বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্পঃ শেষ রাতের শপিং
হঠাৎ আমার ফ্রেন্ড তুষার ফোন করে বলল,
-কিরে ইশান, লাস্ট ইফতার কোথায় করবি?
-কোথায় আবার! বাসায় করবো।
-চলে আয়,হালকা কিছু শপিং আছে। এইগুলা শেষ করে বাইরে কোথাও ইফতার করবো।
ভেবে দেখলাম লাস্ট ইফতার ফ্রেন্ডের সাথে বাইরে করবো। খারাপ হয়না , যাওয়াই যায়। তাই দ্বিতীয় বার না ভেবে রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু যাওয়ার পর বুঝতে পারলাম কত বড় ভুল করেছি। আসলে ভুল আমি করিনি। তুষার রীতিমতো মীর জাফরের চেয়েও বড় বিশ্বাস ঘতকতা করেছে আমার সাথে। গিয়ে দেখি তার সাথে তার মা ও ছোট দুটি বোন। ও বলেছিল সামান্য শপিং তাই আমি ভাবছিলাম হয়তো সে নিজে কিছু কিনবে। এই ঘণ্টা খানেকের ব্যাপার। কিন্তু মহিলা সাথে যখন তবে তো আজকে রাত ৯/১০ টা বাজবে নিশ্চয়।
আমাকে দেখেই হারামিটা বত্রিশ পাটী দাঁত বের করে হাসলো। দেখে মনে হচ্ছে সে শান্তিতে নোবেল পেয়েছে আর আমি সেই নোবেল নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসছি। ওর হাসি দেখে আমার গা জ্বালা করতে লাগলো।
কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললাম,
-ঐ হারামি আমায় মিথ্যে বলে আনলি কেন?
-কি করবো বল, রাত কয়টা যে বাজবে তার ঠিক নেই। ওরা জামাকাপড় দেখবে, আম্মু দরদাম করবে আর আমি শুধু ওদের সাথে হাঁটবো। একা একা ভালো লাগবে না বলে তোকে আনলাম। বন্ধুর জন্য এতটুকু কষ্ট সহ্য করতে পারবি না।।
-শালা মিথ্যে বলে এনে এখন ইমোশনাল করে। এ কেমন ফ্রেন্ড?
-এ হারামি ফ্রেন্ড।
তুষারের কথায় হাসি আটকে রাখতে পারলাম না। শুরু হল এই দোকান ঐ দোকান চক্কর দেয়া। এইরকম করে প্রতিটি মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকান চক্কর দেয়া হয়ে গেলো। আল-হামরা,সিটি সেন্টার, ব্লু ওয়াটার, মিলিনিয়াম, শুকরিয়া মার্কেট, কাকোলি সবগুলোতেই যাওয়া হল। কিন্তু হাত এখনো খালি। ইফতার করার সময় হয়ে গেলো শুধু চক্কর দিয়েই। কিনা হল না কিছুই।
এক পর্যায়ে তুষার প্রশ্ন করেই ফেলে,
-আম্মু শুধু কি চক্কর দিবে নাকি? কিছুই তো কিনলে না।
-বোকার মত প্রশ্ন করবি না তো। মার্কেটের অবস্থা জেনে নিতে হয় আগে। পরে দেখা যাবে,একটা ড্রেস দুই হাজার টাকা দিয়ে নিলাম সেটা অন্য জায়গায় গিয়ে দেখবো পনেরোশ টাকা। তাইলে কতটা আফসোস করার ব্যাপার হবে ভেবে দেখেছিস?
তুষার কিছু ভেবেছে কিনা জানি না। আমি ভেবে দেখলাম আন্টির কথা ঠিকই আছে।
আমরা একসাথে বসে ভোজনবাড়ী রেস্টুরেন্টে লাস্ট ইফতার করে নিলাম। আর চিন্তা করতে লাগলাম রাত কয়টায় ফিরতে পারবো।
খাওয়া শেষ হলে তুষার বলে,
-এখন কোথায় যাবে?
-যেসব জায়গায় মোটামুটি ড্রেস পছন্দ করে এসেছি সেখানেই যাবো। তারপর আড়ং এ যাবো এক চক্কর।
আড়ং !!! আমার সাথে তুষারও আঁতকে উঠলো। বুঝতে পারলাম আজকে সারা সিলেট সিটি ঘুরে দেখতে হবে।
একটা দোকানে এসে তুষারের ছোট বোনের জন্য একটা ড্রেস পছন্দ হল।
আন্টি দাম জিজ্ঞেস করলেন। দোকানী দাম বললো ৪৫০০ টাকা। আমি লক্ষ্য করলাম তুষার গিয়ে তার মায়ের পিছনে দাঁড়ালো। বুঝতে কষ্ট হল না, কারণ আমারো মনে হচ্ছে এই ড্রেসের এত দাম শুনার পর হয়ত আন্টি মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন।
কিন্তু আন্টি একদম স্বাভাবিক ভাবেই দাঁড়িয়ে আছেন। তীক্ষ্ণ চোখে ড্রেসের দিকে ভালো করে লক্ষ্য করে ভ্রু কুঁচকে ঠোঁট বাঁকা করে বলেন,
-১২০০টাকা দিবো। দেখেন যদি হয় তাহলে প্যাকিং করে দেন।
এইবার তুষার গিয়ে দোকানদারের পিছনে দাঁড়ালো। কিন্তু দোকানীও মাথা ঘুরে পড়লো না। শেষে দরদাম করে যখন এই ড্রেসটাই ১৫০০টাকা দিয়ে কিনা হল তখন আমি গিয়ে তুষারের পিছনে দাঁড়ালাম।
এই দোকান থেকে বের হয়ে অন্য দোকানে যাওয়ার পথে খেয়াল হল তুষারের ছোট বোন তৃমা আমাদের সাথে নেই !! ঈদের শেষ রাতের মার্কেট কতটা বিজি সবাই জানে। এখানে কাউকে হারিয়ে ফেলা মানে মহা বিপদ। আমরা সেই বিপদেই পড়েছি। সবাই মিলে ফিরে গেলাম আগের দোকানটায়। না এখানে তৃমা নেই। তবে গেলো কোথায়?
