বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
-------------------------
পর্ব ১৫
নেকড়েটা এগিয়ে এসে ক্রিসের কাঁধে সামনেত দু পা তুলে ঠেলতে শুরু করল। বাধা দিতে গেল ক্রিস। ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল নেকড়েটাকে কিন্তু একচুল নড়াতে পারল না। হাঁ করল নেকড়েটা। কি সুতীক্ষ্ণ ওটার দাঁতগুলো! দৃষ্টি থেকে যেন ঝরে পড়ছে আগুন!
ভীষণ ভয় পেল ক্রিস। মৃত্যুর কথা মনে হল ওর। লিন্ডার সাথে কেন সম্পর্ক করতে গেল, এই ভেবে আফশোস হতে লাগল তার। এই পথ দিয়ে শর্টকাট আসার জন্য নিজের ওপরই রাগ হতে লাগল তার। ততক্ষণে নেকড়েটা ওকে মাটিতে ফেলে দিয়েছে। মাটিতে চিত করে ফেলে ওর মুখের কাছে মুখ আনল জন্তুটা। কি ভীষণ ধারাল দাঁত! দাঁত তো নয় যেন ধারাল ছোঁড়া! ভয়ে চোখ বুজল ক্রিস।
নেকড়েটা ক্রিসের ডান কাঁধে কামড় বসাল। ক্রিসের মনে হল, ওর ডান কাঁধটা বুঝি ভেঙেই গেল! নেকড়েটার দুই কষ বেয়ে ঝরছে রক্ত। অসহ্য যন্ত্রণায় গুঙিয়ে উঠল ক্রিস। ওর মনে হল, এবার বুঝি ওর গলার শিরা ছিঁড়ে রক্তপান করবে জন্তুটা!
কিন্তু কি আশ্চর্য! নেকড়েটা নেমে গেল ক্রিসের বুকের ওপর থেকে। তারপর ধীর পায়ে হেঁটে বনের ভেতর অদৃশ্য হয়ে গেল। সংজ্ঞা হারাল ক্রিস হ্যালোরান।
কতক্ষণ অজ্ঞান হয়ে ঐ বিরাণ পথের ওপর পড়েছিল, জানে না ক্রিস। যখন জ্ঞান ফিরল, তখন আকাশে আলো বিলোচ্ছে উজ্জ্বল চাঁদ। সারা শরীরে অবশ। ডান কাঁধটা যেন মনে হচ্ছে নেই। ওর ডান কাঁধটা কি ভেঙে গেছে? ঘামে ভিজে গেছে সারা শরীর। জামাটা ভিজে চপচপ করছে।
খানিকটা হামাগুড়ি দিয়ে, খানিকটা টলতে টলতে ক্যাজুরিনায় পৌঁছল ক্রিস। তারপর বাড়ির দরজায় পৌঁছেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল সে।
দরজার বাইরে কিছু পড়ার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল ক্যারেনের। একটা দোলনায় বসে ক্রিসের ফেরার অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিল ও।
আবার কি একটা শব্দ শুনল বাইরে। বাইরে তাকিয়ে ক্যারেন দেখল, ভোর হয়ে আসছে। কে যেন দরজায় আস্তে আস্তে কিল দিচ্ছে। বুক ঢিবঢিব করে উঠল ক্যারেনের। মূহুর্তে সজাগ হয়ে উঠল সে। জলদি বন্দুকটা নিয়ে এসে তাতে কার্তুজ ভরে তৈরি হয়ে নিল সে। ডান হাতে বন্দুকটা বাগিয়ে ধরে, বাঁ হাতে দরজা খুলতেই দেখতে পেল, ক্রিস বেড়ালের মতো দরজার সামনে গুটিয়ে পড়ে আছে।
একি! এভাবে পড়ে আছে কেন ক্রিস? কি হয়েছে ওর? ও কি বেঁচে আছে? বন্দুকটা ফেলে দিয়ে স্বামীকে জড়িয়ে ধরল ক্যারেন। " কি হয়েছে তোমার ক্রিস? এখানে এভাবে শুয়ে আছ কেন?"
