বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ অধ্যায় (পর্ব -২)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X লেখক : সায়েমুস সুহান ঘড়ির কাটা যেন চলছেই না, অর্পি মাথার চুল ধরে টানাটানি শুরু করে দিল ! একমিনিটে মনে হচ্ছে এক বছর যাচ্ছে। কোনোরকম গেল আরো ২৫ মিনিট!! এখনও ৫ মিনিট বাকি! অর্পির ইচ্ছা হইতেছে এখনই সবকিছু ভেঙ্গে ফেলতে তারমাথায় কোনো কিছু কাজ করছেনা। যাইহোক, ১১.৫৯ হয়ে গেছে, অর্পির মনে কিছুটা শান্তি আসলেও এখন তার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, সেকেন্ড করে গুনে গুনে শেষ করতে পারছে না! মোবাইল টনটন শব্দে এসএমএস চলে আসলো, অর্পি আনন্দে লাফানো শুরু করে দিল। এসএমএসের বার্তা চেক করলো, সেই লেখাটি এবারও দেওয়া" হবে কি আমার? অনেক ভালোবাসবো!" অর্পি এইবার বুঝতে পারলো এই কাজটি ঐ অচেনা ছেলেটিই করতেছে! সারারাত খুশিতে ঘুম আসেনি, মনে মনে ভাবছে আমি কি তার নাকি এই মেসেজের প্রেমে পড়ে গেলাম! আমার সামনে শুধু তার ছবি ভাসে কেন? সে কি আমার মনে আঁকা সত্যিকারের পুরুষ! এসব ভাবতে ভাবতে অর্পি ঘুমিয়ে পড়ে, সকালে খুব তাড়াতাড়ি অর্পির ঘুম ভেঙ্গে যায় । খেয়েধেয়ে কলেজে উদ্দেশ্যে রওনা হয়, গিয়ে দেখে আবারও গেটে তালা, আজ আর বিরক্ত হচ্ছে না। তবে চারদিকে তাকিয়ে মনে মনে ঐ অচেনা ছেলেটিকেই খুজতে লাগলো ! হঠাৎ পাশ থেকে একটা কণ্ঠস্বর শুনতে পেল, "কাউকে খুজছেন "! হঠাৎ করে বলাতে অর্পি ভয় পেয়ে গেল ! তাকিয়ে দেখে কালকের ঐ ছেলেটি! অবাক হয়ে হা হয়ে থাকিয়ে থাকে অর্পি! ছেলেটি তখনই বলে উঠলো, আমি নুহাশ। অর্পি কিছু না ভেবে বলে দিল, আমি অঅঅঅঅর্পি!!!!! হুম আমি জানি!! ( নুহাশ) জানেন! ( অর্পি) হ্যা, জানি (নুহাশ) ও আচ্ছা, অর্পি এবার বুঝতে পারলো তার সন্দেহ ঠিক! কিছুক্ষণ কথা বলা যাবে আপনার সাথে ! যদি আপনি কিছু মনে না করেন... (নুহাশ) হ্যা, অবশ্যই বলুন কোনো সমস্যা নেই (অর্পি) না মানে! যদি কফি খেয়ে কথা বলি তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে(নুহাশ) চলুন! বলে অর্পি আর নুহাশ কফি হাউসের দিকে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সুহান মোটরসাইকেলে করে কলেজের দিকে আসছিল, দেখে ফেলে তাদের দুজনকে! সুহান মোটরসাইকেল দাঁড় করায়, মনে মনে ভাবে, অর্পির সাথে কে এই ছেলে! আমি ছাড়া অর্পির কোনো বন্ধও নেই, তাহলে....? সুহান নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করতে লাগলো, কোনো কিছু ভেবে পায়নি, স্তব্ধ হয়ে কলেজে ভেতরে প্রবেশ করলো, ক্যাম্পাসের ছাউনীতে বসে নানা বিষয় ভাবছে, অর্পি