বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ অধ্যায় (৩য় ও শেষ পর্ব)

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X নুহাশ ফুলের তোড়া নিয়ে কলেজের গেটে অপেক্ষা করছে! আজ আরও সুন্দর লাগছে নুহাশকে! নুহাশও অর্পিকে কাছ থেকে দেখছে, অসাধারণ সুন্দর লাগছে, মানুষ কিভাবে এতো সুন্দর হয়? অর্পি কাছে আসতেই নুহাশ হাত ধরে ফেললো, অর্পির শরীরে কম্পন শুরু হলো ! মনে হয় এখনই পড়ে যাবে! নুহাশ বুঝতে পেরে ছেড়ে দিল। তারপর অর্পিই নুহাশের হাত ধরে ক্যাম্পাসের দিকে চলল... আর এইদিকে সুহান কলেজে আসার জন্য তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লো! কলেজে এসেই অর্পিকে খুজতে লাগলো, কোনো দিকে পেল না, হয়তো অর্পি এখনও আসেনি ভেবে, বটগাছের পাশে গিয়ে বসলো। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ দেখতে পেল সামনের দিক থেকে অর্পি আর সাথে ঐ ছেলেটা তার দিকে আসছে! মুমূর্ষু অবস্থায় থাকিয়ে থাকলো। অর্পি এসেই বললো কেমন আছিস সুহান? ভালো, তোর খবর কি (সুহান) আমিও ভালো। এই শোন পরিচয় করিয়ে দেই, ও নুহাশ, আমার বয়ফ্রেন্ড! সুহানের মাথায় বাজ ভেঙ্গে পড়লো! কোনো রকম অভিনন্দন বলে সেখান থেকে আসতে চাইলো । অর্পি তাকে অনেক আটকানোর চেষ্টা করলো কিন্তু আটকাতে পারলো না। সুহান মোটরসাইকেলে বসলো, মাথায় কোনো কাজ করতেছে না, চোখ দিয়ে অজস্র পানি বেয়ে পড়ছে! পেছনের একবার তাকিয়ে অর্পিকে এক জলক দেখে মোটরসাইকেল ছেড়ে দিল। অর্পি সারাদিন নুহাশের সাথে ঘোরাফেরা করে, বেলা ৪ টার সময় নুহাশের কাছ থেকে বিদায় বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হলো। বাসাতে পৌছে ফ্রেশ হয়ে একটা ঘুম দিল। ঘুম থেকে রাত ৮ টার সময় জেগে উটে হালকা নাস্তা করে নিল। তারপর নুহাশের সাথে অনেক কথা বলল। অর্পির মা তাকে খাওয়ার জন্য ডাকলে অর্পি নুহাশের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে খেতে যায়। খাওয়া শেষ করে এসে মনে হলো যে সুহানের সাথে আজ দুদিন থেকে তেমন কথা হয়নি, এখন একটু ফোন দিয়ে কথা বলে নেই। ফোন দিল সুহানের মোবাইলে মোবাইল বন্ধ ! আবার ফোন দিল, ফোন বন্ধ! কিছুটা খারাপ লাগলো অর্পির! এখন রাত ১২.০১ মিনিট, এসএমএস এখনও আসলো না কারণ কি? অর্পি ফোন দিল নুহাশকে। কি হলো আজকে এসএমএস দিলে না কেনো?(অর্পি) কিসের এসএমএস?(নুহাশ) মানে কি নুহাশ? প্রতিদিন তুমি কোন এসএমএস দিতে মনে নাই! (অর্পি) আমি এসএমএস দিতাম!! তোমার কি মাথা ঠিক আছে?? কি বলছো এসব?