বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক : সায়েমুস সুহান
হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে সায়েম গাছের নিচে বসে পড়ল। আর হাঁটা মোটেও সম্ভব না। থামলেও চলবে না। আর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যা নেমে আসবে। তারপর এই জঙ্গলের মধ্যে রাস্তা দিয়ে কে হাঁটবে? ওমা গো! জান বাঁচাতে চাইলে এখনই দৌড়াতে হবে। ধুর, গ্রামে কেউ বিয়ে করে? এতোদুর হেঁটে আসতে হয়! একটা রিকশাও নেই। সায়েম জুতা খুলে দিল এক ভোঁ দৌড়...! যাক আর ভয় নেই, "ঐ দেখা যায় শ্বশুর বাড়ী, সেখানে আমার বউ!
পৌছে যাই তারপর করবো ঘেউঘেউ"
হাহাহা আমি তো ভালো কবিতা জানি।
শ্বশুর বাড়ীর রাস্তায় পা দিয়েই দেখলো রুহি দাঁড়িয়ে আছে। রুহি সায়েমের স্ত্রী। দেড় বছরের বিবাহিত জীবন তাদের। বউটাকে দেখে সায়েমের মন থেকে সব ক্লান্তি ধুর হয়ে গেল। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে, রুহি সায়েমকে দেখে দৌড়ে আসলো। এক ভূবন ভোলানো হাসি দিয়ে সামনে দাঁড়ালো । সায়েমের সারাপথ আসতে যত কষ্ট হয়েছে, তারচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে রুহির এই রাজ্যজয়ী হাসি দেখে। এই হাসির জন্য পাগল হয়ে রুহিকে বিয়ে করেছিল। রুহি শ্যামলা গড়নের হলেও সারাটা মুখে যেন অনেক মায়া ভরা। রুহি সায়েমের হাতের ব্যাগটি জটপট করে তার হাতে নিয়ে বলল, আসতে খুব কষ্ট হইছে তাইনা?
ধুর পাগলি কষ্ট হবে কেন? পাগলি বউটাকে এতোদিন না দেখে মনটা শুধু ছটফট করতেছে। কিভাবে হেঁটে আসছি বুঝতেই পারি নি। রুহি জানে তাকে খুশি করতে সায়েম প্রায়ই মিথ্যা বলে, এবার বলছে। ৪ কিলোমিটার হেঁটে এসে কেউ যদি বলে কষ্ট হয়নি সেটা কি বিশ্বাস করা যাবে? গ্রামের মানুষ হলে কিছুটা বিশ্বাস করা যেত, কিন্তু শহরের মানুষ! Impossible।
যাইহোক, রুহি বিশ্বাস করছে এমন ভাব
দেখিয়ে বাড়ীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে সায়েমকে।
শ্বশুরের ঘরে ঢুকতেই চারদিক থেকে একগাঁদা শালা-শালী এসে রং করা পানি এক বালতি মাথায় ঢেলে দিল। হায়হায় ছাগলের দল করলটা কি? এই শীতের রাতে আমারে ভিজাইয়া দিল। এখন গোসল করি কেমনে? তাও মটর নাই, পুকুরে গিয়ে গোসল করতে হবে! গ্রামে এমনিতেই ঠান্ডা বেশি। বউ একগাঁদা বকা দিল ওদেরকে, সবাই দৌড়ে পালালো। রুহি এসে সায়েমের হাত ধরে বলল, সরি!
আরে ধুর, কি যে বলনা? শালা-শালীরা আছে একটু ডং তো করবেই? তুমি একটা লুঙ্গি বের করে দাও, গোসল করে আসি। এই শীতে সন্ধ্যার সময় গোসল করতে পারবা? আমি কাপড় দেই তুমি বরং কাপড় দিয়ে মুছে আজকের রাতটা কাটিয়ে দাও।
পাগলিটা কি বলে? সারামুখে আর শরীরে রং লেগে আছে গোসল না করলে কি হবে!
তারপরও শরীর খারাপ করবে তো!!!
কিছুই হবে না, লুঙ্গি দাও।
রুহি দুটো লুঙ্গি নিয়ে এসে সায়েমকে দিল। সায়েম একটা লুঙ্গি পরে আরেকটা হাতে নিয়ে পুকুরে গেল। পানিতে পা ফেলতেই ইইই বলে দৌড়ে আবার উপরে উঠে
আসলো।
এতো ঠান্ডা পানি! আমি ডুব দিয়ে কি ফিরে আসতে পারবো?