এই ছেলেটির কথা আমার কাছে বলল না কেনো? তাহলে কি অর্পি এই ছেলের সাথে প্রেম করে? না তা করবে কেনো? প্রেম করলে অবশ্যই আমার কাছে শেয়ার করতো... ঐদিকে নুহাশ আর অর্পি কফি হাউসে ভালো ভাবে পরিচিত হয়ে গেল, তারমানে দুজন এখন পরিচিত! অর্পিও মনে মনে ভালোবেসে ফেললো নুহাশকে! অর্পি ভাবছে নুহাশ যদি এখনই থাকে প্রপোজ করে তাহলে সে একসেপ্ট করে নিবে, তার কোনো ভাবেই তর সইতেছেনা। কথা বলার ফাঁকে অর্পি নুহাশকে বললো, আপনাকে একটি কথা বলার ছিল? একটা নয় অনেকটা বলুন! (অর্পি) আপনি কি আমাকে মেসেজ করেন? (অর্পি) মেসেজে কি আপনি বিরক্ত হন (নুহাশ) তা নয়, বলছিলাম আপনি করেন কি না? (অর্পি) হ্যা, প্রতিদিন রাতে আমিই আপনাকে মেসেজ দেই (নুহাশ) অর্পি লজ্জা পেয়ে, মৃদু হাসি দিয়ে কফি হাউজ থেকে বের হয়ে সোজা কলেজের দিকে চলল। ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেই সুহানকে দেখতে পেল, ছাউনীতে বসা, গিয়ে বসলো তার পাশে! আজ সুহানের মন ফ্যাকাশে, দেখেই বুঝে ফেললো অর্পি! কিরে কোনো সমস্যা?? (অর্পি) নাহ, কোনো সমস্যা নেই! এমনি মাথা ব্যাথা করতেছে! (সুহান) তাহলে বাসায় চলে যা বলে অর্পি ক্লাসের দিকে চলে যাচ্ছে! আজ অর্পি এরকম করছে কেনো? অন্যদিন তো সুহানের সাথে আটার মত লেগে থাকতো! সুহান আর স্থির থাকতে পারলো না , অঝোরে বৃষ্টির মত চোখের পানি ছেড়ে দিল। সত্যিই চলে গেল বাসায়। সুহানের একটা অভ্যাস ছিল, প্রতিদিন যা কিছু ঘটে সবকিছু ডায়রী করে রাখে, আজও তাই করতেছে। অন্যদিন লিখে যে অনুভব হতো সেটা আজ হচ্ছে না। কেনো জানি ডায়রীর একটা পাতা চোখের পানিতে ভিজে গেল। কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা, অর্পি এমন করবে তার সাথে! এসব ভাবতে ভাবতে টেবিলেই কখন ঘুমিয়ে পড়লো, সেটাও বুঝতে পারলোনা। আর অর্পিতো কলেজে মহাসুখেই ক্লাস করতেছে! একটা মেয়ে প্রেমে পড়লে যেই রকম করে তাই প্রতিফলিত হচ্ছে অর্পির মধ্যে। ক্লাসে কোনো মনোযোগ নেই, বারবার নিজের ওড়না ঠিক করতেছে, চুলগুলো এলোমেলো কি না খেয়াল করতেছে, মানে তার মধ্যে ঈদের খুশির চেয়ে বেশি খুশি প্রভাবিত হচ্ছে। এই মূহুর্তে নুহাশকে আবার দেখার জন্য তার প্রাণ আকুল হয়ে আছে! ক্লাস শেষ হলো তাড়াতাড়ী বেড়িয়ে আসলো। বাহিরে এসে আবার নুহাশকে খুজতে শুরু করে দিল। নুহাশ আবার তাকে চমকে দিয়ে পাশ থেকে বের হলো, সাথে একটা গিফ্ট বক্স! অর্পি মনে মনে খুশি হলেও প্রকাশ করতেছেনা। নুহাশ এমন ভাবে অনুরোধ করল গিফ্ট বক্সটি নেয়ার জন্য অর্পি নিতে বাধ্য হলো। তারপর নুহাশ একটা হাসি দিয়ে চলে গেল। এমন একটা হাসি দেখে অর্পির