(নুহাশ) সেদিন কফি হাউজে বললে যে আমাকে এসএমএস কর!! (অর্পি) আরে ধুর, এসএমএস বললাম কবে? মেসেজ বলছিলাম! ফেইসবুকে অবুঝ বালক আইডি থেকে তোমাকে মেসেজ করতাম মনে নাই! (নুহাশ) অর্পি এবার বুঝতে পারলো, যে মানুষটি এসএমএস করে সে নুহাশ নয়! অর্পি এসএমএস ঠিকে অনেক মিছ করতে লাগলো। তারপর ভাবতে লাগলো নুহাশ আমার সাথে এমন প্রতারণা কেন করলো?? আমি তো এসএমএস দেয়া মানুষটিকে ভালবাসি। তারপর ভাবলো নুহাশ তো প্রতারণা করেনি, সেতো জানে না, রাত ১২টার এসএমএসটির কথা! এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো অর্পি। সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলো। তারপর ফেইসবুকের মধ্যে প্রবেশ করলো, আর হেসে হেসে বলতে লাগলো, একটা ফেইসবুক পাগলি মেয়ে আজ দুদিন থেকে ফেইসবুকে নাই! জনগন কি বলবে? কয়েকটি মেসেজ চেক করে নিউজ ফিড পড়তে লাগলো! কয়েকটি নিউজফিড পড়ার পর দেখলো একটি নিউজ আঁতকে উঠার মত! নিউজের হেডলাইন ছিল " বাইক এক্সিডেন্টে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ছাত্র নিহত! " তাড়াতাড়ী ক্লিক করলো নিউজটিতে, নিউজ পড়ে অর্পি চিৎকার দিয়ে উঠলো, দৌড়ে অর্পির মা আসলেন, অর্পি চিৎকার দিয়ে কান্না করছে, মাথা আছাড় মারছে, সবকিছু ভেঙ্গে ফেলছে, কিন্তু কোনো কথা বলতে পারছেনা। সবশেষে তার মাকে বললো, সুহান বাইক এক্সিডেন্টে মারা গেছে! অর্পি বেরিয়ে পড়লো, তার মা কোনোভাবেই তাকে আটকাতে পারছেন না । অর্পির বাবার প্রাইভেট কার রাখা ছিল বাড়ীর সামনে, ওই গাড়ীতে উটে তাড়াতাড়ী ড্রাইভারকে সুহানের বাড়ীতে যেতে বলল, গাড়ীতে উঠে অর্পি আর জোরে কাঁদতে লাগলো! ৩০ মিনিট পর সুহানের বাড়ীতে গিয়ে গাড়ী থামলো। চারদিকে শুধু কান্না আর কান্না! কোনো রকম গাড়ী থেকে নামল অর্পি। অর্পি দেখলো যে সুহানের মা পাগল হয়ে গেছেন, তিনি শুধু হাসছেন! অর্পিকে দেখে তিনি দৌড়ে আসলেন, এসে অর্পি বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে বললেন, আমার বউমা এসে গেছে, আমার বউমা এসে গেছে ! সুহানের মায়ের মুখে বউমা শুনে অর্পি আর স্থির থাকতে পারলোনা। হাউমাউ করে কান্না শুরু করে দিল। সুহানের মা আবার হেসে বললেন কাঁদিস কেন পাগলি, সুহান গাড়ী করে আসছে, দেখবি তুই! আয় এদিকে আয় বলে সুহানের আম্মা অর্পিকে সুহানের ঘরে নিয়ে গেলেন। ঘরে গিয়েই অর্পি স্তব্ধ হয়ে পড়লো! সারা দেয়ালে অর্পির ছবি লাগানো, এবং নিচে ছোট করে লিখা "হবে কি আমার? অনেক ভালোবাসবো! " সুহানের মা অর্পিকে একটি ডায়রী এনে দিলেন, ডায়রীতে নাম লেখা " অর্পি আমার স্পন্দন" এক পৃষ্টা করে ডায়রীর পাতা বের করে অর্পি পড়তে লাগলো, ১ম পাতা : আজ আমার প্রিয়তমার জন্মদিন! কিছু দিতে পারিনি, একটা কবিতা ও একটা সোনার আংটি দিলাম, জানি না খুশি হলো কিনা? ২য় পাতা : আজ প্রথম জানপাখিটাকে এসএমএস করলাম নতুন নাম্বার থেকে, সাথে সাথে মোবাইল বন্ধ করে দিলাম, যদি ধরা পড়ে যাই