বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শেষ জীবনের গল্প : (পর্ব-০৮)
✍️ নাফিজ আহমেদ
রনি এখন আর আগের মতো নেই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে পড়া তার জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কারো কল্পনাই ছিল না, এত দ্রুত তার ভেতর এমন পরিবর্তন আসতে পারে। হয়তো সেদিন বৃদ্ধ নাফিজ কাকার আন্তরিক দাওয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর কুদরতে তাকে হেদায়েত দান করেছেন।
মাগরিবের নামাজ শেষে রনি একা বসে আছে স্কুলের মাঠে। চারপাশে সন্ধ্যার নরম আলো, আকাশে পাখির ঝাঁক ফিরছে নীড়ে। বাতাস তার গা ছুঁয়ে চলে যাচ্ছে, অথচ সে ভারী এক চাপা শ্বাস নিয়ে ভাবছে—
“আল্লাহ! এই ছোট্ট জীবনে কত খারাপ কাজ করেছি। আপনি কি আমাকে মাফ করবেন? আমাকে কি আপনার রহমতের ছায়ায় আচ্ছাদিত করবেন?”
অতীতের স্মৃতিগুলো তাকে তাড়িত করছে। কত রাত সে নষ্ট করেছে আড্ডায়, কত সময় ডুবিয়েছে নেশায়। এখন সেইসব মনে পড়লে বুক কেঁপে ওঠে—
“হাশরের ময়দানে যদি আল্লাহ আমাকে প্রশ্ন করেন? যদি আমার পাপের বোঝা আমলনামা ভারী করে ফেলে? তখন তো কেউ কাউকে সাহায্য করতে পারবে না। সবাই নিজের হিসাব নিয়েই ব্যস্ত থাকবে।”
হঠাৎ মনে পড়ল নাফিজ কাকার কথা।
“আহ! কাকা কত সুন্দর করে মানুষকে কুরআন-হাদিস শুনিয়ে দাওয়াত দেন। আমিও যদি পারতাম কাকার মতো মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দিতে! কত ভালো হতো।”
মনের ভার নিয়ে রনি উঠে দাঁড়াল। এশার নামাজের এখনো সময় আছে। ভাবল—
“মসজিদে গিয়ে বসি। যদি ইমাম সাহেবকে পাই, কিছু কথা বলবো। হয়তো নতুন কিছু শিখতেও পারবো।”
মসজিদের বারান্দায় গিয়ে বসে পড়ল সে। ভেতরে নীরবতা। চারপাশের সাদা দেয়ালে জ্যোৎস্নার আভা পড়েছে। হঠাৎ সে ধীরে ধীরে জিকির শুরু করল, রাসুল ﷺ এর উপর দরুদ পড়তে লাগল। মনে মনে ভাবল—
“যিনি রোজ কেয়ামতের দিন আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন, তাঁকে স্মরণ করলেই হৃদয়টা নরম হয়ে আসে।”
কিছুক্ষণ পর ইমাম সাহেব ফিরে এলেন।
—“কি রনি, এই সময়ে মসজিদে বসে আছো?”
রনি সম্মান ভরা কণ্ঠে উত্তর দিল—
—“হুজুর, একা একা বাইরে ভালো লাগছিল না। তাই ভাবলাম মসজিদে আসি। আপনার সাথে একটু কথা বলবো ভেবেছিলাম, এসে দেখি আপনি নেই, তাই বসে আছি।”
—“আচ্ছা, আমি একটু ওযু করতে গিয়েছিলাম,” ইমাম সাহেব মুচকি হেসে বললেন।
—“শরীর কেমন আছে?”
—“ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। তবে হুজুর, একা একা থাকলে ভয় লাগে।”
—“কিসের ভয়?”
—“আগে যে জীবন কাটিয়েছি… আল্লাহ যদি সেইসব কাজের হিসাব নেন? যদি আমার স্থান জাহান্নামে হয়? সেই ভয়।”
ইমাম সাহেব স্নেহময় চোখে তার দিকে তাকালেন।
—“রনি, ভয় পেয়ো না। আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল। বান্দার সমস্ত গোনাহ তিনি ক্ষমা করে দেন।”
রনি বিস্ময়ে থমকে গেল।
—“শুধু ক্ষমা? আর কিছু?”
—“হ্যাঁ, আল্লাহ চাইলে বান্দার গোনাহগুলোকে নেকিতে রূপান্তর করে দেন।”
রনির চোখ ঝিলমিল করে উঠল। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে বলল—
—“সুবহানাল্লাহ! তাই নাকি হুজুর?”
ইমাম সাহেব মাথা নেড়ে বললেন—
—“অবশ্যই। আর তুমি যদি মন থেকে ইচ্ছা করো, চেষ্টা চালাও, তবে তুমিও আল্লাহর দ্বীনের দাঈ হতে পারবে। কুরআনের বাণী মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।”
রনি আবেগে ভেসে গেল।
—“হুজুর, আপনার কথা শুনে বুকটা হালকা হয়ে গেল। আল্লাহ যেন আমাকে তাঁর দ্বীনের খাদেম হিসেবে কবুল করেন।”
—“ইনশাআল্লাহ। আচ্ছা রনি, নামাজের জন্য প্রস্তুত হও। আজানের সময় হয়ে এসেছে।”
রনি উঠে দাঁড়াল। মুখে প্রশান্তির ছায়া।
—“ঠিক আছে হুজুর। আসসালামু আলাইকুম।”
—“ওয়ালাইকুমুস সালাম।”
চলবে...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now