বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাসুদ আনোয়ার
লোকটা যুবক। কিন্তু যৌবনের
যে সজীবতা ও উচ্ছ্বাস, তার কিছুই আর
অবশিষ্ট নেই শরীরে। ভাঙা গাল আর
বিশীর্ণ হাত-পা। মাত্রাছাড়া মদ
খাওয়ার কুফল। হাত-
পা ছেড়ে দিয়ে দড়াম
করে পড়ে যাওয়ার
মতো করে খালি চেয়ারটায়
বসে পড়ল সে। কর্কশ, ফ্যাঁশফেঁশে গলায়
প্রায় ফিস ফিস করে বলল,
‘আমি ওকে খুন করেছি…আমি আমার
বউকে খুন করেছি…’
‘না, তুমি ওকে খুন করোনি,’
সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল
তামাটে মুখের ডাক্তার। ‘কিন্তু
তুমি যদি ভয় পেয়ে পালিয়ে যাও,
তাহলে সূর্যাস্তের আগেই
ওরা তোমাকে ধরে এনে মন্টানার
টেলিগ্রাফের খুঁটিগুলোর
যে কোনো একটা থেকে ঝুলিয়ে
দেবে।’
‘কেবল মাতালরাই ঘটাতে পারে এমন
কাণ্ড,’ ফুঁপিয়ে উঠল যুবক। হতাশায় কাঁধ
ঝুলে পড়েছে ওর। বোঝা যাচ্ছে, ওর
মনের যে অবস্থা, তা সহ্য করা ওর
পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
‘মাতাল মানে? অন্য মাতাল আর পাচ্ছ
কোথায় তুমি? কাউন্টির
সবগুলো সেলুনে তো মাতাল
হিসেবে লোকে তোমাকেই চেনে।’
‘অ্যার্টই এর জন্যে দায়ী। ও
আমাকে সেধে নিয়ে গিয়েছিল।
বলেছিল, আমি অনেকদিন পান
করি না। প্রতিদিন কিছু কিছু পান
করা আমার জন্যে ভালো। এরপর
সে ওটা দেয়। এরপর আরেকটা।’
‘ওই দিল তোমাকে?’
‘হ্যাঁ, দিলই তো। এরপর আমি মাতাল
হয়ে গেলাম। আমার মাথা খারাপ
হয়ে গেল। আমি বাড়ি গেলাম।
দরজা খুলতে দেরি হওয়ায়
লাথি মেরে ভেঙে ঘরে ঢুকলাম।
এরপর ওর মাথায় আঘাত করলাম…’
থামল ডাক্তার। যুবক খুব
মারাত্মকভাবে মেরেছে
মেয়েটাকে। তাই খুব
সাবধানে দেখতে হচ্ছে। একটু ভুলচুক
হলে আরো ক্ষতি হতে পারে
মেয়েটার। ছেলেটার দিকে চাইল ও।
তারপর বলল, ‘এখান
থেকে পালিয়ে যাবার
কথা না ভেবে এখনই নিজের ঘোড়ায়
চড়ে মন্টানায় চলে যাও।
ওখানে গিয়ে দেখা করো আইনজীবী
স্যান্ডার্সের সাথে।
লোকটা মাতালদের
প্রতি সহানুভূতিশীল। সাহায্য
করতে পারে তোমাকে। বছর পাঁচেক
আগে সেও এখানে, এই
স্যাগা সিটিতেই ছিল। খুব মদ খেত
সেও। তবে মদ
খেয়ে খেয়ে তুমি যেমন নিজের
শরীরটাকে শেষ করে দিয়েছ, ও
সেরকম করেনি। তখনো অ্যার্ট ওর
পেছনে লেগেছিল।
তবে স্যান্ডার্সের পরিবার-
পরিজনের সৌভাগ্য যে, অ্যার্ট
ওকে কব্জা করতে পারেনি। যাহোক,
এটা হলো আইন-আদালতের ব্যাপার।
তুমি এক্ষুণি, লোকজন লিঞ্চ
পার্টি নিয়ে নেমে পড়ার আগে, ওর
কাছে চলে যাও। এর মধ্যে তোমার
বউকে সুস্থ করে তোলার
ব্যাপারে যা যা করার আমি করব।’
মন্টানার সে পুরনো দিন এখন নেই।
একটা আধুনিক শহর
হিসেবে গড়ে উঠছে এটা। আর আধুনিক
মন্টানার একটা আধুনিক অফিসের
মতোই সাজানো গোছানো হেনরী
স্যান্ডার্সের চেম্বার। সুদর্শন
লোকটা ভুরু কুঁচকে তাকাল ছেলেটার
দিকে। ‘অ্যার্ট তোমাকে মদ দেয়ার
সময় কেউ কি দেখেছে?’
