বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"শায়িত সালাম পরিবার-আজ মুক্ত তাহার প্রাণ"(পর্ব-২)

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান তাওহীদ-(আসিফ তৌহীদ) (০ পয়েন্ট)

X চিন্তাযুক্ত হয়ে গাড়ি থেকে ব্যাগ বের করছি।যে যার ব্যাগ নিয়ে সদর গেট খুলে ঢুকলাম,চাচা আমাদের নিতে এসেছে। তার সাথে কুশল বিনিময়ের পর্ব শেষ করে বাড়ির দিকে চলছি। চারদিক প্রচুর অন্ধকার।আমরা সবাই চাচার পিছন পিছন যাচ্ছি নিঃশব্দভাবে।হয়ত ভয়ে সবার বেহাল অবস্থা।জাওয়াদ হয়তোবা এখনও থর থর করে কাঁপছে।সামনে দোতলা একটি বাড়ি তবে প্রশস্তে একটু বড়।দেখেই মনে হচ্ছে এই দালানের বয়স ৫০/৬০ বছর তো হবেই।থেকে থেকে খুবই অল্প আলো জলছে,কেমন দম বন্ধ হওয়া পরিবেশ।তবে হয়ত শুধু আমিই চিন্তিত। >আসতে কোনো সমস্যা হয়নি তো? >না তেমন কিছু না আনকেল(চাচা)। এতটুকুতেই আমি স্তব্ধ।আবছা আবছা শুনতে পাড়ছি চাচা এখন আনকেল এর সাথে গাড়ির বিষয়টি নিয়েই কথা বলছে। >কী বলছেন?ঐ পাগল তো খুবই শান্ত।কোনোদিন কারও ক্ষতি করে না।শুধু মাঝে মাঝে বধ্যভূমিতে গিয়ে কাঁদে। >কী যে,,হয়ত কোনো সমস্যা ছিলো। >হতে পারে।পাগলের মাথা কি আর ঠিক থাকে?..... এমনই হাবিযাবি কিছু বলছে।আমি ওসবে কান না দিয়ে চলছি।শুধু কানে চাচার কথাটাই বাজছে যে---শুধু মাঝে মাঝে বধ্যভূমিতে গিয়ে কাঁদে।বুঝলাম না,পাগল ঠিক আছে,কাঁদতেও পারে এটা কোনো মেটার না কিন্তু বধ্যভুমিতে কাঁদে কেনো।তার পরিবার মারা যাওয়ায় কি সে মেন্টালি সিক হয়েছে?তাহলে আনকেল কে দোষারোপ করছে কেন?না, গোলযোগটা কিছুতেই মেলাতে পারছি না। ভাবতে ভাবতে দরজার কাছে পৌঁছালাম।আনকেল(চাচা) দরজা খুলে আমাদের ভিতরে আসতে বলল।বাসার ভিতরে ঢুকে পরখ করলাম এ কোনো জমিদার বাড়ি থেকে কম নয়,সাজ সজ্যা প্রায় অমনি।এই পুরো বাড়ি মিলে শুধু তাদের পরিবারই থাকে।আমার বয়সী এক মেয়ে আমাদের নিয়ে গেলো দোতলায়,আমাদের থাকার ব্যাবস্থা করে দিতে,চাচার মেয়ে হবে হয়ত।উপরে গেলাম।বাহ বেশ পরিপাটি করে গুছিয়ে রেখেছে দেখি তিনটে ঘর।রুমে গিয়েই ফ্রেশ হয়ে নিলাম।কারো সাথে কথা না বলে নির্লজ্জের মত শুয়ে পড়লাম বিছানায়।কী করব?বড্ড ক্লান্ত লাগছিলো। রাতে চাচা খেতে ডেকেছিলো তবে আমি যাইনি।খাওয়ার কোনো রুচিই ছিলো না।প্রচুর আনইজি ফিল হচ্ছিলো।চোখটা কখন লেগে গেছে তাও বুঝতেওপারি নি। >যা বাছা চলে যা?অযথা নিজের জান কেনো দিবি? >যেতে বলছি তো।(রেগে চোখগুলো বড় বড় করে) বার বার একই কথা বলছে, আমাকে যেতে বলছে। এবার বিভৎসভাবে হাসছে।এবার কেনো যেন তাকে আরো বেশি ভয়ঙ্কর লাগছে।আমার চারিদিকে ঘুরছে।বিশাল বিশাল কালো দাঁতগুলো বের করে হাঁসছিলো।চোঁখা এক লাঠি দিয়ে কেন যে বার বার আমাকে হানছিলো।এবার মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে।আমাকে ধাক্কা দিচ্ছে ও,বুঝতে পাড়লাম প্রচুর শক্তি হাতে।আমি থর থর করে কাঁপা ছাড়া আর কিছুই করতে পাড়ছিলাম না।সে আমাকে অবিরাম ধাক্কা দিয়েই চলেছে।আমি না পাড়ছি কিছু বলতে আর না পাড়ছি কিছু সইতে।প্রতি ধাক্কায় আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ছিলাম।