কথা বলবার ক্ষমতা নেই ক্রিসের। শুধু একবার চোখটা খুলেই বন্ধ করে ফেলল।
কোনক্রমে টানতে টানতে ক্রিসকে ঘরের ভেতর নিয়ে এল ক্যারেন।
ধরে ধরে ক্রিসকে একটা সোফায় বসিয়ে দিল ক্যারেন। ক্রিসের শার্টে রক্ত। জামাকাপড়ে লতাপাতা চেপ্টে আছে। অবশ্য খুব বেশী রক্ত নেই। শুকিয়ে গেছে।
কিন্তু কি হয়েছিল ক্রিসের? ওয়্যারউলফ কি আক্রমণ করেছিল ওকে? মাই গড!
ক্রিসের জামাকাপড় খুলিয়ে, গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে ক্রিসের মুখ মুছিয়ে দিল ক্যারেন।
নানান প্রশ্ন করছে ক্যারেন কিন্তু হ্যাঁহুঁ ছাড়া কোনও শব্দই বেরোচ্ছে না ক্রিসের মুখ থেকে। ব্রান্ডি খাওয়াবার চেষ্টা করল ক্যারেন, কিন্তু গিলতে পারল না ক্রিস। ক্যারেন ক্রিসের সব জামাকাপড় খুলে ফেলল কিন্তু শরীরে দু একটা ছড়ে যাওয়ার চিহ্ন ছাড়া আর কোনও চিহ্ন চোখে পড়ল না। তাহলে রক্ত এল কোথা থেকে?
ক্রিসের শার্টের যে জায়গাটায় রক্ত লেগেছিল, সেই জায়গাটা ভাল করে পরীক্ষা করল ক্যারেন। একটা ক্ষতের মতো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে বটে। কিছু একটা কামড়ে দিয়েছে হয়ত।
কোনওমতে ক্রিসকে সোফা থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল ক্যারেন। কম্বল দিয়ে ঢেকে দিল শরীর। পায়ের কাছে হট ওয়াটার ব্যাগ রেখে দিল। আবার ব্রান্ডি খাওয়াবার চেষ্টা করল। পারল না। ডাক্তার ডাকা দরকার।
ততক্ষনে সূর্য উঠে গেছে।
ক্যারেন বলল, " ক্রিস আমি ডাক্তার ডাকতে যাচ্ছি। আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?"
ক্রিসের গলা দিয়ে একটা ঘড়ঘড় শব্দ বেরল। বোধহয় কিছু বলতে চাইল। হাত নেড়ে কি যেন ইঙ্গিত করল, ক্যারেন বুঝতে পারল না।
ক্যারেন বলল, " তুমি একটু শুয়ে থাকো। আমি এক্ষুনি ডাঃ গোয়েজকে ডেকে আনছি।"
এবারও কোনও জবাব দিল না ক্রিস। ক্যারেন ছুটে ডাঃ গোয়েজের বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হল। ডাঃ গোয়েজ তখন সবে মর্নিং ওয়াক থেকে ফিরেছেন।
" কি ব্যাপার মিসেস হ্যালোরান? কি হয়েছে? "
ক্যারেন তখন সংক্ষেপে ডাক্তারকে সব জানাল। শুনে ডাক্তারের ভ্রু কুঁচকে গেল। স্বগতোক্তির মত বললেন, " এই গ্রামে কত অদ্ভুত ঘটনাই না ঘটে!"
