বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"শায়িত সালাম পরিবার,,আজ মুক্ত তাহার প্রাণ"!!(পর্ব-১)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তাওহীদ-(আসিফ তৌহীদ) (০ পয়েন্ট)

X কখনো ভুতুড়ে গল্প লিখা হয় নি।গল্পের ঝুড়ির একজন সদস্য বলেছিলো লেখার জন্য তাই ১ম বারের মতো লেখার চেষ্টা করলাম।ভূল ত্রুটি থাকতে পারে।শুধরে নেয়ার অনুরোধ রইলো। ~~~ আজ আমরা বেড়াতে যাচ্ছি আমার দূঃসম্পর্কের এক চাচার বাসায়।মূলত বাড়িটা একদম গ্রামে হওয়ায় সেখানে যাওয়া।এবারের গরমের ছুটিটা একটু অন্যরকম করে কাটাতে চাই।সেখানে নাকি এখনও অধিকাংশ বাড়ি মাটির তৈরি। দু-একটা ইটের বাড়ি নাকি অনেক ব্যবধানে দেখা যায়।প্রচুর গাছপালায় ভরপুর নাকি ওখানে,লোকালয় থেকে নাকি অনেক দূরে!!!বাবার কাছে গল্প শুনে লোভ সামলাতে পাড়ি নি। তাই এই ছুটিতে ওখানে যাব বলেই ঠিক করলাম।আমি তো খুবি উৎসুক। আমার সাথে যাচ্ছে আমার বড় আপু তমা, আর কাজিন জাওয়াদ(বয়সে আমার দু বছরের ছোট)।হ্যাঁ,আরোও একজন যাচ্ছে আমাদের সাথে। উনি হচ্ছেন কাশেম আংকেল যিনি আমাদের এলাকাতেই থাকেন।বউ ছেলে কেউ নেই।শুনেছি যুদ্ধের সময় পাক সেনার হাতে মারা গেছে।উনি নাকি আগে ঐ এলাকাতেই থাকতেন।তাই আমাদের সাথে যাচ্ছেন একটু ঘুরে আসার জন্য প্লাস আমাদের গাইডেন্স এর জন্য। প্রায় ৫ ঘণ্টা থেকে জার্নি করছি।মাঝখানে আবার গাড়ি নষ্ট হওয়ায় লেট।এখনো আসে না সেই গ্রাম।দিনের আলোও প্রায় ফুরিয়ে গেছে।আমরা অবিরাম চলছি।কাশেম আংকেল এর মুখ থেকে একটা কথা উরে আসছে।যা শুনে আমাদের গলা প্রায় শুকিয়ে গেছে। >সামনে একটা বিশাল জঙ্গল পড়বে।এই জঙ্গলে আগে বিশাল বিশাল শেয়াল থাকত। >তাই বুঝি??(আমি) >হ্যাঁ,,,,,,আগে তো মানুষ এই পথ দিয়ে যেতেই ভয় পেত!! >কেনো???(আপু) >এই জঙ্গলে অনেক মানুষকে শেয়াল খাবলে খাবলে খেয়েছে। >ওরে বাবা,,,শেয়াল মানুষ ও খায়??(জাওয়াদ) >হ্যাঁ,,,শুধু খায় না,,,একদম ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে। >এখনো আছে নাকি???(ভয়ে ভয়ে বলছে জাওয়াদ//ও একটু বেশিই ভিতুর ডিম কিনা!!) >কি যে!!!আছে মনে হয়।।।জঙ্গল যখন আগের মতই আছে ওরাও হয়ত আছে। >ভুত টুত আছে নাকি?(জাওয়াদ) >চুপ কর তো তোর খালি ভুত ভুত।(আমি) >থাকতে কতক্ষণ??(আংকেল) >মজা বাদ দিন তো।এমনিই ভয়ে হাত পা কাঁপছে।(আমি) আংকেল আর কিছু বলে নি।এখন শুধু গাড়ির শব্দ পাচ্ছি। দোকান পাট অনেক পিছনে ফেলে এসেছি।এখন পুরো রাস্তা অন্ধকার।জ্বলছে শুধু গাড়ির লাইট।একটা প্রাণীরও আওয়াজ পাচ্ছি না।সামনে পথটা আরও বেশি কুটকুটে অন্ধকার লাগছে।কিছুটা যেতেই আংকেল বলল এইটাই ঐ জঙ্গল।ধীরে জঙ্গলের রাস্তাটায় প্রবেশ করলাম।