আন্টির চোখ ভিজতে শুরু করেছে দেখলাম। বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন,
-কোনো ছেলে ধরা নিয়ে যায়নি তো?
আমি শান্তনা দিয়ে বললাম,
-হয়তো ভীরের মধ্যে হারিয়ে গেছে। তবে এই মার্কেটেই আছে। আমরা খোঁজে বের করে ফেলতে পারবো। আপনি এত বিচলিত হবেন না।
তখন তুষারের বোন তমা বলে,
-ভাইয়া তুমি না বলো গোগলে যা ইচ্ছে খুঁজে পাওয়া যায়। তাইলে এত চেন্তা করছ কেন? গোগলে সার্চ দাও।
-চুপ থাক। বেশি কথা বলে।
এই বিপদের মাঝেও আমার হাসি আসছে। তবে এখন হাসাটা ছোটলোকি হয়ে যায় বলে কোনোভাবে নিজেকে সামলালাম। তারপর তুষার আর আমি আলাদা ভাবে দুইদিকে চলে গেলাম। ওদেরকে এখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে বললাম। সারা মার্কেট ঘুরে শেষে এক কোণের গিফটের দোকানে দেখলাম তৃমা একটা টেডিবিয়ার দরদাম করছে। তাকে দেখে মনে হল বুকের উপর থেকে একটা পাথর নেমে গেলো।
কাছে গিয়ে বললাম,
-তৃমা তুমি এখানে কেন? আমাদের না বলে এইভাবে আলাদা হয়ে গেলে কেন?
মেয়েটা আমার প্রশ্ন কানেই নিলো না। তার নিজের মত করে বলল,
-ইশান ভাইয়া এই টেডিবিয়ারটা কিনে দাও না। আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
-আচ্ছা পরে এসে আমরা কিনে নিয়ে যাবো।
-না এটা না নিয়ে আমি কোথাও যাবো না।
তখন সুযোগ সন্ধানী দোকানী বলে,
-ঈদের সময় বোন আবদার করেছে কিনে দেন স্যার। দাম বেশি না মাত্র ৭০০টাকা।
দারুণ লজ্জাকর অবস্থায় পড়া গেলো! মানি ব্যাগ বের না করেও বলতে পারি কত টাকা আছে। দুইটা বিশ টাকার নোট, ৩টা দশ টাকার আর একটা পাঁচ টাকার কয়েন। তার মধ্যে একটা বিশ টাকার নোট ছিঁড়া, যার কারণে রিক্সাওয়ালাকে দেয়ার পর নেয়নি।
এখন একটাই উপায়। তুষারকে ফোন করে দোকানের লোকেশন দিলাম। তুষার বাকীদের নিয়ে ১০মিনিট পর চলে আসে। টেডিবিয়ার নিয়েই দোকান থেকে বের হলাম।
ভেবেছিলাম এমন ঘটনায় ভয় পেয়ে আন্টি বলবেন, থাক আজ আর কিছু কিনা লাগবে না। বাসায় চলে যাই।
কিন্তু মেয়েকে ফিরে পাওয়ার পর উনি আবার সাহসী হয়ে গেলেন। এইবার দুহাতে দুই মেয়েকে ধরে হাঁটতে লাগলেন আর আমাদের হাতে শপিং এর ব্যাগগুলো।
শপিং করা শেষ হতেই পিচ্ছিগুলা বায়না ধরেছে ফুসকা খাবে। কি আর করার মধ্যরাতে ফোসকার দোকানে হাজির হতে হল। এসে দেখলাম এই মধ্যরাতেও ফুসকার দোকানে চিয়ার খালি পাওয়া মুস্কিল। কোনোভাবে ওদের তিনজনকে বসালাম। আমি আর তুষার ফুসকা খাই না। সুতরাং আমাদের বসার কোনো মানেও নাই। কিছু দূরে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলাম। কালকে ঈদের দিন কি কি করা যায় তার একটা ছোটখাটো প্ল্যান করতে করতে ওদের খাওয়া শেষ।
বাসায় ফিরার পর মোবাইলে সময় দেখলাম রাত ১টা !!
সবকিছু থেকেই কিছু না কিছু জানা/শিখা যায়। আজকের এই শেষ রাতের শপিং এর অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারলাম। মহিলাদের যদি সারাদিন শপিং করতে দেয়া হয় তবু ওরা ক্লান্ত হবে না। মুখে হাসি নিয়েই এই দোকান ঐ দোকান ঘুরে বেড়াতে পারবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now