বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(গল্পটা পূর্বে একটা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল)
স্বপনের একটা চাকরি খুব দরকার। গত বছর মাস্টার্স
কমপ্লিট
করেছে স্বপন। সপ্তাহে দু’ একটা ইন্টারভিউ
দিচ্ছে। কিন্ত–
সোনার হরিন চাকরি মিলছে না। এসব নিয়ে মনটা বেশ
খারাপ থাকে
স্বপনের।তার উপর তৃষার এই ভয়াবহ সমস্যায়
নিজেকে আরও
অসহায় লাগে স্বপনের।কি করবে ভাবতে ভাবতে
হঠাৎ
আনোয়ারের কথা মনে পড়ে। আনোয়ারও ঢাবি
থেকে
অর্থণীতিতে মাস্টার্স করেছে। তবে স্বপনের
মত চাকরি
খোজার সময় তার নেই। তার জীবনটা পুরো
অন্যরকম।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় আনোয়ার রহস্যের পিছে
ছুটে ছুটে
জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে। ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন
সময়ে
আনোয়ার প্রায়ই দেশের এ প্রান্ত থেকে
ওপ্রান্তে ঘুরে
বেড়াত। যেখানেই রহস্যের সন্ধান পেত
সেখানেই
আনোয়ার ছুটে যেতো।আনোয়ারের বাবার
অর্থকড়ির অভাব
নেই। তাই আনোয়ারের অ্যাডভেঞ্চার কখনই
বাধাগ্রস্থ হয়নি।
আনোয়ারকে বাসায় পাওয়া ভাগ্যের ব্যপার এটা স্বপন
জানে। তবু
আনেয়ারকে ফোন না করেই ওদের বাসায় গেল
স্বপন।
আনোয়ারদের বিশাল তিন তলা বাড়ী। আনোয়ার
অবশ্য বেশিরভাগ
সময়ই ছাদের চিলেকোঠায় থাকে। স্বপন তাই
সরাসরি ছাদে চলে
গেল। আনোয়ার রুমে বসে আয়েশ করে
সিগারেট টানছে।
সবপনকে দেখে ওর মুখ হাসি হাসি হয়ে যায়।
: “স্বপন, দোস্ত। কেমন আছিস?” হাসিমুখে
জিজ্ঞেসা করল
আনোয়ার।
: এই আছি ভালই।
: তোর তো ভাল থাকারই কথা তৃষার মত মেয়ের
সাথে প্রেম
করিস। ভাবাই যায়না। অসাধারন মেয়ে। আমার কপালটাই
খারাপ। প্রেম
হলো না।
: তুইতো প্রেম করিস রহস্যের সাঙ্গে।
: হা হা হা । ভালোই বলেছিস।
: তা এখন তুই কি নিয়ে আছিস?
: মাগুরায় একটা অনেক পুরোনো জমিদার বাড়ীর
সন্ধান
পেয়েছি ওখানে যাওয়ার ধান্দায় আছি।”
একটু থেমে আনোয়ার বলল, “ দোস্ত তা তুই কি
মনে করে?
এই অধমের কাছে তো কেউ সমস্যায় না পড়লে
আসে না।”
: হ্যাঁ দোস্ত। আসলেই সমস্যায় আছি। তোকে
কিভাবে বলব
ঠিক বুঝতে পারছি না।
: ধীরে সুস্থে বল। আমার তাড়া নেই। সিগারেট
খাবি?
:“খাব!” স্বপন সিগারেটে টান দেয়।
: দোস্ত সমস্যাটা তৃষাকে নিয়ে। ও আমাকে যা
বলে তা আমি
বিশ্বাসও করতে পারি না আবার ফেলতেও পারি না।”
: কি সমস্যা ?? ঝেড়ে কাশ।
: তৃষা মাঝে মাঝে একটা মানুষকে দেখতে পায়।
কালো কাপড়
পরা। মানুষটা তৃষাকে কোথায় যেন নিয়ে যেতে
চায়। তৃষা
ইউনিভার্সিটিতে ফাস্ট ইয়ারে পড়া অবস্থায় প্রথম
লোকটা আসে।
প্রথম প্রথম তৃষা বিষয়টা স্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিত।
কিন্তু প্রায় প্রতি
পূর্নিমা আমাবস্যার রাতে লোকটা তৃষার কাছে
আসতে থাকে।
অনেক সময় দূর থেকে তৃষাকে লক্ষ্য করে।
সেদিন তৃষাকে
অনেক আঘাত করেছে শয়তানটা।
: লোকটা কি তৃষাকে কখনও কিছু বলেছে?
: লোকটা কথা বলে অল্প। প্রায় দিনই বলে,“আমার
সাথে চল।
আমি মরি নি। কবরে যাবো না। তুই যাবি।” আর একদিন
বলেছে
“আমার নাম আসগর। এসেছি এসেছি। তুই চল। চল।”
আনোয়ার চিন্তিত মুখে বলে, “তার মানে লোকটা
বলতে চায়
সে মরে নি। সে কবরে যেতে চায় না। তৃষাকে
নিয়ে যেতে
চায়।”
হঠাৎই আনোয়ার চমকে উঠে স্বপনের দিকে
তাকায়।
: স্বপন তৃষার খুব বিপদ। খুব বড় বিপদ।
: মানে?!!!