‘না। মনে হয় না কেউ দেখেছে।’
‘আমিও তেমনটাই ভেবেছি।’
মাথা দুলিয়ে সায় দিল আইনজীবী।
‘এটাই ওর কৌশল। যারা শক্ত
হয়ে দাঁড়াতে চায় কিংবা মদ
খাওয়া ছেড়ে দিতে চায়, তাদের
সে এভাবেই কব্জা করে।’
‘আমিও নিজেকে শক্ত
করতে চেয়েছি!’ ক্ষোভ ঝরল
ছেলেটার গলা থেকে। ‘বারবার
চেষ্টা করেছি….’
এখানে অবশ্য একটা দীর্ঘ লেকচার
দেয়া যায়। অথবা অতিরিক্ত
মদপানের কুফল সম্পর্কে শ’দেড়েক
শব্দের একটা সংক্ষিপ্ত বাণী। কিন্তু
এর কোনোটাই করল না স্যান্ডার্স। এই
ছেলেটার জায়গায়, যার নাম
কিনা জিমি ব্র্যাগস,
সে নিজে হলেও ওসব লেকচার
কানে তুলত না।
আসলে বক্তৃতা দ্বারা কখনো ভালো
কিছু হয় না। তার বদলে নিজের
কোমরে হাত দিয়ে চমত্কার
একটা অস্ত্র বের করল সে।
ওটা হাতে নিয়ে ডেস্কের এক
প্রান্তে বসল।
‘এটা দেখো,’ হাতের অস্ত্রটা দেখাল
সে। ‘আমার কাছে এটা পৃথিবীর
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক অস্ত্র। কেন জান?
এটাই আমাকে শেষ পর্যন্ত মদ খাওয়ার
মারাত্মক
নেশা থেকে বাঁচিয়েছিল।
পশ্চিমে আসার আগে আমি খুব
বেশি মদ খেতাম। এত বেশি যে,
আমার বন্ধুরা আমার নাম দিয়েছিল
‘হিউম্যান স্পঞ্জ’। খুব বেশি মদ
খেতে পারতাম বলে নয়, সারাক্ষণ
মদে ডুবে থাকতে চাইতাম বলেই
ওরা ওই নামে ডাকতে শুরু করেছিল।
ওরা কখনো কখনো শুঁড়িখানায়
এসে আমাকে টেনে হিঁচড়ে বাড়িতে
নিয়ে যেত। ঠাট্টা করছি না, বাছা,
আমার অবস্থা আসলে অতটা খারাপ
হয়ে গিয়েছিল।
‘শেষ পর্যন্ত আমি একটা মানুষকে প্রায়
খুনই করে ফেলেছিলাম। ফলে দেশ
ছেড়ে পালাতে হলো। আমার
আত্মীয়স্বজন পশ্চিমে পাঠিয়ে দিল
আমাকে। পালিয়ে এসে মাথা একটু
ঠাণ্ডা হতেই
পুরো ব্যাপারটা নিয়ে অনেক
চিন্তা-ভাবনা করলাম।
বুঝতে পারলাম, পশ্চিমের এই
বৈরী পরিবেশে আমার
পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়ার মূল
কারণ হলো এই মদই। একমাত্র মদের
কারণেই আমাকে আত্মীয়-স্বজন,
বন্ধুবান্ধব ছেড়ে এই নির্বান্ধব
পরিবেশে চলে আসতে হয়েছে।
ইতোমধ্যে একটা লোকের
সঙ্গে আলাপ হলো।
বুড়ো লোকটা আমাকে শোনাল
পশ্চিমের পুরনো দিনের কথা।
বৈরী পশ্চিমে একজন
মানুষকে টিকে থাকতে হলে ভরসা
করতে হতো অস্ত্রের ওপর। আর
যে অস্ত্রে যত বেশি তুখোড় হতো,
তারই এখানে টিকে থাকার
সম্ভাবনা বেশি থাকত।
