বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শিমুল রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দেয়ার
জন্য পকেট থেকে মানিব্যাগ টা বের করতে
না করতেই অাঁখি হুট করে রিক্সাওয়ালা কে
ভাড়াটা দিয়ে দিলো।
- এটা কি হলো ??
- কি হইসে ?
- তুমি ভাড়া দিলা কেন ?
- দিসি তো কি হইসে !! অন্য কারো ভাড়া
তো দেইনি, আমার গুল্টুপুল্টুর ভাড়া দিসি।
- তাই বলে প্রতিদিন তুমিই এভাবে দিবা ??
- আরে চলো তো, এত কথা বলার টাইম নেই
এখন, চলো বলছি...
অাঁখি , শিমুলের হাত টা ধরে একরম প্রায়
টেনে হিঁচড়ে পার্কের ভিতরে ঢুকলো। সেই
চিরচেনা বেঞ্চটাতে দুজন বসলো। এখানেই
প্রথম অাঁখিকে ভালবাসি বলেছিলো শিমুল
সেই কৃষ্ণচূঁড়া গাছ টা এখনো তাদের
ভালবাসার সাক্ষী হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে
আছে।
- খাইসো সকালে ??
অাঁখির কথা শুনে শিমুলের প্রথমে একটু থমকে
গিয়ে বললো-
- হ্যাঁ খাইসি তো
- কি খাইসো ? তুমি না ফোনে বললা
তোমার মেসের সকালের মিল আজ বন্ধ !!
কি খাইসো তাইলে ??
- ইয়ে মানে বাইরের দোকান থেকে কিছু
খেয়ে নিসি
- কঁচু খাইসো তুমি !! খাইলে মুখ এত শুকনা
কেন ??
.
অাঁখি তার ভ্যানিটিব্যাগ থেকে ছোট একটি
টিফিনের বাটি বের করলো। শিমুল
বিরিয়ানি খুব পছন্দ করে, টিফিন বাটিতে
বিরিয়ানি দেখে শিমুল বলে উঠলো- “এটা
আবার কখন আনলা?? কে আনতে বলসে
তোমারে হুম”??
“একদম বেশী কথা বলবা না, চুপচাপ খাও” !!
শিমুল বাধ্য ছেলের মত চুপচাপ খেতে
লাগলো। অাঁখি তাকিয়ে তাকিয়ে শিমুলের
খাওয়া দেখছে, বড্ড বেশী ভালো লাগছে
তার। প্রিয় মানুষটাকে পরম তৃপ্তিতে
খেতে দেখার মাঝে সত্যিই অন্য রকম এক
সুখ অনুভূত হয়, সেটা এখন অাঁখির হচ্ছে।
.
“তোমার পা টা একটু দেখতে দিবে” ??
খাওয়া শেষ করেই শিমুলেরএমন কথায় অাঁখি
একটু হকচঁকিয়ে উঠে বললো- “কেন পা দেখি
কি করবা” ??
শিমুল একটু আমতা আমতা করে বললো- “না
মানে তোমার ফর্সা পায়ের চিকন চিকন
আঙুল গুলো দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে খুব”
“হুহ আজাইরা ঢং” বলেই অাঁখি লাজুক মুখে
শিমুলের দিকে পা বাড়িয়ে দিলো।
শিমুল পকেট থেকে লুকিয়ে রাখা পায়েল
টি বের করে পরিয়ে দিলো অাঁখি পায়ে।
অাঁখি কঠিন গলায় বললো-
“পায়েল আনতে বলসে কে ?? টাকা পাইসো
কোথায়” ??
“আরে একটা পায়েলের আর কত দাম?? বাদ
দাও তো। আমি জানি পায়েল তোমার খুব
পছন্দ তাই আর কি”
.
অাঁখি তার পায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। সে
জানে মাসের শেষের দিকে এই পায়েল টা
কিনতেও শিমুল কে কতটা পেরেশানি হতে
হয়েছে। সে কিচ্ছুক্ষনের জন্য নির্বাক, তার
চোখ দু'টো চিকচিক করে উঠছে । সে একটা
জিনিস খুব ভালভাবে উপলব্ধি করছে-
অভাবের ভালবাসা গুলোতে ভালবাসার
কোনো অভাব থাকে না। একদম না।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now