বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
##শান্তু##
ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় রাত পৌনে ১টা বাজে । ক্রিং ক্রিং
ক্রিং করে ড্রইং রুমে ফোনটা অনেকক্ষন ধরে
বাজছে । এই শীতের রাতে ফোন ধরার
কোন ইচ্ছেই শান্তুর নেই । শান্তু মনে মনে
ভাবছে যেই ফোন করুক, ভোরে কলার আইডি
দেখে কল ব্যাক করা যাবে । শান্তু এখন মনে
প্রাণে চাইছে যে, ফোন বাজাটা বন্ধ হয়ে যাক ।
এমনিতেই শুতে শুতে অনেক রাত হয়ে
গেছে, তার উপড়ে ভোরে অফিস ধরতে
হবে । এতো রাতে ফোন ধরার কোন মানে
হয় না।
শান্তু কম্বল দিয়ে মাথা ঢেকে ফেলে । কিন্তু
তবুও ফোনের একঘেয়ে ক্রিং ক্রিং শব্দটা ওর
মাথায় গিয়ে লাগে । ও চিৎকার করে বলে উঠে
উফ.... অসহ্য ! অসহ্য ।
যে ফোন করেছে সেও যেন নাছড়বান্দা,
যেন পণ করে বসে আছে , এ প্রান্ত থেকে
কেউ ফোন না ধরা পর্যন্ত রিং করেই যাবে ।
শান্তু নিজেকে আর কম্বলের নীচে আটকে
রাখতে পারে না । যন্ত্রনারে, যন্ত্রনারে বলতে
বলতে বিছানা থেকে উঠে যায় । বিছানা ছেড়ে
উঠতে উঠতে শান্তু মনে মনে ঠিক করে উল্টা
পাল্টা ফোন হলে -যেই করুক চৌদ্দ গোষ্ঠি
উদ্ধার করে ছাড়বে।
গভীর রাতের ফোন গুলো সাধারনত হয় শোক
সংবাদের, নয় তো উল্টা পাল্টা । কেউ মারা গেলে
অথবা অসুস্থ্য হলেই আত্মীয়-স্বজনরা গভীর
রাতে একে অপরকে ফোন করে । তবে
বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় যে, এ যুগের
কোমড়ের নীচে প্যান্ট পরা চেংড়া চেংড়া সব
পোলাপান উল্টা পাল্টা ডায়াল খেঁজুরা আলাপ করার
জন্য মেয়েদের খুঁজে বেড়ায়।
শান্তু মনে মনে নিজেকে একরকম তৈরি করেই
ড্রইং রুমে দিকে রওনা দেয় । ও ধরেই
নিয়েছে যে, এটা উল্টা পাল্টা ফোন ছাড়া আর
কিছুই হবে না । ড্রইং রুমের দিকে যেতে
যেতে শান্তুর একবার মনে হয়, দেখা যাবে
যেই ও ফোনের কাছে গিয়ে দাঁড়াবে ওমনি
ফোন বাজা বন্ধ হয়ে যাবে । কপাল কুচকে ড্রইং
রুমের বাতিটা জ্বালিয়ে শান্তু ফোনের সামনে
এসে দাঁড়ায় । দুই সোফার মাঝখানে রাখা ফোনটা
তখনও বেজে চলেছে । সোফায় বসে, শান্তু
রিসিভারটা তুলে নিয়ে বলে - হ্যালো, কে
বলছেন ? কয়েক মুহুত কেটে যায়।
অপর পাশ থেকে কোন শব্দ নেই । শান্তু
আবারও বলে - হ্যালো, কে বলছেন ? ওপর
পাশে থেকে এবারও কেউ উত্তর দেয় না ।
এবার শান্তু বিরক্তি আর চেপে রাখতে পারে না -
প্রায় চিৎকার করে বলে - আরে কথা বলছেন না
কেন ? বেশ কিছুক্ষন চুপ করে কানে রিসিভার
ধরে রাখার পর শান্তুর মনে হলো, অপর পাশে
কেউ একজন দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।
শান্তু আবারও বলে উঠে - হ্যালো ! হ্যালো !