ক্যারেন ডাক্তারের হাত ধরে টানতে লাগল। " এক্ষুনি চলুন ডাক্তার।"
" দাঁড়ান, ব্যাগটা নিয়ে আসি।"
ডাঃ গোয়েজ গ্যারেজ থেকে নিজের গাড়িটা বের করে ক্যারেনকে নিয়ে ক্যাজুরিনায় এলেন।
ঘরে ঢুকে ডাঃ দেখলেন, বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে আছে ক্রিস। জ্ঞান নেই। চোখ লাল। জ্বর।
ডাক্তার নাম ধরে ডাকলেন কয়েকবার ক্রিসের। চোখ মেলল ক্রিস। শূন্য দৃষ্টি।
ক্রিসের শার্টটা এনে তাতে লাগা রক্তের ছোপটা ডাক্তারকে দেখাল ক্যারেন। ডাক্তার ক্রিসের গায়ের কম্বলটা তুলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার শরীর পরীক্ষা করলেন। তারপর বললেন, " কাঁধের ক্ষতচিহ্নটা কামড়েরই দাগ। তবে কিসে কামড়েছে বলা মুশকিল। মানুষও হতে পারে।"
ক্যারেন বিস্মিত হয়ে বলল, " মানুষ, ডাক্তার? না কি ওয়্যারউলফ কামড়েছে ওকে? মানুষ কামড়ালে মারা যাচ্ছে কেন ক্রিস?"
ডাক্তার বললেন, " মারা যাবে না আপনার স্বামী। ভয়ে কিংবা আকস্মিক উত্তেজনার কারনে এটা হয়েছে। শীগগিরইই সুস্থ হয়ে উঠবেন। কি হয়েছিল সেটা একমাত্র ক্রিসই বলতে পারবে। আমি একটা ইঞ্জেকশন দিয়ে দিচ্ছি আপাতত, খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে ক্রিস।"
ইঞ্জেকশন দিয়ে ডাক্তার বেড়িয়ে যাচ্ছিলেন, ক্যারেন হঠাৎ জিজ্ঞেস করল, " আচ্ছা, ডাঃ গোয়েজ, আপনি কি সম্প্রতি টেবর ইভেন্সের চিকিৎসা করেছেন?"
" না তো। কেন?"
" আপনাকে সেদিন বলেছিলাম না, উইলিয়াম অলিভারকে আমার সন্দেহ হয়?"
" হ্যাঁ।"
" কিন্তু আপনার ওখান থেকে ফেরার পথে দেখলাম, শেরিফ টেবর ইভান্সের মাথা আর কানে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ওয়্যারউলফ জখম হলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠে জানি। কিন্তু নতুন করে কান গজায় না জানি। "
ডাক্তার হেসে বললেন, " না, আমি সম্প্রতি টেবর ইভান্সের চিকিৎসা করিনি। রাতে এখানে ওয়্যারউলফ বেরোয় কিনা জানি না, কিন্তু দিনের বেলা এখানে কোনও ভয় নেই। সাবধানে থাকবেন।"
ডাক্তার চলে গেলে ক্যারেন ঘরে এসে দেখল, অঘোরে ঘুমোচ্ছে ক্রিস। ওর চোখের পাতা বার বার নেচে উঠছে।
সারাদিন ঘুমোল ক্রিস হ্যালোরান। সন্ধ্যার পরও জাগল না। ক্যারেন সারাক্ষণ ওকে চোখে চোখে রাখছে।
ক্যারেন সারাদিন খাটাখাটুনির ফলে নিজেও খুব ক্লান্ত। রাত হলে ও ক্লান্ত হয়ে একসময় ক্রিসের পাশে শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেল ক্যারেনের। জেগে উঠে দেখল, ক্রিস বিছানার ওপর শক্ত হয়ে বসে আছে।
" কি হয়েছে ক্রিস? কিছু খাবে?"
ক্রিস উত্তর দেবার আগেই বাইরের বাগান থেকে ভেসে এল নেকড়ের আকুল আহ্বান। তীব্র হাউলিং। ক্যারেন বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়ল। এবার ক্রিসও কোনও কথা না বলে শুয়ে পড়ল।
ভোরবেলা উঠে ক্যারেন দেখল, ক্রিস চোখ বন্ধ করে চুপ করে শুয়ে আছে। ক্যারেন জানতে চাইল, " এখন কেমন লাগছে শরীর? "
" এই আর কি!"
" কিছু খাবে? গত চব্বিশ ঘন্টায় তো কিছুই খাওনি?"
হঠাৎ উঠে বসল ক্রিস। বলল, " আচ্ছা ক্যারি, বলতো আমার কি হয়েছে? এরকম রোগী ভাবছ কেন আমায়? কত কাজ পড়ে আছে আমার!"