: এমন ঘটনার সাথে আমি অনেক আগে থেকেই
পরিচিত।
তোকে বিষয়টা বলছি মন দিয়ে শোন। ঘটনাটা
আজথেকে পাঁচ
ছয় বছর আগের। ইউনিভার্সিটিতে সবেমাত্র ভর্তি
হয়েছি। হঠাৎ
জানতে পারলাম যশোর সীমান্তবর্তী একটা
গ্রামে একজন মৃত
মানুষ ফিরে এসেছে। দুজনকে নাকি মেরেও
ফেলেছে।
বেশ নির্ভরযোগ্য সূত্রে সংবাদ পাওয়ার সাথে
সাথে আমি রওনা
দেই। সাথে ছিল আমার এক চাচাত ভাই রাকিব। গ্রামে
গিয়ে ভয়াবহ এ
অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম। গ্রামের সবার মধ্যেই
আতংক। সন্ধার
পর কেউ ঘর থেকে বের হয় না। মৃত ওই মানুষটার
নাম সেলিম।
বেঁচে থেকেও নানাভাবে মানুষকে যন্ত্রনা দিত
লোকটি।
লোকমুখে জানতে পারলাম বেঁচে থাকতে
সেলিম তার দুই
বউকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। গ্রামের মানুষের
ভাষ্য
অনুযায়ী সেলিম বদমাস ফিরে এসেছে মৃত মানুষ
অনেক বছর
পর ফিরে এলে তাদেও বলা হয় জোম্বি। তবে
এখানে পরিস্থিতি
অন্যরকম। এই সেলিম জোম্বি নয়। তার থেকেও
ভয়ংকর। প্রায়
প্রতি পূর্ণিমা আমাবশ্যার রাতে সেলিম বের হয়।
বের হওয়ার পর
তার চেষ্টা থাকে মানুষকে ধরে নিয়ে জীবন্ত
কবর দেওয়ার।
সেলিম সবচেয়ে বেশি আক্রমন করেছে
গ্রামের লীনা
নামের এক তরূণীকে। প্রায়ই লীনার ঘরে
আসে সেলিম। ওর
সাথে যেতে বলে। পাশের গ্রামের এক
তান্ত্রিকের সাথে
আমার কথা হলো। সে আমাকে জানাল, “এটা এ
ধরনের
অপদেবতা। এদেও নাম শিগব। এই অপদেবতারা কবর
থেকে
মুত্তি চায়। এজন্য কোন বিশেষ তরুণীর দিকে এরা
হাত বাড়ায়। ওই
তরুণী জীবন্ত কবর দিতে পারলেই শিগবের
মুক্তি ঘটবে।
তখন এটি হবে আরও শক্তিশালী। আরও ভয়ানক।
এদের মারার
একটা পদ্ধতি আছে। প্রথমে শিগবটার কবর দুই
তৃতীয়াংশ খুঁড়তে
হবে। তারপর কিছু কাঠ রাখতে হবে। এরপর
কেরোসিন ঢেলে
আগুন জালাতে হবে।” আমি বেশ বুঝতে পারলাম
কবরটাই শিগবের
শক্তি। তাই বারবার বেড়িয়েও কবরেই ফিরে
আসতে হয়। তাই
কবরটায় তান্ত্রিকের কথা অনুযায়ী আগুন দিতে
হবে। পরের
ঘটনা সংক্ষেপে বলি। কোন এক পূর্নিমার রাতে
গ্রামের কিছু
সাহসী মানুষকে নিয়ে আমি সেলিমের কবরের
কাছে যাই।
সাথে নেই কাঠ কেরোসিন কোদাল, শাবল। আর
সবার হাতেই
ছিল ছোটখাট অস্ত্র। কবরের কাছে গিয়ে দেখি
একটা লোক
কালো কাপড় পরে বসে আছে। আমরা কাছে
যেতেই
লোকটা কিভাবে যেন কবরের ভিতরে ঢুকে
গেলো। তখন
আমরা দ্রুত কবর খুড়তে লাগলাম। শিগবটা বাধা দিতে
লাগল নানাভাবে।
আমরা সংখ্যায় ছিলাম অনেকে। তবু বেশ কয়েকজন
আহত
হলো। কবর অনেকখানি খুড়ে আমরা কাঠ, কেরসিন
দিয়ে আগুন
ধরিয়ে দিই। হঠাৎই কবরটা যেন কেপে উঠে।
কেউ একজন
চিৎকার করতে থাকে। পোড়া গন্ধে চারদিক ভরে
যায়। সেলিম
বদমাসটা এভাবেই ধ্বংস হয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now