বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
-----------------------
পর্ব ১৩
চমকে উঠল ক্যারেন লোকটার হিমশীতল দৃষ্টি দেখে।
" কি ব্যাপার, ভয় পেলেন নাকি মিসেস হ্যালোরান?" নির্লিপ্ত প্রশ্ন উইলিয়াম অলিভারের।
" না, তা নয়", ক্যারেন নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, " আপনি যে আমার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন, আমি দেখতেই পাইনি। তাই আর কি!" শুকনো হাসি হাসল ক্যারেন। ওর মনে হল, মানুষটা যেন কেমন। কথা বলে মেশিনের মতো। পৃথিবীতে কতরকমের মানুষ যে আছে!
ক্যারেন ঘর থেকে বেরচ্ছে, এইসময় মার্সিয়া এসে ঢুকল বাইরে থেকে। হাতে ডিমের ঝুড়ি।
ক্যারেনকে দেখে বলল, " কি বেরোচ্ছ নাকি? এক কাপ কফি খাবে না?"
" না আজ থাক। জরুরী কাজ আছে।"
মার্সিয়ার দোকান থেকে কফি কিনল ক্যারেন। যদিও না কিনলেও চলত।
আজ আর লিন্ডার দোকানের পাশ দিয়ে শর্টকাট রাস্তা ধরল না ক্যারেন।
বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে বাকি সময়টা কাটিয়ে দিল।
ঘুম থেকে উঠতে সন্ধ্যে হয়ে গেল। ক্যারেন উঠে কফি খেল। টুকিটাকি কিছু কাজ সেরে রান্না করল। ক্রিস এলে একসঙ্গে খেতে বসবে।
রিকার্ডোর জন্য খুব কষ্ট হতে লাগল ওর। কেন সে এভাবে ওকে তাড়িয়ে দিল! আসলে রিকার্ডো যখন পেছন থেকে ওর কাঁধ স্পর্শ করেছিল, ওর মনে হয়েছিল, ফের জো থম্পসন এসে দাঁড়িয়েছে ওর ঘরে। ক্যারেন ঠিক করল, একটা চিঠি লিখে ক্ষমা চাইবে রিকার্ডোর কাছে। বলবে, রিকার্ডো যেন ওর গার্ল ফ্রেন্ডকে নিয়ে এখানে এসে দুদিন কাটিয়ে যায়।
পাহাড়ের কোলে সূর্য ডুবে গেছে অনেকক্ষণ। ক্রিস এখনো কেন ফিরছে না! সকালেই তো ফেরার কথা ছিল ওর। ক্যারেন অসমাপ্ত বইখানা নিয়ে বসল চেয়ারে। উৎকর্ণ হয়ে রইল ক্রিসের গাড়ির শব্দ শোনার জন্য।
শব্দ শুনল ক্যারেন। তবে গাড়ির নয়। কান্নার। নেকড়ের কাতর কান্নার শব্দ।
কান খাড়া করল ক্যারেন। এই শব্দটা তো ও শোনে গভীর রাতে। সন্ধ্যায় তো আজ পর্যন্ত শোনেনি শব্দটা। তবে কি ও ভুল শুনছে!
তখনি আবার বাইরে থেকে স্পষ্ট নেকড়ের হাউলিং ভেসে এল। স্পষ্ট শুনল ক্যারেন। ভয়ে ক্যারেনের হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
আবার ডেকে উঠল নেকড়েটা। বোধহয় ওদের বাগানেই ডাকছে। এতো সাহস? না, আজ নেকড়েটাকে ছাড়বে না ক্যারেন। চেয়ার ছেড়ে উঠে জানলার পর্দা সরিয়ে দেখল ক্যারেন।
ক্যারেন দেখতে পেল, সামনের দু পায়ে ভর দিয়ে থাবা গেড়ে বসে আছে বিশাল এক নেকড়ে। আলো পড়ে জ্বলজ্বল করছে ওটার চোখদুটো। মাটি থেকে ওর মাথার উচ্চতা প্রায় চার ফুট হবে, ধূসর গায়ের রঙ, গলার কাছে গাঢ় রঙ। ক্যারেনকে দেখে ওটা হাঁ করল। কি বিশাল হাঁ! আর কি সুতীক্ষ্ণ ওর দাঁতগুলো!