‘ওর গল্প আমার মনে একধরনের
উচ্চাশা জাগাল। আমি একটা অস্ত্র
কিনলাম। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম,
বন্দুক হাতে আমাকে পশ্চিমের
সেরাদের একজন হতেই হবে।
‘উচ্চাশাটা আমার মনে শেষ পর্যন্ত
নেশা হয়ে দাঁড়াল। আমি মূল রাস্তার
ওপারে ফুটহিলসে ঢুকে নিয়মিত
প্র্যাকটিস করতে শুরু করলাম।
কাজটা অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই
করতে হতো। কারণ গোলাগুলির
জন্যে সেজব্রুশ কান্ট্রিটা তখন আর খুব
বেশি অনুকূল ছিল না। মানুষ
গোলাগুলির চেয়ে শান্তিপ্রিয়
দৈনন্দিনতাকেই পছন্দ করতে শুরু
করেছিল।
‘সে যা-ই হোক, আমি আমার
সিদ্ধান্তে অটল থেকে নিজের কাজ
করে যেতে লাগলাম। সেরা হওয়ার
নেশাটা আমার মনের ভেতর
এমনভাবে গেড়ে বসল যে, আমি ঘণ্টার
পর ঘণ্টা সে একঘেয়ে কাজটাই খুব
আগ্রহ
নিয়ে চালিয়ে যেতে লাগলাম।
একসময় দেখা গেল, মদের নেশার
কথা আমার আর মনেই থাকে না।
কোনো সময় আচমকা জেগে উঠলেও
তা মিলিয়ে যেতেও খুব বেশিক্ষণ
লাগত না। এভাবে একদিন দেখা গেল,
মদের কথা মনে হলেও তার
প্রতি কোনো আকর্ষণই টের
পাচ্ছি না। তার মানে হলো,
মদপানের নেশা ছেড়ে দেয়ার ওপর
ফ্রাঁসিস উইলার্ডের বক্তৃতা না শুনেও
আমি নেশামুক্ত হয়ে গেলাম।
এভাবেই, জিমি, প্রত্যেকের উচিত,
নিজেকে নিজেই সুস্থ করে তোলা।
বাইরে থেকে হাজার চেষ্টা করেও
যা হয় না, নিজের ভেতর
থেকে একবার
জাগিয়ে তুলতে পারলে তা কখন
হয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না।’
অস্ত্রটার ওপর সযত্নে হাত বুলাল
স্যান্ডার্স।
‘আমি জানি, অস্ত্রে তুমি মন্টানায়
সবার সেরা,’ স্বীকার করল ছেলেটি।
‘পরিস্থিতি যখন আমার
নিয়ন্ত্রণে চলে এল,’ বলে চলল
স্যান্ডার্স। ‘আমি আইন ব্যবসা শুরু
করলাম। আমার পসার বাড়ল।
মোটামুটি একটা প্রতিষ্ঠা পেয়ে
গেলাম। কিন্তু অ্যার্ট আমার
পেছনে লেগে আছে এখনো। সে শপথ
করেছে, আমাকে সে কব্জা করবেই। মদ
এক সময় আমাকে তোমার মতোই পাগল
করে ছেড়েছিল। সুতরাং তোমার
সমস্যাটা আমি বুঝি। তাই
এটা আমি হাতে নিলাম।
পরোক্ষভাবে এটা আমারই মামলা।’
স্যাগা সিটি।
বেলা ১১টা বেজে ২০। দড়াম
করে খুলে গেল শেরিফের অফিসের
দরজা। একটা যুবক এসে ঢুকল
তারস্বরে চেঁচাতে চেঁচাতে,
‘অ্যার্টের মাথায় আকাশ
ভেঙে পড়েছে। গুলি খেয়েছে ও।