আশ্চর্য কথা বলছেন না কেন ? কথা না বললে
এতো রাতে ফোন করেছেন কেন ?
যতোসব যন্ত্রনা । ওপর পাশে থেকে আবার ও
দীর্ঘশ্বাস ফেরার শব্দ ভেসে এলো । শান্তু
আবার বললো - হ্যালো ! হ্যালো ! হঠাৎই ডায়াল
টোন ফিরে আসাতে শান্তু রিসিভারটা প্রায় আছড়ে
রেখে বলে উঠলো - যতোসব নরকের
কীট ।
শান্তুর চোখ থেকে ঘুম পুরোপুরি সড়ে
গেছে । সোফা থেকে উঠে ওর রুমে যাবার
জন্য যেই না মাঝখানে ডাইনিং রুমের দরজায়
তাকিয়েছে, ওমনি কয়েক মুহুর্তের জন্য চমকে
উঠলো শান্তু - ওর মনে হলো চট করে কে
যেন সড়ে গেল । শান্তুর পুরো শরীর হঠাৎ
কেঁপে উঠলো । সমস্ত শরীরে একটা শিরশির
অনুভুতি ভয়ে গেল । শান্তুর মনে হলো,যে
কেউ একজন দরজায় দাড়িয়ে ওকে দেখছিল । ও
তাকাতেই যেন চোখের পলকে শূণ্যে একটা
অবয়বটা মিলিয়ে গেল । শান্তুর পুরো শরীর ঝিম
ঝিম করেছে । কেউ আছে কিনা, ভাল করে
দেখার জন্য শান্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ড্রাইনিং
রুমের বাতিটা জ্বেলে দিল । মুর্হুতে পুরো
ড্রাইনিং রুমটা আলোকিত হয়ে গেল । ড্রাইনিং
টেবিল, চেয়ার, ফ্রিজ, ফ্রিজের উপড় রাখা বিভিন্ন
বোতলগুলো যেন ওর দিকে তাকিয়ে
ব্যঙ্গাত্নক হাঁসি হাসতে লাগলো ।
এছাড়া আর কোথাও কেউ নেই । নির্ঘাত
চোখের ভুল বলে , মন থেকে শান্তু ব্যাপারটা
সড়িয়ে দিতে চেষ্টা করলো । কিন্তু ও’র
অবচের্তন মন ব্যাপারটা ভুলতে পারলো না ।
শান্তু ড্রাইনিং টেবিলের নীচটায় একবার তাকিয়ে
দেখলো, কেউ লুকিয়ে আছে কিনা , তারপর
যেই বাতি নেভাবার জন্য সুইচে হাত দিয়েছে, ঠিক
তখনই ক্রিং ক্রিং করে ফোনটা আবারো বেজে
উঠলো । হঠাৎ শব্দে শান্তু প্রায় চমকে উঠলো
। বুকটা ধকধক করছে । রাতের বেলায় সব শব্দ
বুঝি একটু জোড়ে শোনা যায় ।
শান্তু নিজেকে শান্ত রেখে থু থু করে বুকে
দু’বার থুতু দিল ।তারপর ফোনের রিসিভারটা তুলে
বললো - হ্যালো ! কে ? এবার অপর পাশে
থেকে শো শো শব্দ শোনা গেল । ঝড়
হলে দরজা জানালা বন্ধ থাকা ঘরের ভেতর
থেকে যে রকম শব্দ শোনা যায়,অনেকটা সে
রকম । এ ছাড়া অপর পাশে অন্য কোন শব্দ নেই
। শান্তু তবুও বেশ বিরক্তি নিয়ে বললো -এতো
রাতে ফোন করে বিরক্ত করার মানে কি ? কথা
বলছেন না কেন ? হ্যালো! হ্যালো! । হঠাৎ
ফোনের শো শো শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল ।
এবং আবারও দীর্ঘশ্বাস ফেলার শব্দ শোনা গেল
।
আরে ব্যাটা ছাগলের মতো খালি খালি দীর্ঘশ্বাস
ছাড়রস কেন ? বাপের ব্যাটা হলে কথা বল ।
অন্যদিক দিয়ে দম বেড় করে দিমু । যতোসব
ইডিয়টের দল । খুঁট করে ফোন রেখে দেবার
শব্দ হলো ।শান্তু রাগে গজগজ করতে করতে
কলার লিষ্টটা দেখলো ০০ দিয়ে একটা অপরিচিত
নাম্বার উঠে আছে । হঠাৎ শান্তুর মনে হলো
কোন ওভারসিস কল নাতো ? ওভারসিস কল হলে,
নরওয়ে থেকে একমাত্র বড়মামা ফোন করতে
পারে। কিন্তু মামা তো জানে মা -বাবা, টুম্পা সবাই
সিলেট গেছে । তাহলে ! কে ফোন
করলো ? এভাবে গালি দেওয়া কি ঠিক হলো ?