হাতে চোঁখা লাঠি দিয়ে হেনে আমাকে আবার দ্বার করাচ্ছিল। আবার পূর্বের ন্যায় সেই ধাক্কা।চারদিকে তাকাচ্ছিলাম যদি সাহায্যের জন্য কাউকে পাই। উমহু,,,,,কিছুই পাই নি তবে আমার পিছনে আমি একটি কুয়ো আবিষ্কার করলাম,প্রচুর পুরোনো কুয়ো, প্রায় ৩০/৪০ বছর আগের তো বটেই।চারিপাশ কাঠ দিয়ে ঘেড়া তবে কাঠগুলো ভাঙ্গা,কিছু কাঠ এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।বুঝতে বাকী রইলো না চোখা দন্ডটা কী ছিলো।এইসব কাঠেরই ভাঙ্গা একখণ্ড অংশ ।একটি স্টিলের পাত দেখতে পেলাম কূয়োটাত গায়ে।কী যেনো লিখে রেখেছে পাতটাতে।চোখটা একটু তীক্ষ্ণ করে লেখাটা পড়ার চেষ্টা করলাম।ঠিক তখনি অনুধাবন করলাম এবার আমার গায়ে প্রচুর জোরে একটা হানা দেয়া হলো।হয়ত এতটাই সজোরে দিয়েছে যে আমার প্রাণ যায় যায় অবস্থা।এবার আমি চিৎকার করার উপক্রমে তখনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় ঐ কুয়োতে।আমি আতঙ্কিত,দ্রুতগতিতে নিচে পড়েই চলেছি।সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।সজোরে চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। চিৎকার শুনে জাওয়াদও জেগে গেছে।পাশের রুম থেকে আপু এসেছে।আরও মানুষের পায়ের শব্দ পাচ্ছিলাম।চিৎকার শুনে হয়ত আমাদের রুমেই আসছিল।সকলের একই প্রশ্ন--কী হয়েছে?? শুধু বললাম খারাপ স্বপ্ন দেখেছি তবে কী বিষয়ে দেখেছি তা আর বলার সাহস হয়ে উঠলো না।কিছুক্ষণ ঝিম লেগে বসে ছিলাম। তারপর উঠে বাথরুম এ চলে গেলাম।ফ্রেস হয়ে বসে আছি,আন্টি এসে ডেকে গেলো খাওয়া দাওয়া করার জন্য।প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে।কাল রাতেও পেটে কিছু পড়ে নি।তাই গেলাম নিচে।নাহ যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি লোকসংখ্যা এ বাড়িতে।চাচার বাবা,মা--- আর বড়-ভাই এর পরিবারও থাকে একই সাথে।জয়েন্ট ফ্যামিলি বলা চলে আরকি।খেয়ে দেয়ে যাওয়ার কথা বাইরে।রাতের বেলা যেমনি ভয়ংকর লাগে দিনের বেলা নাকি ঠিক তেমনি অপরূপ লাগে জায়গাটিকে।তাই উপরে গিয়ে রেডি হয়ে আসলাম।আমরা চারজন, চাচা আর তার মেয়ে মিলে বের হয়েছি।নাহ বেশ ভালাই লাগছে।চারদিকে সারি সারি গাছপালা,পাখির ডাকাডাকি,মৃদু রোদের আলো,শীতল নরম বাতাস।নাহ,ভালাই লাগছে।মেজাজটা ফুরফুরে হয়ে গেলো।রাতের সব কথা একদম ভুলিয়ে দিয়েছে।বাবার কথাই ঠিক ছিলো।এখানে প্রত্যেকটা বাড়িই মাটি দিয়ে তৈরি।প্রত্যেকটা রাস্তা সোজা।রাস্তার এমাথা থেকে ওমাথা দেখা যায় এমন।রাস্তার দু’ধার দিয়ে সারি সারি মাটির বাড়ি।প্রত্যেকটা বাড়ি দেখতে একই রকম তবে কোনোটার রঙ্গের সাথে কোনোটার রঙ্গের মিল নেই।রঙ্গিন এলাকা বলা চলে।বাড়িগুলোর দেয়ালে প্রাচীন কালের মত নকশাও করা। এলাকাটা প্রচুর শান্ত, নিরিবিলি।দিনের বেলাও কেউ একা একা পথ হাটতে ভয় পাবে।এখানকার লোকেদের মনে হয় সয়ে গেছে।বিদ্যুৎ এর সরবরাহ আছে তবে সবসময় থাকে না।যেখানে এমন নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশ সেখানে বিদ্যুৎ নিতান্তই একটা দূষণের বিষয়।আরোও বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখলাম।প্রায় দুপুরের ঐদিকে বাড়িতে ফিরলাম।