বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অপরাজিতাকে ছাড়া আমার এক মুহূর্তও চলবে না। আমি শুধু অপরাজিতাকে চাই। ও আমার অস্তিত্বে মিশে আছে। এ রকম ভাবনায় মনটা বিষিয়ে উঠছে। মাথা থেকে ঘাম ঝরে পড়ছে। তাই ফ্যানের সুইচটি অন করে দিলাম। পাখায় অনেক ময়লা জমেছে।তাই বাতাস কাটতে পারছে না। পরিষ্কার করা দরকার। একটা ন্যাকড়া খোঁজতে লাগলাম। কোথাও খোঁজে পেলাম না। অবশেষে অপরাজিতার একটি পুরনো শাড়ি দিয়ে ফ্যানের পাখাগুলি মুছছি। হঠাৎ করে মাথাটা ঘুরে গেল। চারপাশে অন্ধকার দেখছি! চেয়ার থেকে পড়ে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।
আমার এ অবস্থা দেখে আমার বড় ছেলে অপরাজিতাকে ফোন দিয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলল,
- মা, মা, বাবা তো তোমার শাড়ি নিয়ে ফ্যানের সাথে আত্মহত্যা করতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। দরজা লক করা ভিতরে যেতে পারছি না।
- আমি আসছি বাবা।
অপরা এল। দরজা ভাঙা হল। আমাকে হাসপাতালে নেয়া হলো। আমি জ্ঞান ফিরে দেখি হাসপাতালে। অবাক হয়ে যাই। আরো অবাক হই অপরাজিতা হাউমাউ করে কাঁদতে ছিল। আর বলতে ছিল,
- তুমি কেন আত্মহত্যা করতে গেলে? আমি না হয় অভিমান করেছি। তাই বলে............
- আমি আর বেঁচে থাকতে চাই নি। তুমি ছাড়া আমি কিভাবে থাকতাম বলো? ( আমি বিষয়টি আঁচ করে চালাকি করে বলছি)
- তোমার যদি কিছু হয়ে যেত। আমি কথা দিচ্ছি আর তোমাকে ছাড়া কোথাও যাব না। আমাকে মাফ করে দিয়েছো তো।
- (মনে মনে বলি) এ কাজের ওছিলায় অপরাজিতাকে কাছে পেলাম। যাক এ কথা কাউকে জানানো দরকার নেই।
- কি ভাবছো আনিছ?
- ভাবছি যে আমি যদি মারাই যেতাম তাহলে কি হতো?
আমার মুখে হাতটি রেখে অপরাজিতা বলল,
- ওমন কথা মুখে এনো না। তোমাকে ছাড়া আমিও বাঁচব না। তোমার কিছু হলে আমিও মরে যাব.......... হো হো হো.....
- এমন ভাবে কেঁদো না তো! তোমাকে আজ যেন জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছে।
একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে রাখি। যেন ভালবাসা ফুরাই না। আমি বুঝি, যতই অভিমান করুক না কেন? আমার সহধর্মিণী অপরাজিতা আমাকে খুবই ভালবাসে। এ ভালবাসা যেন শেষ হবার নয়!
আবরার ও আদনান আমার কাছে এসে বসে। আদনান বলে, এখন কেমন লাগছে আব্বু?
- একটু ভাল।
- আব্বু তুমি ও আম্মু কাছাকাছি বসো। ফটো তুলব।
এরপর হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। চব্বিশটি বছর চলে গেছে। চুলে পাক ধরেছে। চোখে উঠেছে মোটা ফ্রেমের চশমা। চোখের পাওয়ার কমেছে। তবুও যেন ভালবাসা কমে নি! ঠিক আগের মতোই আছে। এ ভালবাসা আমার প্রাণপ্রিয় সহধর্মিণীর।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now