ক্যারেনকে দেখেও কিন্তু নেকড়েটা নড়ল না। নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে ক্যারেনের দিকে। না, আজ ওটাকে ছাড়া চলবে না। নেকড়েই হোক আর ওয়্যারউলফই হোক, ক্যারেন আজ মারবেই ওটাকে।
পাশের ঘরেই ছিল ক্রিসের দেওয়া বন্দুকটা। সেই ঘরে ছুটে গিয়ে ক্যারেন দোনলা বন্দুকটা আর কার্তুজের বাক্সটা নিয়ে এল। ফিরে এসে দেখল, নেকড়েটা সেই একই জায়গায় একইভাবে থাবা গেড়ে বসে আছে। কি চায় ওটা? বন্দুকে গুলি ভরে তাক করল ক্যারেন নেকড়েটার দিকে। ট্রিগার টিপল। উত্তেজনায় ফসকে গেল ক্যারেনের হাত। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। নেকড়েটার দু ফুট দূরে লেগে সামান্য ধূলো উড়ল। নেকড়েটা তাকাল না পর্যন্ত।
মাথায় রক্ত চড়ে গেল ক্যারেনের। কি উদ্ধত ভ্রুক্ষেপহীন চাহনি নেকড়েটার! যেন পরোয়াই করছে না ওকে! আবার ট্রিগার টিপল ক্যারেন। এবার আর লক্ষ্যভ্রষ্ট হল না গুলি। নেকড়েটার গালের পাশ দিয়ে গিয়ে কানে গিয়ে লাগল গুলি। সামান্য রক্ত ঝরল। সামান্য আহত হল নেকড়েটা। তবে মরল না, কাতরও হল না। ক্যারেন আশঙ্কা করল এবার বোধহয় নেকড়েটা লাফ মেরে এগিয়ে আসবে ওর দিকে। তাই তাড়াতাড়ি জানলাটা বন্ধ করে দিল ক্যারেন। কিন্তু নেকড়েটা লাফ মেরে এগিয়ে এল না। ঐখানেই বসে ঘৃণাভরে জ্বলন্ত দৃষ্টি মেলে তার দিকে চেয়ে রইল। তারপর লেজ নেড়ে একসময় অন্ধকারের আড়ালে চলে গেল।
উত্তেজনায় কাঁপছে ক্যারেন। বন্দুকটা দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রাখল ক্যারেন। নিজেও দেওয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে হাঁফাতে লাগল। তারপর একসময় একটু ধাতস্থ হয়ে সোফায় পা তুলে বসে ক্রিস হ্যালোরানের ফেরার অপেক্ষা করতে লাগল।
ক্রিসের কথা মনে পড়তেই হঠাৎ ভয় পেয়ে গেল ক্যারেন। নেকড়েটা যদি লুকিয়ে থাকে বাগানের ভেতর! ক্রিস গাড়ি থেকে নামতেই যদি ঝাঁপিয়ে পড়ে ওর ওপর! শিউরে উঠল ক্যারেন। কিভাবে সাবধান করবে সে ক্রিসকে! গাড়ির শব্দ পেলেই কি ও চেঁচিয়ে উঠবে!
তবে ও কোনওকিছু করার আগেই বেজে উঠল ডোরবেল।
ক্যারেন ভেতর থেকেই চিৎকার করে উঠল, " কে, কে ওখানে?"
দরজার বাইরে থেকে ক্রিসের গলা পাওয়া গেল, " আমি ক্রিস, দরজা খোল।"
দরজা খুলে ক্যারেন কিছুই বলতে পারল না। দেওয়ালে ঠেসান দেওয়া বন্দুক আর ক্যারেনের গম্ভীর মুখ দেখে ক্রিস জানতে চাইল, " কি হয়েছে?"
ক্যারেন তখন সবকিছু তাকে খুলে বলল।
ক্রিস বলল, " চলো তো, বাইরে গিয়ে দেখি কোথায় এসেছিল জন্তুটা।"
ক্রিস টর্চ নিয়ে বাইরে গিয়ে ক্যারেনকে ডাকল।
দুজনে এগিয়ে গেল বাগানের দিকে।
নেকড়েটা যে জায়গায় বসেছিল, সেখানে এসে ক্রিস টর্চের আলো ফেলল। মাটিতে রক্তের দাগ স্পষ্ট। শুষে নিয়েছে মাটি। ক্রিসের টর্চের আলোয় দেখা গেল মাটিতে কি একটা পড়ে আছে। হাত দিয়ে জিনিসটা তুলে নিয়ে ক্রিস দেখল, একটা কান। হয়ত বা নেকড়েরই কান।
ক্যারেন বলল, " এবার আমার কথা বিশ্বাস হল তো?"
