বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্বশুরবাড়ি এলোপাথাড়ি (পর্ব-২)

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X লেখক : সায়েমুস সুহান আচ্ছা একটু সরে দাঁড়াও। সামান্য সরে দাঁড়ালো সায়েম! শাশুড়ির পায়ের জুতোর ডাক শোনা যাচ্ছে তার মানে তিনি আসছেন! প্রায় দুই হাত দুরে সরে গেল। রুহি মিটিমিটি হাসছে । শাশুড়ি এসে বললেন, সায়েম বাবাজি তোমাকে রুহির বাবায় ডাকছেন, তুমি একটু যাওতো! সায়েম জ্বি আচ্ছা বলে শ্বশুরের রুমে দিকে যাচ্ছে। কই থেকে আবার শালা-শালীরা এসে শক্ত করে হাত ধরে বলল, দুলাভাই চলেন ! কই যামু! আরে চলেন না, পরে বুঝবেন? না বললে মুই যামু না! আরে দুলাভাই ভাব দেখাও কেন? একটু দোকানে যামু চলেন! মিলার কথা শুনে সায়েম চমকাইয়া উঠল, এই চারটারে নিয়া যদি দোকানে যায় তাহলে কি মানিব্যাগ আস্ত থাকবো? কিন্তু শয়তানের দল তো ছাড়বে না। বুদ্ধি বের করতে লাগল। তারপর বলে উঠল, এতো রাতে তোমাদের নিয়ে দোকানে যাবো শ্বশুর আব্বা কি বলবেন? আমি যাইতে পারবোনা। তোমরা আগে অনুমতি নাও তাহলে আমি যামু! আকিল সায়েমকে বলল, সত্যি দুলাভাই আব্বু বললে যাবা? হ্যা অবশ্যই যাবো। ফারাহ ডাক দিল বাবাকে। জবাব দিলেন তারপর বললেন কিরে মা ডাকস কেন? আব্বু দুলাভাই আমাদের নিয়া একটু দোকানে যাইতে চাইছেন! আপনি যদি অনুমতি দেন। কিহ আমি কখন কইলাম!! সবটি হাহাহা করে হাসছে। আর সায়েমের পকেটে কাঁপছে। আজ মনে হয় দুইমাসের বেতন শেষ হয়ে যাবে। ঐদিক থেকে সায়েম মনে মনে বলে উঠল, হায়রে শ্বশুর-আব্বা একটু না করলেই তো পারতেন, অনুমতি দেওয়ার কি দরকার ছিল? নাইমা, ফারাহ, মিলা, আকিল মিলে দুইদিক থেকে দুইহাত ধরল সায়েমের! ছেড়ে দিলে রিস্ক! চলে যেতে পারে। দুলাভাইকে ভালোই চিনে তারা, পুরাটাই ধান্দাবাজ! বউয়ের সাথে পারেনা। শালা-শালির সাথে কিপ্টামিও কম করে না। চারটাই ভাবছে, আজ চলো দোকানে! কিপ্টামি ছুটামো আমরা। সায়েম পরাজিত আসামীর মত চলছে। কোনো ভাবে মানিব্যাগ সরানো সম্ভব না, নয়তো বাঁচা যাইতো। আজকে তাদের যত কেনাকাটা সব করবে আর দুলাভাই মিস্টার সায়েমের পকেট খালি হবে! ঐইযে দোকান দেখা যাচ্ছে! সায়েম সবাইকে বলল, ওই পুলিশ বাহিনী এখন আমাকে ছেড়ে দাও, মানুষ দেখলে কি বলবে? প্রমিস করলাম তোদেরকে দোকানে নিয়ে যাবো? সবাই হাত ছেড়ে দিল, তারা জানে দুলাভাই আর যাই হোক প্রমিস করলে ভাঙ্গেন না । সবাই পেছন পেছন আসছে, দোকান ২০ হাত দুরে! সায়েম মনে মনে আল্লাহর কাছে বলছে, আল্লাহ ওদের থেকে