জঙ্গলের রাস্তাটায় ঢোকার সাথে সাথে বিকট আওয়াজ আসতে লাগলো।বুঝতে পারলাম আংকেল এর কথা সত্যিই।এখানে প্রচুর শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছে।গাড়ি চলছে শো শো করে।দূর থেকে হঠাৎ হঠাৎ করে শেয়ালের গর্জন ভেসে আসছে।দুপাশ জুড়ে ঝিঝি পোকারা থেকে থেকে শব্দ করে যাচ্ছে।আমাদের কারও মুখে টু শব্দটুকু নেই।প্রচণ্ড বেগে বইছিলো বাতাস।প্রচণ্ড ভীতিকর অবস্থা।আমি জানালার পাশে ছিলাম।ভয়ে হাত পা বার বার শিউরে উঠছিলো। বার বার ভাবছিলাম কবে এই জঙ্গলটা পার হব।হঠাৎ জাওয়াদ ছিটের মাঝে হুমরি খেয়ে মুখ লুকালো।অন্ধকারে হয়ত ভয় পেয়েছে।ও…..অও…….বেশ ভয়ই পেয়েছিলাম। জোর গতিতে চলছে গাড়ি।গাড়িটা নষ্ট না হলে হয়ত এতক্ষণ পৌঁছে যেতা……..… ড্রাইভার কষে ব্রেক করল গাড়িটা।আমি ভয়ে কাহিল… ~এই মর মর…….তোকে মারব আমি মারব…কোথায় যাবি???মরেছে তোর জন্য মরেছে আমার সঙ্গীরা…..মারব তোকে মারব… (আনকেল ড্রাইভার এর পাশে বসে ছিলো,সামনে কি ছিলো? যে ব্রেক করতে হলো তা দেখার জন্যই মাথা বের করে দিয়েছিলেন। অমনি একজন বিশাল দাড়িওয়ালা লোক তার গলা চেপে ধরে চিৎকার করে এটাই বলছিলো,আনকেল হাত ছারিয়ে নিলে দুই হাত দিয়ে টানছিলো তার হাতকে,বিভৎসভাবে কাঁদছিলো ও,আবার থেকে থেকে হাসছিলো) গায়ের বর্ণ ছিলো কুশ্রী। চুল ছিলো বড় বড়,ছেড়া নোংরা কাপড়ে ছিলো সে।একদম পাগলের মত।আমাদের দিকে তাকিয়ে বলছিলো-- >তোরা এসেছিস কেনো??মরতে চাস??ভাগ ভাগ…..নাহলে মরবি।(কেঁদে কেঁদে) >বোকা তোরা বোকা…..যা ফিরে যা….যা…( হেসে হেসে) এসব বলছিলো আর আনকেল এর গলা চেপে ধরছিলো। আমি ভয়ে মৃত,,জাওয়াদ ক্রমশ চিৎকার দিয়ে চলেছে।আপু তো ভয়ে কেঁদেই ফেলেছিলো।পাগলটা চিৎকার দিয়েই চলেছে।আনকেল কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছে।তাড়াহুড়ো করে কাচ তুলে দিতেই ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে এসেছে ওখান থেকে।আসার আগে পাগলটা মেরে একটা জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলেছে।আমরা তো ভয়ে জড়োসড়ো।কোনোমতে বের হয়ে এলাম জঙ্গল থেকে।গাড়ি এসে থামলো চাচার বাসায়।বাসায় পৌছার আগ পর্যন্ত আর বাইরে তাকাই নি।ভয়ে প্রাণ যায় যায় অবস্থা।গাড়ি থেকে নামার আগে বাংলাদেশের একটা ছোট পতাকা পেয়েছিলাম আনকেলের ছিটের নিচে,ময়লা যুক্ত পতাকা।ঐ পাগল্টার হাতে দেখেছিলাম।হয়ত পতাকাটা ওরই ছিলো,হাতাহাতির সময় গাড়িতে পড়ে যায়।ভয় ভেঙ্গে কিছুটা চিন্তায় মগ্ন হলাম।পাগলটা কেনই বা পতাকা নিয়ে ঘোরে,কেনোই বা আনকেল কে মারার হুমকি দিলো আর কেনোই বা অমন ব্যাবহার করছিলো??? ----আসিফ তৌহীদ বি:দ্র: গল্পটা পুরো কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now