বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ভালবাসা কি জিনিস তা জানি না আমি? কিভাবে ভালবাসতে হয়? কিভাবে ভালবাসার মানুষকে কাছে টেনে নিতে হয়? শুধু এতটুকুই জানি, ভাল লাগা শুরু হয় একপক্ষ বা এক সত্তা থেকে। দুটি সত্তার ভাল লাগার ফলেই ভালবাসা হয়। দুজনের প্রতি বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। ভালবাসা যখন গভীর বা গাঢ় হয় তখনই প্রেম তার অস্তিত্ব প্রকাশ করে। ফলে বিশ্বাসের সাথে সাথে দুটি মনের অনুভূতি একীভূত হয়ে যায়। এ কারণেই হয়ত লাভ মেরিজ হয়ে যায় দুটি সত্তার। কিন্তু আমি ভাল লাগার শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারল না। ভালবাসা তো দূরের কথা!
আমাদের অ্যারেঞ্জ মেরিজ হয়েছে। তবে আমার স্ত্রী অপরাজিতার একটি সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ছেলেটির কোন উপায় ছিল না। তাই তারা দুটি ভিন্ন পথে হাঁটা শুরু করে। এ কথা অপরাজিতা আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু সে ছেলেটিকে ভুলতে পারে নি বলে আমাকে স্বামীর অধিকার থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল। আমি নিজেকে মানিয়ে নিয়েছি। অপরাজিতা আজো সে সেটা মানতে পারছে না।
আমি তখনই বুঝে যাই যখন অপরাজিতা বাসর রাতে কি বলেছিল?
আমি বাসর রাতে পবিত্র কুরআন শরিফ নিয়ে অপরাজিতার সামনে যাই। অপরা বিছানা থেকে নেমে আমাকে সালাম দেয়,
- আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি।
- ওয়ালাকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি।
- আপনার হাতে ওটা কি?
- পবিত্র কুরআনুল কারীম।
অপরাজিতা খাটে বসে আমাকে জিজ্ঞেস করে,
- আপনি কি আমার পাশে বসবেন? আমার কিছু বলার আছে।
- অবশ্যই, বলো কি বলবে?
- এ বিয়ে কিন্তু আমার অমতে হয়েছে। আমি একটি ছেলেকে ভালবাসতাম।
- ছেলেটির কি হয়েছে?
- ছেলেটি খুবই ভাল ছিল। কিন্তু ওর বাবার মৃত্যু শয্যায় একজন কথা দিয়েছিল তাই সে একটি মেয়েকে বিয়ে করেছে। সে সব খুলে বলেছে। আমিও মেনে নিয়েছি। তবে ওকে ভুলে যেতে পারছি না।
- তো কি করবে ভেবে দেখেছো কি?
- আমার মাথায় কিছু আসছে না। তবে আমি আপনাকে আমার স্বামীর অধিকার দিতে পারব না।
- একজন স্বামীর কাছে এটা যে কত কষ্টের জানাতে পারব না। আমার পরিবার এটা শুনলে তারা খুবই কষ্ট পাবে। চলো নামাজ পড়ে নিই।
অপরাজিতা ও আমি অজু করে দু' রাকাআত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে নিলাম। আমি মোনাজাত এ অনেক কাঁদলাম।
- আমি আপনাকে কষ্ট দিলাম।
- না, কষ্ট নই, হয়ত আল্লাহ আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু রেখেছেন। একটা কথা বলি। তুমি আমার মা বাবার সামনে এ পোশাকে যেও না। ওরা কষ্ট পেতে পারে।
- হুম। আচ্ছা।
আমি ভোরে এমনিতেই গোসল করি। তার পর ফজর নামাজ পড়তে চলে গেলাম। পরে বাগানে ইসলামিক গান গাইতে ছিলাম।
-আপনার কণ্ঠ তো ভারী মিষ্টি!
- ধন্যবাদ, অপরা তুমি!
- এখানে কি আসতে নেই।
- আমি তো এটা বলি নি। কেমন লাগছে আমার পরিবারকে?
- ভাল। তবে?
- তবে কি?
- তবে অবাক হচ্ছি আপনাকে দেখে। আপনি দাঁড়ি রাখেন। আমার কিন্তু এসব ভাল লাগে না। আমি কিন্তু আবার হুজুর দেখতে পারি না।
- তাই!
এভাবে কিছুক্ষণ অপরার সাথে কথা হয়। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন সবই ঠিক হয়ে যায়।
এর বেশ কিছু দিন পরের কথা। আপরা রিক্সায় বাসায় ফিরতে ছিল। তখনই একটি মটর বাইক রিক্সাটিকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়। অপরা গুরুতর আহত হয়। হাত ও পা ভেঙে যায়। আমি নিজে অপরার চুলে খোঁপা বেঁধে দিতাম। অন্যান্য সকল কাজই করতাম। ও অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে চেয়ে থাকতো। আর কি জানি ভাবত?
যা হোক, অপরা তো আমার সহধর্মিণী! ওর প্রতি আমার যে কর্তব্য সেটা আমি করে যাব। এভাবে দিন চলে যেতে থাকে। আমার পরিবারের কেউ কিছুই জানে না। যেন শূন্যতায় আমার দিন চলে যেতে থাকে।
- চলবে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now