" হল। মনে হয় ধারেকাছেই কোথাও লুকিয়ে আছে ওটা। বন্দুকটা নিয়ে এসো তো। তোমার গুলিটা মনে হয় ঠিকমতো লাগেনি। "
" নিশ্চয় লাগেনি। কারণ গুলি ওটার কানে লাগার পরও একটা শব্দ পর্যন্ত করেনি নেকড়েটা। কিন্তু অন্ধকারে তোমার একা যাওয়া ঠিক হবে না"। ক্যারেনের গলায় উদ্বেগ।
" আরে আমার জন্য ভেবো না। আমার হাতের টিপ অত খারাপ না। তুমি ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দাও।"
ক্রিস বন্দুক আর টর্চ নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। নেকড়েটা যে রাস্তা ধরে গেছে, সেই রাস্তা ধরেই চলল ও।
চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলোয় বনপথ স্পষ্ট।
কিছুদূর হাঁটার পর ক্রিস লক্ষ্য করল, লিন্ডা কক্সের দিকে বাড়ির দিকে চলেছে সে। এই পথেই সে গতদিন এসেছিল লিন্ডার সাথে।
ক্রিসের মনে হল, সামনের রাস্তাটার ওপর কি যেন গুড়ি মেরে আছে। ওটা কি কোনও গাছের গুড়ি? না নেকড়েটাই?
টর্চ জ্বালল না ক্রিস। টর্চটা মাটিতে নামিয়ে রেখে বন্দুক তাক করল ক্রিস।
খিলখিল করে হেসে উঠল একটা মেয়ে।
চাঁদের আলো-আঁধারির ভৌতিক পরিবেশে আচমকা এমন হাসিতে চমকে উঠল ক্রিস হ্যালোরান। বন্দুকটা তার হাত থেকে খসে পড়ে গেল।
" দিয়েছিলে তো আর একটু হলেই গুলি করে"। গলাটা শুনে চিনতে পারল ক্রিস। লিন্ডা।
বন্দুক আর টর্চটা তুলে নিয়ে এগিয়ে গেল ক্রিস। " লিন্ডা তুমি? এখানে অন্ধকারে একা একা বসে কি করছ? শোন, এদিকে একটা নেকড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ক্যারেন গুলি করেছে ওটাকে।"
হাসল লিন্ডা। অন্ধকারের ভেতরেও তার সবুজ তীক্ষ্ণ চোখ আর সাদা ঝকঝকে দাঁতের সারি ঝিলিক দিয়ে উঠল। ওর পরনে অদ্ভুত একটা পোশাক। হাঁটুর নীচ পর্যন্ত পরা ফ্রক। সবুজ-কালো লম্বা ডোরা। রহস্যময়ী লাগছে ওকে।
" এখানে কি করছ লিন্ডা? তোমার ভয় করছে না?"
" না, ভয় কি!" ক্রিসের আর একটু কাছে সরে এল লিন্ডা। বলল, " আমি তো প্রায়ই রাতে ঘুরে বেড়াই।"
" প্রায়ই? একদিন ঠিক তুমি নেকড়ের কবলে পড়বে!" ক্রিস বলল।
" আরে না", লিন্ডা বলল, " তোমার বউ তো দিনের বেলা কাপড় খুলে সানবাথ করে, আর আমি রাতের বেলা কাপড় খুলে মুনবাথ করি।"
মুচকি হাসল ক্রিস, " সত্যিই?"
" হ্যাঁ। চাঁদের আলোর সোহাগ না পেলে কষ্ট পাই। চল না ক্রিস, একটু বেড়িয়ে আসি।"
রাজি হয়ে গেল ক্রিস, " চলো।"
ওর একটা হাত ধরল লিন্ডা। বলল, " তোমার ভয় করবে নাতো?"
" তোমার ভয় করবে না, আর আমার ভয় করবে?"
" সে ভয় নয়।" লিন্ডা বলল, " আজ আমি তোমায় নিয়ে যা খুশী তাই করতে চাই। তোমায় বুকে তুলে নিতে চাই। চুমু দিতে চাইলে বাধা দিতে পারবে না প্রমিস?"