এতক্ষণ যে ঘুরলাম যতগুলো বাড়ি দেখেছি তার তুলনায় খুব একটা মানুষ দেখতে পাই নি।সবাই নাকি মাঠে কাজ করে,তাই ভোর বেলাই বেড়িয়ে পড়ে।এরা আবার বাসা একজায়গায় করে আর চাষাবাদ অন্যজায়গায়।দোকানোও তেমন চোখে পরে নি।শুধু একটা বাজার দেখেছি তবে সেখানে বাজারের কোনো পরিবেশই ছিলো না।হয়ত বিকেলে শোরগোল হয়,দুপুরবেলা নয়। বাড়িতে এসে ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া করলাম।দুপুরে একটা ঘুম দিয়ে উঠলাম বিকেল বেলা,রোদ এখনো বিদ্যমান।নিচে গিয়ে দেখি আপুরা মিলে সবাই গল্প করছে।সময় কাটাতে যোগ দিলাম। গল্প শেষে যে যার রুম এ…..সন্ধ্যে গড়িয়ে এখন রাত।বসে বসে উপন্যাস পড়ছিলাম।জাওয়াদ ঘুমিয়ে গেছে।বাড়িরও প্রায় সব লোক ঘুমিয়ে গেছে।ফাঁকা মাঠে থাকার মতো অনুভব হচ্ছে।কোনো টু শব্দ নেই এলাকায়।আসলে ভোরে উঠতে হয় বলে এলাকার সবাই ঘুমিয়ে গেছে শুধু কয়েকটা কুকুর বাদে।থেকে থেকে ওরাই চিৎকার দিয়ে উঠছে।ভেউ...উ...উ...।চোখটা এখন বন্ধ হয়ে আসছে,মনে হয় প্রচণ্ড ঘুম পেয়েছে।হাত দুটো উপরে তুলে শরীরটা একটু মোচর দিয়ে নিলাম যেন ক্লান্তিটার একটু অবসান ঘটে।বইটা বন্ধ করে বাথরুমে গেলাম।ব্রাশ করে বের হয়ে জানালা দিয়ে একটু উকি দিলাম,কুটকুটে অন্ধকার। কোথাও আলোর ছিটেফোটা টুকুও নেই।চাঁদটাও আজকে মুখ লুকিয়েছে,অমাবস্যার রাত মনে হয় আজ।জানালা বন্ধ করে বিছানায় গিয়ে বসলাম।মৃদু আলোতেও আমার ঘুম আসেনা তাই টেবিল লেম্পটা নিভিয়ে দিলাম।শুয়ে পড়েছি,তবে কিছুটা শীত করছিলো।পায়ের কাছে একটা চাদর ছিলো তাই নেয়ার জন্য উঠে বসলাম।দরজাটা আমার সামনেই।শো-----করে শব্দ করে সাদা কী যেনো একটা দেখতে পেলাম চাদরের মত।কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম।মনকে শক্ত করে বললাম কেউ হবে হয়ত।কিন্তু এত রাতে কে জেগে আছে??..বালিশের কাছে হাতাতে লাগলাম।চাচা একটা টর্চ দিয়েছিলো।রাতে নাকি অনেক সময় কারেন্ট থাকে না,হয়ত কাজে লাগবে। হুম পেয়ে গেছি।টর্চের সাথে সেদিনের ঐ পতাকাটাও পেলাম।কী যেন ভেবে পতাকাটাও সঙ্গে নিলাম।তারপর মনে শঙ্কা নিয়ে দড়জার দিকে এগিয়ে গেলাম।উহু….কেউ নেই।কে ছিলো দেখার জন্য নিচে গেলাম।সেখানেও কেউ নেই।ভ্রম ছিলো ভেবে চলে আসছিলাম।তবে বাইরে থেকে আবারো শো…..শব্দটা আসতে লাগল।এবার একটু জোরেই হচ্ছিলো শব্দটা।ভয় লাগছিলো তবে আগ্রহজনক একটা শক্তিতে বাহিরে যাওয়ার সাহস সঞ্চয় করলাম। বড় দড়জাটা সাবধানে খুলছিলাম যেনো পরে কেউ টের পেয়ে না যায়।ধীরে ধীরে খোলায় “এরর…রর” মত শব্দ করছিলো তবে আস্তে।দরজাটা খুলে বাহিরে তাকাতেই আমার চোখ মাথায়।পা কাঁপছিল, মাথাটা কেমন ভন ভন করছিলো।ক্ষণিকের জন্য মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে,রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে,শুধু ধক ধক শব্দ করে যেনো হার্টবিটই বাড়ছে।জ্ঞান হারাতে গিয়েও কেনো যে দ্বারিয়ে আছি তাই বুঝতে পারছিলাম না।শুধু সেই শব্দটাই এখনও কানে বাজছে….শো...শ...শো…. -------------আসিফ তৌহীদ বি:দ্র: গল্পটা পুরো কাল্পনিক। বাস্তবের সাথে এর কোনো মিল নেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now