কথাটা চিন্তা করতে করতে বার্থরুম হয়ে, শান্তু ওর
ঘরে চলে এলো ।
কম্বল টেনে শুতে শুতে শান্তু ঘড়ি দেখলো ,
পৌনে দুটো বাজে । মনে মনে দোয়া পড়ে
শান্তু ডানপাশে কাত হয়ে শুয়ে পড়লো ।
দুই :- শান্তু কতোক্ষন ঘুমিয়েছে ঠিক বলতে
পারবে না । ঘুম ভাঙ্গল কোন কিছুর খুঁটুর মুঁটুর
শব্দে । শান্তু মাথা তুলে শুনতে চেষ্টা করলো
শব্দটা কোথা থেকে আসছে । শান্তু ওর ঘরের
বাতি জ্বেলেই শুয়েছে । দরজা খোলা থাকায়
ড্রাইনিং রুমের ফ্রিজ দুটো স্পস্ট দেখা যাচ্ছে ।
নরমাল ফ্লিজটার গা ঘেষেই রান্না ঘর - শান্তুর হঠাৎ
মনে হলো-রান্না ঘরে কেউ একজন কিছু একটা
করছে । খুঁটুর খুঁটুর শব্দটা রান্না ঘরে থেকেই
আসছে ।
এতো রাতে কে হতে পারে ? যেহেতু
পুরো বাসায় শান্তু একা । তাহলে রান্না ঘরে কে ?
শান্তু বেশ ঘাবড়ে গেল । কে আসবে এতো
রাতে রান্না ঘরে ? ভূতটুত না তো ? ড্রইং রুমের
দরজায় দেখা অবয়বটার কথা মনে পরে গেল
শান্তুর । কেমন একটা ভয়ে পেটটা মোচড় দিয়ে
উঠলো । শান্তু কম্বলটা গাঁ থেকে সড়িয়ে উঠে
দাঁড়ালো । ভয়টা যাচ্ছে না । শান্তু গলা খাকারি দিয়ে
বললো -কে ? কে ওখানে ? প্রায় সঙ্গে
সঙ্গে খুঁট খুঁট শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল ।
শান্তু ওর ঘর থেকে পুরোপুরি না বেড় হয়ে
রান্না ঘরের দিকে উকি দিল । ঠিক তখনি ওর মনে
হলো, রান্না ঘরের দরজা থেকে কেউ একজন
হুট করে সড়ে গেল । শান্তু চমকে উঠে বেশ
ঘনঘন বলে উঠলো- কে ? কে ?