" এখন কাজ করতে হবে না তোমায়। ডাক্তার তোমায় বিশ্রাম নিতে বলেছেন।"
" ডাক্তাররা ওরকম বলে। আর ডাক্তার পেলেই বা কোথায়?"
" ডাঃ গোয়েজ তোমায় কাল ভোরে দেখতে এসেছিলেন। " ক্যারেন জানাল।
" কেন আমার কি হয়েছিল?"
" কেন, তোমার কিছু মনে নেই?"
" না, না তো"। সিধে হয়ে বসল ক্রিস। " এই তো বেশ আছি।"
" যাক, তুমি হাত মুখ ধুয়ে নাও। আমি নাস্তা বানাতে যাই"। একটা দীর্ঘশ্বাস গোপন করল ক্যারেন।
ক্রিস বলল, " নাস্তা লাগবে না আমার। খিদে নেই। তাছাড়া ওজনও তো কমানো দরকার। ভুঁড়িও হয়ে যাচ্ছে।"
কিচেনে ঢুকল ক্যারেন। ক্রিস বসেই রইল। হাতমুখ পর্যন্ত ধুলো না।
ক্রিসের পছন্দমতো নাস্তা তৈরি করে টেবিলে সাজিয়ে রাখল ক্যারেন। কিন্তু এটা একটু, ওটা একটু মুখে দিয়েই উঠে পড়ল ক্রিস। রান্না ভাল হয়নি বলে বিরক্তি প্রকাশ করল। ওদের বিবাহিত জীবনে ক্রিস এই প্রথম ক্যারেনের হাতের রান্নার নিন্দে করল। শুধু একটুখানি কফি খেয়ে একগাদা কাগজপত্র নিয়ে বসল। প্রুফ দেখতে লাগল লাল কলম নিয়ে।
মনোযোগ দিয়ে একটানা পনের মিনিট কাজ করল ক্রিস। তারপর কপাল কুঁচকে, নাক সিঁটকে, মহাবিরক্তি নিয়ে নানা মন্তব্য করতে লাগল।
ক্যারেন বলল, " তোমার আরও খানিকটা বিশ্রাম নেওয়া দরকার, ক্রিস।"
" আমার ওপর হেডমাস্টারি ফলাবে না ক্যারি",কড়া গলায় বলল ক্রিস। বিশ্রাম নেওয়া দরকার! আমার কি দরকার, কি দরকার নেই, সেটা তোমার থেকে আমি ভাল জানি। এর জন্য কাওকে মাতব্বরি ফলানোর দরকার নেই। দূর ছাই! এডিট করব কি! পাতাগুলো গেল কোথায়!"
বলে সমস্ত কাজ ফেলে রেখে ক্রিস হনহন করে বাইরে বেরিয়ে গেল।
সারাদিন বনে বনে ঘুরে বেড়াল ক্রিস। কখনো কোনও গাছের নীচে বসল, কখনো কোনও গাছের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।
দুপুরেও ফিরল না ক্রিস। লাঞ্চের টাইমেও এল না। অপেক্ষা করে করে ক্যারেন কোনওমতে নিজের লাঞ্চটা সেরে নিল। ক্রিস ফিরল দুপুর গড়িয়ে যাবার পর। তিরিক্ষি মেজাজ নিয়ে। কিছু জিজ্ঞেস করলে মেজাজ দেখিয়ে বলল, " কোথায় দেখলে আমার তিরিক্ষি মেজাজ?"
কিছু খাওয়ানো দরকার লোকটাকে কিন্তু কি খাওয়াবে? কফি, বিস্কুট, চিজ....কোনওকিছুই স্পর্শ করছে না। বসল আবার নিজের কাজ নিয়ে। তারপর মিনিট পাঁচেক পর আবার বেড়িয়ে গেল বাইরে।
ক্রিস বেড়িয়ে গেলে বাইরে গাড়ির আওয়াজ শুনে ক্যারেন জানলা দিয়ে দেখতে পেল, শেরিল আসছে। দৌড়ে গিয়ে শেরিলকে জড়িয়ে ধরল ক্যারেন।
শেরিল বলল, " ডাঃ গোয়েজ আমায় ফোন করে সব বলেছেন। এখন কেমন আছে ক্রিস?"
