতু তার নিজের শোনা গল্পগুলো বলত।ছোটবেলায় মা,বাবা,দাদীর মুখে শোনা গল্প।রাজা-রানী,আলাদীন,হাতেম তাইয়ের গল্প।
একসময় তাও শেষ হয়ে গেল।ছেলের নতুন গল্প চাই।পুরনো হলেই সে ধরে ফেলে।মুখ ভার করে বলে, নতুনটা বল আম্মু।রিতু তখন আকাশ-পাতাল-মাটি হাতড়ে নতুন গল্প খোঁজে।
একদিন বিকেলে,রিতু গল্প শুরু করেছে,রাজারানীর গল্প।রাজকন্যা আর ডালিমকুমারের গল্প।টানটান উত্তেজনা।রাজকন্যা জেসমিনকে ধরে নিয়ে গেছে বিকট দেখতে এক দৈত্য।রাজা-রানী দিন-রাত কেঁদে কেঁদে চোখের পানি শেষ করেছেন।এখন শুধু ফোঁপানোর আওয়াজ পাওয়া যায়!রাজ্যে সবাই মুখ কালো করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।তাদের রাজকন্যা ছাড়া কিছুই ভালো লাগছেনা।
ডাক পরে গেল ডালিমকুমারের।সেই পারবে সাত সমুদ্র আর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে সবুজ কমলের বনে জেতে।সেখানেই দৈত্য রাজকন্যাকে আটকে রেখেছে।
কিছুক্ষন মন দিয়ে গল্প শোনার পর শিপন প্রশ্ন করা শুরু করল-
আম্মু? দৈত্য কি?
রিতু উওর দেয়, দৈত্য? সে হল ইয়া বড়,ইয়া লম্বা তালগাছের মতো।এত্ত মোটা,দেখতে পচা একটা...একটা মানুষ,নাহ ভুতের মত।
ভুত না দৈত্য?
ঐতো এক রকমের ভুতের মতই আরকি...
রিতু বলে খুব ভয়ে ভয়ে থাকে।পিচ্চিটা কি না কি ভাবছে।ভুত আর দৈত্য আলাদা করে বোঝাতে পারেনি সে।
শিপন কোন প্রশ্ন করেনা,রিতু আবার গল্প শুরু করে।গল্প একটু এগোয়।
আবার প্রশ্ন শুরু হয়।
আচ্ছা আম্মু,রাজকুমার কি খুব শক্তিশালী হয়?
হুম বাবু,রাজকুমার তো নায়ক হয়,নায়কদের অনেক শক্তি থাকতে হয়।
কিন্তু রাজকুমার একা এত বর দৈত্যর সাথে কেমন করে পারবে?সে কেন পুলিশ ডাকেনা?পুলিশেরও তো অনেক শক্তি,ইয়া ঢিসা ঢিসা করে তারা।
রিতু প্রমাদ গুনল।বাসায় টিভিতে সারাক্ষন বাংলা সিনেমা চলার ফল।
রিতু ছেলের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করল।
বাবু, যখন এই রাজা-রানী আর ডালিমকুমার ছিল,তখন পুলিশ ছিলনা।এখন চুপ করে গল্প শোন।গল্পের মাঝখানে কথা বললে গল্প থেমে যায়।
শিপন মায়ের কোলের কাছে ঘেসে বসে,মন দিয়ে গল্প শোনে।কিন্তু রাজকুমার পাখাওয়ালা ঘোড়ায় চড়ে রাজকন্যাকে আনতে গেল শুনে সে আর চুপ থাকতে পারেনা।
আম্মু?ঘোড়া ওড়ে?কই আমিতো দেখলাম না?চিড়িয়াখানায় তো ঘোড়া আছে।ওড়ে তো না!
রিতু একটু বিব্রত হল।বলল, এখন ওড়েনা বাবা।গল্পে ওড়ে।
তা হলে কি গরু,ছাগল এরাও ওড়ে?
ঐ যে বললাম,গল্পে ওড়ে বাবা।
তুমি ভুল গল্প কেন বলছ আম্মু?
এই প্রশ্নের উত্তর রিতুর কাছে নেই।শিপন ততক্ষনে চেঁচাতে শুরু করেছে।
আম্মু তুমি শুধু উলটাপালটা গল্প বল।আমি এই গল্প শুনবনা।রকেট,চাদের যাওয়া গাড়ির গল্প শুনব।
রিতু বুঝতে পারছেনা তার ছেলেটা এত বুদ্ধি কই পেল! তার দারুন খুশি লাগছে।তার এইটুকুন ছেলে এখনই রুপকথার মিথ্যা গল্প শুনতে চায়না।
বাচ্চারা বাচ্চাই।তারা সারাক্ষন গল্প শোনার আবদারও করবে।কিন্তু বাবা-মাকে খেয়াল করতে হবে।তাদের বাচ্চার জন্য কি ধরনের গল্প বলা জরুরী।আজকালকার বাচ্চারা অনেক বুদ্ধিমান।তারা ভুত,পেত্নির গল্প শুনতে চায়না।তাদের গল্পে উড়ন্ত ঘোড়া নেই।তারা রুপকথার গল্পই শুনবে।কিন্তু সেটা হবে অন্যরকম।
মানুষের চাঁদ নামক গ্রহে পা রাখার গল্প,আকাশ থেকে মহাকাশে ছুটে বেড়িয়ে পৃথিবী জয় করার গল্প।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now