বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্বশুরববাড়ি এলোপাথাড়ি (শেষ পর্ব)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X লেখক : সায়েমুস সুহান কি রোমান্টিক মোডে ছিলাম, একেবারে তামাতামা করে দিলে (সায়েম) ওহ নো দুলাভাই! সারাজীবনই রোমান্টিক মোড আসবে, এখন চলো খেলবো? (মিলা) সায়েম মিলার দিকে তাকিয়ে বলল, এই তোমরা একটু বের হয়ে যাও, আমি মিলার সাথে একটু খেলি!(সায়েম) দুলাভাই নিজের চোখ সামলান নয়তো খবর করে ছাড়মু! (মিলা) আমি কি বললাম? তুই বললি খেলবি, আমি বললাম ঠিক আছে। এখানে আমার অপরাধটা কি? (সায়েম) আমি বলছি লুডু খেলার কথা আর আপনি কি খেলার কথা বলছেন, ওইটা আমি বুঝি! বুবুকে কি বলে দিব? (মিলা) হায়হায় কসকি? আমিও তো তোকে লুডু খেলার কথাটাই বলছিলাম! তোর সাথে একা খেললে একটা মজা আছেনা! (সায়েম) বেশি মজা দেখাইতে আইসোনা দুলাভাই, বিপদে পড়বা (মিলা) এই দুলাভাই, কি শুরু করছো এইসব? খেলা শুরু কর।(নাইমা) আকিলকে দেয়া হলো সায়েমের পক্ষে আর মিলা আর ফারাহ বসল, আরেক পক্ষে। মধ্যস্ত হিসেবে নাইমা! খেলা শুরু! ভাটপারিও শুরু। মিলা একের পর এক গুটিকে চুরি করে ঠিক জায়গায় দিচ্ছে, আর সায়েম হা করে তাকিয়ে আছে। প্রতিবাদ করলে মধ্যস্ত নাইমা ওদের পক্ষ নিচ্ছে। হেরে গেল সায়েম! যারা জিতেছে তাদের টাকা দিতে হবে। ফারাহ বলল, দুলাভাই টাকা দেন? টাকা কেন দিবো? (সায়েম) খেলাতে হারছেন তাই টাকা দিতে হবে? (ফারাহ) খেলাতে হারলাম কই? আমাদের ঠকানো হইছে! (সায়েম) এলাপাতাড়ি কথা বলে লাভ নাই, টাকা বের করেন! খেলা মানেই টাকা! খেলাতে হারছেন টাকা দিতেই হবে। (মিলা) খেলাতে বসার আগে তোমরা এটা বলনাই! তাছাড়া আমাকে জোর করেই খেলাতে বসাইছো। সুতরাং টাকা আমি দিমুনা! (সায়েম) চারটা এসে সায়েমের কাঁধে ঝাপিয়ে পড়ল। এবার যাবা কই? টাকা দাও, নয়তো মার খাও! (মিলা) আল্লাহ আকবার!! চারটা একসাথে আমার উপর উঠে বসলা! আমার পক্ষের মানুষটাও দেখি আমার উপরে! ভাম্পায়ার সাহেব আপনি কেন? আপনি তো বিচারক, এ কেমন বিচার করছেন? (সায়েম) দুলাভাই কিছু করার নাই, আপনার পক্ষের হলেও আমি ন্যায়ের পক্ষে! ওরা খেলাতে জিতেছে, টাকা পাবে! সেটা দিয়ে দাও। (আকিল) শোনো বৎসরা, আমি তোমাদের স্যার থুক্কু ম্যাডাম বলছি.... আমার চোখের সামনে খেলাটি যথাসময়ে, যথানিয়মে, আরম্ভ হয়েছে! খেলাটি খুব সুষ্টভাবে সম্পন্নও হয়েছে! এই খেলায় দুইপক্ষের মধ্যে মিলা-ফারাহ জুটি জিতেছে বিধায় অপর জুটি মিষ্টার দুলাভাই ওরফে সায়েম বাবু-আকিল জুটিকে ১০০০ টাকা হারার জন্য ফি দিতে হবে। এক্ষেত্রে আকিল ছোটমানুষ তার টাকাটা মাফ করে মিষ্টার দুলাভাইয়ের ওপর দারস্ত করা হইলো। আদেশক্রমে, পরিচালনা কমিটি! (নাইমা) ১০০০ টাকা! এটা মেনে নেয়া যায়না! এটা রীতিমত ঢাকাতি। আমি কমিটির সিদ্ধান্ত মানিনা! মিস ভ্যাম্পায়ার! (সায়েম) এইদুলাভাই,একদম ভ্যাম্পায়ার বলবা না! চোখ কানা কইরা দিমু (নাইমা) আচ্ছা বলমু না, এবার তো ছাড়ো তোমরা! আমার গর্দানটা একদম ভেঙ্গে যাচ্ছে! (সায়েম) ভেঙ্গে যাচ্ছে তো কি হইছে? কিপ্টামি না ছাড়লে এই রকমই হয়! টাকা যতক্ষণ বের হবেনা এইভাবেই থাকবা! (ফারাহ) আচ্ছা আমাকে ছেড়ে দাও