বউয়ের কথাটা শুনলে অনেক ভালো হত! কেন যে শুনলাম না । বাড়িয়ে বলে ফেলেছি এখন গোসল তো করতেই হবে। না হলে ইজ্জত শেষ!
দৌড়ে গিয়ে লাফ দিয়ে পানিতে পড়ল। পানিতে নেমে চোখ দুটো উল্টাই দিছে ! এ যেন বরফের টুকরার মধ্যে পড়ে আছে। দাঁতের মধ্যে দাঁত বসিয়ে কিড়িমিড়ি করতেছে । জান বাঁচাতে উপরে উঠতে যাবে ঠিক ঐ মূহুর্তে আবার শালা-হাজির! সবটির হাতে মাটির পাটকেলটি! শুরু হলো ঢিল মারা! বেচারা সায়েম, একের পর এক ডুব দিয়ে নিজেকে ঢিল খাওয়া থেকে নিরাপদ করছে। শেষে না পেরে সবাইকে অনুরোধ করে বলল, তোমরা সবাইকে অনেক টাকা দিমু আমারে আর ঢিল মাইরো না। সবাই যারপরানই খুশি! টাকার আশায় সবাই পাটকেলটি মারা বাদ দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। সায়েম কোনোভাবে উপরে এসে লুঙ্গিটা চেঞ্জ করলো তারপর লুঙ্গিটা ঘাটের নিচে ফেলে দিয়ে বলল, এই এই তোমরা লুঙ্গিটা তাড়াতাড়ী তোলো! লুঙ্গির খাজে মানিব্যাগ! পানিতে পড়লে সর্বনাশ! সবাই মানিব্যাগের আশায়, ঘাটের নিচে গেল। সায়েম এই সুযোগে একসাথে সবাইকে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলে দৌড়ে উপরে চলে আসলো। এখানে থাকাটা নিরাপদ হবে না, বউয়ের কাছে চলে গেল।
ঘরে ডুকেই শুরু করলো কাঁপা সাথে ফ্রিতে হাঁচিও আছে! রুহি অবস্থা খারাপ দেখে দৌড়ে গিয়ে শীতের কাপড় এনে পরিয়ে দিল। কোনো কিছুতেই শীত কমছে না । সায়েমকে শুইয়ে দিল রুহি। একসাথে তিনটা কম্বল উপরে দিয়ে দিল। শুরু করল, বকা! কতবার করে বললাম গোসল করোনা, একবারও কি শুনছো? আমার কথা তো তুমি শুনবা না। রাতের বেলা এখন কি করি? মা যে কই গেলেন এখনও আসছেন না। তুমি আসছো শুনে বাবাও বাজারে চলে গেছেন বাজারখরচ করতে !
আরে এতো উত্তেজিত হইয়ো না আমার কিছু হয়নি! আর আমি সাধে কি এই অবস্থা করছি। মিলা, নাইমা, আকিল, ফারাহ সবাই মিলে পুকুরে পানিতে নামার পর ঢিল মেরে পুকুরে শুধু ডুব দেওয়াইছে, তাই এরকম হইছে ।
তুমি কিছু করতে পারলেনা!
পারলাম না মানে, দেখো গিয়ে একসাথে সবাইরে পানিতে ফেলে দিয়ে এসেছি।
এই কি বল তুমি, এই শীতে ওদের পানিতে ফেলে দিলে! দেখি বাহিরে গিয়ে কি করছে!
রুহি বাহিরে এসে দেখে তার ভাই বোনেরা সবাই শীতে কাঁপতেছে, রুহিকে ভয় করে কিছু বলছেও না, আবার ঘরেও আসছে না! রুহি তাড়াতাড়ী তাদেরকে ঘরে আসতে বললে, কেঁপে কেঁপে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলো। তারপর সবাই রুমে গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করে শুয়ে পড়লো। রুহি সবাইকে চা বানিয়ে খাওয়ালো। সায়েমের শাশুরি কোথা থেকে একহাড়ি ডিম নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেই জিজ্ঞাসা করলেন, কি রে মা, জামাই কই? দেখছিনা যে?