স্যান্ডার্সের কাজ।’
যুবকটির মাথায় টুপি নেই। উত্তেজনায়
মুখের রক্ত সরে গেছে। হাঁফাচ্ছে সে।
বাইরে তীব্র রোদ ঝাঁ ঝাঁ করছে। তার
মধ্যে একটা একটা ভোঁতা গর্জন
ভেসে এল। অনেক লোকের এক
সাথে চিত্কারের শব্দ। একই
সঙ্গে গুলিরও।
এই প্রথম কিছুটা চঞ্চলতা দেখা গেল
শেরিফের মধ্যে। উত্সুক চোখে চাইল
খোলা দরজা দিয়ে রাস্তার দিকে।
তারপর ডেস্কের ড্রয়ার খুলে কদাকার
দুটো রিভলবার বের করল। আগের
দিনে এরকমের অস্ত্র ব্যবহার
করা হতো। এখন এগুলোর চল নেই বললেই
চলে। শেরিফের অস্ত্র
দুটো দেখে মনে হচ্ছে, অনেক কাল
আগে হয়তো ওগুলোর ভয়ালদর্শন
মাযলদুটো কারো বুক বরাবর তাক
করা হয়েছিল।
সাইড রোড থেকে মেইন
রোডে আসার পথটায় অসংখ্য মানুষের
চলাচল। রীতিমতো ভিড় বলা যায়। এখন
যদিও আইন-কানুন মানার
দিকে মানুষের ঝোঁক দেখা যাচ্ছে,
তবু কিছু মানুষ আছে ওসব কিছুর
তোয়াক্কা রাখে না। রাস্তায়
নেমেও তাদের মুখের লাগাম নেই।
খিস্তি খেউড়
ভেসে আসছে সারাক্ষণ।
রাস্তার মাঝখানে আচমকা একজন
চিত্কার করে উঠল। তার
সঙ্গে আরো কয়েকজন গলা মেলাল।
বুকের ভেতর ধক করে উঠল শেরিফের।
স্যান্ডার্স কি অ্যার্টকে খুন
করে ফেলেছে!
রাস্তার শেষ মাথায়
একটা খোলা চত্বর। চত্বরের বাম
দিকে সেলুন। সেলুনের
সামনে গিয়ে দাঁড়াল শেরিফ।
ভেতরে ভাঙাচোরা বাসন কোসন আর
পানির জগ-গ্লাস
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। খোলা নিচু
দরজা দিয়ে ভেতর
থেকে বেরিয়ে আসছে ধোঁয়া।
দরজা দিয়ে ঢুকতে গিয়ে থেমে গেল
শেরিফ। ভেতর থেকে একজন
বেরিয়ে আসছে প্রায়
হামাগুড়ি দিয়ে।
ভেতরে আরো বারদুয়েক গুলির শব্দ
হলো। একটা দীর্ঘ আর্তচিত্কার। কেউ
একজন যেন মাফ চাইছে,
করুণা ভিক্ষা করছে। আরেকটা গুলির
শব্দ। কাচের গ্লাস ভাঙার ঝন ঝন শব্দ।
চিত্কারটা এবার অবোধ্য কান্নায়
পরিণত হলো।
ভেতর
থেকে থেকে বেরিয়ে আসা লোকটা
নাপিত। শেরিফকে দেখে আঁউ আঁউ
করে বলল, ‘স্যান্ডার্স একটা মামলার
ব্যাপারে আর্টের
সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। আমার
এক লোক ওখানে ড্রিঙ্ক
করতে গিয়ে সব কিছু নিজের
চোখে ঘটতে দেখেছে। অ্যার্ট
পানীয়ের সঙ্গে কিছু
একটা মেশাচ্ছিল। স্যান্ডার্স ওয়াগন
থেকে নেমে এসে বসতে তাকে
পরিবেশন করেছিল ওই ড্রিঙ্ক।