তোমরা! দিচ্ছি তোদের টাকা! (সায়েম) সবাই দুলাভাইকে ছেড়ে দিয়ে সামনে দাঁড়ালো। সায়েম পকেটে হাত দিয়ে মানিব্যাগের মধ্যে থেকে টাকা বের করতে লাগলো। সামনে বের করলে মানিব্যাগ নিয়েই দৌড় দিবে, তারপর কিছু করার থাকবেনা। কি হলো কিপ্টা দুলাভাই! টাকাটা কি বের হয়না? (মিলা) আরে থাম একটু এইতো পাইছি! এই নে ৫০০টাকা আর দিতে পারবোনা। (সায়েম) মিলা টান মেরে টাকাটা নিয়ে বলল, দুলাভাই এখন নিজে নিজের কপালে লাথিটা মারলে! ৫০০ দিতে গিয়ে ১৫০০ দিয়ে ফালাইছো! (মিলা) সায়েম টাঁসকি খেয়ে উঠল। তারপর বলল, আমার ৫০০ টাকা দিয়ে দাও, তোমাদের যা বলা ছিল সেটা রেখে দাও। সবসময় ভুল করলে সমাধান আসে না! এই নিন দুইটাকা! একটা চকলেট খেয়ে নিবেন, কেমন? (নাইমা) সবাই হুড়হুড় করে চলে গেল। সায়েম দাঁড়িয়ে থেকে ভাবতেছে, কি পাজিরে বাবা! কি রকম পেঁচ করে টাকাটা উদ্ধার করে নিল। রুহি ডাক দিল সায়েমকে! এখন খাবার টেবিলে যেতে হবে । যাক খেয়েধেয়ে ঘুমিয়ে পড়াটাই আসল কাজ। নাহলে কোন সময় এসে আবার কি করবে কে জানে? খাবার টেবিলে সবাই বসে আছে। একদম নিরব পরিবেশ। সায়েম অবাক চোখে শালাশালিদের দিকে তাঁকিয়ে আছে। শ্বশুর মশাইকে দেখলে পাজিরা কেমন ভদ্র হয়ে যায়। মনে হচ্ছে হাত দিয়ে ভাত খেতে পারবেনা! রুহি মাথায় ঠোকা মেরে সায়েমকে ইশারা করলো ভাত খেতে। ভাত খাচ্ছে আর ওদেরকে চোখ মারছে। মিলাকে চোখ মারলে সে রেগে যায় তাই তাকেই বেশি চোখ মারছে! এখানে মিলার কিছুই করার নেই, পাশে মা-বাবার নয়তো দুলাভাইয়ের একসাথে চৌদ্দটা বাজাতো! খাওয়া শেষ সবাই যারযার রুমে চলে গেল। রুহি আর তার মা মিলে খাবারের টেবিল পরিষ্কার করতে লাগলেন। সায়েম রুহির রুমে বসে আছে। আবার চারটার আগমন! ওই দুলাভাই আপনি আমাকে চোখ মারলেন কেন? (মিলা) এই ডাহা মিথ্যা কথাটা কেমনে বললি! আমি কখন চোখ মারলাম? (সায়েম) দুলাভাই, আমরা সবাই দেখছি আপনি চোখ মারছেন! আমাকেও দুবার মারছেন! আর মিলা আপুকে তো একশবার! (ফারাহ) না হইছে কি? আমার চোখটাতে কেমন জানি হইছে বুঝি না। শুধু বারবার চোখের ভ্রু নিচ আর উপর হতে থাকে! মনে হয় চোখের চশমা আনিনি তাই এই সমস্যা করতেছে! (সায়েম) নিজকে সাধু সাজাবেন না দুলাভাই? খাওয়ার টেবিলে বসার আগে তোমার চোখ এমনটা তো করেনি? খেতে বসে এমন করে কেন? (মিলা) ওইতো খেতে বসলে ওই সমস্যা করে! (সায়েম) দুলাভাই এতো কিছু আমরা জানি না, চোখ মারছেন ১০০ টা! টাকা দেন একহাজার! ওইটা আপনার জরিমানা! (নাইমা) একহাজার টাকা! টাকা কি গাছে ধরে নাকি? যে তোমরা বলবা আর আমি দিমু। টাকা নাই, দিমু না (সায়েম) আপুকে কি বলে দিবো? যে তোমার অভদ্র বদমাইশ জামাইটা আমাদেরকে শুধু চোখ মারে! (মিলা) এই তো কাঁটা জায়গায় লবন লাগাইছে। এটা যদি সত্যি বলে দে ওরা তাহলে বউটা অভিমান করে বসে থাকবে, আর সেই অভিমানটা ভাঙ্গাতে ভাঙ্গাতে সারারাত চলে যাবে। ঘুমবাবুর ঘুম আর হবে না! টাকাটা মনে হয় এবার দেয়াই লাগবে! দুলাভাই কি ভাবছেন? দেন দেন জরিমানা দিয়ে দেন! (মিলা) এই তোমরা শুধু টাকা টাকা করো কেন? দুলাভাইকে একটু আদর যত্ন করবা তা না! শুধু টাকা আর টাকা! (সায়েম) আদর যত্ন করার জন্য আপুকে তো দিয়েই দিলাম, আর লাগবে না। (নাইমা) কে বলছে লাগবেনা? ওই যে কথায় আছেনা বউয়ের সাথে শালি ফ্রি! (সায়েম) দুলাভাইয়ের বাচ্চা আজ তোমার মাথাটা ফাটায়া ফালামু বলে যেমনি সায়েমকে ওরা ধরতে যাবে তখনই রুহি প্রবেশ করলো ঘরে! ধমক দিয়ে ওদেরকে বাহির করে দিল। যাক টাকাটা বেঁচে গেল। কিসের টাকা?