বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-১৯ এবং শেষ পর্ব

"ভৌতিক গল্প " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ------------------------- ১৯ এবং শেষ পর্ব উঁচু পাহাড় পেরিয়ে এগিয়ে আসছে রিকার্ডো বিটির গাড়ি । কিন্তু এসপেন আজ এত অন্ধকার কেন? সেদিনও তো কিছু আলো ছিল। সোজা রাস্তায় এসে পড়ল রিকার্ডোর গাড়ি। কি আশ্চর্য! গ্রামের মাত্র একটা বাড়িতে আলো জ্বলছে, আর কোথাও কোনও বাড়িতে আলো জ্বলছে না। রিকার্ডো একবার পকেটে হাত ঢুকিয়ে সিলভার বুলেট লোড করা রিভলবারটার স্পর্শ নিল। ঠিকই আছে। আরও কিছুদূর এগিয়ে এসে বুঝল শুধু ক্যারেনের বাড়িতেই আলো জ্বলছে। আরে! গাড়ির সামনে ওটা কি? এলসেশিয়ান কুকুর? গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়ল ওটার চোখে। চকিতে সরে গেল। ক্যাজুরিনার গেটে এসে পৌঁছল রিকার্ডো। দেখল, গেট জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে একটা নেকড়ে। নেকড়ে! নেকড়ে কেন? আলো পড়ে জ্বলজ্বল করছে ওটার চোখ। রিকার্ডো ঠিক করল, শেষ মূহুর্তে নেকড়েটা সরে না গেলে ধাক্কা দেবে ওটাকে। গাড়ি একেবারে কাছে এসে পড়তে নেকড়েটা বিদ্যুৎ গতিতে সরে গেল। গেট খোলাই ছিল। গেটের কাছে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে। গাড়িটা ক্রিস হ্যালোরানের নয়। রিকার্ডো গাড়িটা দাঁড় করিয়ে গাড়ি থেকে নামতে যাচ্ছে, তখনিই দেখল আর একটা নেকড়ে। ওর গায়ে লাফ দিতে যাচ্ছে। লাফ মারল ওটা। সঙ্গে সঙ্গে গুলি ছুঁড়ল রিকার্ডো। সিলভার বুলেটের ধাক্কায় শূন্যেই ডিগবাজি খেয়ে নেকড়েটা ধপ করে পড়ে গেল মাটিতে। অন্য নেকড়েটা কি ভেবে সরে গেল। যেটা সরে গেল সেটাই ধাক্কা দিচ্ছিল ক্যারেনের বাড়ির দরজায়। রিকার্ডো দরজায় দুটো ফাটল লক্ষ্য করল। এদিকে বাড়ির ভেতর ক্যারেনের বিস্ফারিত চোখের সামনে ডাঃ গোয়েজ ততক্ষনে নেকড়ে হয়ে গেছেন। ধূসর নেকড়েতে রূপান্তরিত হয়েছেন ডাক্তার। বাদামী রঙের আর একটা নেকড়েও ততক্ষনে জানলার কাঁচ ভেঙে ভেতরে প্রায় ঢুকে পড়েছে। বাদামী রঙের নেকড়েটা ঘরে ঢুকতেই ধূসর নেকড়েরূপী ডাঃ গোয়েজ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ঠিক তখনিই বাইরে গাড়ির শব্দ আর রিভলবারের গুলির শব্দ পাওয়া গেল। ক্যারেন ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দিতেই রিভলভার হাতে ঘরে ঢুকল রিকার্ডো, ঢুকেই দেখল দুটো নেকড়ে পরস্পর লড়াই করছে। রিকার্ডো গুলি করতে যাচ্ছিল, বাধা দিল ক্যারেন। " ধূসরটাকে মেরো না। বাদামীটার তো শেষ সময় ঘনিয়েছে। " সত্যিই ধূসর নেকড়েটা বাদামীটাকে পেড়ে ফেলে তার গলার রগ ছিঁড়ে ফেলেছে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওটা মাটিতে স্থির, নিশ্চল পড়ে রইল। ধূসর নেকড়েটা একবার ক্যারেন আর রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে পরক্ষনে জানলা দিয়ে লাফ দিয়ে গলে পালিয়ে গেল। " সিলভার বুলেট এনেছ রিক?" " কটা?" " রিভলবারে পাঁচটা। পকেটে ছটা।" " রিকার্ডো, এখুনি পালাতে হবে আমাদের। এ গ্রামের সব্বাই ওয়্যারউলফ। ক্রিসও নেকড়ে হয়ে গেছে। একটু আগে ডাঃ গোয়েজও নেকড়ে হয়ে বাদামী নেকড়েটাকে মেরে চলে গেলেন। তোমার বুলেট তো মাত্র এগারোটা। সামনে যে কটাই বাধা দিক, ওগুলোকে শেষ করে এখুনি আমাদের এখান থেকে পালাতে হবে।" দরজা খোলা পেয়ে দুটো নেকড়ে ঢুকে পড়েছে ঘরে। বাকি দুটো চেষ্টা করছে জানলা দিয়ে ঘরে ঢোকার। সঙ্গে সঙ্গে দুটো গুলি করল রিকার্ডো। ভেতরের দুটো খতম। ক্যারেন বলল, " সিলভার বুলেট আর আগুনই এখন ভরসা, রিক। তুমি খেয়াল রাখো, আমি মশাল জ্বালছি।" ক্যারেন ফুলঝাড়ু দুটো ফায়ারপ্লেসে ঢুকিয়ে আগুন ধরাল। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল ফুলঝাড়ুদুটো। আগুন দেখে জানলার নেকড়েদুটো সরে গেল। মশালের আগুন লেগে গেল একটা পর্দায়। " চল রিকার্ডো, এখনই সারা বাড়িতে আগুন ধরে যাবে।" ওরা বেরোতে গিয়ে দেখল, দরজার পাশে আর চারটে নেকড়ে আছে, দূরে আরও কয়েকটা বসে আছে। অথচ রিকার্ডোর রিভলবারে গুলি আছে আর মাত্র তিনটে। রিকার্ডো পরপর তিনটে গুলি করে তিনটে নেকড়েকে ধরাশায়ী করে ফেলল। বাকি একটা নেকড়ে সরে গেল। ক্যারেন রিকার্ডোর পেছনে। তার হাতে জ্বলন্ত মশাল। জ্বলন্ত মশাল দুলিয়ে দুলিয়ে ভয় দেখাচ্ছে নেকড়েগুলোকে। চটপট গাড়িতে উঠে পড়ল রিকার্ডো। গাড়িতে উঠেই চট করে রিভলবারে বাকি ছটা সিলভার বুলেট ভরে নিল। গাড়ি স্টার্ট দিতেই ক্যারেন লাফিয়ে উঠে পড়ল গাড়িতে। মশালদুটো ছুঁড়ে দিল শুকনো পাতার গাদায়। দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। কিন্তু আগুন উপেক্ষা করে ছুটে এল সবুজ চোখের মাদি নেকড়েটা। জানলা দিয়ে থাবা মারতে গেল ক্যারেনের হাতে। ফস্কে গেল। পাশের সিট থেকে রিভলভারটা তুলে নিয়ে ক্যারেন গুলি করল সবুজ চোখের মাদি নেকড়েটার অর্থাৎ লিন্ডা কক্সের মুখে। হাঁ এর ভেতর ঢুকে গেল সিলভার বুলেট। ছিটকে পড়ল নেকড়েরূপী লিন্ডা কক্স। গাড়ি স্টার্ট দিয়ে দিল রিকার্ডো। কাঁচা রাস্তা ছেড়ে মেইন রাস্তায় পড়ল রিকার্ডোর গাড়ি। ফুলস্পিড দিল রিকার্ডো। উপত্যকা পার হয়ে পাহাড়ের মাথায় উঠে গাড়ি থামাল ও। দুজনেই পেছন ফিরে দেখল, দূরে ক্যাজুরিনা লাল অগ্নিকুন্ডে পরিণত হয়েছে। পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে সেই আগুন। কাতর কান্না আর চিৎকারে ভরে উঠছে আকাশ বাতাস। তবে সে কান্না আর চিৎকার মানুষের না পশুর বোঝা যাচ্ছে না। রিকার্ডো ক্যারেনের হাত নিজের দু হাতের মুঠোয় নিল। অশ্রুসজল হয়ে উঠল ক্যারেনের চোখ। ( সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-১৯ এবং শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now