বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব-১২)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X শেষ জীবনের গল্প – পর্ব ১৩ ✍️ নাফিজ আহমেদ ইমন সাহেবের চোখের কোণে অশ্রুকণা জমে উঠেছে। চিঠিটা দেখেই তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন। এটাকেই বুঝি বলে—হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসার ফিরে আসা! চিঠিটার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর তিনি পড়তে শুরু করলেন— --- প্রিয় ইমন, জানি না আর কোনোদিন তোমার সঙ্গে দেখা হবে কিনা। প্রকৃতি কি আমাদের আবারও মিলিয়ে দেবে, তাও জানি না। আশা করি তুমি ভালোই আছো। জানতে চাইবে না আমি কেমন আছি। বিশ্বাস করো, তোমাকে ছাড়া আমি এক মুহূর্তও ভালো নেই। ইমা আর তালহাও তোমাকে ছাড়া ভালো নেই। তারা সবসময় তোমার অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকে। তালহা এখন অনেকটা বড় হয়ে গেছে। নিজেই একা স্কুলে যায়। অন্য ছাত্রদের বাবা যখন তাদের নিয়ে যায়, তখন তালহার মনটা খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু আমি তো ওকে বলতে পারি না—তার বাবা তাদের ফেলে কোথায় চলে গেছে! তুমি যখন হারিয়ে গেলে, ইমা তখন খুব ছোট ছিল। তাই তোমাকে ঠিকমতো মনে পড়ে না। তারপরও মাঝে মাঝে পাতা-ঝরা স্নিগ্ধ বিকেলে আমার পাশে এসে মন খারাপ করে জিজ্ঞেস করে— “মা, বাবা কি আর কখনও আসবে না?” বিশ্বাস করো ইমন, তখন আমি কোনো উত্তর দিতে পারি না। নিশ্চুপ হয়ে ওর সামনে বসে থাকি। আজ প্রায় এক যুগ তোমাকে ছাড়া আছি। তারপরও তুমি ফিরলে না। আর ফিরবে কিনা, তাও অজানা। তোমার অপেক্ষায় অনেক সময় কাটিয়েছি। কিন্তু আর পারছি না। আমি একা এত বড় সংসার সামলাতে পারছি না। তাই ভাবছি—তালহাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেবো। সেখানে আমার ভাই আছে, সে ওকে দেখাশোনা করবে। আর ইমা আপাতত আমার কাছেই থাকবে। সময় হলে উপযুক্ত পাত্রস্থ করব। কালই আমরা এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো। জানি না আবার কোনোদিন এই ভিটেয় ফেরা হবে কিনা। আর তোমার সাথেও দেখা হবে কিনা। তবে তোমায় খুব মনে পড়ে। সবসময় মনে হয়—হয়তো আজ তুমি এসে দাঁড়াবে দরজার সামনে। কিন্তু তুমি কোনোদিন আসনি। আসবে কি না, তাও জানি না। হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না, আবার হয়তো হবে। তাই এই পত্রটা রেখে যাচ্ছি। যদি কোনোদিন ফিরে আসো আর সেদিন যদি আমি না থাকি, তবে এই চিঠিটা পড়ে আমাকে ক্ষমা করে দিও। তোমার সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইবার সুযোগ আমার নাও হতে পারে। তাই এখানেই তোমার এই ভালোবাসার বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি। ইতি— তোমার ভালোবাসার স্ত্রী, হুমায়রা। --- চিঠিটা পড়তে পড়তে কখন যে ইমন সাহেবের চোখ বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়ে মাটিকে ভিজিয়ে দিল, তা তিনি টেরও পেলেন না। আজ তার স্ত্রীকে ভীষণ মনে পড়ছে। হয়তো হুমায়রা তাকে ভুল বুঝেছিল। মনে করেছিল—সে তাদের ছেড়ে কোথাও পালিয়ে গেছে। কিন্তু তারা তো জানে না—ইমন কখনোই তাদের ছেড়ে যেত না। তাকে তো জোর করে তুলে নেওয়া হয়েছিল। চিঠিটাকে তিনি আলতো করে চুম্বন করলেন। তাঁর স্ত্রীর রেখে যাওয়া শেষ স্মৃতি এটি। আবারও যত্ন করে বাক্সের ভেতর রেখে দিলেন। তারপর ধীরে ধীরে ঘরের প্রতিটি অংশ গুছাতে শুরু করলেন। নিজের হাতে সব পরিষ্কার করতে লাগলেন। কিন্তু সত্যিই কি ইমন সাহেব পারবেন তাঁর জীবনটা আবার আগের মতো গুছিয়ে নিতে?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now