রান্না ঘরটা বেশ অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছে না ।
শান্তু রান্না ঘরে না গিয়ে ড্রইং রুমের দিকে গিয়ে
ড্রইং রুমের বাতিটা জ্বালাল । ভয়ে এর পুরো
শরীর কাঁপছে । ড্রইং রুমের বাতিতে রান্না ঘরের
অন্ধকারটা কিছুটা কেটে গেল । শান্তু নিজেকে
সামলে নিয়ে বেশ ভয়ে ভয়ে রান্না ঘরে উকি
দিল । না । কেউ নেই । রান্না ঘরের বাইরে
থেকেই শান্তু একটু ঝুকে রান্না ঘরের বাতিটা
জ্বালাল । না । আসলেই কেউ নেই । শান্তু বেশ
স্বস্থ্যিবোধ করলো । শুধু শুধু ভয় পাবার জন্য
নিজেকে শান্তু ধিক্কার দিলো, এই বলে যে,
ব্যাটা শান্তু , তুই একটা ভীতুর ডিম। বাবা, মা, আর
টুম্পা যদি তোমার এই সাহসের কথা জানতে পারে
তা হলে আর দেখতে হবে না । তোমার
সাহসের কথা আত্মীয় স্বজনসহ চারিদিকে রাষ্ট্র
হয়ে যাবে । রান্না ঘরের বাতিটা নিবিয়ে, শান্তু রান্না
ঘরের পাশের বার্থরুমে ঢুকলো পেশাব করার
জন্য । বাসায় কেউ না থাকলেও শান্তু বার্থরুমের
দরজাটা একটু চেপে দিল । পেশাব প্রায় শেষ
হয়ে এসেছে এমন সময় ও আবারও খুটুর খুটুর
শব্দটা শুনতে পেল । ওর মনে হলো কেউ
যেন ইচ্ছে খুটঁ খুঁট খুঁট করে মাত্র তিনটা শব্দটা
করলো । এমন করে শব্দটা করলো যেন শান্তু
শুনতে পায় । ভয়ে আবারও ওর শরীর ঝিম ঝিম
করে উঠলো । শান্তু মনে মনে ভাবলো ভূত
টুত নাতো ? কিন্তু পরক্ষনেই ভূতের চিন্তাটা মাথা
থেকে বাদ দিয়ে ও বার্থরুমেই অপেক্ষা করতে
লাগলো আরো শব্দ শুনার জন্য । কিন্তু না, আর
কোন শব্দ হলো না । বেশ কিছুক্ষন বার্থরুমে
অপেক্ষা করে শান্তু ওর রুমে চলে এলো ।
বার্থরুম থেকে বেড় হয়ে ওর রুমে আসার সময়
শান্তু ইচ্ছে করেই রান্না ঘরের দিকে তাকালো না
। ওর হঠাৎ কেন যেন মনে হলো, রান্না ঘরের
দিকে তাকালে ও ভয়ণ্কর কিছু একটা দেখতে
পাবে । ড্রাইনিং এর বাতি না নিভিয়েই শান্তু ওর রুমে
চলে এলো । নানান আজে বাজে চিন্তা ওর মাথায়
ঘুরপাক খাচ্ছে । নিজ বাসায় এমন পরিস্হিতির সন্মুক্ষিন
হতে হবে ও কখনও তা কল্পনাও ভাবতে পারেনি ।
যদিও শান্তু নিজেকে বুঝাতে চেষ্টা করে যে,
ভয় পাবার কোন কারন নেই । সব হচ্ছে মনের
ভুল । কিন্তু তবুও ভয় যাচ্ছে না । বরং একটু একটু
করে অজানা ভয়টা ওকে আরো জড়িয়ে ধরে ।
আসলে ভয় ব্যাপারটাই এমন, একবার কেউ ভয়
পেতে শুরু করলে ভয়টা আস্তে আস্তে
বাড়তেই থাকে, বাড়তেই থাকে ।
শান্তু বিছানায় শুয়ে পুরো ব্যাপারটা বিশ্লেষন
করতে শুরু করলো । ওর ধারনা তাতে ভয় ব্যাপারটা
চলে যাবে । ওর বিশ্লেষনের প্রদ্বতিটা হচ্ছে
নিজের সঙ্গে মনে মনে কথা বলা । শান্তু ওর
বিশ্লেষন শুরু করলো -
"মিয়া শান্তু তুমি ভয় পাচ্ছো কেন ?"