ক্যারেন বিমর্ষমুখে জানাল, " দুদিন ধরে কিচ্ছু খাচ্ছে না। সকালে কোথায় বেড়িয়ে গেছিল জানি না। ফিরেছিল কিছুক্ষণ আগে। তারপর আবার বেড়িয়ে গেল।"
" কি হয়েছে ওর? কিছু বলেছে?"
" কিচ্ছু বলছে না। জিজ্ঞেস করলে বলছে, কিছু হয়নি ওর। কিন্তু সারাক্ষণ বিরক্ত, ছটফট করছে আর মেজাজ করছে!"
শেরিল বলল, " দেখো দু একটা দিন। এরপরও অবস্থার পরিবর্তন না ঘটলে এই গাঁ ছেড়ে চলে যাও। এখানে তোমাদের না থাকলেই ভাল হয়।"
বিদায় নেবার সময় শেরিল বলল " চলি। তোমায় একটা খবর দেবার আছে। আসবার সময় টেবর ইভান্সের সঙ্গে দেখা হল।"
" কি দেখলে?"
" ইভান্সের মাথার ব্যান্ডেজের দিকে ইঙ্গিত করে জানতে চাইলাম, কি হয়েছে। বলল, ফোঁড়া হয়েছে। এমনকি আমার সামনে ব্যান্ডেজ খুলে দেখাল। দেখলাম, ফোঁড়ার দাগ শুকিয়ে আছে। "
ক্যারেন শেরিলের গালে চুমু খেল। শেরিল বিদায় নিল।
সেদিন রাতে কি ঘটেছিল তা মনে নেই ক্রিস হ্যালোরানের। শুধু এটুকু বুঝতে পারছে, ওর দেহের ভেতর কি যেন একটা পরিবর্তন ঘটছে। শ্রবণ শক্তি আর ঘ্রাণ শক্তি আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। বনে বনে ঘুরে বেড়ানোর সময় বা ঘরে থেকেও সে নানা শব্দ শুনতে পায়, ঘ্রাণ পায়। এও যেন এক ধরনের নেশা বা আবিষ্কার। বনে কোথায় কি ফুল ফুটল, কি ফল ফলল কি বনের মধ্যে কোথায় পাতার ওপর দিয়ে একটা কাঠবেড়ালি সরে গেল, তাও ঘরে বসে টের পায় ক্রিস। ঘর থেকে বনের গভীরে কোন প্রাণী চলে বেড়াচ্ছে তার শব্দ শুনতে পায়।
আর একটা নতুন উপসর্গ লক্ষ্য করছে ক্রিস। তা হল সন্ধ্যা হলেই তার শরীরের গাঁটে গাঁটে ব্যথা শুরু হয়। বাইরে বেরনোর জন্য উসখুস করতে থাকে। বন যেন তাকে টানে। কিন্তু ক্যারেনের কথা ভেবে সে চুপ করে থাকে।
দিনের বেলা তার মেজাজ খুব হট হয়ে থাকে। কোনও খাবার সে খেতে পারে না। রাতে ঠান্ডা বাতাসে বনে বনে ঘুরে বেড়ানোর সময় তার মেজাজ অনেক ঠাণ্ডা হয়ে আসে। মনে হয়, বনই তার আপন, বনই তার চিরপরিচিত। অথচ ঘরে ফিরলে মনে হয় যেন পানির মাছ ডাঙায় পড়েছে। কেন এমন হয় বুঝতে চেষ্টা করে ক্রিস।
সেদিন রাতের কথা মনে করতে চেষ্টা করে ক্রিস। কিছু একটা তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিল। সবুজ চোখ। রহস্যময় দৃষ্টি। মদির আকর্ষণ। সেই চোখ তার খুব চেনা। লিন্ডার চোখ। কিন্তু লিন্ডা তো অনিন্দ্যসুন্দরী এক যুবতী, পশু তো নয়! তবে একটা পশুর চোখে অবিকল লিন্ডার দৃষ্টি কি করে দেখল সে!
( ক্রমশ)
-----------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now