ফ্রেন্ডশীপ নষ্ট করে দিবে। জানি না, প্রিয়তমাকে পাবো কিনা? ৩য় পাতা : আজ অনেক ঘুরলাম, সুহাসিনীর সাথে । কখনও ছেড়ে যেতে ইচ্ছে হয় না। ৪র্থ পাতা :রাত তিনটা! ফোন দিল আমার আদুরীনি, কণ্ঠটাও দারুণ মিষ্টি। ৫ম পাতা : আজ খুবই কষ্ট লাগলো, প্রিয়তমাকে দেখি একটা ছেলের সাথে ঘুরতে...! ঐ ছেলেটিকে আমি চিনি। ছেলেটির স্বভাব ভালো না। ৬ষ্ঠ পাতা : জানো প্রিয়তমা, এই দুদিন থেকে রাতে ঘুমাতে পারিনা, কারণ রাতে তোমার কণ্ঠটি আমি শুনতে পাইনি। অর্পি আর পড়তে পারলোনা, অজ্ঞান হয়ে পড়লো বিছানার ওপর! সবাই মিলে পানি ছিটিয়ে দিয়ে অর্পির জ্ঞান ফিরিয়ে আনলো। ঐদিকে সুহানের পোস্টমর্টেম শেষ তাকে বাড়িতে আনা হলো। এক এক সবাইকে দেখানো হলো, সবিশেষে অর্পি আসলো সুহানকে দেখতে, এসেই জড়িয়ে ধরলো সুহানের লাশকে! অনেক চেষ্টা করলো সবাই কিন্তু কেউ অর্পিকে ছাড়াতে পারে না। নুহাশও আসলো, এসে সে অনেক বুঝালো অর্পিকে, অর্পি কিছুতেই ছাড়তে চাচ্ছে না। নুহাশ জোর করেই ছাড়ালো অর্পিকে! অর্পি সুহানকে ছেড়ে এসে নুহাশ কসে একটা থাপ্পর মারলো, নুহাশের কারণেই তার সুহান মারা গেছে, নুহাশ যেন কখনই তার কাছে আসে, নুহাশ তখন চলে গেল! আর এইদিকে সুহানের জানাজার সময় হয়ে গেছে, সুহানকে জানাজার মাঠে নেয়ার জন্য সবাই তৈরি হয়ে বসে আছে । অর্পি দৌড়ে গেল, রান্নাঘরে গিয়ে পেল, একটা ছুরি!! নিয়ে আসলো!! সুহানের লাশের কাছে গিয়ে দাড়িয়ে চিৎকার দিয়ে বলল, যে ওকে নিতে আসবে, তাকে সে কোপ দিবে! কেউ ভয়ে কাছে আসছেনা, অর্পি সুহানকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো, এই সুহান, ওঠ না! এতো ঘুমাস, অসুস্থ হবেতো। ওঠ তাড়াতাড়ী, ওদেরকে বলে দেয়, যে তো কিছু হয়নি! আমাকে ভালোবাসিস ওইটা একবার মুখ দিয়ে বল! আমার খুব শুনতো ইচ্ছে করছে। একটি বার সুন্দর করে বলনা "সুহাসিনী আমি তোকে ভালোবাসি " একটা সুন্দর কবিতা শোনা আমাকে, খুবই শুনতে ইচ্ছে করছে। তুই কথা বলনা, একটা কথা বল! তুই বলেছিলে, আমার সাথে থাকতে চাস এই দেখ আমি তোর কাছে আসছি!! অর্পি হাতের ছুরিটি নিজের পেটের মধ্যে ডুকিয়ে দিল, চারপাশের সব স্তব্ধ হয়ে গেল! অর্পির শরীর থেকে অনর্গল রক্ত বেরিয়ে পড়ছে, অর্পি তাকিয়ে আছে সুহানের মুখের দিকে! অর্পিকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সবাই টানাহেঁচড়া করতে লাগলো। যখনই অর্পিকে গাড়ীতে তুলতে যাবে ঠিক তখনই শেষ বার সুহানের দিকে তাকায়, সাথে সাথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।আর তখনই শেষ হয় অর্পি সুহানের অধ্যায়!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ অধ্যায় (৩য় ও শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now