বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ জীবনের গল্প - পর্বঃ ০২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X শেষ জীবনের গল্প – পর্ব: ০২ লেখকঃ নাফিজ আহমেদ বিকেলের শেষ আলো তখনো মাটি ছেড়ে যায়নি। চারপাশে একধরনের ক্লান্ত, নিঃসঙ্গ আবহ। আমি একা হেঁটে যাচ্ছি গ্রামের পাকা রাস্তায়, হঠাৎ কানে এলো হাসাহাসি আর মোবাইলের শব্দ। কাছে গিয়ে দেখি, একদল কিশোর মোবাইলে অপসংস্কৃতির কোনো কন্টেন্ট দেখছে। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে তারা তড়িঘড়ি করে মোবাইল লুকিয়ে ফেলল। নরম গলায় বললাম, — ছেলেরা, তোমরা তো সবাই আমার নাতির বয়সী। তোমাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই। ততক্ষণে এক ছেলেই রনি নামের, মুখে বিরক্তি আর কণ্ঠে অবজ্ঞা, বলে উঠল— — এই চল, এই বুড়ো আবার কী বলে শুনতে হবে? তার কথায় বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। আমার চোখে ভেসে উঠল সতেরো বছর আগের সেই দিন। যেদিন শহিদ দাদাকে আমি অবজ্ঞা করেছিলাম, ঠিক এমনভাবেই। নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম— — রাগ করো না, একটা কথা বলি, শুনে না চাইলে চলে যেও। আপত্তি করব না। দলের ভেতর থেকে আবদুল্লাহ নামের একটি ছেলে কণ্ঠে ভদ্রতা মেখে বলল— — বলেন দাদু, শুনি। তারপর না হয় চলে যাব। ছেলেটির চেহারায় শান্তির রেখা। আচরণে সৌজন্যবোধ। বড়দের সম্মান করে, ছোটদের স্নেহ করে। ভাবলাম, সঙ্গদোষে সে যেন হারিয়ে না যায়! আমি প্রশ্ন করলাম— — তোমরা সবাই কি এক বয়সী? — হ্যাঁ। — বলো তো, তোমরা কোন ধর্মের অনুসারী? একজন বলল— — দাদু, আপনি তো জানেনই, আবার জিজ্ঞাসা করছেন কেন? আমি হেসে বললাম— — শুধু বলো। নিজের মুখে উচ্চারণ করলে হৃদয়ে রেখাপাত করে। তারা একসঙ্গে বলল— — আমরা সবাই মুসলমান। — তাহলে নিশ্চয়ই আজ আসরের নামাজ পড়েছ? সবাই কিছুটা চুপ। এরপর একজন বলে— — না, দাদু, কেউই নামাজ পড়িনি। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। ২০৬৭ সাল। সময় অনেক বদলে গেছে। প্রযুক্তির দাপটে ঈমান যেন পর্দার আড়ালে চলে গেছে। ভাবলাম, আমরাও তো তরুণ বয়সে আল্লাহকে ভুলে থেকেছি। অথচ আজ তাদের দেখে নিজের ভুলগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। — বলো তো, তোমরা যখন নামাজ পড় না, ইবাদতের ধারেকাছেও যাও না, তখন কীভাবে নিজেদের মুসলমান বলো? রনি রাগান্বিত হয়ে বলল— — দাদু, এত জ্ঞান দিতে আসবেন না। আমরা জানি কী করতে হবে। আপনি বরং এখান থেকে চলে যান। আমি এবার তার চোখের দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বললাম— — রনি, ধরো আজই যদি মৃত্যু এসে পড়ে? যদি আল্লাহ আর সময় না দেন? যদি তোমার কবরেই শুরু হয়ে যায় হিসাব? তখন তো কেউ তোমার পাশে থাকবে না। একা একাই জবাব দিতে হবে, তাই না? — রনি, তোমার দাদা কি বেঁচে আছেন? — না, দাদু। গত বছর মারা গেছেন। — আবদুল হাকিম ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা বন্ধু। একসাথে কত বিকেল যে আড্ডা দিয়েছি! গ্রামের মানুষ জানত— নাফিজ যেখানে, হাকিম সেখানে। কিন্তু আজ আমি তার কবরেও যাইনি। কারণ কবরের প্রশ্নের উত্তর কেউ কারো হয়ে দিতে পারে না। — রনি, আমিও একসময় তোমার মতোই যুবক ছিলাম। আমি জানি এই বয়সে যা খুশি করতে মন চায়। ইবাদত তখন ভারী লাগে। আমিও গাফেল ছিলাম। কিন্তু তোমাদের মতো এতটা উদাসীন হইনি। কখনো ধর্মকে অবহেলা করিনি। ছেলেরা এবার চুপ। কিছুটা ভাবুক। কিছুটা অনুতপ্ত। তাদের একজন বলল— — দাদু, আপনি যা বলছেন... তা তো সত্যিই। আজ মারা গেলে আমরা কিছুই নিয়ে যেতে পারব না। আমি স্নেহভরা কণ্ঠে বললাম— — তাহলে আজ থেকেই বদলাও নিজেকে। আর তুমি রনি, শুধু নিজের নয়— সবাইকেই নিয়ে আসো আল্লাহর দিকে। এই যে আজ মোবাইলে যা দেখছিলে, এটা মনকে ধ্বংস করে। অন্তরের আলো নিভিয়ে দেয়। এতে শান্তি নেই, কেবল আত্মার অস্থিরতা বাড়ে। তারা লজ্জায় মাথা নিচু করে বলল— — ইনশাআল্লাহ দাদু, আর কখনো এসব দেখব না। সময় মতো নামাজ পড়ব। — শুধু নিজেরা ইবাদত করলে হবে না। যারা করে না, তাদেরকেও ডাকবে। রাসুল (সা.) নিজে শুধু ইবাদত করতেন না, দাওয়াতও দিতেন। সেই দায়িত্ব আজ আমাদের কাঁধে। তাই নিজেরা বদলাবে, আর অন্যদেরও আহ্বান করবে। ঠিক আছে? — ঠিক আছে দাদু! এমন সময় বাতাসে ভেসে এলো সন্ধ্যামালতির সুগন্ধ। আকাশে নেমে এলো মায়াবী আবছা আলো। বুঝলাম, আজানের সময় হয়ে এসেছে। আমি বললাম— — চলো, আজ আমরা সবাই একসাথে মাগরিবের নামাজ পড়ি। তারা কিছুটা সংকোচে বলল— — দাদু, জামাকাপড় তো নাপাক। কাল থেকে শুরু করব? আমি মৃদু হেসে বললাম— — পাক-পবিত্রতা অবশ্যই জরুরি। তবে এখন পরিষ্কার হয়ে, বিসমিল্লাহ বলে ওজু করো। আজ যদি না যাও, কাল শয়তান আরও বড় ধোঁকা দেবে। এই মুহূর্তটাই বদলে দেওয়ার সময়। তারা সবাই একসঙ্গে বলে উঠল— — ঠিক আছে দাদু, আজই মসজিদে যাই। আমি আনন্দে কেঁদে ফেললাম। নিঃশব্দে বললাম— — আলহামদুলিল্লাহ! সবাইকে নিয়ে রওনা দিলাম মসজিদের দিকে। সন্ধ্যার বাতাসে ভেসে উঠল আজানের ধ্বনি— "হাইয়া আলাস সালাহ... হাইয়া আলাল ফালাহ..." আমার অন্তরে বেজে উঠল একটাই কথা— শুধু নিজের জন্য নয়, পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দায়িত্ব নিতে হবে... এখনই। চলবে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব-১২)
→ শেষ জীবনের গল্প - ১১ পর্ব
→ শেষ জীবনের গল্প : পর্ব - ১০
→ শেষ জীবনের গল্প : (পর্ব-০৯)
→ শেষ জীবনের গল্প : (পর্ব-০৮)
→ শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব-০৭)
→ শেষ জীবনের গল্প - পর্ব-০৬
→ শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব-০৫)
→ শেষ জীবনের গল্প - (পর্ব:০৪)
→ শেষ জীবনের গল্প - পর্বঃ ০৩
→ শেষ জীবনের গল্প - পর্বঃ ০২
→ শেষ জীবনের গল্প (পর্ব-০১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now