বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আর আমি সহ্য করতে পারছি না। বিয়ে না হলেই মনে হয় ভালো হতো। কারণ অপরাজিতা আমাকে আজো কাছে ডাকে নি। কি চলছে তার মনে? এই ভাবনায় মনটা আমার বিষিয়ে উঠছে। ভালবাসা না পাওয়ার মতো কষ্ট পেয়ে চলছি অবিরত। আমি দিশাকূল না পেয়ে ছুটে আসি অপরাজিতার কাছে। অপরাজিতা খাটে বসে ছিল। আমি দ্রুত গিয়ে ওর কোলে মাথাটা রেখে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকি।
- কি শুরু করছেন? এসব কি?
- আমি আর পারছি না সহ্য করতে। তুমি আমাকে একটু বুঝার চেষ্টা করো, অপরা।
- কি বুঝবো আমি?
- তুমি কি চাও, তোমার কারণে আমি কষ্ট পাই?
দেখি অপরাজিতার চোখে একটু একটু করে পানি জমছে। ঠোঁট দুটি অবিরত কাঁপছে! কোন কথা বলছে না। শুধু আমার মাথার চুলে হাত দিয়ে বিলি কাটছে।
- কি ভাবছো, অপরাজিতা?
- আমি আপনাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছি মনে হয়।
- কষ্ট তো পাচ্ছিই!
- আমি কি করব ভেবে পাচ্ছি না?
- এই ছেলেটিকে ভালবাসা যায় না।
আমাকে সরিয়ে বালিশে মুখ গুজে কাঁদতে থাকে অপরা। আমি ওকে টেনে আমার বুকের কাছে নিয়ে আসি। চোখের পানি মুছে দেই। আর বলি,
- তুমি কাঁদলে আমি আরো কষ্ট পাই এটা বুজো না।
- আপনি আমাকে এত ভালবাসেন কেন?
- তুমি তো আমার সহধর্মিণী! আমি কাকে ভালবাসব বলো?
আমার চোখের পানি অবিরাম ঝরছে। আমি ও অপরা মুখোমুখি দুজনে। অপরাজিতা আমার চোখের পানি মুছে দিল। আমি অবাক হয়ে গেলাম। তারপর যেটা করল আমি, এটা দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে গেছিলাম আরকি! আমাকে মাথাকে টেনে ধরে তার উষ্ণ ঠোঁটে আমাকে কিস করল। আর তারপর লজ্জায় দৌড়ে চলে গেল। আমি কি ভাবলাম, আর কি হলো? ও তো আমাকেই ভালবাসে। আমিও ওর পিছে দৌড়ে গেলাম।
- এটা কি সত্যি? আমি স্বপ্ন দেখছি না তো, অপরা।
- তুমি আমাকে এত ভালবাসো! আমি কি তোমাকে ভালবাসতে পারি না?
- তুমি আমাকে তুমি করে বলছো।
- আমি তোমাকেই ভালবাসি। তুমি আমার স্বামী না!
- আমি কি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি?
- নিজের বউকে জড়িয়ে ধরতে অনুমতি লাগে নাকি?
আমি ও অপরাজিতা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে রাখি। মনটা উদ্বেলিত হয়। প্রচন্ড ঢেউ। সারাটা দেহে শিউরে উঠে কোমল স্পর্শে।
- অপরা, তুমি আমাকে যে এতটা ভালবাসো কেন বললে না?
- দেখলাম, তুমি আমাকে কতটা ভালবাসতে পারো।
- কেমন দেখলে আমার ভালবাসা?
- আমার যখন এক্সিডেন্টে হয়েছিল তখনই আমি বুঝে গেছিলাম তুমি আমাকে অনেক ভালবাসো। তুমিই আমার আদর্শ স্বামী।
আমার ছোট বোন এসব দেখছিল আর হাসছিল।
- ভাইয়া! ভাবী! আর এত সোহাগ! দেখান লাগবো না।
- তুই গেলি.......
- চলো নব দম্পতি দুপুরের খাওয়ন রেডি।
খেতে চলে যাই। আজ অনেক রেসেপিতে টেবিল সাজানো।
- আজ কি কোন অনুষ্ঠান?
- খা, বাবা, খা। এ সবই অপরা মা রান্না করেছে।
আমার এসব শুনে হেঁচকি ওঠে গেল। অপরা বলে ওঠল,
- তা মনে হয় কিছুই ভাল হয় নি।
- না, সবই অপূর্ব!
- কি রে খোকা, খাবার কি অপূর্ব হয়?
- না, মা। ভাল।
- খোকা, পায়েশটা কেমন?
- দুধে আলতা বরণ অপরূপ!
- খোকা, তুই কি আবোল তাবোল বকছিস?
- মা, আপনার ছেলে মনে হয় পাগল হয়ে গেছে।
- ভাবী, আমি কিন্তু সব বুঝেছি। এ রকম হলে ভাইয়ার পাগল হওয়াই স্বাভাবিক।
আমি খাওয়ার পর রুমে চলে এলাম। আর অনুভব করলাম অন্য রকম এক অনুভূতি! যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।
চলবে.....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now