"আমি ভয় পাচ্ছি না ।"
"ইমহু....নিজের সঙ্গে মিথ্যা চলে না ।
ডাক্টার,উকিল আর নিজের সঙ্গে মিথ্যা বলতে
নেই মিয়া । তুমি এই মুর্হুতে ভয়ে কেঁচো হয়ে
আছো । কি ভয় পাচ্ছো না ?"
"তা, কিছুটা ভয় পাচ্ছি ।"
"কেন পাচ্ছো ?"
"জানিনা ।"
"আবারও মিথ্যা ? ইমহু.... ঝেড়ে কাশ মিয়া ।
ঝেড়ে কাশ। তারপর টুক করে সত্যটা বলে
ফেলো । বিশ্লেষন করতে বসে মিথ্যা বললে
তো কোন কাজ হবে না ।"
"আমার মনে হচ্ছে, এই মূহুতে আমি ছাড়াও এ
বাসায় কেউ একজন আছে ।" বলতে বলতে
শান্তু টের পায় ও’র মধ্যে আমারও সেই জিম
ধরানো ব্যাপারটা চলে এসেছে । মাথার
পেছনের চুলগুলো আপনা আপনা একটু একটু
করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে ।
"কে আছে ?"
"আমি জানিনা ?"
"কিভাবে বুঝলে যে তুমি ছাড়াও বাসায় আরো
কেউ আছে ?"
"ড্রইং রুম থেকে ফোন রেখে ফেরার সময়
মনে হলো - কেউ একজন হুট করে সড়ে
গেল । রান্না ঘরের দরজায় ও একই ব্যাপার ঘটলো
।"
"এটা তোমার মনের ভুল । বিজ্ঞান বলেও তো
একটা বিষয় আছে মিয়া । হঠাৎ আলো থেকে
অন্ধকারে তাকালে এমনটা হতে পারে । সবই
আলোর খেলা ।"
"কিন্তু, একটু আগে যে, রান্না ঘর থেকে খুটুর
খুটুর শব্দ শুনতে পেলাম । সেটাও কি মনের
ভুল ? নাকি সেটাও আলোর খেলা ?"
"না ,সেটা মনের ভুল বা আলোর খেলা না । সেটা
হলো ইঁদুরের খেলা । তুমি কি রান্না ঘরে কাউকে
দেখতে পেয়েছো ?"
"না ।"
"তাহলে, তো শব্দটা ইদুঁরই করছে, নাকি ?" শান্তু
যুক্তিটা একেবারে উড়িয়ে দিতে না পারলেও
বললো- "আমাদের বাসায় কোন ইঁদুর নেই ।"
"তুমি কি বিলাই নাকি মিয়া ? যে জান, বাসায় কোন ইঁদুর
নাই । ইঁদুরের খবর জানে বিড়াল ।"
"না, তা ঠিক না ।"
"শুন মিয়া, সব তোমার মনের ভুল । আসলে বাসায়
তুমি ছাড়া আর কিছুই নাই । সব তোমার মনের ভুল ।
কম্বলমুড়ী দিয়া ঘুমাও । আমি তা হলে আসি ।"
শান্তু নিজের অজান্তেই মাথা নাড়লো । নিজের
সঙ্গে ভয় বিষয়ক বিশ্লেষনে শান্তুর ভয়টা
অনেকাংশে কমে যায় । চোখেও ঘুম চলে
এসেছে । শান্তু কম্বলটা গলা পর্যন্তটেনে যে
ই পাশ ফিরে শুয়েছে, ওমনি কুট করে ড্রাইনিং এর
টিউব লাইটা আপনা আপনি নিবে গেল । সঙ্গে
সঙ্গে শান্তুর পুরো শরীর ভয়ে আবার ও শক্ত
হয়ে গেল । মাথা থেকে পা পর্যন্ত একটা শিরশির
অনুভুতি খেলে গেল । শান্তু চুপ করে বিছানায়
পড়ে আছে কি হয় দেখার জন্য । কয়েক মূর্হুত
কোন কিছু হলো না । ড্রইং রুম থেকে দেয়াল
ঘড়ির টিক টিক শব্দটা শুনা যাচ্ছে । কিছুসময় পর
আবারও রান্না ঘর থেকে খুঁটুর মুঁটুর শব্দটা শোনা
গেল ।
তবে এবারের শব্দটা শান্তুর মনে হলো আগের
চেয়েও একটু বেশি জোড়ে হচ্ছে । যে
শব্দটা করছে তার মধ্যে কোন রাখ- ঢাকের
ব্যাপার নেই । যেন কে, শব্দ শুনলো আর
কে, না শুনলো তাতে তার কিচ্ছুই যায় আসে না ।
শান্তু কি করবে বুঝতে পারছে না । শব্দের
পরিমান একটু একটু করে বাড়ছে । শান্তু হঠাৎ বলে
উঠলো- কে রে ?