শুয়ে কাঁপতেছে! তোমার আদরের ছেলে-মেয়েরা তাকে গোসল করাইছে তো করাইছে সাথে অনেক গুলো ডুব দেওয়াইছে এই শীতে।
হায়হায় কছ কি? এইটা কি করলো শয়তানের দল!
তাড়াহুড়ো করে মেয়ের জামাইকে দেখতে রুহির রুমে গেলেন। সায়েম এখনও কাঁপতেছে!
হায়হায়রে ছেলেটার কি অবস্থা করছে শয়তানের দল! দেখ কিভাবে কাঁপতেছে।
আসসালামু আলাইকুম আম্মাজান,
কেমন আছেন আপনি?
আমি ভালো আছি বাবা, তোমার কিছু হয়নি তো!
না মা, আমার কিছু হয়নি, অযথা চিন্তা করছেন আপনি!
কি বল, এখনও কাঁপতেছো দেখতেছি! কি করি এখন!
দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে বাহিরে চলে গেলেন। সায়েম হা করে তাকিয়ে আছে। গ্রামে বিয়ে করলে এই একটা সুবিধা সবচেয়ে বেশি! জামাই আসলে শ্বশুর-শাশুরী জামাইয়ের
আদর যত্ন কত বেশি করা যায় সেইদিকেই বেশি খেয়াল রাখেন। শাশুড়ি একটু পর আবার চলে আসলেন। কই থেকে পাতা ধোলাই করে একগাঁদা মালিশ নিয়ে এসে মাথায় বেঁধে দিলেন। শ্বশুরও বাজার খরচ করে বাড়ি এসে গেছেন। তিনিও এসে প্রথমে রুহিকে জিজ্ঞাসা করলেন জামাই কই? রুহি নিজের রুমের কথা বলল, শ্বশুরমশাই আস্তে আস্তে রুহির রুমে প্রবেশ করে দেখলেন, সায়েম কাঁপতেছে আর মাথায় শাশুড়ি ওষুধ লাগাচ্ছেন। এই রুহির মা, জামাইর কি হইছে? জামাইবাবু কি হইছে তোমার?
আসসালামু আলাইকুম আব্বাজান, কিছুই হয়নি আমার! এসে গোসল করছিলাম এমনি একটু ঠান্ডা লাগছে ।
এখন কেমন লাগছে বাজান, শাশুড়ি জিজ্ঞাস করতেই সায়েম বলে উঠল,
আলহামদুলিল্লাহ! অনেক ভালো।
সত্যি সায়েমের কাঁপা বন্ধ হয়ে গেছে! এখনও তাহলে কবিরাজি ওষুধ কাজ করে?
সায়েম ধীরে ধীরে উঠে পড়ল, বড় একটা জ্যাকেট পরে, রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছে। শাশুড়ি অনেক বারন করতেছেন কিন্তু সে হেসে হেসে কিছুই হয়নি বলে যেতে লাগল। শ্বশুর সামনে আর শাশুড়ি পেছন পেছন আসছেন। শাশুড়ি রান্না ঘরে চলে গেলেন আর শ্বশুর নিজের রুমে। সায়েম শালাশালির রুমে চলে গেল। ভাবল, শালা-শালিরা কেমন আছে একটু দেখে আসি। ওদের নিয়েই আড্ডা জমিয়ে দেয়। যাইহোক সায়েম ঘরে প্রবেশ করে হাহাহা করে হেসে দিয়ে বলল, কি শালা-শালিগন টাকা নিবা না? আর ঢিল মারবা? হইছেনা! এখন এখানেই পড়ে কাঁপতে থাকতে থাকো আমি যাই।
একসাথে লাফ দিয়ে চারটা উঠে দাঁড়ালো! সায়েম এখানে থাকা নিরাপদ মনে করল না,দৌড়ে গিয়ে শাশুড়ির পাশে গিয়ে দাঁড়ালো! শাশুড়ি ধমক দিয়ে ওদের তাড়ালেন, এই সুযোগে সায়েম রুহিকে একটা কিস করে দিল!
এই কি করলা তুমি? মা যদি দেখে ফেলতো কোনো লজ্জা শরম নাই! সরে যাও এখন রাঁধতে দাও।
যাবো না......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now