স্যান্ডার্স ওটা খেয়েছে। যতই চুমুক
দিচ্ছিল, ততই ওর মধ্যে এক ধরনের
অস্থিরতা দেখা দিচ্ছিল। একটু পরেই
লোকটা যেন পাগল হয়ে যায়।
আচমকা অ্যার্টকে গুলি করে বসে।’
স্যাগা সিটি এখন চরম উত্তাল।
দোকানপাট সব বন্ধ। দোকান
মালিকরা সবাই ডিপোর
ওখানে গিয়ে জমা হয়েছে।
উত্তেজিত
জনতা গলা ফাটিয়ে হৈ চৈ আর
চিত্কার চেঁচামেচি করছে। সব কিছু
ছাপিয়ে সেলুনের ভেতর
থেকে আবার কয়েকবার গুলির শব্দ
শোনা গেল। একটা গুলি এসে লাগল
সেলুনে ঢোকার পথে খিলানের
সাথে ঝোলানো ল্যাম্পের ওপর।
ভেঙে চুরমার হয়ে গেল বাতিটা।
সিলভার আর অ্যাসফল্টের অগণিত
টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ল
চারদিকে।
আরেকটা গুলি এসে জানালার কাচ
উড়িয়ে দিল।
একটা চিত্কারের মতো শোনা গেল।
আর সেটাই যেন সচকিত করে তুলল
শেরিফকে। এখানে এখন কী ঘটছে,
সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে তার।
মদের দোকানদার অ্যার্ট
লোকটা জঘন্য। খদ্দের ধরে রাখার
জন্যে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে।
কেউ যদি মদ ছেড়ে দিতে চায়, ওর
দোকানে যাওয়া-আসা কমিয়ে দেয়,
ওর পেছনে লেগে যায় সে।
যেভাবে হোক, খদ্দেরকে নিজের
কব্জায় রাখতে চেষ্টা চালায়।
স্যান্ডার্স নিজেও তার ভুক্তভোগী।
লোকটার সর্বশেষ শিকার
জিমি ব্র্যাগস নামের ছেলেটা।
কারো কাছ
থেকে বাধা না পেয়ে দিনে দিনে
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অ্যার্ট। আর
আইন দিয়ে লোকটাকে কব্জা করার
মত সুযোগও নেই। মদ বেচার ওপর
তো কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
তো এখন স্যান্ডার্স যদি অ্যার্টের
ওপর প্রতিশোধ নিতে যায়,
নৈতিকভাবে সেটাকে দোষ
দেয়া যায় না। কিন্তু আইনত
স্যান্ডার্সকেও তা করতে দেয়া যায়
না।
মনে মনে স্যান্ডার্সকে বাহবা দিলেও
আইনের লোক
হিসেবে শেরিফকে বাধা দেয়ার
কাজটাও করতে হবে তাকে। এটা তার
কর্তব্য। এজন্য তাকে সরকার
থেকে বেতন দেয়া হয়।
এগিয়ে গেল ও ভিড়
জমানো লোকগুলোর মাঝখান
দিয়ে পথ করে নিয়ে। দোরগোড়ায়
পৌঁছতে ভয়ে শাদা হয়ে যাওয়া মুখ
নিয়ে এক যুবক বেরিয়ে এল ভেতর
থেকে। ওর একটা হাত কাঁধ
থেকে ঝুলছে ল্যাগব্যাগ করে।
আরেকটা হাত
বাড়িয়ে দিয়ে শেরিফের পথ
আটকাল সে। ‘না,
তুমি ভেতরে ঢুকতে পারবে না!’