(রুহি) ওইযে তোমার সহোদর ভাইবোনেরা সারাক্ষণ টাকা টাকা করে! এরকম শালাশালি যদি ১০ দিন পাশে থাকে তাহলে যেকোনো টাকাওয়ালা দুলাভাই ফকির হতে সময় লাগবে না। (সায়েম) হইছে, হইছে! আমার কাছে আর সাধু সাজা লাগবে না। আমি ভালো করেই জানি তুমি ওদেরকে টাকা দেওয়ার জন্য এতো টাকা নিয়ে আসো। (রুহি) এইজন্যেই আমার বউটা অনেক বেশি স্পেশাল! কিছু বলার আগেই বুঝে ফেলে। (সায়েম) আমাকে আর পাম মারতে হবে না। কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমাও। (রুহি) এইটা কোনো কথা! ১০ দিন পর আজ বউকে পাশে পাইলাম, এতো তাড়াতাড়ী কি ঘুমানো যায়? (সায়েম) এই একদম ফাজলামি করবা না। সারাদিন অনেক প্রেশার গেছে। এখন যদি দুষ্টমি কর, মাথা ফাটায়া দিমু। (রুহি) তারপরও কোল বালিশ ছাড়া কি ঘুম হয়? (সায়েম) এতো ফাজিল কেন তুমি? ঘুমাও!(রুহি) সায়েম মুখটা কালো করে ফেলল। রুহি কি আর করবে? সায়েমকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়লো। যাক, এবার কোল বালিশ পেয়ে গেছে সায়েম! ঘুমিয়ে পড়তে আর কোনো সমস্যা নেই। ছোট একটা চুমু রুহির কপালে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। সকাল ৭.০০ টার সময় সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। এখনই রুহি আর সায়েমকে বিদায় দিতে হবে। এখান থেকে গিয়ে অফিসের একটা জরুরী মিটিংয়ে জয়েন করতে হবে না হলে অফিসের প্রচুর ক্ষতি হয়ে যাবে। সামান্য নাস্তা করে বের হলো সায়েম আর রুহি। শ্বশুর-শাশুড়িকে সালাম করে মিলা, আকিল, ফারাহ,নাইমার কাছ থেকে বিদায় নিতে গেল। গতকালের হাসি মুখটা তাদের মধ্যে নেই। বারবার তাদের প্রাণপ্রিয় দুলাভাইকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করছে। সায়েমেরও যেতে মন চাইছে না তারপরও তাকে যেতে হবে। অফিসের অনেক বড় একটা দায়িত্ব তার উপরে সেটাওতো দেখতে হবে। সায়েমের মুখটাও অনেক ভারী হয়ে উঠল । শহুরের একাকীত্ব জীবনের ভীড়ে এরকম খুনসুটির সময় পাওয়াই যায়না! সবমানুষই টাকার পেছনে ছুটছে। কাউকে দোষ দিতে পারেনা, কারণ সে নিজেও টাকার পেছনে ছুটে চলা এক প্রাণী। এই একদিনের আনন্দকে সেই তো সবচেয়ে বেশি মিস করবে। মন খারাপ করে একটু একটু করে এগোচ্ছে। মিলা, নাইমা, ফারাহ, আকিল দাঁড়িয়ে দুলাভাই আর বোনের যাওয়াটা দেখছে। বোন আর দুলাভাই আবার আসবেন এটা তারা জানে তারপরও দুলাভাইয়ের এ যাত্রা তারা মেনে নিতে পারছেনা। দুলাভাই আর বোন অনেকটা দুরে চলে গেছেন, আর তাদের দেখা যাচ্ছেনা! মিলা, ফারাহ, নাইমা, আকিল চারজনের চোখের কোণে একটু একটু চোখের জল দেখা যাচ্ছে। চেয়ে আছে পথের দিকে! আমরা ভাবতেই পারিনা, হয়তো এটাই রক্তের বন্ধন ছাঁড়া একটা ভালোবাসার কল্পনা। # খোদা_হাফিজ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্বশুরববাড়ি এলোপাথাড়ি (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now