বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ রাতের শুকতারা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X শেষ রাতের শুকতারা এক বারবার শুকনো ঠোঁট চেটে ভিজিয়ে নিচ্ছে তরু। ফাটা ঠোঁট থেকে নোনতা রক্ত বেরিয়ে মিশছে লালায়, বিকৃত হয়ে উঠছে ওর মুখ। সকাল থেকেই প্রচন্ড জ্বর, ১০৪-১০৫ না হয়ে যায়ই না। মাথার পাশের জানালাটা অর্ধেক খোলা, গ্রিলের ফাঁক দিয়ে ডালিম গাছটা দেখা যাচ্ছে। ডাঁসা ডাঁসা কয়েকটা ডালিম ঝুলছে, আর তারই এক ডালে বুলবুলি পাখি বিষণ্ণ মনে বসে আছে। পাখিদের আবার বিষণ্নতা কি? উড়বে, খাবে, দাবে, এইতো। মানুষের মত কি ওদের সুখ-দুঃখ নিয়ে ভাবনা আছে? গ্রিলের নিচেই লাইন ধরে কালো পিঁপড়ের দল হেঁটে যাচ্ছে খাবার নিয়ে। আজকাল শুয়ে শুয়ে আশেপাশের জিনিস দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না তরুর। বেলা বাড়লে হয়ত সুরমতীর মা এসে কিছুক্ষণ দীর্ঘশ্বাস ফেলবে, দু-একটা হতাশামিশ্রিত আশার কথা শোনাবে, খাইয়ে দেবে, তারপর চলে যাবে নিজের কাজে। আবার আগের মত একা একা শুয়ে আকাশ দেখবে তরু, নীল একটা আকাশ, একদম একলা। বিকেলের দিকে জ্বরটা খানিকটা সয়ে আসে তরুর। সুরমতীর মা তার জন্য ওষুধ নিয়ে এসেছিল, জ্বরের ওষুধ। খাওয়ার পর জ্বর কিছুটা পালিয়েছে। বিছানা থেকে উঠে দরজার কাছে এগিয়ে গেল ও। একদল ছেলে সামনের খোলা মাঠে খেলছে। ছেঁড়া জুতোটা কোনভাবে পায়ে দিয়ে খুঁটি ধরে দাঁড়াল তরু। ওকে দেখে ছেলেগুলো আর দাঁড়াল না, যে যেদিকে পারল ভোঁ দৌড় দিল। মনটা খারাপ হয়ে গেল একদম। ওর জন্যই হয়ত ছেলেগুলো খেলা শেষ না করেই চলে গেছে। হঠাৎ মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠল। কোনওভাবে হাতড়ে হাতড়ে বিছানা অবধি গিয়েই শুয়ে পড়ল তরু। ভাল লাগছে না কিছু। চোখ দুটো ভীষণ জ্বলছে। আয়না দেখা হয়নি, তবে তরুর মনে হচ্ছে, চোখ দুটো বোধহয় রক্তজবার মত লাল হয়ে আছে। আচ্ছা, জবার সাথে রক্তের তুলনা কেনও দেয়া হয়? শেষ বিকেলের গোধূলীও তো লাল, সিঁদুরের রঙও তো লাল। তাহলে রক্তই কেনও? ভাবনার দড়িতে টান পড়ল দরজায় কড়ার নাড়ার আওয়াজে। সুরমতীর মা এসেছে বোধহয়। কিন্তু তার তো আজ আর আসার কথা নয়। ক্ষীণ আওয়াজে যতটা সম্ভব জোর এনে প্রশ্ন ছুড়ে দিল ঘর থেকে, ‘কে দরজায়? ’ ওপাশ থেকে কোনও উত্তর এল না। তবে তরুর মনে হল, ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা বোধহয় তার খুব পরিচিত। আর খুব পরিচিত মানুষরা তাদের পরিচয় দিতে চায় না। পরিচিত হওয়া তো অপরিচিতদের কাজ। দরজাটা খোলাই আছে, তাও ভেতরে আসছে না, অদ্ভুত তো। অবশ্য কেউ ভেতরে আসবে, এটা তরু প্রত্যাশাও করে না। ‘দরজাটা খোলা আছে, ভেতরে আসতে চাইলে আসুন, নইলে ওখানে থেকেই বলুন কি বলবেন।’ এবার একটা মানুষের ছায়া ঘনিয়ে আসল দেয়ালের এপাশ জুড়ে। কোনও এক পুরুষের ছায়া, তার চুলগুলো উস্কখুস্ক, হয়ত বহুদিন মাথায় নারকেল তেল লাগানো হয়নি তার। মনে হচ্ছে, ঢিলেঢালা পাঞ্জাবী পরনে, হয়ত সেই পাঞ্জাবীতে ইস্ত্রি করা নেই। অদ্ভুত তো! এরকম মনে হবে কেনও? শুধু তাই নয়, মনে হচ্ছে, সেই ছেলেটার চোখদুটো ধূসর বিষাদে ঢাকা। চোখ মুদে অপেক্ষা করতে লাগল তরু। বন্ধ চোখের উপর কিসের যেন ছায়া পড়ল, বড় শীতল সেই ছায়া। ‘কেমন আছ, তরু? ’ চোখ না মেলেই তরু টের পেল, ফরিদ ভাই তার গা ঘেঁষে বসে আছেন। চোখ মেলার ইচ্ছেও তার হল না, যদি চোখ মেলে দেখে ফরিদ ভাই নেই? খারাপ লাগবে তার। তাই হাতড়ে হাতড়ে ফরিদ ভাইয়ের হাতটা আলতোভাবে চেপে ধরল ও। ‘চোখ খোল, ভয় নেই। পালিয়ে যাব না আর। সত্যি বলছি, মায়ের কিরা।’ তরু ভয়ে ভয়ে চোখ মেলল। সে কী, আসলেই তো! ফরিদ ভাই হাসিহাসি মুখে তার পাশে বসে আছে। চুলগুলো উস্কখুস্ক, পাঞ্জাবীতেও ইস্ত্রি নেই। ইশশ, কি অবস্থা হয়েছে উনার। ‘আপনার এই বাউন্ডুলে দশা কেন? জেল খেটেছেন নাকি? ’ ‘নাহ। তবে তোমাকে অনেক খুঁজেছিলাম। একবার না পারিলে দেখ শতবার। জানো তরু, শতবার খুঁজেছি কি না জানি না, তবে সত্যিই অনেক খুঁজেছি। এত বড় শাস্তি দিতে আছে আমাকে? আমাকে ফেলে কোথায় চলে গিয়েছিলে? ’ তরুর ফরিদ ভাইয়ের কথাগুলো সত্যি মনে হল, ফরিদ ভাই আসলেই তাকে এতদিন খুঁজেছে, পাগলের মত খুঁজেছে। ওর উচিত ছিল না এভাবে উনাকে একলা ফেলে চলে আসা, ভীষণ অন্যায় করেছে সে। ‘আর হবে না, ভুল করেছি,’ বলেই ছলছল চোখে তক্তপোষের দিকে তাকিয়ে রইল তরু। লবনাক্ত জল মিষ্টি প্রহরটাকে ভিজিয়ে দিয়ে বয়ে চলল ঝরণার মত, ভিজিয়ে দিল তার গালদুটোকে। মেয়ে জাতটা এত কাঁদতে জানে! ‘আচ্ছা চল, আজ তুমি আর আমি বাউন্ডুলে হয়ে ঘুরব পথে পথে। আপত্তি আছে? ’ ফরিদ ভাইয়ের চোখে এক আকাশ বিশ্বাসের রঙ, লাল-নীল সেই বিশ্বাসে এতদিনের চাপা কালো বেদনাটা যেন নিমিষেই হারিয়ে যেতে লাগল। এক চিমটি সুখ পাহাড় সমান দুঃখকে মুহূর্তেই গিলে নিতে পারে। সুখ জিনিসটা আসলেই সর্বগ্রাসী! দুই ফরিদ আর তরু বসে আছে শীতলক্ষ্যার পাড়ে। শীতল জলে পা ডুবিয়ে বসে আছে তরু, পা গুলো অদ্ভুত রকম ফর্সা দেখাচ্ছে। তরু তো এত ফর্সা নয়, শ্যামবরণ ও। ফরিদ একটার পর একটা সিগারেট টেনেই চলেছে, সিগারেটের গন্ধে দম আটকে আসতে চাইছে তরুর। ‘ফরিদ ভাই, সিগারেটটা ফেলবেন? আমার খুব খারাপ লাগছে।’ বলেই খুকখুক করে কাশতে শুরু করল ও। ফরিদ আড়চোখে একবার তরুর দিকে তাকাল, তারপর একবার হাতের পাঁচটাকা দামের সিগারেটটার দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন হয়ত, ফেলবে কি ফেলবে না। অবশেষে, তরুর খারাপ লাগার কথা ভেবেই হয়ত সিগারেটের মায়া ত্যাগ করে শীতলক্ষ্যায় ফেলে দিল। তরুর মাথাটা বড্ড ঘুরছে। আচ্ছা, ফরিদ ভাইকে কি সব জানানো উচিত? জানার পর ফরিদ ভাই কি করবেন? তাকে ছেড়ে চলে যাবেন? তরুর অবশ্য সেটা মনে হয় না, ফরিদ ভাই সেরকম মানুষই না। ‘ফরিদ ভাই, আপনার সাথে একটা কথা ছিল। ’ ‘হ্যাঁ বল।’ যথেষ্ট সাহস সঞ্চয় করে মুখ খুলল তরু, ‘আমার কয়েকদিন ধরেই শরীরটা ভাল না। ’ এটুকু বলেই থেমে গেল ও। ফরিদ ভাইয়ের মুখটা হঠাৎ কালো হয়ে গেল। ‘শরীর ভাল না’ কথাটা যেন অন্যরকম শোনাল তার কানে। তবুও কণ্ঠ যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রেখেই প্রশ্ন করল, ‘কেনো? কি হয়েছে? ’ ‘ফরিদ ভাই, আপনার মনে আছে, বছর দুয়েক আগে আপনার একবার এক্সিডেন্ট হয়েছিল? তখন হাসপাতালে ভর্তি করেছিল আপনাকে? সরকারি হাসপাতালে, মনে আছে ফরিদ ভাই? ’ ফরিদ চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল। কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। তরুর কথাবার্তা তার কাছে অসংলগ্ন লাগছে। কিসের ভিতর কি? ‘হ্যাঁ, মনে আছে। কি হয়েছে? ’ ‘তখন আপনাকে দেখার জন্য বাবা, মা, বুবু, আমি সবাই গিয়েছিলাম। মনে আছে এটা? ’ ‘অদ্ভুত। মনে থাকবে না কেন? কিন্তু এসব কথা এখন কেন? ’ ‘ফরিদ ভাই, আপনি হয়ত জানেন না, কিন্তু সেদিন আপনার অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। আর কারও রক্তের সাথে আপনার রক্ত মিলছিল না। হাসপাতালেও রক্ত ছিল না। তখন আমি আপনাকে রক্ত দিয়েছিলাম।’ ফরিদের চোয়াল ঝুলে গেল নিমিষেই। এইটুক মেয়ে তাকে ঐদিন রক্ত দিয়েছে, আর জানাচ্ছে এখন? এখন জানাচ্ছে? ‘এতদিন বল নি কেন? আর আজ হঠাৎ...’ ফরিদের চোখের দিকে তাকালো তরু। চোখদুটোয় একরকম খুশির আভা। হয়ত উনি ধারণা করতে পারেন নি, তরু তাকে এতটা ভালবাসে। শত হলেও, মেয়েটা ত্যাঁদড় অনেক, আজ অবধি মুখে কখনও স্বীকার করে নি। কিন্তু আজ তো ফরিদ সেটা বুঝে গেছে, সে খুশি না হলে কে হবে, হুম? ‘ফরিদ ভাই, আমি যে রক্ত দিয়েছি এটা কেউই জানতো না। মা, বাবা আর বুবু যখন আপনাকে নিয়ে ছুটাছুটি করছিল, আমি আমার রক্ত পরীক্ষা করিয়েছি। মিলেও গিয়েছিল, কিন্তু ছোট বলে আমার রক্ত নিচ্ছিল না ওরা। অনেক কাকুতি-মিনতির পর ওরা রাজি হল। লুকিয়ে লুকিয়ে রক্ত দিলাম আমি। সেই রক্তে আপনি বেঁচে উঠলেন। কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে ফরিদ তরুর দিকে তাকালো। এইটুকুন মেয়ে, কি সাহস তার, দেখেছ? সিরিঞ্জ দেখলে তো ফরিদের ভয় লাগে, আর তরু সেই ভয়কে তুচ্ছ করে... ‘তরু, বিশ্বাস কর, আমি এটা জানতাম না...আমি...’ ‘ফরিদ ভাই, আমার কথা এখনও শেষ হয়নি।’ চোখে আরেকবার কৌতুহল ফুটিয়ে ফরিদ তাকিয়ে রইল। হয়ত এই কথার চেয়েও বড় কোনও কথা জমা আছে তরুর কাছে, যা ফরিদকে বিস্মিত করে দেবার জন্য যথেষ্ট। ‘কয়েকদিন আগে, ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। কিছুদিন ধরেই ঘনঘন জ্বর হয় রাতের দিকে, শরীর দুর্বল লাগে। ভাবলাম, বাসায় জানালে হয়ত চিন্তা করবে। তাই নিজেই গেলাম। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করে বলল......’ ‘কি বলল? ’ সংশয়ের ছায়াটা আবার ফিরে আসছে ফরিদের মুখে। তরুর গলায় কেমন যেন একটা বিষাদমাখা ভয়। ‘বলল, আমার এইডস আছে।’ এক মুহূর্তের জন্য ফরিদের মনে হল, তরু বোধহয় তার সাথে মস্করা করছে। তরুর এই বদঅভ্যাস আছে। পরিস্থিতি চিন্তা করে ফাজলামো করে না। মনে যা আসে, তাই করে। এর আগে একবার ফরিদকে বলেছিল, পেয়ারা গাছ থেকে পড়ে বুবুর পা মচকে গেছে। ফরিদ তাড়াহুড়ো করে যেয়ে দেখে, কোথায় বুবু কোথায় কি? তরু তাকে বোকা বানিয়েছে। তাই সঙ্গত কারণেই ফরিদ ক্ষেপে গেল। ‘তরু, এক জিনিস বারবার ভাল লাগে না। রাখাল বালক আর বাঘের সেই কাহিনী মনে নাই? এক জিনিস, একবার করবে দুইবার করবে, বারবার করলে সেই জিনিসের আর দাম রইল কি? মানুষ বিশ্বাস করবে? তুমি এর আগেও আমাকে বোকা বানিয়েছ।’ তরুর চোখজুড়ে অশ্রু। ফরিদ তাকে অন্ধের মত বিশ্বাস করে, এটা তরু জানে। আর আজও হয়ত করবে, কিন্তু এই কথাটা তরু কিভাবে ফরিদকে বলবে? কোমরে লেহেঙ্গার ভাঁজ থেকে একটা খাম বের করে ফরিদের দিকে এগিয়ে দিল ও। ফরিদ পড়তে শুরু করল। যতই পড়তে লাগল, তার কপালের ভাঁজ তত গভীর হতে লাগল। এক সময় তরুর দিকে তাকাল সে, সেই চোখে বিস্ময়ের পরিবর্তে বাসা বেঁধেছে ঘৃণা। ‘আমি তোমাকে অনেক বিশ্বাস করতাম। আর তুমি, আমার বিশ্বাস নিয়ে এভাবে খেলা করলে?’ এবার তরুর অবাক হওয়ার পালা। ফরিদের বিশ্বাসের গভীরতার সাগরে ডুব দিয়ে পাথরে মাথা ঠুকে গেছে তার। ‘বিশ্বাস করুন, আমি কিছু করিনি। আমি কোনও খারাপ কাজ করিনি। ঐ যে রক্ত দেবার সময় ওরা যে সিরিঞ্জে...’ ‘চোপ নষ্টা মেয়ে।’ হুংকার দিয়ে উঠল ফরিদ। তরুর তুলতুলে শরীরটা কেঁপে উঠল। এতক্ষণ পানিতে ডুবিয়ে রাখা পায়ের আশেপাশে মাছেরা খেলা করছিল, তরুর কেঁপে ওঠা পায়ে পানির আন্দোলনে বিপদের আঁচ করে চোখের পলকে পালিয়ে গেল তারা। উঠে দাঁড়াল ফরিদ, এখানে আর এক মুহূর্ত বসা যায় না। ‘ফরিদ ভাই, যাবেন না, আল্লাহর কসম, আমি সত্যি বলছি। আমি কিছু করিনি। ’ ‘চোপ, তোর জন্য এতদিন মায়ের কথার উপর কথা বলে দিন পার করেছি। মা তো হাপিত্যেশ করে দিন কাটাচ্ছে ছেলের বৌয়ের মুখ দেখবে। কত মেয়ে দেখিয়েছে, তোর জন্য সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছি। আর তুই? ভালই হয়েছে, আল্লাহ যা করে ভালর জন্যই করে। আজ আমি জেনেছি, কাল সবাই জানবে। তোর মত নষ্টা মেয়ের কপালে বিয়ে লেখা নাই, শুধু বিছানা বদলই আছে তোদের মত মেয়েদের ভাগ্যে। আল্লাহ আমাকে বাঁচাল। দূর হ আমার সামনে থেকে।’ আকাশটা কি বুঝে কেঁদে ফেলল হঠাৎ। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজে গেল তরু, ফরিদ চলে যাচ্ছে। একবারও পেছনে ফিরে তাকালো না। কিছুই বলতে পারল না তরু, কিছুই না। মাথার তালুতে ঠাই না পেয়ে কপাল বেয়ে নেমে আসছে জলধারা। তরুর অশ্রুর সাথে এই জলরাশির তফাৎ কোথায়? তিন সেদিন সন্ধ্যাতেই পুরো পাড়া চাউর হয়ে গেল এই ঘটনা। ডাক্তারের রিপোর্টটা ফরিদের কাছেই ছিল। সে সবাইকে প্রমাণস্বরূপ সেটা দেখাল। সাথে এটাও বলল, তরু নাকি অনেকদিন ধরেই তার সাথে সম্পর্ক করতে চাইছে। কিন্তু ফরিদ পাত্তা দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ফরিদ ভাবলো, মেয়েটাকে নিয়ে ভাবা যায়। গরীব হয়েছে তো তাতে কি, রুপে গুণে অন্যদের চেয়ে বেশ। কিন্তু, তারপর খোঁজ খবর করে সে এসব জানতে পেরেছে। মেয়েটার চরিত্র ভাল না! তরুকে অনেক মারধোর করা হল, কিন্তু তরু মুখ খুলল না। শুধু ফরিদের দিকে একবার তাকালো উদাস দৃষ্টিতে। ফরিদ ভাই এই কাজ করতে পারল? ডাক্তারের কাছে আবারও নিয়ে গেল তাকে। রিপোর্ট আগের মতই আসলো। গ্রামের চিকিৎসা, এত উন্নত নয়। সবাই ধরে নিল, ওর কাছে থাকলে অন্যদেরও এই রোগ হবে। তাই তরুকে একঘরে করে দিল সবাই, এমনকি তার মা-বাবাও। তরুও আপত্তি করল না। বছর দুয়েক বেশ কেটে গেল। কিন্তু দিন দিন অসুস্থতা জেঁকে ধরল ওকে। একমাত্র সুরমতীর মা-ই তাকে আপন ভেবেছে, বিশ্বাস করেছে। আর কেউ করেনি। কেউই না। ‘আম্মা, একটু চোখটা মেলেন। আম্মা...’ কে ডাকছে এভাবে? মা ডাকছে? কিন্তু মা তো কখনও তাকে তরু ছাড়া কিছু বলে ডাকে নি। তার তরুলতা নামটা মায়ের ডাকের কারণেই তরু হয়ে গেছে। তবে কে ডাকছে? বুবু? বুবু কেনও ডাকবে? কপালে একবার শীতল স্রোতের প্রবাহ টের পাচ্ছে, বেশ আরাম লাগছে তরুর। আরামের আতিশয্যে চোখ মেলার প্রচেষ্টায় ক্ষান্ত দিয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে পড়ল তরু। গভীর সে ঘুম, যার কোনও আদি-অন্ত নেই! পরিশিষ্ট মাঝরাতে দুঃস্বপ্ন দেখে ধড়মড় করে উঠে বসল ফরিদ। তার স্ত্রী, রাফিয়া ঘুমুচ্ছে অঘোরে বেঘোরে। রাতটা কালো, নিকষ কালো। শুধু একটা শুকতারা জ্বলজ্বল করে জ্বলছে। ফরিদ বিছানায় বসেই জানালা দিয়ে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। গাছের পাতা ঝরে পড়ার টুপটাপ আওয়াজ কানে আসছে। এত বছর পর আবার হঠাৎ তরুকে স্বপ্নে দেখল কেন সে? আচ্ছা, তরু কি আজও বেঁচে আছে এই রোগ নিয়ে? আচমকা ফরিদের বুক ধ্বক করে ওঠে অজানা আতঙ্কে। কপাল বেয়ে ঘামের ধারা নেমে আসে, বুক ধড়ফড় করতে থাকে। অজানা সেই আতঙ্ক এক সময় পরিষ্কার থেকে পরিষ্কারতর হয়ে ওঠে। আচ্ছা, যদি তরুর রক্তে এইডসের জীবাণু থেকে থাকে, তাহলে ফরিদের রক্তে... *** *পহেলা বৈশাখ থেকে প্রতিদিন বিকেল চারটা ও রাত নটায় একটি করে গল্প প্রকাশিত হবে। *শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা লেখকের নাম প্রকাশ করব না। লেখকও তার গল্পের কোনো ধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন না * জাজ প্যানেলের ২০, পাঠকের লাইকের ভিত্তিতে ৩০ এবং ৫জন বিচারকের ৫০ এই মোট ১০০ নাম্বারের মধ্যে প্রতিযোগীতা হবে। *পাঠকের জন্য লাইক দেয়ার সুযোগ থাকবে গল্প প্রকাশের ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত সুতরাং গল্পটি ভাল লেগে থাকলে লাইক দিয়ে লেখককে উৎসাহিত করুন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ রাতের শুকতারা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now