আমার মানিব্যাগ একটু হেফাজত করুন! দুলাভাই মশাই দোকানে প্রবেশ করে চেয়ারে বসে আছেন, চেয়ে আছেন কে কি করছে? চারটায় এমন কেনাকাটা শুরু করল, মনে হয় এই প্রথম বার কোনো দোকান পাইছে! সায়েমের কোনো কিছু বলার নাই, শুধু চেয়ে আছে! নিজেও কিছু কেনাকাটা করল শ্বশুর-শাশুড়ির জন্য, বউয়ের জন্য কিছু চকলেট কিনল। চারটায় ব্যাগ ভরে ভরে দাঁড়িয়ে আছে, মিটিমিটি হাসছে, আর দুলাভাই মিস্টার সায়েমের বারোটা বাজছে । দোকানদার একব্যাগ একব্যাগ করে হিসাব করতে লাগলেন। সায়েমের নিজের হাতের ব্যাগসহ মোট পাঁচটি ব্যাগের হিসাব নিকাশ হলো। এবার কত হইছে সেটা শোনার পালা। সায়েম তাকিয়ে আছে দোকানদারের দিকে! দোকানদার বলে উঠল, পাঁচব্যাগে মোট ২৭৪৫ টাকার কেনাকাটা হইছে। সায়েম মনে মনে বলে উঠল, যাক বাবা বাঁচা গেল, পাঁচহাজারও হয়নি! আমিতো মনে করছি, খাটাশরা দশহাজারের উপরে খরচ করে ফেলবে! এখন সায়েমের ভাব দেখানোর পালা! বলে উঠল, চারটা মানুষ। পাঁচহাজার টাকাও বিল করতে পারলেনা, তাহলে দোকানে আইছো কেন? চারটা এমনভাবে তাঁকিয়ে আছে সায়েমের দিকে এইটা কি শুনলো! নাইমা বলে উঠল, দুলাভাই খরচ করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু বাড়িতে গেলে আম্মু আর আপু আমাদের বকা দিবে তো! তাই খরচ করলাম না। আচ্ছা চল এবার, অনেক রাত হয়ে গেছে। সায়েম শালা-শালিদের সাথে হাঁটছে আর অনেক গল্প করছে, সাথে হাসাহাসি তো আছেই! শ্বশুর বাড়ি আসলে এইজন্য যেতে মন চায়না, সারাক্ষণ আড্ডার মধ্যে চলে যায়। সায়েম আগে ঘরে প্রবেশ করল, তারপর একে একে সবাই আসছে। রুমে যাওয়ার পর রুহি শুরু করল বকা, এতো রাতে দোকানে কি এমন দরকার যে যেতে হবে? সায়েম কিছু না বলে হাসছে! রুহির কাছে ব্যাগটা দিয়ে বলল, ওইটা আব্বা-আম্মু জন্য নিয়ে যাও, আর চকলেট গুলো দিয়ে বলল, এইটা তোমার জন্য । রুহি মুচকি হেসে চলে গেল। মায়ের রুমে যাচ্ছে খেয়াল করল মা মিলাদেরকে বকাঝকা করছেন। ঘরে প্রবেশ করে জিজ্ঞাসা করল, কি হইছে এদের বকতেছো কেন? মা বললেন, ছেলেটাকে দোকানে নিয়ে গিয়ে ওরা ২৭০০ টাকা খরচ করে ফেলেছে! এইটা কি ঠিক করল? ও এই ব্যাপার,আরে বাদ দাও! এই সামান্য টাকার জন্য এতো চেঁচামেচি করো নাতো! কি বলিসরে মা,২৭০০ টাকা তোর কাছে সামান্য হয়ে গেল! সায়েম যা বেতন পায়, তার তুলনায় এইটা কিছুই না! মিলা, আকিলরা হা করে সব শুনছে। মনে মনে নিজেকে তিরস্কার দিয়ে বলছে, এইটা কি করলাম? আরও কিছু কিনার ছিল,ওইগুলো কিনলাম না কেন? যে আপুরে ভয় পাইছিলাম সেও