পাঠশালার বাধ্য ছাত্রের মতো ক্রিস বলল, " প্রমিস।"
লিন্ডা চাঁদের দিকে মুখ করে দাঁড়াল। জামার বোতামগুলো একে একে খুলতে লাগল। গা থেকে খসে পড়ে গেল ওর সবুজ কালো লম্বা ডোরা ফ্রক। মুক্তির আনন্দে নেচে উঠল ওর দুটো ভরাট আলোকিত স্তন। সেই কম্পনের দিকে স্থির, সম্মোহিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ক্রিস। এগোল ও। অজগরের নিশ্বাসের সাথে যেমন শিকার এগিয়ে যায় অসহায়ের মতো। সুনিপুণ ভাস্করের হাতে গড়া কোনও নারীমূর্তি যেন লিন্ডা। আধ বোজা ঠোঁট, লাবণ্যে উজ্জ্বল ত্বক, উন্নত বক্ষ, উল্লম্ব নাভিদেশ, মেদহীন তলপেট। উরুতে জ্যোৎস্নার প্রতিফলন।
ক্রিস আরও এগিয়ে এল। লিন্ডার শরীর থেকে চন্দনের ঘ্রাণ আসছে।
হাত বাড়িয়ে দিল লিন্ডা। বলল, " সেদিন বলেছিলাম, এখনো সময় আসেনি। আজ বলছি, এখন এসেছে সেই সময়। এসো। "
ক্রিসের শীতল শরীরে যেন উষ্ণ রক্তের বান ডাকল। ঝাঁপিয়ে পড়ল সে লিন্ডার শরীরের তরঙ্গে।
লিন্ডার শরীরের সমস্ত লাভা যেন উথলে উঠল।
থৈ থৈ মন্থনে, চুম্বনে, পেষনে, ঘর্ষনে সমস্ত বনভূমির নিস্তব্ধতাকে যেন ভেঙে তছনছ করে দিতে লাগল ক্রিস।
ওদের উদ্দাম, নির্লজ্জ মৈথুন দৃশ্য দেখে চাঁদও যেন লজ্জা পেল। তাকে ঢেকে দিল একখণ্ড কালো মেঘ।
আধঘণ্টা পর। পরিতৃপ্ত , পরিশ্রান্ত, ঘর্মাক্ত ক্রিস লিন্ডার নগ্ন পেলব শরীরের ওপর শুয়ে রইল কিছুক্ষণ। একটু পর সে লিন্ডার বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত হল। সিধে হল। ইতিমধ্যে আবার উজ্জ্বল চাঁদের আলোয় ভেসেছে চারপাশের প্রকৃতি। ক্রিস ওর পোষাক কুড়িয়ে নিল। লিন্ডাও তারটা কুড়িয়ে নিল। " আবার কবে দেখা হবে?" ক্রিস লিন্ডার দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করল।
" যখন তুমি চাইবে, যখন আবার আমার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে", লিন্ডা জবাব দিল।
" আকর্ষণ তো সবসময়ই অনুভব করি", ক্রিস বলল। পেছন থেকে লিন্ডার কোনও সাড়া না পেয়ে ঘুরে দাঁড়াল ক্রিস। দেখল ওর কথার জবাব দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে নেই লিন্ডা। কখন যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে। আশ্চর্য! এত তাড়াতাড়ি কি করে কোথায় গেল লিন্ডা! এইমাত্র তো তার সামনে ছিল।
যাকগে, মন থেকে সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে ক্রিস জামাকাপড় পড়ে, বন্দুক আর টর্চ নিয়ে বাড়ির দিকে অগ্রসর হল।
ক্রিসের জন্য উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করছিল ক্যারেন। ওর জন্য একবার দরজার কাছে আর একবার জানলার কাছ পর্যন্ত ছোটাছুটি করছিল সে। ক্রিসকে নেকড়েটা আক্রমণ করে নি তো! ওহ গড!
ঠিক এই সময়ই ফিরল ক্রিস হ্যালোরান। কিন্তু এ কি চেহারা হয়েছে ক্রিসের! ভাঙাচোরা, বিপর্যস্ত চেহারা! চুলগুলো উস্কোখুস্কো, ছোবড়ার মতো হয়ে গেছে ওর শরীরটা! ঘোলা ঘোলা চোখ, জামাকাপড়ে ঘাসপাতা লেগে রয়েছে! আধঘন্টার তফাতে এমন বিধ্বস্ত, হাড্ডিসার চেহারা কি করে হল ক্রিসের! ক্যারেন বিস্মিত হয়ে তাকিয়েই রইল।
বিস্মিত ক্যারেনের উদ্দেশ্যে ক্রিস বলল, " না, নেকড়েটাকে পাইনি। মনে হয় পাহাড়ের ওপারে পালিয়ে গেছে ওটা।"
ক্যারেনকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ক্রিস বাথরুমে ঢুকে পড়ল। হাত পা ঘষে ঘষে অনেকক্ষণ ধরে গোসল করল। শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়ে অনুশোচনায় ভরে গেল ওর মন। ক্যারেনের জন্য খুব কষ্ট হতে লাগল ওর।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসার পর ক্যারেন ক্রিসকে লক্ষ্য করে বলল, " ক্রিস, তুমি মনে হচ্ছে ক্লান্ত হয়ে পড়েছ। একটু হুইস্কি দিই?"
