বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিল্প-কৃষি বাঁচানোর ধ্বনিতে

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X একদিকে জমি হাঙড়দের বিরুদ্ধে জমিরক্ষার লড়াইয়ে শামিল আউশগ্রামের মিনতি সোরেন। অন্যদিকে শিল্পসংস্থা রক্ষার ডাক দিয়ে একই প্রত্যয়ে লড়াইয়ে শামিল দুর্গাপুর ইস্পাতের অস্থায়ী কর্মী শিবু হাঁসদা। শনিবার লালঝান্ডার আহ্বানে মিলে মিশে গেল তাঁদের সবার স্লোগান। প্রতিবাদ প্রতিরোধের মিছিলে পথ হাঁটলেন সংকটাপন্ন শিল্পনগরীর শ্রমিকরা। তাঁদেরই সঙ্গে মিললেন মানকর, কাঁইতি, রায়না, কাঁকসা, গলসীর কৃষিজীবী-দিনমজুর। ‘সরকার নিপাত যাক’ ধ্বনিতে ঢেকে গেল গোটা এলাকা। শিল্প আর কৃষির দাবিতে আন্দোলনে উত্তাল হলো দুর্গাপুরের জনপদ। জনস্রোত আর সমাবেশে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লো জাতীয় সড়ক। যতদূর দেখা যায় শুধুই লালঝান্ডা। এই মিছিল, সমাবেশের বিশাল চেহারায় হতচকিত পুলিশ ও প্রশাসন। সমাবেশ মঞ্চ থেকে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সি পি আই (এম) নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী আর একটা ভাঙড় বা আউশগ্রাম করতে চাইলে উত্তাল হবে গোটা বর্ধমান। রাজ্য থেকে শিল্প তাড়ালে, শিল্পনগরী দুর্গাপুরকে মরুভূমিতে পরিণত করতে চাইলে লাগাতার অবরোধ হবে দুর্গাপুরসহ রাজ্যের এলাকার পর এলাকা। মানুষকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না। সি পি আই (এম) বর্ধমান জেলা কমিটির ডাকে এদিন এই মহামিছিল ও সমাবেশে শামিল হন হাজারে হাজারে মানুষ। সি পি আই (এম) নেতা মদন ঘোষ, অমল হালদার, অচিন্ত্য মল্লিক, অঞ্জু কর, গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, আভাস রায়চৌধুরি প্রমুখ অংশ নেন। এছাড়াও ছিলেন রথীন রায়, বিপ্রেন্দু চক্রবর্তী, বিনয়কৃষ্ণ চক্রবর্তী প্রমুখ প্রবীণ নেতৃবৃন্দ। সকাল থেকেই দুর্গাপুর সি টি সেন্টার সিনেমা হল মোড়ে দলে দলে মানুষ সমবেত হতে থাকেন। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস এসে দাঁড়ায় সেখানেই। সকাল ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ শুরু হয় মিছিল। বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে ২নম্বর জাতীয় সড়ক পেরিয়ে দুর্গাপুরের পলাশডিহা মোড়ে এসে শেষ হয় জনস্রোতের সেই গতিধারা। এখানে মিছিলের সামনের সারি শেষ হলেও তার শেষ নজরে পড়ে না। সমাবেশ স্থলে মিছিল থামলেও জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে কাতারে কাতারে মানুষ অপেক্ষা করতে থাকেন নেতৃবৃন্দের কথা শোনার জন্য। সি পি আই (এম) নেতা মদন ঘোষ তাঁদের উদ্দেশে বলেন, এইভাবে প্রতিরোধের মাত্রা দিন দিন বাড়বে। অমল হালদার বলেন, যদি সব শিল্প আর কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সরকারে যাঁরা আছেন তাঁদেরই বা থাকার দরকার কি? সমাবেশ থেকে আগামী দিনে আরো তীব্র লড়াইয়ের ডাক দেন অচিন্ত্য মল্লিক। পথ চলতে চলতেই কথা বলছিলেন স্টিল প্ল্যান্টের অস্থায়ী শ্রমিক মুনির মণ্ডল। বললেন, যেভাবে কেন্দ্রের সরকার চলছে, তাতে গোটা দুর্গাপুর এবার শেষ হয়ে যাবে। কাজ নেই শ্রমিকদের, সম্ভাবনাও আর নেই। কল-কারখানাগুলি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একে একে। আমরা তাহলে কোথায় যাব? একই প্রশ্ন আউশগ্রামের সুনেত্রা দাসের। সঙ্গে তাঁর ৪বছরের ছোট্ট মেয়ে দীপা। সেও এসেছে মিছিলে। তিনি বলছিলেন কীভাবে তাঁদের চাষের কাজকর্ম বন্ধ করে দিচ্ছে শাসকদলের লোকজন। তাঁর শ্বশুরকে ঘরবন্দি করে রেখেছে তারা। চাষের কাজ নেই, স্বামীকে দিনমজুরিও করতে নিষেধ করেছে ওরা। কারণ এর আগে সি পি আই (এম)-র মিছিলে গিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু শুধু সেটাই তো আর কারণ নয়, আসল কথা সামান্য যেটুকু জমি আছে তা কেড়ে নেওয়ার মতলব। দুদিন হলো আউশগ্রামের অবস্থা তো জানেন, আর ভাঙড়ের কথাও তো জেনেছি- বললেন সুনেত্রা। ডি এস পি থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ঠিকা