ফ্যাশফেশে গলায় বলল।
‘আমি একজন ল’ অফিসার,’ গম্ভীর গলায়
বলল শেরিফ।
‘আমাকে রাখা হয়েছে খুন-জখম,
মারামারি থামানোর জন্যে।
আমি তাই করব।’
বাধাদানকারীর দিকে একবার
তাকিয়েই যা বোঝার
বুঝে নিয়েছে শেরিফ।
ছেলেটা জিমি ব্র্যাগস।
হিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে এখন।
‘সেটা মন্টানার আইন!’ খেঁকিয়ে উঠল
জিমি। ‘সে আইন এখানে যে অনাচার
চলছে, তার কিছুই করতে পারবে না।
অ্যার্ট ওকে ‘মিশ্রিত’ পানীয়
দিয়েছে। যেটা সে আমাকেও
দিয়েছিল। এখন সে তার প্রাপ্য
শাস্তি পেয়েছে। ওটা ওকে ভোগ
করতে দাও।’
থামল শেরিফ। চিন্তা করছে। এক
হিসেবে ভুল বলছে না ছেলেটা।
অ্যার্টকে এপর্যন্ত কিছুই করা যায়নি।
সে বেআইনি কিছু করছে না।
লোকদের স্রেফ ড্রিঙ্ক পরিবেশন
করছে। ওর এখানে ড্রিঙ্ক করে এমন
অনেক লোক আছে, ওর বিরুদ্ধে যাদের
কোনো অভিযোগ নেই। ‘হু,’
অন্যমনস্কভাবে মাথা দোলাল সে।
‘কিন্তু আমাকে আমার কাজ
করতে হবে।’ বলে ফের পা বাড়াল ও
ভেতরে ঢোকার জন্যে।
‘না,’ রুখে উঠল জিমি। আচমকা ওর
হাতে অস্ত্র দেখা গেল।
‘ভেতরে ঢুকতে পারবে না তুমি।’
‘স্যান্ডার্স ছাড়া ওখানে আর কেউ
আছে?’ জানতে চাইল ও।
‘না।’
আর কিছু বলল না শেরিফ।
পিছিয়ে এল।
উপস্থিত জনগণ এক আশ্চর্য কাণ্ড দেখল।
পশ্চিমের সবচেয়ে সাহসী শেরিফ
কিং কোল ওর তুলনায় নেহাত
বাচ্চা এক ছেলের
ভয়ে পিছিয়ে এসে স্যাগা সিটি
পুলিশ অফিসের
দিকে রওনা দিয়েছে।
কিন্তু শেরিফ জানে, ছেলেটার
হাতে অস্ত্র
দেখে পিছিয়ে আসেনি সে।
পুলিশ অফিসারকে নিয়ে এবার
সেলুনের দরজার
সামনে গিয়ে দাঁড়াল শেরিফ। ভেতর
থেকে বেরিয়ে রক্তাক্ত
পা ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে
বেরিয়ে এল বারকিপার অ্যার্ট
ডিগনার। শেরিফকে দেখেই ওর
পায়ের ওপর এসে পড়ল প্রায়।
ককিয়ে উঠল, ‘আমাকে বাঁচাও।
আমি মারা যাচ্ছি।’
‘তুমি মরবে না!’ ঘোঁত্ করে উঠল
শেরিফ। ‘তুমি যমেরও অখাদ্য।’
এসময় দোরপথে দেখা গেল
স্যান্ডার্সকে। ছিটকে বেরিয়ে এল
আইনজীবী। হাতে বিকট দর্শন
একটা অস্ত্র।
দেখা মাত্র গুঞ্জন উঠল জনতার মধ্যে।
কেউ কেউ প্রবল
আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে পালাতে
গিয়ে অন্যের ঘাড়ের ওপর গিয়ে পড়ল।
অস্ত্র রিলোড করতে করতে গর্জে উঠল
স্যান্ডার্স, ‘মন্টানায় সবচেয়ে চালু
হাত আমার। শালা নোংরা সাপ।
কোথায় গেছে শুয়োরটা? কোথায়?
শালা জিমির
মতো একটা বাচ্চা ছেলেকে পর্যন্ত
ড্রিঙ্কের নামে ওই বিষ
খাইয়ে দিয়েছে। শালা এখন
আমাকেও…। কোথায়
নোংরা শেয়ালটা। ওকে আজ শেষ
করে ফেলব!’
