বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Shibuda begins-(01)

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X ১. সে অনেকদিন আগের কথা। আমরা তখন সবে হাইস্কুলে পড়ি। শিবুদা আমাদের দুই বছরের সিনিয়র। বয়সে বড় হলেও শিবুদা কিন্তু আমাদের বন্ধুর মত। বলা যায় আমাদের গ্রুপের লীডার শিবুদা। তার অসাধারণ সব গুণের জন্য আমরা সবাই তার ভক্ত। যেকোন বিষয়ে শিবুদার জ্ঞান দেখে আমরা মুগ্ধ হই। আর অবাক হয়ে যাই তার বৈজ্ঞানিক মানসিকতা দেখে। শিবুদার রসবোধও প্রবল। তাই ওনার সাথে আড্ডা দিতে যেমন মজা লাগে তেমনি দেখা যায় আড্ডা দেওয়ার সময়ও আমরা অনেককিছু শিখে ফেলছি। সে যাই হোক, এখন মূল ঘটনায় আসি। যে সময়ের কথা বলছি তখন সবে আমাদের সবার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। খেলাধুলা করা আর আড্ডা দেওয়াটাই আমাদের মূল কাজ তখন। এরকমই একদিন আমরা বিকেল বেলায় মাঠে আড্ডা দিচ্ছিলাম। শিবুদা তখনো আমাদের আড্ডায় উপস্থিত হননি। শিবুদাকে ছাড়া আড্ডাও জমছে না। অবশ্য সব দোষ ওই রনি মানে রঞ্জিত গাড়লটার। ব্যাটা কাল শিবুদাকে সেইরকম ক্ষেপিয়ে দিয়েছিল। হতচ্ছাড়া এটাও বোঝেনা যে ও জ্ঞানগম্যিতে শিবুদার নখের যুগ্যিও না! অযথায় তর্ক করতে লেগেছিল শিবুদার সাথে। ২. আসলে ঘটনা হচ্ছে, পরেরদিন রাতে আমাদের রনির বাসায় পিকনিক করার কথা ছিল। স্কুল ছুটি থাকলেই আমরা পিকনিক করি আর সেটা আয়োজন করার দায়িত্ব সবার উপর চক্রাকারে পড়ে। হিসেবমত এবার রনির উপর ছিল দায়িত্বটা। কিন্তু গাড়লটা বিকেলবেলায় এসে বলে তার বাসায় নাকি ভয়ানক সমস্যা, কিছুতেই সেদিন পিকনিক করা যাবেনা। আমরা যতই জিজ্ঞেস করি না কেন ও ব্যাটা কিছুতেই বলবে না। আমরাও নাছোড়বান্দা। শেষপর্যন্ত স্বীকার করল যে আগেরদিন ওদের বাড়িতে এক সাধু এসেছে। তিনি কীসব করবেন সে জন্যেই পিকনিক করার অনুমতি মেলেনি। যদিও রনির বাবা নেই কিন্তু তিনি ওদের জন্য অঢেল সম্পত্তি রেখে গেছেন। ওর মায়ের কাজ হচ্ছে বাড়িতে বসে সারাদিন পুজো-আর্চা নিয়ে থাকা। অশরীরি প্রেতাত্মা এইসব হাবিজাবিতে তার বিশ্বাস অগাধ। এদিকে কদিন ধরেই তার বাড়িতে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটছে। বাসার সবাই তো ভয়ে আধমরা। এসব দেখে রনির মা তার পাড়াত দিদিদের কাছে পরামর্শ চাইলেন। তাদেরই একজন এক সাধুর অনেক সুনাম করলো। তো সেই সাধুর অনেক সুনাম শুনে সেদিন তিনি গিয়েছিলেন ঐ সাধুর আস্তানায়। সেখানে যাওয়ার পর নাকি সাধু তাকে দেখেই তার অতীত বলে দিয়েছে। আরো বলেছে তার বাড়িতে নাকি অশরীরি প্রেতাত্মার কুনজর পড়েছে। এই অশুভ শক্তির কুনজর কাটানোর জন্য তাকে নিজে গিয়ে বিশেষ ব্যাবস্থা নিতে হবে। এইসব কথা শুনে রনির মা তো ভয়ে আধমরা। অতঃপর সাথে থাকা দিদিদের পরামর্শে নিজের পরিবারের মঙ্গলের জন্য সেই সাধুকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। সবকথা শুনে তো শিবুদা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলেন। - ব্যাটা রাস্কেল। তোদের মাথায় বুদ্ধিশুদ্ধি কবে হবে। ঐ ব্যাটা যে তোদের ধাপ্পা দিচ্ছে এই সাধারন বাপারটাও বুঝলিনা? মাসী নাহয় একটু বোকাসোকা তাই বলে তুইও! এইসব প্রেতাত্মা, অশুভ শক্তি সব ওদের বুজরুকি। দেখ যখন তোদের সবকিছু হাপিশ করে দিয়ে যাবে তখন বুঝবি! - আর মনে হচ্ছে তুমি দুনিয়ার সব কিছু জেনে বসে রয়েছ। এসব অবশ্যই আছে। আমাদের বাড়িতে একরাত থাকলেই বুঝতে। রনির চালিয়াতি উত্তর। - তাই নাকি? তুই দেখেছিস? আর এতটাই যদি খারাপ অবস্থা তাহলে আমাকে আগে বলিসনাই কেন? রনির উত্তর শুনে শিবুদার মেজাজ আরো বেশি খারাপ হল। - আচ্ছা তুমিও তো দেখোনি, তাইনা? তাহলে তুমি কিভাবে বলে দিলে ভূত-প্রেত এসব কিছুই নেই? কাল সন্ধ্যায় সাধুবাবা ওসব দূর করবেন, তুমি নিজেই এসে নাহয় দেখে নিও। - ঠিক আছে। কালই দেখব তবে। যদি তোদের সাধুবাবা এরকম কিছুর প্রমাণ আসলেই দিতে পারে তাহলে নিজের নাম পাল্টে ফেলব। - হা হা হা। আর কতবার নাম পাল্টাবে শিবুদা? এবার রনি পেট চেপে ধরে বিশ্রীভাবে হাসা শুরু করলো। একথার পর শিবুদা আর রাগ সামলাতে পারলেন না। হনহন করে হেটে বাসার পথ ধরলেন। নাম পাল্টানোর কথায় শিবুদার এতটা রেগে যাওয়ার একটা কারণ অবশ্য আছে। সেটা হচ্ছে শিবুদা তার আসল নাম নয়। আমরাই শুধু তাকে এই নামে ডাকি। অবশ্য কেন কিভাবে তাকে আমরা এই নামে ডাকা শুরু করলাম সেই ইতিহাস নাহয় আরেকদিনের জন্য তোলা থাক... ৩. সন্ধ্যে প্রায় হয়ে এসেছে। মনে হচ্ছিলো শিবুদা বুঝি আজ আসবেন না। আমরা সবাই রনির বাসায় যাবার জন্য উঠে দাড়ালাম। হাজার হলেও অশুভ শক্তির বিতাড়ন প্রক্রিয়া দেখতে কার না উৎসাহ হয়!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Shibuda begins-(01)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now