বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শিগব (পর্ব-১)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান উৎস বিশ্বাস (০ পয়েন্ট)

X (গল্পটা পূর্বে একটা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল) ১. প্রায় এক ঘন্টা মেয়েদের হলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা খুব সুখকর নয়। তবু স্বপনকে ৫৫ মিনিট শামসুরনাহার হলের সামনে দাড়িয়ে থাকতে হল। ৫৫ মিনিটে স্বপন ১৭ বার ঘড়ি দেখল। সময় যেন কাটতে চায় না। ঘড়ির কাটা যত এগোতে থাকে স্বপনের মেজাজ তত নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে থাকে। স্বপন দাঁড়িয়ে আছে তৃষার সাথে দেখা করার জন্যে। তৃষা এমনিতে খুব গোছানো একটা মেয়ে। তবে একটুও সময় মেনে কোন কাজ করতে পারে না। স্বপন অনেক চেষ্টা করেও তৃষার এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেনি। তৃষা হল থেকে বেরুতেই স্বপনের রাগটা লাগাম ছাড়া হয়ে যায়। স্বপন রেগে গেলে তৃষা সাধারনত মিষ্টি একটা হাসি দেয়। তারপর বারবার সরি বলতে থাকে। তাতেই রাগ কমে যায় স্বপনের। এত মিষ্টি মেয়ের উপর রাগ করে থাকা যায় না। কিন্ত– আজ স্বপনের প্রচন্ড রাগ দেখেও তৃষা চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে। স্বপন যতই কথা বলতে থাকে তৃষার মাথা ততই নিচু হতে থাকে। এক সময় স্বপন লক্ষ্য করল তৃষার চোখে পানি। খুব সাবধানে চোখের পানি মুছল তৃষা। দৃশ্যটা দেখে বুকটা হাহাকার করে উঠে স্বপনের। তৃষাকে এতটা বলা উচিত হয়নি। স্বপন: সরি তৃষা। তোমার চোখে পানি কেন? বোকা মেয়ে! চলো টি.এস.সি. তে বসি।” তৃষার দিকে ভালভাবে তাকিয়ে স্বপন চমকে উঠল। ওর গলায় বড়সড় একটা ক্ষত চিহ্ন। কপালে কাটা দাগ। কেন জানি ওকে একজন বিধ্বস্ত মানুষ বলে মনে হচ্ছে। চোখে মুখেও কেমন একটা আতংকের ছাপ। স্বপন উদ্বিগ্ন গলায় বলল, “তৃষা কি হয়েছে তোমার? গলায় কেটেছে কিভাবে?” তৃষা জবাব দেয় না। স্বপন আবারও তৃষার চোখে পানি দেখল। স্বপন তৃষার হাত দুটো শক্ত করে ধরে বলল “প্লিজ বলো কি হয়েছে?” তৃষা ফিসফিস করে বলল, “কাল রাতে ও এসেছিল।” : কে?!! : সেই শয়তানটা। : তৃষা, আমি তোমাকে বারবার বলেছি এসব তোমার কল্পনা। : না, স্বপন, না। গত রাতে ও আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো। তৃষা জোরে কেঁদে উঠে। স্বপন তৃষাকে শক্ত করে ধরে বলে, “প্লিজ তৃষা শান্ত হও। আমাকে বল কাল রাতে তোমার কি হয়েছিল?” বেশ কিছুক্ষন পর তৃষা শান্ত হয়। তৃষা বলতে শুরু করে, “কাল রাতে রুমে আমি একা ছিলাম। লীনার বাসা থেকে খবর আসায় ও বরিশাল চলে গেছে। একা থাকতে আমার ভালো লাগে না। এজন্য সোহানার রুমে চলে যাই। রাত একটা পর্যন্ত দুজনে গল্প করি। এরপর আমি আমার রুমে চলে আসি। রুমে ঢুকতেই আমার কেমন যেন অন্যরকম লাগতে থাকে। গায়ে কাঁটা বিধতে থাকে। আমি বুঝতে পারি আজ ওই শয়তানটার সাথে আমার দেখা হবে। আমি লাইট জালিয়ে শুয়ে পড়লাম। সারাদিন বেশ ব্যস্ত ছিলাম। তাই অনেক টেনশনের মধ্যেও ঘুম এসে গেল। কতক্ষন পার হয়েছে জানিনা, হঠাৎ মনে হলো আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আমার বুকের উপর পাথর চাপা দেওয়া। আমি চোখ মেলে দেখলাম বদমাশটা আমার বুকের উপর বসা। এক হাত দিয়ে আমার গলা চেপে ধরে আছে। হাত ভর্তি লোম। মুখটা কালো কাপড়ে ঢাকা। শরীর হিম শীতল। সে বলল, “চল। আমার সাথে চল।” আমি নিজেকে ছাড়াতে চাইলাম। অসহ্য যন্ত্রনা হতে লাগল। তখন ওই শয়তানটা আমার গলায় ও কপালে আঘাত করে। রক্ত ছিটকে যায় । শয়তানটা ঠোঁট দিয়ে রক্তটুকু চুষে নেয়। আমি প্রচন্ড গোঙাতে থাকি। চিৎকারও করেছিলাম বোধ হয়। পাশের রুম থেকে বিপাশা ছুটে আসে। শয়তানটা হঠাৎ করেই যেন কোথায় মিলিয়ে গেল। বিপাশা সারারাত আমার রুমে বসে থাকল।” তৃষা আর কিছু বলতে পরে না। প্রচন্ড ক্লান্তি যেন ওকে ঘিরেধরছে। স্বপন তৃষাকে বলে, “এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল, প্লিজ। এসব তোমার মনের কল্পনা। তুমি নিজেই নিজেকে আঘাত করেছ। তুমি বড় কোন মানসিকঅসুখে ভূগছ।” কথাগুলো শুনে প্রচন্ড রেগে যায় তৃষা। বলে ওঠে, “তুমি যখন আমাকে বিশ্বাস করো না, আমি তোমার সাথে আর কথা বলতে চাই না।” তৃষা উঠে দড়ায়। হাঁটতে শুরু করে। স্বপন ও তৃষাকে থামাতে দ্রুত ওর পেছনে হাটতে থাকে। হঠাৎ তৃষা দাড়িয়ে পড়ে। চোখ বড় বড় হয়ে যায় ওর। তৃষা চিৎকার করে উঠে, “ স্বপন ওই যে, ওই যে বদমাশটা।” তৃষা আঙ্গুল দিয়ে দূরের একটা লোককে দেখায়। স্বপন একটা দৌড় দেয়। লোকটার চেহারা দেখা যাচ্ছে না, কালো কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকা। স্বপনের দৌড় দেখে লোকটাও দ্রুত হাঁটতে থাকে। হঠাৎ স্বপনের চোখেরে সামনেই লোকটা মানুষের মধ্যে মিশে গেল। অনেকটা অদৃশ্যই হয়ে গেল। স্বপন আবার তৃষার কাছে ফিরে আসে। তৃষা স্বপনকে জড়িয়ে ধরে বলে, “প্লিজ, স্বপন আমাকে বাঁচাও। শয়তানটা আমাকে মেরে ফেলবে।” স্বপনের বুকটা ভেঙে যায়। কি করা উচিত বুঝতে পারে না। তৃষার কানে ফিসফিস করে বলে ওঠে, “কেউ তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আমি বেঁচে থাকতে না।”


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now