একতাল মাংসের মতো জবুথবু
হয়ে পড়ে আছে অ্যার্ট ডিগনার,
শেরিফের পায়ের কাছে। এবার
আতঙ্কে ককিয়ে উঠল।
‘আচ্ছা, তুমি তাহলে ওখানে?
শালা তোমাকে আমি খুন
করে ফেলব।’ অস্ত্র উঁচাল আইনজীবী।
হঠাত্ চিল চিত্কার শোনা গেল
জিমির, ‘না, স্যান্ডার্স!
তুমি এটা করতে পার না। এটা হবে খুন,
পরিষ্কার খুন।’
পরক্ষণেই লাফ দিল ও, শেরিফের
পায়ের কাছে আহত ইঁদুরের
মতো নির্জীব
হয়ে পড়ে থাকা অ্যার্টের গায়ের
ওপর গিয়ে পড়ল।
শেষ মুহূর্তে ট্রিগারের ওপর
থেকে আঙুল সরিয়ে নিতে পারল
স্যান্ডার্স।
ধীরে ধীরে অস্ত্রটা নামিয়ে নিল।
সেদিন সন্ধ্যেয় ফুটহিলস
সদ্যওঠা চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত।
প্রচণ্ড মারে আহত বউয়ের
পাশে বসে ওর মাথায় হাত
বুলাচ্ছে জিমি ব্র্যাগস।
পুরো ঘটনাটা শুনিয়েছে বউকে।
শেষে কিছুটা গর্বের সুরে বলল,
‘জানো, মি. স্যান্ডার্স ওর
অস্ত্রটা আমাকে দিয়ে দিয়েছে।
বলেছে, আমি ওকে একটা খুন
করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি।
অ্যার্ট আমাদের সবার শত্রু। কিন্তু
আসলে আমি চাইনি স্যান্ডার্স
একটা পরাজিত অসহায় শত্রুকে খুন
করে বদনাম কিনুক আর আইনের চোখেও
অপরাধী সাব্যস্ত হোক। ’
ওরা দু’জন ছাড়া ঘরে আর কেউ নেই।
হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে উবু হয়ে বসল জিমি।
‘ও আমাকে পিস্তলটা দেয়ার সময়
বলেছে, ও যেরকম এটা দিয়ে ড্র
করা প্র্যাকটিস করতে করতে মদের
নেশা থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছে,
নিজেকে সারিয়ে তোলার
জন্যে আমিও যেন ঠিক তাই করি।’
‘আচ্ছা,’ শীর্ণ একটা হাত তুলে স্বামীর
মাথার চুল নেড়ে দিল মেয়েটি।
‘তুমি বাধা না দিলে মি. স্যান্ডার্স
কি সত্যি সত্যি খুন করত অ্যার্টকে?’
একটু ভাবল জিমি। তারপর মাথা নাড়ল।
তখন মনে হয়েছিল, তাই করবে। কিন্তু
এখন মনে হচ্ছে, না। খুন
করতে চাইলে লোকটাকে প্রথমেই খুন
করে ফেলতে পারত মি. স্যান্ডার্স।
কিন্তু ও
আসলে ওকে শাস্তি দিতে চেয়েছিল।
স্যাগা সিটির
আইনে অ্যার্টকে কব্জা করার
কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু মি.
স্যান্ডার্স
লোকটাকে পায়ে গুলি করে চিরতরে
পঙ্গু করে দিয়েছে। ও আর
বদমায়েশি করার সাহস পাবে না।’
নিচু হয়ে স্ত্রীর কপালে চুমু খেল
জিমি। তারপর ফিস ফিস করে বলল,
‘এটা আসলে খুব ভালো একটা কাজ
হয়েছে। আমাদের সবার জন্যে।’ একটু
হাসল। ‘তোমার পেটে আমাদের
যে নতুন অতিথি আসছে, বিশেষ
করে তার জন্যে। কারণ তার
বেঁচে থাকার জন্যে একটা সুন্দর
পরিবেশ চাই যে!’
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now