ক্রিস বলল, " না, খাব না কিছু এখন। ঘুমিয়ে পড়ব।" বলে ক্রিস সটান বেডরুমে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
খিদে পেয়ে গিয়েছিল ক্যারেনের। কিন্তু ক্রিস কিছু খেল না বলে নিজেও কিছু মুখে দিতে পারল না। ক্রিসের পাশে শুয়ে ওর মাথার চুলে হাত বুলোতে বুলোতে ডাকল, " ক্রিস!"
জবাব দিল না ক্রিস। ক্যারেন ভাবল, বনের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু দেখে ভয় পেয়েছে ক্রিস। তাই বলল, " বনের মধ্যে ভয়ের কিছু দেখেছিলে ক্রিস?"
এবারও জবাব দিল না ক্রিস। এমনকি ও যে জেগে আছে তা-ও ক্যারেনকে বুঝতে দিতে চাইল না ক্রিস। ক্যারেন আর কিছু না বলে পাশ ফিরে শুয়ে ঘুমোবার চেষ্টা করল।
সকালে উঠে ক্যারেন দেখল, ক্রিস অঘোরে ঘুমোচ্ছে।
ক্যারেন ব্রেকফাস্ট সাজিয়ে টেবিলে বসেছে। এইসময় ডোরবেল বাজল। দরজা খুলে ক্যারেন দেখল, শেরিল থমাস এসেছে। হাসিখুশী মুখ।
স্বাগত জানিয়ে ক্যারেন জানতে চাইল, " নাস্তা করে এসেছ?"
শেরিল বলল, " এত সকাল সকাল নাস্তা কি করে করব? আরে আগে ভেতরে তো ঢুকতে দেবে। দেখছ না বইয়ের বোঝা হাতে।"
ক্যারেন শেরিলকে ড্রইং রুমে নিয়ে গিয়ে বসাল। বলল, " আমি ভেবেছিলাম, সেদিনের পর তুমি রাগ করে আছ আমার ওপর। "
" বলেছি না, ওসব মনে রাখি না আমি", ক্যারেনের গালে চুক করে চুমু খেয়ে বলল শেরিল।
নাস্তার টেবিলে বসে ক্যারেন বলল, " এর মধ্যে আরও অনেক কান্ড ঘটে গেছে জানো?"
" না তো।"
ক্যারেন তখন সবকিছু খুলে বলল। লিন্ডার বাড়ির পাশ দিয়ে শর্টকাট রাস্তা, টাইগারের লাশ আবিষ্কার, রাতের হাউলিং, তার বাসায় স্টিভ নর্মার আগমন, গতকাল সন্ধ্যেয় তার বাসায় নেকড়ের হানা, কোনওকিছুই বাদ দিল না ক্যারেন। তারপর বলল, " শুনেছি, স্টিভ নর্মার গাড়িটা রাস্তার ধারে পড়েছিল, এখানকার শেরিফ টেবর ইভান্স গাড়িটাকে হ্যামিল্টনের থানায় পাঠিয়ে দিয়েছে। স্টিভ-নর্মার ভাগ্যে কি ঘটেছে, তা কেউ জানে না। এমনকি ওদের লাশও কোথাও পাওয়া যায় নি।" এরপর ক্যারেন নেকড়ের ডাক শোনার কথাটা বলতেও ভুলল না।
সব শুনে শেরিল বলল, " তাহলে ওয়্যারউলফের অস্তিত্ব মানছ তুমি?"
ক্যারেন বলল, " মানছি। তবে এখনো একটু সন্দেহ আছে। কাল সন্ধ্যেয় যে নেকড়েটা এখানে হানা দিয়েছিল, তার চোখে মানুষের মতো প্রতিহিংসা দেখতে পেয়েছিলাম। তাছাড়া, নেকড়ে যে অত বিশাল হয়, আমার ধারণা ছিল না। কিছু জিনিসের ব্যাখ্যাও পাচ্ছি না। বুঝতে পারছি না, গত রাতে নেকড়ে মারতে গিয়ে ক্রিস অত ক্লান্ত আর অবসন্ন হয়ে ফিরল কেন!"
( চলবে)
----------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now