দেখি আমাদের পক্ষে! রুহি মাকে তার বাবার রুমে নিয়ে গিয়ে তাদের জন্য আনা খাবার গুলো দিল। রুহির বাবার একসমস্যা শীত আসলে কম্বল থেকে বের হইতে চান না। যার ফলশ্রুতিতে সায়েমকে সময় দিতে ইচ্ছা আছে তারপরও উঠছেন না। এর অবশ্য একটা কারণ আছে। তিনি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত । ঠান্ডা লাগলে রোগের প্রভাব বিস্তার অনেক বেড়ে যায়। বসে বসে খাচ্ছেন আর মেয়ের জামাইয়ের প্রশংসা করছেন, রুহি তো হেব্বি খুশি! কোনো নারীর সামনে তার বরের প্রশংসা করলে সে কতটুকু খুশি হয় সেটা প্রায় সবাই জানে। মা বাবার রুম থেকে রুহি চলে আসলো। নিজের রুমে ডুকল হাসিমাখা মুখে, সায়েম বরাবরই রুহির হাসিতে পাগল। এখনও তার ব্যতিক্রম হলো না। হাত ধরে টান মেরে তার কাছে নিয়ে আসল। এই করছো কি ? ছাড়ো! সবসময় দুষ্টমি ভালো লাগে না।(রুহি) কিছুই করার নেই, তুমি হাসলে আমার হার্টবিট বেড়ে যায়! এটা তুমি ভালোই জানো। এখন হার্টবির্ট না কমালে আমি তোমাকে ছাড়ছি না। (সায়েম) তো কি করতে হবে আমাকে (রুহি) কি করতে হবে এটাও তুমি ভালোই জানো (সায়েম) আমি পারবো না (রুহি) আমিও ছাড়বো না, যদি কিস না করো (সায়েম)যাহ পাগল, মুখে কিছুই আটকায়না! কি বিপদে পড়লাম রে বাবা (রুহি) বিপদ না, বিপদ না! একটা দিয়ে দাও (সায়েম) রুহি ধীরে তৈরি হয়ে কিস করতে যাবে, ঐ সময়ই মিলা, নাইমা, আকিল, ফারাহরা ঘরে প্রবেশ করল। যেমনি এই দৃশ্য দেখলো ওমনি চিৎকার দিয়ে বের হয়ে গেল। সায়েম রুহিকে ছেড়ে দিল। রুহি এবার রাগি মুখে চেয়ে সায়েমকে বলল, এবার হলো তো? ভালো হইছে না। ওরা দেখছে। সায়েম মুচকি হেসে চোখ মেরে দিল! রুহি আর কি করবে? এমন আজব একটা মানুষের কাছে থাকলে এমন আজব আজব কাণ্ড চোখে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। রুহি চলে আসলো, দরজায় পাশে শুনতে পায় তার ভাই-বোনেরা তাদেরকে নিয়ে গবেষণা করছে। বাহির হয়ে এক ঝাটকা ঝাড়ি দিল সবাইকে! তারপর বলল, দরজায় ডুকতে অনুমতি নিতে হয় সেটা কি তোমরা জানো না। সবাই হাসছে। মিলা বলে উঠল, আপু হেব্বি হইছেরে! মনে হইছে তোমরা গ্রান্ড মাস্তি সিনেমার শুটিং করতেছো। রুহি লজ্জা পেল, মিলাকে ধমক দিল। তারপর রান্নাঘরে দিকে চলল, রাত ১০.০০ বেজে গেছে। সবার খাবার তৈরী করতে হবে। মিলারা সবাই হেসে হেসে দুলাভাইয়ের রুমে প্রবেশ করল। হাতে একটা লুডুর বোর্ড। দুলাভাই লুডু খেলবো চলো। (ফারাহ) তোদের সাথে লুডু খেলব না। (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now