বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ বিকেলের ছোঁয়া

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X অন্ধকারে চোখ মেলে রাখতে রাখতে এখন আসলেও টের পাচ্ছিনা চোখ কি খোলা রেখেছি না বন্ধ! কিছুক্ষণ আগে যা ঘটে গেল তা কি বাস্তব ছিল! আসলেই কি আমি অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসতে পারবো! দুই মাস হয়ে গেলো একটা মেয়েকে পাগলের মতো ভালবেসে যাচ্ছি,কখনো সাহস হয়নি এগিয়ে বলি,ভালবাসি।সাহস না হওয়ার কারণগুলোও যুক্তিসঙ্গত।মেয়েটি একেতো আমার জুনিয়র,তার উপর আমি আবার ভাব নিয়ে থাকা ছেলেদের মধ্যে একজন।ভার্সিটিতে নিউকামার রা আসলেই ছেলেদের মধ্যে উথালপাতাল শুরু হয় যে কোনটা কার,মেয়েটিকে নিয়েও বুকিং দেয়া শুরু হয়,কয়েকজন আবার আমার সাথে লাগানোর ট্রাই করে।শুনলাম মেয়েটিরও নাকি অনেক ভাব,কাউকে পাত্তা দেয়না,আবার শুনি মেয়েটির নাকি চরিত্র খারাপ। দিন কেটে যাচ্ছিলো,ক্যান্টিনের বাইরে দাড়িয়ে ধোঁয়া উড়াচ্ছিলাম,হঠাৎ পিছন থেকে ডাক শুনলাম,"আপনি ফোন দিয়েছিলেন?" কিছু বুঝে উঠার আগে গালে প্রচন্ড বেগে আসা চড় অনুভব করলাম।রাগে শরীর কাঁপছিলো আমার,ইচ্ছে ছিলো মেয়েটাকে টেনে ধরে একটা শিক্ষা দিই।কন্ট্রোল করলাম নিজেকে। মেয়েটার চোখে স্পষ্ট ভয় এবং সেও কাঁপছে। সিগারেট টা মুখের মধ্যেই বেঁকে আছে। আরেকটা টান দিয়ে রুমে চলে আসলাম।মাথায় রক্ত চড়ে আছে,ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামাতে চাইনা।কেউ ব্যাপার দেখার কথা না কারন ক্যান্টিনের এইদিকটায় কেউ খুব একটা আসেনা।এইভেবে ক্ষান্ত হলাম। কিন্তু মেয়েটার এরকম কান্ড ঘটানোর কারণ খুজে লাগলাম।নাহ্ মাথা ধরে আসছে,রুম অন্ধকার করে দিলাম আর সাথে ফুল ভলিউমে মেটাল।দুনিয়ার সব ফাউল চিন্তা থেকে নিজেকে বিরত রাখার টনিক। পরদিন ক্যান্টিন আমাদের সার্কেলের জন্য আলাদা করে রাখা টেবিলে চা খাচ্ছি।শুক্রবার তাই স্বভাবতই সকালের নাস্তা ১২টায় করতে আসা,এসময় ক্যান্টিন ফাঁকাই থাকে।দেখি একটা মেয়ে দূরে দাড়িয়ে আছে।আড়চোখে দেখে নিলাম,মনে হলো আমার দিকেই তাকিয়ে আছে।এবার সামনে আসা শুরু করলো,দেখি ওই মেয়েই।আমি চায়ে মনোযোগ দিলাম,শুনলাম মেয়েটা কি যেনো বললো,ধুর্,ঠিকমতো বুঝলাম ই না।আবার বললো,এবার একটু জোরে,"I'm sorry" না শোনার ভান করে উঠে বিল দিয়ে চলে এলাম। নিজের ভাবে থাকা স্বভাবের কারনে পিছন ফিরে তাকাতে পারলাম না।কিন্তু একদৃষ্টিতে এইটুক দেখেছিলাম যে মেয়েটির চোখ জল্জল্ করছিলো।যাক শান্তি লাগছিলো,আরেকটু পিছনে ঘুরাতে পারলে মজা হতো! রাতে ফেসবুকে ঢুকে দেখি,ওই মেয়ের রিকোয়েস্ট।পৈশাচিক একটা হাসি দিলাম!এভাবেই ঝুলায় রাখলাম কয়েকদিন।মাঝেমাঝে একটু আইডিটা ঘেটে দেখি,সব ই প্রাইভেসি দেয়া,শুধু কভারফটোটা ছাড়া।মোটা ফ্রেমের চশমার ভিতর দিয়ে গভীর কালো চোখ দুটোও নিজের অজান্তে ডুবে যাচ্ছিলাম।মাথা ঝাড়া দিয়ে আবার তাকালাম,নাহ্ পুরাই নেশা,সিগারেটের টানকেও হার মানায়।নিজেকে বুঝালাম এইসব পরীরা আমাদের মতো সাধারণ ছেলের জন্য না।একটা দীর্ঘশ্বাস বেরোলো! কয়েকদিন পর নবীন বরণ।সবাই ব্যস্ত,এইসময়টায় ক্যাম্পাসকে দেখতে চমৎকার লাগে।এইসবের ভীড়ে দেখি একটা মেয়ে আপনমনে শিল্পকর্ম করে যাচ্ছে।ওর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে,মাঝেমাঝে চোখের উপর পড়ছে।