শ্রমিক ছাঁটাই হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এসেছিলেন মিছিলে। অনেকের আজ চিকিৎসার পয়সা নেই। চিকিৎসার অভাবে পরিবারের প্রিয়জনের মৃত্যু চেয়ে চেয়ে দেখতে হচ্ছে- কিছু করার নেই। অনেকে মেয়ের বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারছেন না। তাঁদের নেতা সুবীর সেনগুপ্ত ছিলেন এদিনের মিছিলে। এরকম অনেক ঘটনার সাক্ষী তিনি। তাঁদের সঙ্গে একই লড়াইতে এসেছেন আউশগ্রামের জমি মাফিয়াদের হাতে নিগৃহীত মিহির সোরেন, মদন হাঁসদা, মঙ্গলা মাড্ডিরাও। ‘জমি বাঁচাও- শিল্প বাঁচাও’ স্লোগান উঠলো এক সুরে। সমাবেশে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়ে মদন ঘোষ বলেন, আমরা আজ দুর্গাপুর- আসানসোল বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছি। নাহলে দেশ ও রাজ্য বাঁচবে না। কারণ আজ এখানে নৈরাজ্য হচ্ছে, কাল অন্যান্য সব জায়গায় হবে। আর সব ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। উদারীকরণ এর মূল কারণ। আমরা অনেক আগেই এর বিরোধিতা করেছিলাম। রাষ্ট্রায়ত্ত ক্ষেত্র তো বটেই, এখন বেসরকারি ক্ষেত্রও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একে একে। ছাঁটাই বাড়ছে, বাড়ছে অস্থায়ী শ্রমিক সংখ্যা। আর কৃষিক্ষেত্রে তো প্রায় ২০০জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। গণতন্ত্রের ওপর এই আক্রমণ সহ্য করবেন না মানুষ। প্রতিরোধ আরো বাড়বে। ওরা দমন করতে পারবে না। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে অমল হালদার বলেন, গ্রাম থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা ঘুরে দেখুন, দুর্গাপুর দিন দিন মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। শিল্প কারখানাগুলি থেকে প্রায় ২লক্ষ মানুষের কাজ চলে গিয়েছে। সিটি সেন্টার, বেনাচিতির ব্যবসা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম। এর ওপর জেলা ভাগের নামে যা চলছে তার গুণাগার দিতে হবে মানুষকেই। ডি এস পি সংকটে, হিন্দুস্তান কেবলস বন্ধের মুখে। এ এস পি বা অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট বেসরকারি হাতে চলে যাচ্ছে, তাহলে দুর্গাপুরের ভবিষ্যৎ কী? আর ওদিকে ১০০ দিনের কাজ নেই, ফসলের দাম নেই। গ্রাম শুকিয়ে যাচ্ছে, সব পেটে ভাত নেই। এই হলো রাজ্যের অবস্থা। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, শাসকদলের লজ্জা নেই। বলছে আগুন জ্বালানো যাবে না। এখানে আগুন জ্বালিয়েছে কে? বিরোধী দলগুলির ২০০টি পার্টি অফিস জ্বালিয়ে দিয়েছে কে? কে বিধানসভা ভাঙচুর করেছে? সিঙ্গুর কারখানা তুলে দেওয়ার জন্য ২১দিন বসেছিলেন কে? যদি সব শিল্প, কয়লা খনি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে হিন্দুত্বের কথা বলে মোদী সরকার মানুষকে সবটা বোঝাতে পারবেন কি? এদিন সভা পরিচালনা করেন সি পি আই (এম) বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক অচিন্ত্য মল্লিক। তিনি বলেন, সরকারকে নীতি পরিবর্তন করতে হবে। নাহলে গদি থেকে টেনে নামাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে বিপদে ফেলে তিনি তাঁর সরকারকে বাঁচাতে পারবেন কি? অঞ্জু কর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দেখুন এখানে কত মানুষ এসেছেন। যদি সবাই মিলে পথে নামি তাহলে তিনি কি করবেন? দুর্গাপুরের অস্তিত্বই বিলুপ্ত হতে বসেছে। তাই এই লড়াই থামবে না। শাসকদল, পুলিশ প্রশাসন জেনে রাখো, তোমরা যতো মারবে, আমরা ততো এগবো। গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি বলেন, এখান থেকেই আজ আমরা শপথ নিলাম ধারাবাহিক আন্দোলনের। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সন্তোষ দেবরায়, আবদুর রেজ্জাক মণ্ডল প্রমুখ। তাঁরা বলেন, এখন সামনে কঠিন লড়াই। কৃষি ও শিল্প বাঁচাতে হবে। নাহলে সবই শেষ হয়ে যাবে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শিল্প-কৃষি বাঁচানোর ধ্বনিতে

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now