বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাস্তি পর্ব (৬)

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Md mainul islam (sagor) (০ পয়েন্ট)

X দোলার ডাকে সকালে ঘুম ভাংল আকাশের।সাধারনত এলার্ম শুনে উঠে অভ্যাস।প্রতিদিনই দোলা ঘুমিয়ে থাকতেই ও উঠে যায়।আজ ব্যতিক্রম হল।দোলাও খুব অদ্ভুত গলায় ডাকছে ওকে।খুব নরম আদুরে গলায়।।দোলা সাধারনত এভাবে কথা বলে না। -এই যে সকাল হয়ে গেছে।উঠুন।অফিস যেতে হবেনা বুঝি? আকাশ একটু বিস্ময় নিয়েই ঘুম ঘুম চোখে দোলাকে বলল, -আপনি উঠে গেছেন?কয়টা বাজে? -৮.৩০ আকাশ বুঝল এজন্যই এলার্ম বাজে নি.৯টায় এলার্ম দিয়েছিল।দোলা আকাশকে আরও অবাক করে দিয়ে বলল, -টেবিলে নাস্তা রেডি করছি।আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন। বলেই খুব ছোট ছোট পা ফেলে রুম থেকে বের হয়ে গেল।আকাশ হা করে তাকিয়ে রইল।এখনও ঘোরের মাঝে আছে ও।দোলাকে এত নম্রভাবে আস্তে করে হাঁটতেও কখনও দেখেনি সে।সবসময়ই তিড়িংবিড়িং করে মেয়েটা।যাই হোক মনে হয় সে স্বপ্ন দেখছে।নিশ্চিত হও্য়ার জন্য হাতে একটা চিমটি কাটল।নাহ স্বপ্ন না এগুলো আসলেই ঘটছে।খুব দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে চলে এল আকাশ।এসে দেখে মায়ের সাথে নাস্তা রেডি করছে দোলা।বিস্ময় নিয়েই চেয়ার টেনে বসল।এর মাঝেই মা প্লেট হাতে নিয়ে বললেন, -রুটির সাথে কি নিবি? আকাশ বলতে যাবে তখনই দোলা মায়ের হাত থেকে প্লেটটা টেনে নিয়ে বলল, -মা আমি উনাকে দিচ্ছি। তারপরই আকাশের পাশে এসে দাঁড়াল । -আপনাকে কি আগে সবজি টা দেব? আকাশ বিস্ময় নিয়ে দোলার দিকে তাকিয়ে ছিল।এই কথা শুনে সংবিত ফিরে এল ওর।ও বলল, -ডিম ভাজা টা দিন - - সবার খাওয়া হলে দোলা রান্নাঘরে চলে গেল।এর মাঝেই মা চিমটি কেটে বলল, -কিরে এত অবাক হয়ে কি দেখছিস? -না মানে উনাকে এভাবে কখনও দেখিনি তো তাই -বলেছিলাম না সময়ের ব্যাপার।আস্তে আস্তে ও ঠিকই মানিয়ে নেবে। বলেই হেসে ফেললেন মা।আকাশের বিস্ময়ের ঘোর এখনও কাটছে না।সে উঠে রুমে চলে গেল।আকাশ চলে যেতেই দোলা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে এল মায়ের কাছে। -মা কি মনে হল?উনি কি খুশি হয়েছেন? -খুশির থেকে বেশি অবাক হয়েছে।অবশ্য মনে মনে অনেক খুশি হয়েছে বোঝাই যাচ্ছে। আকাশ খুশি হয়েছে শুনে দোলার খুব ভাল লাগল।মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলল, -মা আমাকে তাড়াতাড়ি শিখিয়ে দিন কিভাবে ভাল বউ হতে হবে। মা হেসে বললেন, -পাগলি একটা!!! - - অফিসের জন্য রেডি হও্য়ার জন্য কাপড় বের করতে যাবে তখনই দোলা কিছু কাপড় আকাশের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, -এই নিন আপনার অফিস যাওয়ার কাপড়।আর বিছানায় ব্যাগটা আগেই রেখে দিয়েছি। বলেই একটা মিষ্টি হাসি হাসল।আকাশ কিছুই বুঝতে পারছে না।হঠাত দোলা এরকম অদ্ভুত আচরন কেন করছে?যাই হোক এখন এসব নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় নেই।অফিস থেকে এসেই কথা বলতে হবে।সে দ্রুত তৈরি হয়ে অফিসে চলে গেল। - - রাতে অফিস থেকে ফিরে দেখে দোলা পড়ছে।যাই হোক সারাদিনে একটা নরমাল কাজ মেয়েটা করছে।দেখে একটু স্বস্তি পেল।বিছানায় বসে জুতা খুলতে যাবে তখনই দোলা বলল, -দাঁড়ান বলেই দোলা এসে আকাশের জুতার ফিতা খুলতে চাইল।আকাশ হতভম্ভ হয়ে গেল।