বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শেষ আশা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X [চোখ দিয়ে পানি পড়ে গেলে আমি দায়ি না) *******শেষ আশা*********** মেয়েটা চুপচাপ একা বসে আছে পার্কে । সানি হাটঁতে হাটঁতে ক্লান্ত হয়ে মেয়েটার পাশে বসল । প্রথমে ও মেয়েটাকে খেয়াল করে নি । ঘুরতেই মেয়েটাকে দেখে একটু সরে বসল । পাঁচ টাকার বাদাম কিনে সানি খোসা ছাড়িয়ে বাদাম খেতে লাগল । একটা বাদামের খোসা ছাড়িয়ে মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল," কারো জন্য অপেক্ষা করছেন না কি ?" মেয়েটা নাক কুচকিয়ে একটু সরে গিয়ে বলল," না ।" কিন্তু বাদাম নিল না । সানি একটু হেসে বলল," ভয় পেয়েছেন নাকি । ভাবছেন বাদামে কিছু মিশিয়ে আপনাকে খেতে দিয়েছি নাকি ? সেরকম কিছু না। আপনি নির্ভয়ে খেতে পারেন ।" মেয়েটা একটু ইতস্তত হয়ে সানির দিকে তাকাল । সানিও মেয়েটার দিকে তাকালো । মেয়েটার চোখের চাহনিতে লুকানো মায়াটা সানি অনুভব করলো । সেই মায়ায়ই সানি বোধহয় মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেল । হাত পেতে বাদামটা নিল । সানি বলল," আপনি কি একা আসছেন ?" মেয়েটা বলল," আমি আমার এক বান্ধুবীর সাথে এখানে এসেছি । ও ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরতে আসছে ।" সানি বলল," ও,আমার নাম সানি । আপনার নামটা জানতে পারি ?" মেয়েটা বলল," মুন ।" নামটা খুব ভালো লাগলো সানির । ভালো লাগাটা লুকিয়ে সানি বলল," আপনার বান্ধবী কোথায় ?" ।একটু দূরে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে বসে বসে কথা বলছে । মুন ইশারায় ওদেরকে দেখালো । সেদিকে তাকিয়ে সানি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল । রাগে বাদামের প্যাকেটা ছুড়ে ফেলে দিল । দ্রুত হেঁটে সেখানে গেল ও । মেয়েটার কান ধরে বলল," তুই এখানে বসে প্রেম করতেছিস । আজকে বাসায় চল ।" মেয়েটা ভয়ে ভয়ে বলল," ভাইয়া, তুই এখানে কি করে আসলি ?" সানি বলল," আগে বাসায় চল । মাকে আজ সব বলব ।" সানি মেয়েটার হাত ধরে টেনে পার্ক থেকে বের হয়ে গেল । মুন হতবিহ্বল হয়ে দাড়িঁয়ে রইল । সানি ওর বোন অর্পাকে নিয়ে রিক্সায় উঠল । অর্পা বলল," ভাইয়া,মাকে কিছু বলিস না । খুব মারবে আমাকে । এবারের মত মাফ করে দে ।" সানি বলল," মাফ করতে পারি তবে একটা শর্ত আছে । অর্পা বলল,"কি শর্ত ?" সানি একটু আমতা আমতা করে বলল,"তোর বান্ধবী মুনকে না আমি খুব ভালোবাসি ।" অর্পা হেসে বলল," তাই । ঠিক আছে আমি তোর কথা মুনকে বলব । তবে তুই কিন্তু আম্মুকে কিছু বলতে পারবি না ।" সানি বলল," ঠিক আছে ।" পরদিন অর্পা মুনকে সানির কথা বলল । মুন কিছু বলল না । শুধু বলল," তোর ভাইয়ার ফোন নাম্বারটা দিয়ে যা ।" অর্পা মুনকে সানির নাম্বারটা দিল । পরদিন মুন সানিকে ফোন দিয়ে বলল," আপনি এত কাপুরুষ কেন ? ভালোবাসার কথা ছোট বোনকে দিয়ে না বলিয়ে নিজে বলতে পারেন না ?" সানি বলল," ঠিক আছে আমিই বলব কালকে সেই পার্কে । আপনি আসবেন ?" মুন বলল," ঠিক আছে কাল সকালে আসবো ।" পরদিন সকালে মুন পার্কে আসলো । কিন্তু সানিকে দেখতে পেল না । বেঞ্চে বসে সানির জন্য অপেক্ষা করতে লাগল । হঠাৎই পিছন থেকে কে যেন বলল," মুন,বাদাম খাবে ?" মুন পিছনে তাকিয়ে দেখলো সানি বাদাম হাতে দাড়িঁয়ে আছে । পাশে এসে বসে বলল," আমি তোমাকে ভালোবাসি । বোনেরটা ছিল ট্রাইলার আর আমারটা পরিপূর্ণ ভালোবাসা ।" মুন বলল," তাই,আসলে প্রথম দেখাতেই তোমাকে খুব ভালো লাগে আমার । তাই আমারও তোমাকে ভালোবাসতে কোন সমস্যা নাই ।" মুন সানির কাধেঁ মাথা রেখে বলল," আমাকে সারাজীবন ভালবাসবে তো ?" সানি মুনের চুলে বিলি কাটতে কাটতে বলল," হ্যা,অনেক ভালোবাসবো ।" পরদিন সকালে মুন সানিকে মেসেজ পাঠালো--"গুড মর্নিং,জানপাখি ।" সানি হাসিমুখে ঘুম থেকে উঠল । ফোন দিল মুন । বলল," ফ্রেশ হয়ে নাস্তা কর তাড়াতাড়ি । এত্ত ভালোবাসি তোমাকে । বাই ।" আবার রাতে মেসেজ দিল --" গুড নাইট,জানপাখি ।" এভাবে প্রতিদিন মুন সকালে আর রাতে সানিকে মেসেজ দিত । আর ফোনে তো কথা হতই সারাদিন । দেখাও করতো প্রায় প্রতিদিন । সানির মনে হয় মুন যদি একমিনিট ওর চোখের আড়াল হয় তাহলে ওর শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় । আর মুন তো আরও পাগলী । সারাদিনই সানির কাছে থাকতে চায় । তাই দিনের বেশির ভাগ সময়ই মুন আর সানি একসাথে থাকে । কত জায়গায় ঘুরতে যায় । একদিন ওরা ঘুরতে যায় বালুর চর । সূর্যের আলোতে বালুগুলো বেশ উত্তপ্ত ছিল । সানি গরম বালুর উপর মুনকে কোলে নিয়ে হাটঁলো।ওর পায়ে ফোস্কা পড়লো । মুন খুব কাদঁলো । সানি বলল," তোমার পায়ে ফোস্কা পড়লে এর থেকেও বেশি কষ্ট পেতাম । মুন সানিকে জড়িয়ে ধরে বলল," তুমি আমাকে এত ভালোবাসো কেন ?" সানি হেসে বলল," তোমাকে ভালোবাসতে কেন জানি খুব ভালো লাগে ।" এভাবেই একে অপরকে পাগলের মত ভালোবাসতে ভালোবাসতে একটা বছর চলে গেল । এই একটা বছরের প্রতিটা দিন সানির ঘুম ভেঙ্গেছে মুনের মেসেজ পেয়ে আবার ঘুমিয়েছেও মুনের মেসেজ পেয়ে । রবিবার । সকাল হয়েছে সবে । সানি ঘুমাচ্ছে । আজ মুন মেসেজ দিল না । ঘুম থেকে উঠে সানি মুনকে ফোন দিল । ফোনটাও সুইচ অফ । অর্পাকে ডেকে বলল," অর্পা,মুনের আম্মুর কাছে একটা ফোন দে তো । দেখ তো মুন কই ?" অর্পা বলল," চল আমার সাথে মুনের বাড়িতে যাব।" সানি বলল," কেন ? " অর্পা বলল," এমনি চল । মুনদের বাড়িতে অনেক মানুষের ভিড় । সানি ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখল মুনের মৃতদেহটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা । অর্পা কেঁদে কেদেঁ বলল," ভাইয়া,কাল রাতে মুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে । হাসপাতাল নেওয়ার পথেই মারা যায় ও ।" সানির বিশ্বাস হল না । শেষবারের মত মুনের মায়াবী চেহারাটা দেখে এক দৌড়ে ও সেই পার্কে চলে আসে । আজ যে ওদের এখানে দেখা করার কথা ছিল । সানি বাদাম কিনে সারা পার্কে মুনকে খুজঁতে লাগলো । কিন্তু আজ আর ওর জন্য কেউ পার্কে অপেক্ষা করছে না । কাঁদতে কাদঁতে ও গোরস্থানে গেল । মুনকে কবর দেওয়া হচ্ছে । সানি জ্ঞানহারা হয়ে গেল । কি করবে ও বুঝতে পারছে না । সারারাত কবরের পাশে বসে কাদঁল সানি । ফজরের আজান দিলে ও নামাজ পরে ঘুমাতে যায় । প্রতিদিনের মত সকাল হল । কিন্তু আজ আর কেউ সানির ফোনে -" গুড মর্নিং জানপাখি " লিখে মেসেজ পাঠায় না । ফোন দিয়ে কেউ বলে না-" ফ্রেশ হয়ে নাস্তা কর তাড়াতাড়ি । এত্ত ভালোবাসি তোমাকে ।" কে পাঠাবে ? যার পাঠানোর কথা সে তো চিরজীবনের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছে ।" দু চোখ বেয়ে অজোরে অশ্রু ঝরে সানির । একটাই আকুতি ওর মনে--ফিরে এসো মুন । আর পারছি না । একা একা আমাকে রেখে থাকতে একটুও কষ্ট হয় না তোমার । তবে ওর একটাই আশা একদিন মুন ঠিকই এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বলবে ," সানি আমি তোমাকে এত্ত ভালোবাসি ।" সেই আশা আর মুনের ভালোবাসার স্মৃতি নিয়ে আজও বেচেঁ আছে সানি ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শেষ আশা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now