কোনো অপ্সরা যেনো মর্ত্যে নেমে এসেছে।এই মেয়ের প্রতি আগে তো এতো টান খাইনি।কি যেনো হচ্ছে,সব থমকে গেছে।মেয়েটা চোখ তুলে আমাকে দেখলো,সাথে সাথে চোখ সরিয়ে নিলাম।ধুর্ মিয়া নিজের উপর রাগ উঠলো। ওখানে থাকা গেলোনা আর রুমে চলে এলাম। ফেসবুক খুলে দেখি মেয়ের মেসেজ,"এভাবে তাকিয়ে ছিলেন কেনো?" কোনো রিপ্লাই দিলাম না,বুঝতে পারছি কিছু একটা ঘটে যাচ্ছে ভিতরে ভিতরে,সামলে নিলাম নিজেকে।এরপর থেকেই দেখি মেয়েটা সবজায়গাই ফলো করছে।আমিও মাঝেমাঝে কোনো একফাঁকে একটু দেখে নি।তারপর নবীনবরণ এর দিন এলো,সবাই সেজে আছে। এরমধ্যে ওই মুখটাকে বারবার খুজছি,কোথাও দেখতে না পেয়ে বসে আছি।হঠাৎ শুনি এনাউন্স হচ্ছে,"এবার স্টেজে আপনাদের জন্য গান পরিবেশন করবে নবীনতম ব্যাচের নীহারিকা।"নামটা শুনে ভিতরের যন্তটাও লাফ দিয়ে উঠলো মনে হয়।দেখি অপূর্ব রূপসী মায়াভরা কন্ঠে গাইছে,ওই ঝিনুকফোঁটা সাগরবেলায় আমার ইচ্ছে করে..." সত্যি ইচ্ছে করছিলো হাতটা ধরে রাখি।পুরোটা সময় মুগ্ধতা,ঘোরে আচ্ছন্ন ছিলাম। সেই রাতে খুব সাহস করে মেসেজ দিলাম,"খুব সুন্দর গেয়েছো" মেসেজ যে কয়বার লিখে ডিলিট দিয়েছিলাম আমি আর আমার খোদা জানেন। শেষে এইভেবে পাঠালাম যে প্রেমের প্রস্তাব তো আর দিচ্ছিনা। কিছুক্ষণ পর রিপ্লাই এলো,"আপনি চাইলে আরো গেয়ে শোনাবো" মেসেজ দিলাম,"হুম afterall first impression isn't the last impression" তারপর দেখি আর রিপ্লাই নেই,নিজের গাধামির জন্য নিজেকে গালি দিলাম,তারপর হঠাৎ দেখি মেসেজ,আপনি কাল ঠিক প্রথমদিনের ওই জায়গাটায় আসবেন,আমি অপেক্ষা করবো,আসা না আসা আপনার ব্যাপার কিন্তু আমি থাকবো,বিকেল ৫টা। " উফ্ ভিতরটা জ্বলছে,অতিরিক্ত সুখে না অন্য কিছু জানিনা। সকাল থেকে মন আনচান করছে।কিছু একট তো নিয়ে যাওয়া উচিৎ কি নিবো!এইসব ব্যাপারে বুদ্ধিসুদ্ধি একটু কমই,লাইফে প্রথম তাও আবার এতো সুন্দরী।অবশেষে কয়েকটা কিটক্যাট নিলাম। দেখি ও গাছে হেলান দিয়ে বসে আছে। কোনো মেয়েকে এভাবে চুপচাপ বসে থাকলে যে এত সুন্দর লাগে,আগে জানা ছিলোনা।কাছে গেলাম,ও বললো বোসো,ওর মুখে তুমি ডাক শুনে অবাক হলাম।বসলাম,ও বললো,"এতো দূরে কেনো?" আমিও বাধ্য ছেলের মতো আরেকটু কাছে এগিয়ে গেলাম।। চকলেট হাতে ধরিয়ে দিলাম,ও একটু হেসে বললো থ্যাংকইউ। মুক্তোঝড়া হাসি,কোনো কার্পন্য নেই,কোনো ভনিতা নেই। আমার হাতটা ধরে বললো বিশ্বাস করো আমি ইচ্ছা করে থাপ্পর দিই নাই। আমি জানতাম না তুমি সে না। আমি ওর ঠোটে আঙুল রেখে চুপ বললাম,বললাম,"আমি জানি রাজন তোমাকে ডিস্টার্ব করছিলো,ওই তোমাকে ডেকেছিলো এমন জায়গায়,ওরা দূরে দাড়িয়ে মজা দেখছিলো,কিন্তু এমনকিছু যে হয়ে যাবে কল্পনাও করেনি।মেয়ে তোমার সাহস আছে,ওরা তো তোমাকে আরো ডিস্টার্ব করা শুরু করতো,আমি বলে থামিয়েছি।" তাকিয়ে দেখছি ও কাঁদছে,আমার মায়াবতী কেঁদেই যাচ্ছে।ওর চশমাটা খুলে,কাঁপা কাঁপা হাতে ওর মুখটা তুললাম।ও বললো,"এসবের মধ্যে কখন তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি জানিনা" ওর চোখদুটো মুছে বললাম,"তুমি অসাধ্য সাধন করে ফেলেছো মেয়ে!" আমার কপালে ও ভালবাসা ছুঁয়ে দিলো,এই প্রথম!এই প্রথম কেউ! নাহ আর অন্ধকার না,এবার ওর চোখের কালোয় ডুবে থাকতে চাই... (সায়ন্তি)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ বিকেলের ছোঁয়া

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now