দ্রুত পা সরিয়ে নিয়ে বলল, -কি করছেন এসব?আপনার মাথা ঠিক আছে? -আপনি আমার স্বামী।স্বামীরা অফিস থেকে ফিরলে স্ত্রীদের এভাবেই জুতা খুলে দিতে হয়। আকাশ সকাল থেকে ধাক্কার উপর ধাক্কা খাচ্ছে।দোলার কি হয়েছে কে জানে।এখন ভয় করতে শুরু করেছে।মেয়েটার মাথায় সমস্যা হয়ে যায়নি তো?ও দোলাকে আস্তে করে ধরে বিছানায় বসাল।বসিয়ে খুব শান্ত গলায় বলল, -কি হয়েছে আপনার বলুন তো?কোন সমস্যা থাকলে প্লিজ খুলে বলুন আমাকে। -কোন সমস্যা হয়নি।আমি ভাল বউ হউয়ার চেস্টা করছি।মায়ের থেকে সব শিখছি। -মানে?এগুলো মা করতে বলেছে আপনাকে? -মা কিছু কিছু জিনিস করতে বলেছে আর বাকি জিনিসগুলো হিন্দি সিরিয়াল দেখে শিখেছি। এই কথা শুনে আকাশ আর হাসি ধরে রাখতে পারল না।হো হো করে হেসে উঠল।অন্য সময় হলে দোলা রেগে যেত।কিন্তু শ্বাশুড়ি শিখিয়েছেন ভাল বউরা সহজে রাগেনা।তাই ভাল বউয়ের মত আকাশের সাথে সেও একটা শুকনো হাসি হাসল।কোনমতে হাসি থামিয়ে আকাশ বলল, -আপনার এসব কিছুই করার দরকার নেই।যেমন ছিলেন তেমন হয়ে যান প্লিজ।এভাবে আপনাকে একদম মানায় না। বলেই আবার হাসতে শুরু করল আকাশ।দোলা অবাক হয়ে লক্ষ্য করল তাকে নিয়ে আকাশ হাসছে তবুও তার একদম রাগ উঠছে না।কেন যেন আকাশকে প্রান খুলে হাসতে দেখে খুব ভাল লাগছে।তবুও রাগ করার ভান ধরে বলল, -দেখুন একদম হাসবেন না আমাকে নিয়ে।আমি আপনাকে খুশি করার জন্য এতকিছু করছি আর আপনি হাসছেন আমাকে নিয়ে?একদম ঠিক করছেন না। এই কথা শুনে আকাশ চুপ হয়ে গেল।শান্ত গলায় বলল, -আমার জন্য করছিলেন এগুলো আপনি? -জ্বী -আমাকে খুশি করার জন্য আপনার এসব করার দরকার নেই।তবে একটা কাজ করতে পারেন। -কি? -আপনি তো বাসায়ই থাকেন।মায়ের সাথে পারলে একটু বেশি সময় কাটাবেন।রুম্পা সারাদিন কলেজে থাকে।মা হয়ত একাকীত্ব বোধ করেন।কথা বলার কাউকে পাননা তো তাই।এটা করলেই আমি খুশি।পারবেন করতে? দোলা মাথা নিচু করে মাথা নেড়ে বুঝাল যে সে পারবে।আকাশ আবার বলল, -আমার আরেকটা অনুরোধ রাখবেন? -বলুন -আপনি প্লিজ এইসব হিন্দি সিরিয়াল দেখা বাদ দিন বলেই আবার হাসতে শুরু করল - - রাতে খাওয়া দাওয়া শেষে যখন শুতে যাবে আকাশ তখন দোলা বলল, -আপনি একটু চোখ বন্ধ করুন তো -কেন? -যা বলছি করুন।আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। আকাশ বুঝল তর্ক করে লাভ নেই।ও চোখ বন্ধ করল। -এবার চোখ খুলুন।। চোখ খুলে আকাশ অনেকটাই হতবাক হয়ে গেল।গীটারটা জোড়া তালি দিয়ে ঠিক করা হয়েছে।যেভাবে ভেঙ্গেছিল এটা ঠিক হবে বলে কল্পনাও করেনি সে।দোলার হাত থেকে গীটারটা নিল সে। -এটা ঠিক হল কিভাবে?আমি তো ভেবেছিলাম সম্ভব না। -আমি আর মা মিলে অনেক কস্টে জোড়া লাগিয়েছি।তারপর বাইরে গিয়ে লোক দিয়ে তারগুলো ঠিক করে এনেছি।দেখুন তো ঠিকমত বাজে কিনা।আমি অনেক ভয়ে আছি। আকাশ চেক করে দেখল গীটার বাজে।সব ঠিক আছে।দোলাকে কি বলবে ভেবে পাচ্ছিল না ও।সত্যিই অনেক খুশি লাগছে এখন।দোলা বলল, -আপনার একটা পছন্দের গান শুনাবেন আমাকে প্লিজ?আমার খুব শুনতে ইচ্ছে করছে আকাশ তমার পছন্দের গানটা গাইতে শুরু করল।গাইতে গাইতেই চোখের কোণে পানি চলে এল।গাওয়া শেষে দোলাকে বেশি কিছু বলতে পারল না।শুধু বলল, -ধন্যবাদ (চলবে


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাস্তি পর্ব (৬)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now