মন পুরোটাই নুহাশময় হয়ে গেল। অর্পি চাইছিল এখনই নুহাশকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসার কথাটি বলে দিতে! কিন্তু সে তো মেয়ে, নিজে গিয়ে ভালোবাসি কথাটি বলতে কেমন জানি তার ইস্তত লাগছে! সে চাইছে নুহাশই থাকে ভালোবাসার কথাটি আগে বলুক। এসব ভাবতে ভাবতে অর্পি বাসায় চলে গেল, ফ্রেশ হয়ে এসে গিফ্ট বক্সটি খুলতে লাগলো, দেখলো একটা ব্রেসলেট, আর ছোট একটি কাগজের টুকরো! ব্রেসলেটটি হাতে পরে, কাগজটি খুলতে লাগল, কাগজের লেখা পড়তে লাগলো "ভালোবাসি তোমায়, ভালোবাসবে কি আমায়? " চিরকুটের একপাশে মোবাইল নাম্বার দেয়া এবং পাশে লিখা রয়েছে, যতক্ষণ ফোন দিবে না, ততক্ষণ ঘুমাবো না ! এখন রাত ১০ টা, অর্পি ফোন দিল, নুহাশকে! ওপর পাশ থেকে শব্দ আসলো, হ্যালো! অর্পি স্তব্ধ! কোনো কথা বলতে পারছেনা! লজ্জায় কাতুকুতু হয়ে ফোন কেঁটে দিল। নুহাশ ফোন ব্যাক করলো, অর্পি ফোন ধরবে কি না ভেবে ভেবে ফোন ধরে ফেললো! নুহাশ অর্পিকে বলল, আমি জানি, তুমি অর্পি! প্লিজ ফোন কেটো না ! অর্পি নিচু স্বরে বললো আচ্ছা। তারপর নুহাশ আর অর্পি অনেক কথা বলল, পরিশেষে নুহাশ নিজ মুখে ফোনে অর্পিকে ভালোবাসি কথা বলে ফেললো! অর্পিও তাকে ভালোবাসা অর্পিও সেটা নুহাশকে বলে দিল! হয়ে গেল দুজনের প্রেম! সুহান ইতিমধ্যেই ঘুম থেকে উঠে পড়লো, মনে মনে বলছে অর্পি হয়তো কত ফোন দিয়েছে আর সে ঘুমের মধ্যে অচেতন, সিট! তাড়াতাড়ী মোবাইল হাতে নিলো, ডিসপ্লের আলো বেশে উটলো, কোনো ফোনকল নেই! যেই অর্পি রোজ ১০০ টা ফোন দিত, আজ সে একটাও ফোন দিল না, সুহান আর থাকতে পারলো না, সুহানের মন সত্যি সত্যি ভেঙ্গে গেল। অর্পির কাছে কি এমন দোষ করেছে যে, তার সাথে এমন করতেছে। নুহাশ আবার কান্নার মধ্যে ঝড়িয়ে পড়লো। অপরদিকে অর্পি নুহাশের সাথে কথা বলা শেষ করে, ঘুমানোর চেষ্টা করতেছে, মোবাইলে মেসেজ আসলো, অর্পির মনে আসলো যে এখন তো বারাটো বেজে গেছে, নুহাশই মেসেজ দিয়েছে মনে হয়। সেই মেসেজ " হবে কি আমার? অনেক ভালোবাসবো। অর্পি মনে মনে বললো, পাগল একটা আমি তো তোমারই আছি! হেসে হেসে ঘুমিয়ে পড়লো অর্পি! আর সুহান সারারাত একটুও ঘুমাতে পারেনি। সকালে হয়ে গেছে, অর্পি নিজেকে আয়নার সামনে দার করালো, নিজে এমনিতেই সুন্দর আরও আকর্ষণীয় হতে সাজগোজ করতে লাগলো! অবাক হয়ে নিজে নিজেকে বললো, গতপরশু একটা মানুষ ছিল অজানা আর আজ হয়ে নিজের অর্ধেক কিভাবে সম্ভর এটা! বের হলো, কলেজের উদ্দেশ্যে গিয়ে দেখলো.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ অধ্যায় (পর্ব -২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now