সঙ্গে সঙ্গে খুঁটুর মুঁটুর শব্দটা বন্ধ হয়ে গেল ।
শান্তু কি করবে বুঝতে পারছে না । বিছানায়
আধশোয়া হয়ে আছে । মনে মনে দোয়া দুরুদ
পড়ে বুকে ফুঁ’দিল । কি দোয়া পড়লো নিজেও
বুঝলো না । ভয়ের সময় সব তালগোল পাকিয়ে
যায় । শান্তু ঠিক করলো, যা হোক হবে ও
একদৌড়ে রান্নাঘরে যাবে । আজ দেখতেই হবে
রান্না ঘরে কে ? পাজলামোর একটা সীমা আছে
। এটা তো দেখছি দুনিয়া ছাড়া ফাজলামো । ভয়
পেলেই ভয় । রান্না ঘর থেকে আর কোন
শব্দ শুনা গেল না । শান্তু কান খাঁড়া করে বিছানায় আধ
শোয়া হয়ে আছে ।
শীতের এই রাতেও ও টের পেল যে, ও
দরদর করে ঘামছে । ড্রাইনিংয়ের বাতিটা বারদুয়েক
ফুরুত ফুরুত করে জ্বলে উঠে আবারও নীভে
গেল । শান্তু ওর ঘরের দরজাটা দিয়ে রান্না ঘরের
দিকেই তাকিয়ে আছে ।
কিছুসময় পর আবার শুরু হলো খুঁটুর মুঁটুর শব্দ ।
শান্তু এক ঝারা দিয়ে উঠে দাঁড়ালো , এদিক সেদিক
তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজলো, সঙ্গে নেবার জন্য
। কিন্তু কিছুই পেল না । মনে মনে বিরক্ত হলো,
এই ভেবে যে, সময় মতো খুঁজলে কিছু পাওয়া
যায় না । শেষমেস আলতো কম্পিউটার টেবিল এর
ড্রয়ারটা খুলে, একটা প্লাস পেয়ে সেটাই হাতে
নিয়ে ওর ঘরের দরজার কাছে এসে দাঁড়াল । শান্তু
এবার নিশ্চত হলো যে, রান্না ঘর থেকে খুঁটুর
মুঁটুর শব্দটা আসছে । তবে এখন মনে হচ্ছে
শব্দটা বেশ আস্তে আস্তে হচ্ছে ।
শান্তু দেয়ালের দিকে তাকিয়ে দেখলো সাড়ে
চারটা বাজে । তারপর খুব আস্তে আস্তে রান্না
ঘরের দরজায় এসে দাঁড়ালো, রান্না ঘরের
ভেতরে উকি দিতেই ও যা দেখলো তাতে ওর
পুরো শরীর অবস হয়ে এলো । বিস্ময়ে ওর
মনে হলো মাথা ঘুরে পরে যাবে । নিজের
চোখকে বিশ্বাষ হচ্ছে না । ও দেখলো রান্না
ঘরে একটা মেয়ে বসে একাগ্র মনে পাটাতে
কিছু একটা বাটছে । আবচ্ছা আলোয় মেয়েটা
মুখটা দেখা যাচ্ছে না । ঘারের দু’পাশে আর পিঠে
ঘনকারো চুল গুলো ছড়ানো রয়েছে । পাটার
ঘষাতে ঘষাতে খোলা চুলগুলোসহ মেয়েটার
মাথাটা সামনে পিছে দুলছে । শান্তু মুখ দিয়ে
অর্স্পষ্ট ভাবে বেড় হয়ে এলো - কে ?
সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটা শান্তর দিকে ঘুরে
তাকায়, মেয়েটার চুলের ফাঁক দিয়ে সাদা ডিমের
মতো দু’টো চোখের চাহনী দেখে শান্তু’র
ভেতটা পর্যন্তু কেঁপে উঠলো । হিষ্টিরিয়ার
রোগীর মতো ও কোন মতে তোতলাতে
তোতলাতে প্লাস ধরা হাতটা তুলে ধরে লাফাতে
লাফাতে বললো কে ? কে ? শান্তুর পুরো
শরীর ওর থরথর করে কাঁপতে শুরু করে ।
চোখে ঠিক মতো কিছু দেখছে না । হঠাৎ ওর
মনে হলো ওর হার্ট আট্যাক হয়ে যাবে ।
রান্না ঘরে পাটাতে বসা মেয়েটা কোন কথা
বললো না , শুধু শান্তুর চোখের দিকে তাকিয়ে
থেকে আস্তে আস্তে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়
। মেয়েটার মুখটা নীচের দিকে করা কিন্তু
চোখ দুটো উল্টো করে শান্তুর দিকে কঠিন
চেহারা করে তাকিয়ে আছে । সেই চোখে
কোন মনি নেই । কারো চোখ যে, এতো
ভয়ন্কর হতে পারে তা শান্তুর কল্পনাতেও ছিল না ।
মেয়েটার ভয়ন্কর চাহনির কাছে শান্তু হঠাৎ যেন
আরো বেশি অসহায় হয়ে পরে । মেয়েটার গাল
বেয়ে বেয়ে পচাঁ ,গলা মাংস খসে খসে পরছে
। মেয়েটা মুখে পশুর মতো ক্যামন একটা
গগগগগগর শব্দ করতেই শান্তু লাফাতে লাফাতে
বলে- যা, যা । তারপর হাতে থাকা প্লাসটা মেয়েটার
দিকে ছুড়ে মারে । মেয়েটার ভেতর দিয়ে
প্লাসটা উড়ে গিয়ে রান্না ঘরের জানালায় লাগাতে
জানালার কাঁচগুলো ঝনঝন করে ভেংগে পরে ।
শান্তুর এ ব্যর্থতায় মেয়েটা যেন আরো বেশি
হিংস্র হয়ে উঠলো । চোখে মুখে কেমন
একটা ভয়ন্কর হাসি ফুঁটিয়ে মুখে ঘঘঘঘঘঘরর শব্দ
করে শান্তুর দিকে ছুটে আসে । হুঁট করে শান্তু
ছুটে পালানোর জন্য পেছন ঘুরে দৌড় দেবার
জন্য ঘুরতেই ওর রুমের দরজার সঙ্গে প্রচন্ড
আঘাত খেয়ে ছিটকে পড়লো মাটিতে এবং জ্ঞান
হারিয়ে ফেললো ।
পরিশেষ : শান্তুর ছুড়ে মারা প্লাসের আঘাতে রান্না
ঘরের কাঁচ ঝনঝন শব্দে ভেঙ্গে পরাতে
পুরো বিল্ডিয়ের লোকজন জেগে উঠে ।
নীচ থেকে সিকিউরিটি গার্ডসহ বাড়ীওয়ালা এসে
অনেকক্ষন বেল বাজানোর পরেও শান্তু দরজা না
খুলায়, সবাই দরজা ভেঙ্গে শান্তুকে মাটিতে পর
অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে ।
যেখানে সপ্তাহ্ খানেক কোমাতে থাকার পর
শান্তু মারা যায় । আর, শান্তুর মৃত্যটা রহস্য হয়ে ঐ
বাড়ীর দেয়ালে দেয়ালে হাহাকার করতে থাকে
।
(সংগৃহীত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now